পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর, প্রতিরোধ কী

ডেঙ্গু মশাবাহিত ভাইরাসজনিত জ্বর। চায়না মেডিকেল এনসাইক্লোপেডিয়ায় খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ অব্দে এ রোগকে ওয়াটার পয়জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ১৭৭৯-৮০ সালে এশিয়া, আমেরিকা ও আফ্রিকায় এটি মহামারী আকারে দেখা যায় বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। আধুনিককালে ১৯৫৩ সালে ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে এটি মহামারী হিসেবে দেখা দেয়। বিশ্বব্যাপী ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মানুষ এ রোগের ঝুঁকিতে আছে।

১৯৬০ থেকে ২০০৯ সালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কথা ব্যাপকভাবে জানা যায় ২০০০ সালে। সে সময় এটি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এখন সময় ডেঙ্গু জ্বরের। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিবছর বৃষ্টি শুরু হলেই এ জ্বরে আক্রান্ত হন অনেকেই।

ডেঙ্গু জ্বর একটি ভাইরাসজনিত রোগ। মশাবাহিত এ রোগ মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু ভাইরাস রক্তের সঙ্গে মশার দেহে চলে যায়। মশার শরীরে এ ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করে। ৮-১০ দিন পর ওই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে তার শরীরে ভাইরাস ঢুকে এ জ্বরে আক্রান্ত করে।

ডেঙ্গু যেহেতু ভাইরাসজনিত জ্বর, তাই এর লক্ষণও কিন্তু ভাইরাস জ্বরের মতো। হঠাৎ করেই প্রচণ্ড জ্বরে (১০৩-১০৪ ডিগ্রি) আক্রান্ত হন। সঙ্গে থাকে মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, চোখের নিচে ব্যথা (চোখ নড়ালে ব্যথা অনুভূত হয়)। শরীরে বা জয়েন্টে বেশি ব্যথা হয় বলে এ জ্বরের অন্য নাম ব্রেক বোন ফিভার। জ্বরের সঙ্গে শরীরে র্যাশ বা লালচে ভাব দেখা দেয়। সাধারণত জ্বরের দ্বিতীয় দিন থেকে ত্বক লালচে ভাব ধারণ করে। আমাদের ত্বকে র্যাশ এত ভালো বোঝা যায় না। জ্বর সাধারণত দুই থেকে সাত দিন পর কমে যায়। জ্বর কমে যাওয়া মানেই কিন্তু রোগমুক্তি নয়, বরং তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

জ্বর কমার দুই থেকে তিন দিন পরের সময় বেশি মারাত্মক। এ সময় জটিলতা দেখা দেয়। রক্তে অনুচক্রিকা কমে গেলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময়টাতে বেশি সচেতন থাকতে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বারবার বমি বা রক্তবমি করতে পারে, পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হতে পারে, নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে, চোখে রক্তজমাট বাঁধতে পারে।

এ ছাড়া শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রচণ্ড পেটে ব্যথা হতে পারে, আলকাতরার মতো কালো দুর্গন্ধযুক্ত মল হতে পারে, মল ও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়তে পারে। একেই বলে ডেঙ্গু হেমোরোজিক ফিভার।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করলে আক্রান্ত ব্যক্তি শকে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়, নাড়ির গতি ও রক্তচাপ কমে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হতে পারে, এমনকি মৃত্যুর মুখে পতিত হতে পারে। প্রতিবছর পাঁচ লাখ মানুষ ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত হলেও মারা যান ২ দশমিক ৫ ভাগ মাত্র। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে এ মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে মৃত্যুহার ২০ শতাংশ হতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা কিন্তু সাধারণ জ্বরের মতোই। বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে। তবে দিনে চারবারের বেশি নয়। জ্বর কমানোর জন্য বারবার শরীর মুছে বা স্পঞ্জিং করে দিতে হবে। জ্বরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই প্রচুর পানি ও পানীয় জাতীয় খাবার, যেমন—ওরাল স্যালাইন, ফলের জুস, শরবত পান করতে হবে। তবে প্যাকেটজাত জুস পান না করাই শ্রেয়। অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না। শরীর ব্যথা থাকলেও অ্যাসপিরিন বা অন্য ব্যথানাশক ওষুধ একেবারেই সেবন করা যাবে না। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের রোগীদের ইনজেকশন দেওয়া যাবে না। এ ধরনের রোগীকেও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাতে হবে। বমির কারণে অনেকে পানি পান করতে পারে না। তাদের ক্ষেত্রে শিরাপথে স্যালাইন দিতে হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীকেই কিন্তু রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ ১০ হাজারের কম ও শরীরে রক্তক্ষরণ হলে প্লাটিলেট কনসেন্ট্রেশন দেওয়ার প্রয়োজন হয়। হিমোগ্লোবিন ৫ গ্রাম/ ডেসিলিটারের কম, শিরার মাধ্যমে স্যালাইন দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি ঘটে। হেমাটোক্রিটের মাত্রা ভালো থাকে, তবে হোল ব্লাড দেওয়া যেতে পারে। হোল ব্লাড দিলে হেমোকসসেন্ট্রেশন হয়ে রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন না থাকলে হোল ব্লাড দেওয়া ঠিক নয়। সিরাম অ্যালবুমিন ২ গ্রাম/ ডেসিলিটারের কম হলে, আক্রান্ত ব্যক্তি শকে গেলে প্লাজমা বা প্লাজমা সাবস্টিটিউ দিতে হয়। রক্তে প্লাটিলেট কাউন্ট ৫০ হাজারের নিচে নামা শুরু করলে রক্ত সংগ্রহে রক্তদাতাদের ঠিক করুন।

প্রতিরোধের সর্বোত্তম চিকিৎসা। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নিজের ঘর ও আঙিনায় মশার উৎস ধ্বংস করুন। এডিস মশার বৈশিষ্ট্য হলো এরা পরিষ্কার জমা হওয়া পানিতে বংশবিস্তার করে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে গেলে সে পানিতে এরা বংশবিস্তার করে। প্লাস্টিকের পাত্র, পুরোনো ক্যান বা পাত্র, গামলা, টায়ার, ডাবের খোসা, গাছের কোটরে, ফুলের টবে, ছোট আবদ্ধ জায়গায় যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সুইমিংপুলের পানি প্রতিদিন পরিবর্তন করতে হবে। কারো অপেক্ষা না করে নিজ উদ্যোগে বাড়ির আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন। সাধারণত ভোরে সূর্যোদয়ের আধঘণ্টার মধ্যে এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের আধঘণ্টা আগে এডিস মশা কামড়াতে পছন্দ করে। তাই এ দুই সময়ে মশার কামড় থেকে সাবধান থাকতে হবে। মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে মশারি ব্যবহার করুন। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা যেন কামড়াতে না পারে, এ জন্য মশারি ব্যবহার করুন। কোথাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পেলে আশপাশের সবাইকে তা জানান এবং আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন।.

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
আপনার মুখে দুর্গন্ধ? লবঙ্গ দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে দূর করুন মুখের দুর্গন্ধজেনে নিন কিভাবে কিভাবে দূর করবেন আপনার মুখে দুর্গন্ধ
৩ টাকা দিয়ে ফলটি কিনুন !! এই একটি ফলের রসেই গলবে কিডনির পাথর।বিস্তারিত ভিতরে পড়ুন
ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতাবিস্তারিত পড়ুন ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতা
যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালোবিস্তারিত পড়ুন যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালো
খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফলবিস্তারিত পড়ুন খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফল
পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়বিস্তারিত পড়ুন পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়
যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে নাবিস্তারিত পড়ুন যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে না
এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুনবিস্তারিত পড়ুন এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুন
জিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুনজিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুন! জেনে নিন কখন, কি ভাবে খাবেন?
শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়বিস্তারিত পড়ুন শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়
আরও ১২৭৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি