পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

শিশুদের কিডনি সমস্যা প্রতিরোধে করণীয়

শিশুদের বিভিন্ন ধরনের কিডনির সমস্যা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. আহম্মেদ নাজমুল আনাম। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রশ্ন : শিশুদের সাধারণত কোন কোন সমস্যা হতে পারে কিডনিতে?

উত্তর : সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে সংক্রমণ বেশি হয়। তবে আরো যে দুটো প্রচলিত রোগ আমরা পাই ন্যাফ্রোটিক সিনড্রম ও একিউট গ্লুমেরো নেফ্রাইটিস। হঠাৎ করে শিশুদের ফুলে যাওয়া বা প্রস্রাবে রক্ত আসা। এগুলো আমরা বেশ প্রচলিত দেখতে পাই।

প্রশ্ন : এই সমস্যাগুলো ঠিক কোন বয়স থেকে শুরু হয় এবং কতদিন এই ঝুঁকি রয়েছে?

উত্তর : সাধারণত দুই থেকে ছয় বছরের বাচ্চারা আমাদের কাছে এই সমস্যা নিয়ে আসে। আর যেটা আমরা বলছি একিউট গ্লুমেরো নেফ্রাইটিসে সাধারণত পাঁচ থেকে ১৫ বছরের বাচ্চারা আমাদের কাছে এই সমস্যা নিয়ে আসে।

প্রশ্ন: ন্যাফ্রোটিক সিনড্রমের লক্ষণগুলো একটু বলুন।

উত্তর: প্রথমে দেখা যাবে রোগীর চোখের চারপাশ অল্প অল্প করে ফুলে গেছে। আস্তে আস্তে ফুলতে ফুলতে একসময় দেখা যায় তার সারা শরীর ফুলে গেছে। প্রায়ই ক্ষেত্রে আমাদের মা-বাবারা আসে সারা শরীর ফুলে যাওয়ার পর। প্রথমে চোখ ফুললে হয়তো সেটা খেয়াল করেন না। অনেকে প্রায়ই বলেন, আমি রাতে ভালো বাচ্চা নিয়ে শুয়েছি। সকাল বেলা দেখি ফুলে গেছে।

এই সময় অত্যন্ত দ্রুত ফুলে যায়। যেটা আমরা পার্থক্য করি, এজিএনে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যায়। মা বলেন, লাল প্রস্রাব হচ্ছে। কিন্তু নেফ্রোটিক সিনড্রমের ক্ষেত্রে এটা সাধারণত বলেই না। বলে যে প্রস্রাব কমে গেছে।

প্রশ্ন : আর কী কী সমস্যা নিয়ে আসে?

উত্তর : একটা বাচ্চা যখনই শরীর ফোলা নিয়ে আসে, তখনই ভাগ করার চেষ্টা করি। এই ফোলাটা কি কিডনিজনিত জটিলতা, নাকি অন্য কোনো জটিলতা। আমাদের শিশু এইজ গ্রুপে কয়েকটি জিনিস ভাবি। কিডনির কারণে হবে। যদি বাচ্চা অপুষ্টির শিকার হয়, তাহলেও এমন হতে পারে। এটাও ভাবি। লিভারে কোনো সমস্যা থাকলে সেটাও ফোলার কারণ হতে পারে। হার্টজনিত কোনো জটিলতা থাকলে সেটাও হতে পারে। তখন আমরা বোঝার চেষ্টা করি, ইতিহাস নিই।

এজিএনের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে মা বলে গলা ব্যথা ছিল, গায়ে হয়তো একটু খোস পাঁচড়ার মতো ছিল, যাকে আমরা স্কেবিজ বলি। বলে, দুই সপ্তাহ আগে এমন ছিল হঠাৎ করে রক্ত যাওয়া শুরু করেছে। হঠাৎ করে আমার বাচ্চা ফুলে গেছে। তখন আমরা এজিএনটা মাথায় রাখি।

নেফ্রোটিক সিনড্রমের ক্ষেত্রে হঠাৎ বলে চোখ ফুলছে, আস্তে আস্তে আমার বাবু ফুলে গেছে, দেখা যাচ্ছে, প্রস্রাবও কমে গেছে। তখন আমরা হয়তো নেফ্রোটিক সিনড্রম ভাবা শুরু করি।

প্রশ্ন : কারণগুলো কী

উত্তর : অনেকগুলো কারণ রয়েছে। নেফ্রোটিক সিনড্রমের ক্ষেত্রে আমরা ভাবি ইডিওপ্যাথিক। তবে ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ কারণ আসলে অজানা। তবে কিছু সেডেন্টারি রোগে কারণে হতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস, সিফিলিস, হেপাটাইটিস বি, কিছু ওষুধ রয়েছে এগুলোর কারণে হয়। এ ছাড়া অন্যান্য কিছু কারণ রয়েছে। তবে এজিএনের ক্ষেত্রে যেটা বলেছি যে দুই সপ্তাহ আগে গলায় সংক্রমণ হয়। আর নেফ্রোটিকের কারণগুলো ব্যাপক।

প্রশ্ন : আপনাদের কাছে এই জাতীয় সমস্যা নিয়ে এলে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করেন শিশুদের।

উত্তর : আমরা প্রথমে প্রস্রাব পরীক্ষা করি। টেস্ট টিউবে মা-বাবারা এটা বাসায়ও করতে পারবেন। একটি টেস্ট টিউবে পুরোটা প্রস্রাব না ভরে তিন ভাগের দুই ভাগ ভরে যদি জ্বাল দেন, যখন প্রস্রাব ফুটবে তখন যদি সাদা তলানি পড়ে যায়, যদি পরপর তিনদিন দেখে এরকম তলানি জমেছে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। সেটাই নেফ্রোটিক সিনড্রমের লক্ষণ। একে আমরা বলি অ্যালবুমিন যাওয়া। আর এজিএনের ক্ষেত্রে তো প্রস্রাব লাল হলে আমাদের কাছে আসবে। পরপর তিনদিন যখন প্রস্রাবের তলানি জমবে তখন ওনারা যখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন আমরা কিছু পরীক্ষা করি। অবশ্যই ইউরিনের পরীক্ষা করব।

নেফ্রোটিক সিনড্রমের প্রধান সমস্যা শরীরে অ্যালবুমিনের পরিমাণটা কমে যায়। আমরা সিরাম অ্যালবুমিন পরীক্ষা করি। আর ২৪ ঘণ্টা যে প্রোটিন বেরিয়েছে সেটা মাপি। নেফ্রোটিক সিনড্রমে শরীরে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। যেটাকে আমরা মাপি। এগুলো মেপে আমরা বলে দিতে পারি যে নেফ্রোটিক সিনড্রম আছে।

আর এজিএনের ক্ষেত্রে আমরা প্রস্রাব পরীক্ষা করব। সেখানে যদি রক্তের উপস্থিতি থাকে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণও থাকে, সেটি দেখব। পাশাপাশি রক্তচাপ দেখব। এগুলো দেখে এজিএন হিসেবে নির্বাচিত করব। সঙ্গে আবার কিছু পরীক্ষা আছে, আমরা জানতে চাই।

প্রশ্ন : কতদিন ধরে এই চিকিৎসাটা চলতে থাকে?

উত্তর : এই রোগকে আমরা বলি ডিজিজ অব রিল্যাপস অ্যান্ড রিকারেন্স। বাচ্চা ভালো হয় আবার ফুলে যায়। প্রায় ক্ষেত্রেই মা-বাবারা মনে করেন আমরা চিকিৎসা দিতে পারছি কি পারছি না। তারাও ধৈর্যহারা হয়ে যান। প্রায় ক্ষেত্রে পীর-ফকিরের কাছে নিয়ে যান। এতে বাচ্চা আরো খারাপ হয়ে যায়। আমরা বলব, এই রোগ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে সাধারণত ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে বাচ্চাগুলো ভালো হয়ে যায়। একবার যদি ফোলা নিয়ে আসে, আমরা তিন মাসের চিকিৎসা দিই। আমরা ডোজ হিসাব করে, ওজন হিসাব করে ঠিক করে দিই।

আর এজিএনের ক্ষেত্রে মাত্র ১০ দিনের আমরা পেনিসিলিনের কোর্স দিই। এই রোগটি আসলে নিজেই ভালো হয়। শুধু চাপটা যাতে কম থাকে। ফোলাটা যাতে কম হয় এর জন্য চিকিৎসা দিই। বলা হয়, এজিএন আর ফিরে আসে না। দুটো সম্পূর্ণ উল্টো রোগ।

এ জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রায় দেখি মা-বাবারা অধৈর্য হয়ে যান। ‘আমি আর কতবার আসব? চিকিৎসা করলেন, তবুও আবার ফুলছে কেন?’ এই রোগের ধরনটাই তাই। এই রোগটি সাধারণত ১২ থেকে ১৬ বছরের পর্যন্ত হয়ে ভালো হয়ে যাওয়ার কথা। ৯০ বা ৯৫ ক্ষেত্রে ভালো হয়ে যায়।

প্রশ্ন : জটিলতা হওয়ার কারণ কিছু রয়েছে কি না?

উত্তর : যদি চিকিৎসা ঠিকমতো না করেন, ওষুধের ডোজ যদি ঠিকমতো না মেনে চলেন তাহলে অনেক সময় সমস্যা হয়। অনেক সময় আমাদের কাছে কিডনির জটিলতা নিয়ে আসতে পারে। কিডনি অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এ ছাড়া রক্তে জমাট বাঁধার সমস্যা হতে পারে। অনেক সময়ে স্ট্রোকের অবস্থা নিয়ে আসতে পারে। অনেকে এসে বলেন, আমার বাবু ডান হাত, ডান পা নাড়াতে পারছে না।

প্রশ্ন : জটিলতা নিয়ে এলে কী করেন।

উত্তর : সে ক্ষেত্রে আমরা হাসপাতালে ভর্তি হতে বলব। কিন্তু এ ছাড়া নেফ্রোটিক সিনড্রমের চিকিৎসায় কোনোভাবেই হাসপাতালে যাওয়ার দরকার নেই। আমরা ডোজ হিসেবে প্রেডনিসোলন বা স্টেরয়েড দিয়ে দিই। সে ক্ষেত্রে তাকে বলতে হবে উনি নির্ধারিত সময়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

পাশাপাশি আমরা বলি প্রোটিন-জাতীয় খাবার বেশি করে খাবেন। যেসব ফলের রসে পটাশিয়াম বেশি আছে, সেগুলো আমরা নিষেধ করি। সাধারত ডাবের পানি যাতে পটাশিয়াম বেশি আছে সেগুলো আমরা খেতে নিষেধ করি। আর খাবারে যেন বাড়তি লবণ না নেন সেটা বলি।

প্রশ্ন : ভ্যাকসিনেশন বা এসবের কোনো বিষয় আছে?

উত্তর : না, এ ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনেশনের কোনো বিষয় নেই। তবে এর চিকিৎসার জন্য নিউমোকক্কাস বা নিউমোনিয়ার টিকা নিয়ে থাকাটা ভালো হবে। যখন আমরা স্টেরয়েড দিচ্ছি, স্বাভাবিকভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর কারণে অন্য রোগের কিছুটা ঝুঁকি থাকতে পারে। সুতরাং এই রোগের কোনো ভ্যাকসিন নেই, তবে ওষুধের কারণে যদি কোনো জটিলতা হয়, তাহলে কিছু ব্যবস্থা নিতে পারি।

প্রশ্ন : প্রতিরোধের কি কোনো বিষয় রয়েছে?

উত্তর : নেফ্রোটিক সিনড্রম ইডিওপ্যাথিক। প্রতিরোধের কোনো বিষয় নেই। সেডেন্টারি যেসব রোগের কথা বললাম যেমন ডায়াবেটিস, আবার আমাদের দেশে উল্টোপাল্টা ওষুধ খাওয়া, এ ধরনের প্রবণতাগুলো বন্ধ করা। এগুলো করলে বিষয়গুলো প্রতিরোধ করা যাবে।

আর এজিএনের ক্ষেত্রে বলবো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন। বস্তিতে, যেসব জায়গায় মানুষ বেশি থাকে এসব জায়গায় এগুলো বেশি ছড়াতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা। ভালো পরিবেশে থাকা এগুলো করলে রোগ প্রতিরোধ করা যাবে।.

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
আপনার মুখে দুর্গন্ধ? লবঙ্গ দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে দূর করুন মুখের দুর্গন্ধজেনে নিন কিভাবে কিভাবে দূর করবেন আপনার মুখে দুর্গন্ধ
৩ টাকা দিয়ে ফলটি কিনুন !! এই একটি ফলের রসেই গলবে কিডনির পাথর।বিস্তারিত ভিতরে পড়ুন
ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতাবিস্তারিত পড়ুন ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতা
যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালোবিস্তারিত পড়ুন যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালো
খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফলবিস্তারিত পড়ুন খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফল
পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়বিস্তারিত পড়ুন পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়
যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে নাবিস্তারিত পড়ুন যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে না
এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুনবিস্তারিত পড়ুন এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুন
জিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুনজিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুন! জেনে নিন কখন, কি ভাবে খাবেন?
শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়বিস্তারিত পড়ুন শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়
আরও ১২৭৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি