পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

লিচু খেয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমান

রসালো ফল লিচু। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে সব অঞ্চলেই পাওয়া যায় এই সুস্বাদু ফলটি। শিশু থেকে বুড়ো সব বয়সীরাই লিচু খেতে পছন্দ করেন। তবে লিচুর গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই খুব একটা জানি না। লিচুর একটি বিশেষ গুণ হলো এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খুবই কার্যকর। এতে পটাসিয়াম এবং খনিজের মতো উপাদান হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

গবেষকদের মতে, লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ‘অলিগনাল’ নামক একটি আণবিক উপাদান রয়েছে, যা পলিফেনলের আণবিক উপাদান। অলিগনালে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লুয়েঞ্জা নামক ভাইরাস কর্ম রয়েছে। যা বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে। এ ছাড়াও রক্ত পরিবহনের মাত্রা উন্নত করে। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

জাপানের কিয়োরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, লিচুতে থাকা অলিগনাল নামের উপাদান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লুয়েঞ্জা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ উপাদান রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, ত্বকে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওজন কমায়।

দ্য জার্নাল অব নিউট্রেশন-এর মতে, লিচুতে প্রায় ১৫ শতাংশ পলিফেনল আছে। অন্যান্য ফলের থেকে লিচু হৃদযন্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি উপকারী। লিচু শরীরের খারাপ ধরনের কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল)-এর মাত্রা বাড়ায়। ফলে এতে হৃৎপিণ্ডের রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া ঠিক থাকে এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হাইপার টেনশনের ঝুঁকি কমে।

শুধু হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো নয়, লিচুতে রয়েছে আরও অনেক গুণাগুণ। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ, বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ওজন কমানো, হজমে সহায়তা, শরীরের জ্বালাপোড়া ও দুর্বলতা দূর করা, চোখের রোগ প্রতিরোধ, জ্বরঠোসা ও জিহ্বার ঘা প্রতিরোধ, চর্মরোগের ব্যথা নিরাময়, কাশি, পেটব্যথা, টিউমার দমনেও লিচু কার্যকরী। এ ছাড়া লিচু হাড়, দাঁত, চুল, ত্বক, নখ ভালো রাখে। রূপচর্চাতেও লিচু ব্যবহার করা যায়।

তবে লিচু গরম ফল। এটি বেশি খেলে পেট গরম হয়ে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই কিছুতেই মাত্রাতিরিক্ত লিচু খাওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া লিচুতে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের সাবধানতা অবলম্বন করে পরিমিতভাবে লিচু খাওয়া উচিত।

পুষ্টিমানঃ

লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’ আছে। ক্যালসিয়াম দরকার হয় হাড়, দাঁত, চুল, ত্বক, নখ ভালো রাখতে। হিসাব করে দেখা গেছে, ১০০ গ্রাম লিচুতে থাকে শর্করা ১৩ দশমিক ৬ গ্রাম, ক্যালরি ৬১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, লৌহ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ ৩১ মিলিগ্রাম। মার্কিন ওষুধ প্রশাসন বিভাগ বলছে, প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ৬৬ কিলোক্যালরি শক্তি ও ১৬ গ্রাম শর্করা রয়েছে। চর্বি একেবারেই নেই। আরও আছে ৭১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ১৭০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ১৪ মাইক্রো গ্রাম ফলেট এবং সামান্য পরিমাণ (১ মিলিগ্রাম) সোডিয়াম। ১০০ গ্রাম লিচু বলতে মাঝারি আকারের প্রায় ১০টি লিচুকে বোঝায়।

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধঃ

লেবু জাতীয় ফলের মতো লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। গবেষণায় পাওয়া গেছে, ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল শরীরের সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শরীরের প্রদাহজনিত ময়লা পরিষ্কার করে এবং মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে। লিচুতে খুব ভালো পরিমাণে পটাসিয়াম ও কপারের মতো খনিজ রয়েছে। পটাসিয়াম আমাদের শরীরের কোষের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়াও আমাদের হার্টের সুরক্ষা প্রদান করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

লিচু ক্যান্সার থেকে মানবদেহকে দেয় সুরক্ষা। এটি ক্যান্সার তৈরিকারী কোষ ধ্বংস করে। এতে অবস্থিত ফ্ল্যাভনয়িডস বা ভিটামিন ‘পি’ স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

ওজন কমাতেঃ

লিচুতে প্রচুর ফাইবার এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আছে, যা মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। মেটাবলিজম শক্তি কম হলেই মানুষের দেহে চর্বি বেড়ে যায়। লিচু এই মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা পালন করে। ফলে শরীরে অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ

লিচুতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’র সঙ্গে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে সর্দির সমস্যা, ফ্লু, কাশি প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে লিচু কার্যকরী। লিচুতে ত্বকের কালো দাগ দূর করার ক্ষমতা আছে। এতে থাকা ভিটামিন সি, নিয়াসিন, থায়ামিন চুলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে চুলকে কালো করে তোলে। লিচুর জলীয় অংশ শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধঃ

লিচুতে প্রচুর দ্রবণীয় ফাইবার থাকার কারণে অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা রোধ করে। পাশাপাশি পাকস্থলী ও কোলন পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ফলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগে ভোগাদের জন্য লিচু খুবই উপকারী।

বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষাঃ

মুখে বয়সের ছাপ আসার যে প্রধান কারণ তা আমাদের শরীরে উৎপন্ন হওয়া ফ্রি রেডিকেল। এই ফ্রি রেডিকেল রোধ করতে সবচেয়ে কর্মক্ষম হচ্ছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল খায় তাদের চেহারায় বয়সের ছাপ কম পড়ে। লিচুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

মনে রাখতে হবে, সময়ের সঙ্গে মানুষের বৃদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দূষণ, কালো ধোঁয়া, ভেজাল খাদ্যসহ বিভিন্ন কারণে খুব দ্রুত মানুষের চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে যায়।

রূপচর্চাঃ

৩টি লিচু ব্লেন্ড করে এর সঙ্গে ২ চা চামচ টক দই এবং ১ চা চামচ আটা মিশিয়ে ফেস মাস্ক তৈরি করা যায়। এই ফেস মাস্ক মুখে মেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মাস্ক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। সপ্তাহে তিন থেকে চারবার এই মাস্ক ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

লিচুর আরও উপকারিতাঃ

লিচু দেহের শক্তি বাড়ায়, এতে ভিটামিন ‘সি’-এর পরিমাণ কমলালেবুর তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি, গাজরের তুলনায় বেশি বিটা ক্যারোটিন আছে, বিটা ক্যারোটিনসহ প্রয়োজনীয় ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে, লিচুতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার হজমে সহায়তা করে, বয়স্ক নারী যাদের মেনোপজ হয়ে গেছে, তাদের জন্য লিচু যথেষ্ট উপকারী, প্রচণ্ড ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে শরীরকে রক্ষা করে, এতে থাকা নিয়াসিন ও রিবোফ্লাভিন নামক ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স শরীরের জ্বালাপোড়া, দুর্বলতা দূর করে, লিচুর ভিটামিন ‘এ’ রাতকানা কর্নিয়ার অসুখ, চোখ ওঠা, চোখের কোনা ফুলে লাল হয়ে যাওয়া দূর করে, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বকের যৌবন ধরে রাখে, চর্মরোগের ব্যথায় লিচুর বীজ ব্যবহৃত হয়, কচি লিচু শিশুদের বসন্ত রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, বাকল ও শিকড়ের কস্ফাথ গরম পানিসহ কুলি করলে গলার স্বর ভালো হয়, বোলতা, বিছে কামড়ালে লিচুর পাতার রস ব্যবহারে ভালো হয়, ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করায় লিচু খেলে ব্রণের উপদ্রবও কমে, কপালের ভাঁজ পড়া, ঠোঁটের চারপাশের বলিরেখা, গলা এবং বুকের পিগমেন্টেশন দূর করতেও লিচু ভূমিকা রাখে।

শরবতঃ

লিচু দিয়ে বানাতে পারেন সুস্বাদু শরবত। এ জন্য লাগবে আস্ত লিচু (বিচি ছাড়া) ৮টি, ১ টেবিল চামচ চিনি, ১ চা চামচ লবণ, ৩ চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়া, ১ চা চামচ লেবুর রস এবং ১ কাপ পানি। প্রথমে আস্ত লিচু ছাড়া সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করতে হবে। এরপর তা গ্লাসে ঢেলে ফ্রিজে রাখতে হবে। কিছুক্ষণ পর আস্ত লিচুগুলো গ্লাসের ভেতরে দিয়ে পরিবেশন করুন লিচু শরবত।

পায়েসঃ

লিচু দিয়ে পায়েসও বানানো যায়। লিচু পায়েস বানাতে প্রয়োজন ২ লিটার দুধ, ২ কাপ চাল, ৩ কাপ মাওয়া, আধা কাপ চিনি, এলাচ ৩টা, দারুচিনি এক-দুই টুকরা, ৩ কাপ হেভি ক্রিম, আটটি লিচু কুচি। প্রথমে দুধ জ্বাল দিয়ে ২-৩ মিনিট পর চাল ধুয়ে দুধের মধ্যে দিতে হবে। একই সঙ্গে চিনি, এলাচ, দারুচিনিও দিয়ে দিতে হবে। চাল সিদ্ধ হলে এবং দুধ কমে ঘন হয়ে এলে মাওয়া, হেভি ক্রিম দিয়ে চুলার জ্বাল কমিয়ে দিতে হবে। এভাবে কয়েক মিনিট রেখে লিচু দিয়ে নামিয়ে ফেললে হয়ে যাবে দারুণ স্বাদের লিচু পায়েস।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
আপনার মুখে দুর্গন্ধ? লবঙ্গ দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে দূর করুন মুখের দুর্গন্ধজেনে নিন কিভাবে কিভাবে দূর করবেন আপনার মুখে দুর্গন্ধ
৩ টাকা দিয়ে ফলটি কিনুন !! এই একটি ফলের রসেই গলবে কিডনির পাথর।বিস্তারিত ভিতরে পড়ুন
ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতাবিস্তারিত পড়ুন ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতা
যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালোবিস্তারিত পড়ুন যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালো
খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফলবিস্তারিত পড়ুন খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফল
পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়বিস্তারিত পড়ুন পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়
যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে নাবিস্তারিত পড়ুন যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে না
এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুনবিস্তারিত পড়ুন এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুন
জিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুনজিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুন! জেনে নিন কখন, কি ভাবে খাবেন?
শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়বিস্তারিত পড়ুন শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়
আরও ১২৭৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি