পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

উচ্চ রক্তচাপঃ উপসর্গ, কারণ ও প্রতিরোধ

রক্তনালীর মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় রক্তনালীর গায়ে রক্ত যে প্রয়োগ করে সেটাকেই রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ মাপার সময় আমরা দুধরণের রক্তচাপ পেয়ে থাকি- সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ। কারো রক্তচাপ বয়স এবং পুরুষ বা মহিলা ভেদে সার্বাজনীনভাবে স্বীকৃত স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশি পাওয়া গেলে তখন উক্ত রোগী উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত বলে ধরে নেয়া হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে নীরব ঘাতক রোগ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপকে গণ্য করা হয়।

 

উচ্চ রক্তচাপঃ লক্ষণ ও উপসর্গ

উচ্চ রক্তচাপ মূলত একটি উপসর্গবিহীন রোগ। হৃৎপিন্ড নীরবে বহু দিন ধরে এ রোগের সকল সামলে চললে ও রোগী কিছু বুঝতে পারে না। মজার বিষয় হচ্ছে কোন কোন সুস্থ স্বাভাবিক লোককে ও যদি বলে দেওয়া হয় যে তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাহলে তিনি কিছুদিনের মধ্যেই কতগুলো উপসর্গ নিয়ে চিকৎসকের কাছে হাজির হন। যেমন মাথা ঘোরা, ঘাড়ে ব্যাথা, ঘাড়ের শিরা দপদপ করা ইত্যাদি। আবার একজন সত্যিকারের উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে যদি বলে হয় যে তার রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে, তাহলে তিনি খুব বেশি অসুবিধার কথা বলেন, দিব্যি ঘুরে ফিরে বেড়ান।

জটিলতা
উপসর্গবিহীন এই অবস্থায় নীরবে শরীরের ক্ষতি সাধন করে চলে। চিকিৎসক অন্য রোগের জন্য আগত রোগীর রক্তচাপ পরীক্ষা করতে গিয়ে এই রোগ শনাক্ত করেন। অথবা হঠাৎ করে জটিলতা নিয়ে এ রোগটি আত্নপ্রকাশ করে। এসময় রোগী নানা উপসর্গের কথা বলতে পারে। যেমন-
১. শ্বাস কষ্ট: প্রথম দিকে হাঁটা চলা করার ফলে শ্বাসকষ্ট হয়। পরে ঘরে বসে থাকা অবস্থায় শ্বাসকষ্ট হতে পারে। মাঝ রাতে শ্বাসকষ্টের দরুণ রোগীর ঘুম ভেঙে যায় এবং রোগী উঠে বসলে এর কিছুটা উপশম হয়। হৃদপিন্ডের কার্যহীণতা (হার্ট ফেইলিওর)।
২. বুকেব্যথা: হৃদপিন্ডের করোনারি ধমনীতে রক্ত চলাচল ব্যহত হলে বুকে ব্যথা হয়।
৩. পক্ষাঘাত (স্ট্রোক): মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন হলে কিংবা রক্তনালী ছিঁড়ে গেলে পক্ষাঘাত বা স্টোক হয়।
৪. কিডনির রোগ বা বিকলতা: প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, শরীরে পানি আসা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বোধ করা, রক্তস্বল্পতা বা শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, বমিবমি ভাব হওয়া।
৫. দুষ্টিশক্তির অস্পষ্টতা: চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্থ হলে চোখ দেখতে অসুবিধা হয়।
৬. খিঁচুনি: মারাত্নক (ম্যালিগন্যান্ট) উচ্চ রক্তচাপের (২২০-১৩০ মি: মি: মার্কারী) ফলে রোগীর হঠাৎ করে খিঁচুনি শুরু হতে পারে, দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে এবং সর্বোপরি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।
 

উচ্চ রক্তচাপের কারণ

পাঁচানব্বই ভাগ এর বেশি রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কোন কারণ পাওয়া যায় না। সে সকল রোগী ‘এসেনসিয়াল হাইপারটেনসন’- এ আক্রান্ত বলে ধরা নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৭০ ভাগের ক্ষেত্রে পরিবারের জন্য একজন উচ্চ রক্তচাপে ভোগে এবং বংশগত ইতিহাস থাকে। শতকরা ৫ ভাগের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণ পাওয়া যায়। সেগুলো হলোঃ
১. কিডনির বিভিন্ন রোগ যেমন কিডনির প্রদাহ, কিডনিতে পাথর, কিডনির ক্যান্সার ও কিডনির ধমনীর অস্বাভাবিকতা
২. শরীরে বিশেষ বিশেষ হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে
৩. কিছু ঔষধ দীর্ঘদিন ধরে খাবার ফলে। যেমন-
    ক. জন্মনিরোধক বড়ি (ইস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ)
    খ. করটিকোস্টেরয়েড (ডেকাসন, ওরাডেক্ষন, ডে*মিন ইত্যাদি)
    গ. বাতের ঔষধ (ইনডোমেড, আইবুপ্রোফেন, ইনডোমেথাসিন)
৪. গর্ভাবস্থায় প্রি-এক্লাম্পসিয়া দেখা দিলে

 

উচ্চ রক্তচাপঃ পরামর্শ ও প্রতিরোধ

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও রোগীদের কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হয়। যেমন-
১. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়মিত অনুসরণ করা
২. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ বন্ধ না করা বা না বদলানো
৩. কোন প্রকার জটিলতা দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া
৪. যেসকল পরিবারের উচ্চ রক্তচাপের বংশগত ইতিহাস আছে অথবা পরিবারের কোন সদস্য উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত আছে সেসব ক্ষেত্রে অন্য সদস্যদের নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা
৫. ধূমপান, মদ্যপান, লৌক্ত খাবার, গরু ও খাসির মাংস, ডিম এবং অতিরিক্ত লবণ খাওয়া অবশ্যই নিযন্ত্রণ করা।
 ** মনে রাখা উচিত: উচ্চ রক্তচাপ নিরাময় হয় না, নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অতএব নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন ও চিকিৎসকের নিদ্যেশ মোতাবেক ঔষধ খাওয়া উচিত।
 

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা

রক্তচাপের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য কোন শারীরিক অসুবিধা দূর করা নয়। চিকিৎসা করার মূল লক্ষ হচ্ছে এর জটিলতাগুলো প্রতিরোধ করা। যে সব রোগ একবার হলে সারা জীবন ধরে মানুষকে ভোগায়, উচ্চ রক্তচাপ তার মধ্যে অন্যতম। একবার কারো উচ্চ রক্তচাপ হলে সারা জীবন তাকে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। চিকিৎসার ফলে এটা নিরাময় হয় না, কিন্তু নিয়ন্ত্রণে থাকে। শুধু উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসা করা নয় মানুষটিকে চিকিৎসা করাটাই মূখ্য। উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসা করার কয়েকটি ধাপ আছে।
 

উচ্চ রক্তচাপের সাধারণ ব্যবস্থাপনা

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সাধারণ ব্যবস্থাপনা
১. বিশ্রাম- কাজের ফাঁকে ফাঁকে উপযুক্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
২. ধুমপান- ধুমপান বন্ধ করা, তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বর্জন করা।
৩. খাদ্য- মোটা ও অতিরিক্ত ওজনের রোগীদের ওজন কমানে- স্বাভাবিক সব খাবার খাবে, শাক-সবজি বেশি খাবে- মদ্যপান বন্ধ করা/নিষিদ্ধ করা- অতিরিক্ত লবণ (পাতে লবন) খাওয়া নিষেধ
৪. চর্বি জাতীয় খাবার কমানো।
৫. ব্যায়াম- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং হাঁটাহাঁটি করা।
৬. ডায়াবেটিক বা অন্য রোগ থাকলে খাবারের ধরণ সেই অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে।


মৃদু উচ্চ রক্তচাপের ব্যবস্থাপনা

১. পরিমাণ মতো বিশ্রাম নিতে হবে
২. দুশ্চিন্তা এড়িয়ে থাকার পরামর্শ দিতে হবে
৩. ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্যাদি ছেড়ে দিতে হবে
৪. নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করাতে হবে
৫. ১৫-৩০ দিনের মধ্যে আবার রক্তচাপ পরীক্ষা করাতে হবে
এতে যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে- চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

উচ্চ রক্তচাপের শারীরিক পরীক্ষা

রক্তচাপ পরীক্ষা করা হলো প্রধান শারীরিক পরীক্ষা। রোগী কক্ষে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীর রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত নয়। ৫-১০ মিনিট বিশ্রাম নেওয়ার পর রক্তচাপ পরিমাপ করা উচিত। দুভাবে রক্তচাপ পরিমাপ করা উচিত- বসিয়ে এবং শোয়ানো অবস্থায় (কনুইয়ের অর্ধেক ইঞ্চি অথবা ইঞ্চি ওপরে মাপার যন্ত্রের কাফটি বাধতে হয় এবং ঠিক কনুইয়ের ভাঁজের ওপরে স্টেথোস্কোপ রেখে রক্তচাপ মাপা উচিত) প্রথম বার রোগীর রক্তচাপ স্বাভাবিক চেয়ে বেশি পাওয়া গেলে রোগীর রক্তচাপ কিছুক্ষণ পর (১০ মিনিট) আবার মাপতে হবে।

পরবর্তী ল্যাবরেটরি পরীক্ষা:
১. প্রস্রাব পরীক্ষা: এলবুমিন, সুগার
২. রক্তের ইউরিয়া, কোলেস্টেরল, সুগার
৩. বুকের এক্সেরে
৪. ইসিজি
উপরি-উক্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষাগুলোর জন্য শুধু ডাক্তার পরামর্শ দিতে পারবেন। চিহ্নিত পরীক্ষার জন্য ডাক্তার ও প্যারামেডি উভয়েই পরামর্শ দিতে পারবেন।

 

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
আপনার মুখে দুর্গন্ধ? লবঙ্গ দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে দূর করুন মুখের দুর্গন্ধজেনে নিন কিভাবে কিভাবে দূর করবেন আপনার মুখে দুর্গন্ধ
৩ টাকা দিয়ে ফলটি কিনুন !! এই একটি ফলের রসেই গলবে কিডনির পাথর।বিস্তারিত ভিতরে পড়ুন
ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতাবিস্তারিত পড়ুন ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতা
যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালোবিস্তারিত পড়ুন যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালো
খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফলবিস্তারিত পড়ুন খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফল
পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়বিস্তারিত পড়ুন পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়
যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে নাবিস্তারিত পড়ুন যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে না
এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুনবিস্তারিত পড়ুন এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুন
জিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুনজিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুন! জেনে নিন কখন, কি ভাবে খাবেন?
শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়বিস্তারিত পড়ুন শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়
আরও ১২৭৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি