পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

এক্লাম্পশিয়া (প্রসূতিদের সমস্যা)

 

বাংলাদেশে প্রসূতি মৃত্যুর হার অধিক। প্রতি ঘন্টায় ২ জন নারী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। প্রসূতি মৃত্যুর এই অধিক হারের জন্য যে পাঁচটি প্রধান কারণ রয়েছে তার মধ্যে এক্লাম্পশিয়া অন্যতম। বাংলাদেশে মোট প্রসূতি মৃত্যুর ১১% ঘটে এক্লাম্পশিয়ার কারণে অর্থাৎ প্রতি এক হাজার প্রসূতি মৃত্যুর মধ্যে এক্লাম্পশিয়ায় মারা যান ১১০ জন নারী। তবে সময়মত প্রসূতির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে অত্যন্ত উদ্ধেগজনক এই সংখ্যাটিকে শূণ্যের কাছকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব। গর্ভধারণ ও প্রসব সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভধারণের শুরু থেকে প্রসবের পরের ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সাবধান ও সচেতন থাকলে প্রসূতি মৃত্যু এবং শিশু মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। তাই অধিক প্রসূতি মৃত্যু হারের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় এক্লাম্পশিয়া সম্পর্কে জানা ও বোঝা সবার জন্য জরুরী।

 

প্রি এক্লাম্পশিয়া

  • গর্ভকালীন সময়ে উচ্চ রক্তচাপ
  • প্রস্রাবে আমিষের (প্রোটিন) পরিমাণ বেড়ে যাওয়া
  • পায়ে পানি আসা (ইডিমা)

এই তিনটির যেকোন দু’টি বর্তমান থাকলে সেই অবস্থাকে প্রি-এক্লাম্পশিয়া বলা হয়।

 

এক্লাম্পশিয়া

  • গর্ভকালের শেষ পর্যায়ে, প্রসবের সময় অথবা প্রসবের পরের ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রি-এক্লাম্পশিয়ার লক্ষণগুলোর সাথ খিচুনী দেখা দিলে তাকে এক্লাম্পশিয়া বলা হয়।

 

উপসর্গ

  • চোখে ঝাপসা দেখা
  • অতিরিক্ত মাথা ব্যাথা
  • বমি হওয়া
  • পায়ে পানি আসা
  • অধিক ওজন বৃদ্ধি
  • খিচুনী
  • খিচুনীসহ জ্ঞান হারানো

 

প্রি এক্লাম্পশিয়া এ এক্লাম্পশিয়া সনাক্ত করা যায় যেভাবে

সাধারণত স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসক দিয়ে গর্ভকালীন সময়ে কমপক্ষে ৪ বার অর্থাৎ প্রথম তিন মাসে একবার, দ্বিতীয় তিন মাসে একবার ও শেষ তিন মাসে দুইবার পরীক্ষা করালে প্রি এক্লাম্পশিয়া বা এক্লাম্পশিয়ার সম্ভাবনা  আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

 

এক্লাম্পশিয়া হওয়ার কারণ

এক্লাম্পশিয়া কেন হয় বা কি কারণে হয় তা বৈজ্ঞানিকরা এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারেননি। তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো এক্লাম্পশিয়ার রোগীদের সাথে খুবই সম্পর্কযুক্ত বিধায় তা জানা জরুরী। যেমন:

  • উচ্চ রক্তচাপ
  • বহুমুত্র (ডায়বেটিস)
  • গর্ভের একের অধিক সন্তান
  • মা বা বোনের প্রি এক্লাম্পশিয়া ও এক্লাম্পশিয়া হবার ঘটনা অর্থাৎ বংশগত প্রবণতা।
  • প্রথমবার গর্ভধারণ
  • অল্প বয়সে গর্ভধারণ
  • অধিক বয়সে গর্ভধারণ (৩৫ বছরের উপরে)
  • অপুষ্টি (দরিদ্র নারীদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি)
  • মানসিক চাপ বা অত্যধিক দুশ্চিন্তা

 

এক্লাম্পশিয়া রোধ করা যায় যেভাবে

এক্লাম্পশিয়া রোধে নিম্নোক্ত ব্যবস্থাপনা সমূহ গ্রহণ করতে হয়:

  • গর্ভকালীন সময়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করানো।
  • প্রশিক্ষিত ব্যক্তি (প্রশিক্ষিত দাই, এসবিএ, এফডাব্লিউভি, এফডাব্লিউএ বা চিকিৎসক) দ্বারা প্রসব করানো।
  • গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর পুষ্টি, বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা।
  • গর্ভধারণের পূর্বে, গর্ভকালীন এবং প্রসবোত্তর সময়ে উচ্চ রক্তচাপ ও বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • খিঁচুনী দেখা দেয়ার সাথে সাথে কোন বিলম্ব না করে রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা।
  • খিচুনী দেখা দেয়ার সাথে সাথে রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যেমন: এক্লাম্পশিয়ার চিকিৎসা পাওয়া যায় কাছাকাছি এমন হাসপাতালের সন্ধান রাখা এবং যানবাহন ও টাকার ব্যবস্থা রাখা।
  • প্রি-এক্লাম্পশিয়া ও এক্লাম্পশিয়ার লক্ষণগুলো জানা এবং বোঝা ও যথাসময়ে চিকিৎসা নেয়া।

 

প্রি-এক্লাম্পশিয়া ও এক্লাম্পশিয়া রোধে প্রসূতিকে ঘিরে করণীয়

  • প্রসূতি নিজে: যে কোন সমস্যায় সংকোচ না করে স্বামী বা পরিবারের সদস্যদের জানাতে হয় যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায়। বাড়ির সবচেয়ে কাছের সেবাকেন্দ্রে গিয়ে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করাতে হয়। গর্ভবর্তী কার্ড সংগ্রহ করতে হয় এবং সযত্নে রাখতে হয়।
  • প্রসূতির স্বামী ও পরিবার: পরিবারের সবাইকে গর্ভবর্তীর বিষয়ে সচেতন থাকত হয়, স্বামীকে স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সময়মত খাওয়া ও বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হয়। প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর ঝুঁকি এড়াতে প্রি-এক্লাম্পশিয়া ও এক্লাম্পশিয়ার চিকিৎসা পাওয়া যায় এমন সেবা কেন্দ্রের খোঁজ এবং যানবাহন ও অর্থের ব্যবস্থা রাখতে হয়।
  • ইউনিয়ন পরিষদ: পরিষদের সদস্যরা এলাকার প্রসূতি ও শিশু মৃত্যু রোধে বিশেষ করে এক্লাম্পশিয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ রোগ রোধে এক্লাম্পশিয়া বিষয়ে প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা করেন। ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গর্ভবর্তী নারীরা নিয়মিত ও সঠিক সেবা পাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করেন। কোন প্রসূতির মৃত্যু হলে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ কারণে আর কোন প্রসূতির মৃত্যু ঘটে তার ব্যবস্থা নেবে। এক্লাম্পশিয়া আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে যানবাহন ও তহবিল গঠনের ব্যবস্থা করেন।
  • উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি: জরুরী প্রসূতি সেবা ব্যবস্থা রয়েছে সেই সকল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সকল সেবা কেন্দ্রে যাতে এক্লাম্পশিয়া রোগীর ব্যবস্থাপনা প্রটোকল ব্যবহার হয় তা নিশ্চিত করেন।
  • জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি: জেলা হাসপাতালে জরুরী প্রসূতির সম্পূর্ণ সেবা, রক্তপরিঞ্চালন ব্যবস্থা ও আই.সি.ইউ সেবা নিশ্চিত করতে জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে থাকেন।
  • স্থানীয় বেসরকারি সংগঠনের করণীয়: হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। এলাকায় কোন প্রসূতি মৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যু হলে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে উক্ত মৃত্যুর কারণ জানিয়ে থাকে ও মৃত্যু এড়ানোর জন্য করণীয় বিষয়ে সকলকে সচেতন করে থাকে।

 

এক্লাম্পশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা

কেস স্টাডি: ১

পটুয়াখালী জেলার বহালগাছিয়া গ্রামের মেয়ে পারুল বেগম (১৫)। বিয়ের দেড় বছরের মধ্যে পারুল প্রথম গর্ভধারণ করে এবং প্রসবকালে মারা যায়। মৃত্যুর এক মাস আগে পারুল একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে গাইনী ও প্রসূতি চিকিৎসককে দেখিয়েছিলেন। চিকিৎসকের মতে, গর্ভাবস্থায় পারুলের প্রি-এক্লাম্পশিয়া ছিল এবং এ কারণে প্রসবের নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে পারুল সে সময় ভর্তি হতে পারেননি। মৃত্যুর এক মাস আগে থেক পারুলের মাথা ব্যথা ও মাথা ঘোরা ছিল এবং বমি হতো। ২৭ এপ্রিল ২০১১ তারিখে তার প্রসব ব্যথা ওঠে, সেইসাথে বমি ও মাঝে মাঝে প্রবল খিচুনী শুরু হয়। পারুল অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। ঐদিন রাত ৩:৩০ টায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একটি সন্তান হয়। প্রসবের পর পারুলের রক্তক্ষরণ শরু হয় ও খিচুনী হতে থাকে। চিকিৎসা সত্ত্বেও অবস্থার উন্নত না হওয়ায় চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলেও টাকার অভাবে বরিশালে নেয়া হয় নি। পরদিন ২৮ই এপ্রিল ২০১১ সে মারা যায়। চিকিৎসক ও নার্সদের মতে, পারুল প্রসবের আগেই এক্লাম্পশিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় তারা পারুলকে বাঁচাতে পারেননি।  

 

কেস স্টাডি: ২

ঢাকা নগরীতে বসবাস করেন মিনা (২৭)। গর্ভকালীন ৮ মাস সময়ে মিনার প্রসব ব্যথা শুরু হয়। তার প্রচুর ঘাম আর অস্থিরতা দেখে তার ছোট বোন (যে পূর্বেই মা হয়েছেন) দ্রুত তাকে পাশের ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পরে তার খিচৃনী ওঠে। সে অজ্ঞান হয়ে গেলে এ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অপারেশন করে একটি মৃত সন্তান বের করা হয় ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি মিনাকে নিজের যত্ন নিতে, খাবার খেতে, চেক-আপ করাতে বললেও মিনা নিজের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে তা পালন করেননি। তবুও তার জীবন রক্ষা পাওয় ছোট বোনে সচেতনতার কারণে।

 

কেস স্টাডি: ৩

মানিকগঞ্জ জেলার হলকান্দি গ্রামের মেয়ে সোমা (২০)। গর্ভকালীন ৮ মাস পর্যন্ত তিনি কোন চিকিৎসক দেখাননি তবে পরে উথলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। ৩০ অক্টোবর ২০০৮ রাত ১১ টার দিকে সোমার শরীর ঘামতে থাকে, তিনি বমি করেন এবং এক পর্যায়ে জ্ঞান হারান। তার দাঁতে দাঁত লেগে যায়, মুখ বাঁকা হয়ে যায় ও তিনি হাত-পা ছুড়তে থাকেন। সোমার পরিবার ফকির এনে পানি পড়া খাওয়ায়। ইতিমধ্যে মুখ ও কান দিয়ে একটু একটু রক্ত বের হতে থাকে। এরপর সোমাকে উথলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু গাড়ির ব্যবস্থা না থাকায় সদরে পৌঁছাতে দেরী হয়। হাসপাতালে তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেয়া হয় ও অপারেশন করে সন্তান বের করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আর ৫ মিনিট দেরী হলে তাকে বাঁচানো যেতো না। সোমার বাবার মতে, অপারেশন করার পরও তার খিচুনী ছিল। এরপর আস্তে আস্তে সোমা স্বাভাবিক হয়।

 

(আপলোডের তারিখ : ১১/০৭/২০১২)

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
আপনার মুখে দুর্গন্ধ? লবঙ্গ দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে দূর করুন মুখের দুর্গন্ধজেনে নিন কিভাবে কিভাবে দূর করবেন আপনার মুখে দুর্গন্ধ
৩ টাকা দিয়ে ফলটি কিনুন !! এই একটি ফলের রসেই গলবে কিডনির পাথর।বিস্তারিত ভিতরে পড়ুন
ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতাবিস্তারিত পড়ুন ক্যানসার-তেজস্ক্রিয়তাও প্রতিরোধ করে সাদা তিল! রয়েছে আরও বহু উপকারিতা
যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালোবিস্তারিত পড়ুন যে কারণে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজি খাওয়া ভালো
খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফলবিস্তারিত পড়ুন খাওয়ার পর একটু হাঁটার সুফল
পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়বিস্তারিত পড়ুন পর্যাপ্ত ফল ও সবজি না খেলে যা হয়
যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে নাবিস্তারিত পড়ুন যে সকল সুস্বাদু খাবার আপনার শরীরের মেদবৃদ্ধি করবে না
এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুনবিস্তারিত পড়ুন এবার চিরকালের জন্য কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় জেনে রাখুন
জিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুনজিরা খেয়ে ১৫ দিনে মেদচর্বি একদম ঝরিয়ে ফেলুন! জেনে নিন কখন, কি ভাবে খাবেন?
শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়বিস্তারিত পড়ুন শিশুদেরকে বাহু ধরে ঘোরানো ঠিক নয়
আরও ১২৭৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি