পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

রাজবাড়ী ভ্রমণ

এক সময়ে বাংলার প্রবেশদ্বার বলে পরিচিত গোয়ালন্দ মহকুমার সদর দপ্তর বর্তমান রাজবাড়ী জেলা। প্রখ্যাত সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন, শিক্ষাবিদ ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন, শিক্ষা সংস্কারক মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী প্রমূখ ব্যক্তি এই জেলায় জন্মগ্রহন করেন। ঢাকা থেকে রাজবাড়ী জেলায় যেতে সময় লাগে ৩/৪ ঘন্টা।

 

অবস্থান

রাজবাড়ী জেলা ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত। আয়তন ১২০৪ বর্গ কিলোমিটার। রাজবাড়ী জেলা ২৩৩৫′-২৩৫৫′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯০৯′-৮৯৫৫′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। উত্তরে পাবনা জেলা,দক্ষিণে ফরিদপুর ও মাগুরা জেলা,পূর্বে মানিকগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা।

 

যাতায়াত পদ্ধতি

ঢাকা থেকে রাজবাড়ী সাধারনত সড়ক পথেই যাতায়েত করা হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে রাজবাড়ী সড়ক পথে যাতায়েত করতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা, তবে ফেরী পারাপারের সময় যানজট থাকলে সময় বেশী লাগে।

 

ঢাকা থেকে রাজবাড়ী ভাড়া

গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বেশ কয়েকটি বাস রাজবাড়ীর উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। এ সব বাস গুলোর মধ্যে আনন্দ পরিবহন, আজমিরী পরিবহন, স্কাই লাইন, রাজবাড়ী এক্সপ্রেস অন্যতম।

বাসের নাম

ভাড়া

রাজবাড়ী এক্সপ্রেস 

২০০ টাকা

আজমিরী পরিবহন

২৫০ টাকা

স্কাই লাইন

২০০ টাকা

আনন্দ পরিবহন

২০০ টাকা

এছাড়া খুলনা রুটে যে সব বাস চলাচল করে সে সব বাসের অধিকাংশই গোয়ালন্দ মোড়ে বিরতি দেয়। সে ক্ষেত্রে খুলনার বাসেও রাজবাড়ী যাওয়া যায়। খুলনার বাস গুলো সাধারনত ফরিদপুরের ভাড়া নিয়ে থাকে।

 

লঞ্চ পারাপার

গাবতলী থেকে  পাটুরিয়া পর্যন্ত কিছু বাস চলাচল করে। পাটুরিয়া থেকে লঞ্চে করে গোয়ালন্দ ঘাট যাওয়া যায়। সেখান থেকে অন্য বসে উঠে রাজবাড়ী যাওয়া যায়। লঞ্চে যাতায়াত করলে সময় ও অর্থ দুটোই কম লাগে।

 

যাত্রা পথে পড়বে  চোখে

ঢাকা থেকে রাজবাড়ী যাওয়ার পথে সাভার স্বৃতিসৌধ, সাভার ক্যান্টনমেন্ট, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ও মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন দর্শণীয় স্থান চোখে পড়বে।

 

রাজবাড়ী  থাকার ব্যবস্থা

রাজবাড়ী  যাওয়ার পর ভ্রমণকারীর থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল। আবাসিক হোটেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫০ টাক সর্বোচ্চ ভাড়া ৪০০০  টাকা। আবাসিক হোটেল গুলোতে সিঙ্গেল ও ডাবল উভয় বেড রয়েছে। সরকারি কর্মকতা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে সার্কিট হাউজ।

 

আবাসিক হোটেলের নাম

 ভাড়া

যোগাযোগের ঠিকানা

হোটেল পার্ক

২০০/= টাকা

ও ডাবল ৩০০/= টাকা

এসি সিংগেল ৬০০/= ও ডাবল ৭০০/= টাকা

০৬৪১-৬৬১১১

কেনটন চাইনিজ হোটেল ও রেস্তোরাঁ

ননএসি হল রুম ৪০০০/= টাকা

এসি হল রুম ৬০০০/= টাকা

০১৭৩৫৪৭৪৩৫৩

গুলশান বোর্ডিং

জনপ্রতি ৫০/= টাকা

০১৯২৩১৯৩১৩৮

প্রাইম হোটেল

নন এসি সিংগেল ৭০/= টাকা

ও ডাবল ১৪০/= টাকা

এসি সিংগেল ৩০০/= ও ডাবল ৫০০/= টাকা

০১৯১৩৯৫৯২২২

মিড টাউন হোটেল

নন এসি সিংগেল ১২০/= টাকা

ও ডাবল ৩০০/= টাকা

০১১৯০৬৯০৩০১

রাজবাড়ী বোডিং

জনপ্রতি ৫০/= টাকা

০১১৯১৫৭১৭৪৩

 

 

দর্শণীয় স্থান 

১. শাহ পাহলোয়ানের মাজারঃ রাজবাড়ী অঞ্চলে ষোড়শ শতকে ধর্ম প্রচারের জন্য আগমন করেন শাহ পাহলোয়ান এর মত আউলিয়ারা। ১৪৮০ হতে ১৫১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে শাহ পাহলোয়ান বোগদাদ শরীফ পরিত্যাগ করে ফরিদপুর অঞ্চলে এসে চন্দনা নদীর তীরে বাসস্থান নির্মাণ করে উপাসনা করছিলেন। শাহ পাহলোয়ানই রাজবাড়ী অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ভিত রচনা করে গেছেন। রাজবাড়ীতে তাঁর একটি মাজার রয়েছে।

 

২. দাদ্শী মাজার শরীফঃ রাজবাড়ী শহর থেকে রেল লাইন ধরে পূর্বদিকে ১ কিঃমিঃ দূরে দাদ্শী খোদাই দরগা। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে কামাল শাহ নামক এক আউলিয়া ষোড়শ শতকে এতদঞ্চলে আগমন করেন।। ১৮৯০ সালে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রাজবাড়ী রেল লাইন স্থাপনের সময় জঙ্গলের মধ্যে দরগাটির সন্ধান মিলে। সেই হতে দরগাটি এ অঞ্চলের মানুষ খোদাই দরগা নামে কামাল শাহ আউলিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন।

 

৩. জামাই পাগলের মাজারঃ রাজবাড়ী শহরের ৬ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পূর্বে আহলাদিপুর মোড়ে জামাই পাগলের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে একটি শেড নির্মিত হয়। ১৯৬০ সালের দিকে জামাই পাগল নামে এক ব্যক্তিকে সেখানে নেংটি পরা অবস্থায় শেওড়া গাছের নীচে মজ্জুম অবস্থায় দেখা যেত। তাকে কেহ প্রশ্ন করলে তিনি একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করতেন। তার মৃত্যুর পর উক্ত স্থানে জামাই পাগলের মাজার নামে একটি মাজার গড়ে উঠেছে।

 

৪. নলিয়া জোড় বাংলা মন্দিরঃ বালিয়াকান্দি থানার নলিয়া গ্রামে একটি জোড় বাংলা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এর গঠন বিচিত্র। এ মন্দিরটি ১৭০০ সালে তৈরী বলে পন্ডিতগণ মনে করেন।

 

৫. সমাধিনগর মঠ (অনাদি আশ্রম): বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নে ১৯৪০ সালে স্বামী সমাধী প্রকাশরণ্য এ মঠটি নির্মাণ করেন যার উচ্চতা ৭০ ফুট (গম্বুজসহ), দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ৫০ ফুট। এটি অনাদি আশ্রম বলে পরিচিত। স্বামীজী এ আশ্রমের মাধ্যমে ঐ এলাকার মানুষকে আলোর পথে অগ্রায়ণ করে গেছেন।

 

৬. রথখোলা সানমঞ্চঃ রাজবাড়ী শহর থেকে দুই স্টেশন পশ্চিমে প্রাচীন হড়াই নদীর তীরে বর্তমান পদ্মার কাছাকাছি বেলগাছি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। বেলগাছির অদূরে হাড়োয়ায় স্থাপিত হয়েছে কষ্টি পাথরের মদন মোহন জিউর। মদন মোহন এর মূর্তিটি পাল আমলের। বেলগাছিতে রাম জীবনের নামে গড়ে ওঠে আখড়া। রাম জীবনের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে সেখানে সানমঞ্চ ও দোলমঞ্চের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।

 

৭. নীলকুঠিঃ ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর নীলকরদের অত্যাচার আরো বৃদ্ধি পায় এবং প্রজা সাধারণ অতিষ্ট হয়ে সংঘবদ্ধভাবে নীলকরদের বিরূদ্ধে রুখে দাড়ায়। শুরু হয় নীলবিদ্রোহ। রাজবাড়ীতে  নীলবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ সময় বালিয়াকান্দি থানার সোনাপুরের হাশেম আলীর নেতৃত্বে শত শত চাষী নীলকর ও জমিদারদের বিরূদ্ধে নীল বিদ্রোহে অংশ নেয়। বহু স্থানে নীলকুঠি আক্রমণ করে ও কাচারী জ্বালিয়ে দেয়। এ অঞ্চলের বসন্তপুর,বহরপুর,সোনাপুর,বালিয়াকান্দি,নাড়ুয়া,মৃগী,মদাপুর,সংগ্রামপুর,পাংশার নীলচাষীরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। ফলে ১৮৬০ সালে বৃটিশ সরকার নীল কমিশন বসান এবং নীল চাষ স্বেচ্ছাধীন ঘোষণা করেন। ধীরে ধীরে কৃত্রিম নীল উদ্ভাবিত হয় এবং প্রাকৃতিক নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়। আজও রাজবাড়ীতে নীলকুঠি রয়েছে।

 

৮. মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রঃ বিষাদ সিন্ধু খ্যাত মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি বিজড়িত পৈত্রিক নিবাস পদমদীতে মীর মশাররফ হোসেন ও তার স্ত্রীর  সমাধিকে ঘিরে ১৯৯৯ সালে তৈরী করা হয় মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন দুই কোটি তিপান্ন লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ব্যয়ে দুই একর জমির উপর স্মৃতি কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয় । নির্মিত এই স্মৃতি কেন্দ্রে একটি পাঠাগার,একটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অতিথি কক্ষ,সভা কক্ষ,মিউজিয়াম,ডাইনিং রুম প্রভৃতি তৈরী করা হয়েছে। মীরের আবক্ষ মূর্তি যে কোন দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ স্মৃতি কেন্দ্রে মীর ভক্তদের পাশাপাশি শীত মৌসুমে প্রচুর পর্যটকের ভীড় জমে।

 

৯. দৌলতদিয়া ঘাটঃ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ফরিদপুর,যশোর,খুলনা,কুষ্টিয়া,বরিশাল পদ্মা নদী দ্বারা বিভক্ত। ঢাকা হতে দক্ষিণাঞ্চলে এসব জেলায় পৌছাতে হলে দৌলতদিয়া ঘাট অতিক্রম করা অপরিহার্য। ব্রিটিশ ভারতে গোয়ালন্দ বাংলার পশ্চিম আর পূর্বের সেতু বন্ধন হিসেবে বাংলার দ্বার নামে পরিচিত ছিল। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার সেতুবন্ধন হিসেবে দৌলতদিয়া ঘাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এ ঘাট পার হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করে।

 

অন্যান্য দর্শণীয় স্থান

  • এ্যাক্রোবেটিক সেন্টার
  • রাজবাড়ী সুইমিং পুল
  • কুটি পাঁচুরিয়া জমিদার বাড়ী
  • গোদার বাজার পদ্মা নদীর তীর
  • রাজবাড়ী উদ্যান বেস 

 

আপ-লোডের তারিখ: ১৩/০৪/২০১৩ ইং।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
কক্সবাজার ভ্রমণকক্সবাজার ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য
কিশোরগঞ্জ ভ্রমণকিশোরগঞ্জ ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে
কুমিল্লা ভ্রমণকুমিল্লা ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য
কুষ্টিয়া ভ্রমণ কুষ্টিয়া জেলার প্রয়োজনীয় তথ্য
কুড়িগ্রাম ভ্রমণকুড়িগ্রাম ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য
খাগড়াছড়ি ভ্রমণখাগড়াছড়ি ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে
খুলনা ভ্রমণ খুলনা জেলার প্রয়োজনীয় তথ্য
গাইবান্ধা ভ্রমণগাইবান্ধা ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য
গোপালগঞ্জ ভ্রমণ গোপালগঞ্জ জেলার প্রয়োজনীয় তথ্য
চাঁদপুর ভ্রমণ চাঁদপুর জেলা সর্ম্পকে তথ্যাবলী
আরও ৪৮ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি