পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

মালিটোলা

ঢাকা সম্পর্কে আমরা অনেকেই বলে থাকি ‘বায়ান্ন বাজার তিপান্ন গলির’ শহর এই ঢাকা। ঢাকার এই বিশেষণটির অনেকটা মিল রয়েছে পুরাতন ঢাকার মালিটোলা এলাকায়। কেননা পুরো এলাকাটিই বিভিন্ন ধরনের মার্কেট ও গলিপথ দ্বারা আবর্তিত। এই এলাকাটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বংশাল থানা ও নব নির্ধারিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৩৫ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।

 

সীমানা/পরিধি

এই এলাকাটি মূলত নর্থ সাউথ রোড, নবাবপুর রোড, বংশাল রোড ও ইংলিশ রোড দ্বারা আবর্তিত। এর পূর্ব দিকে রয়েছে নবাবপুর রোড, পশ্চিমে নর্থ সাউথ রোড, উত্তরে বংশাল রোড এবং দক্ষিণে ইংলিশ রোড।

 

পূর্ব দিকে নবাবপুর রোড সংলগ্ন মানসী সিনেমা হল মোড় থেকে দক্ষিণে রায়সাহেব বাজার পর্যন্ত, পশ্চিমে বংশাল নতুন চৌরাস্তা থেকে দক্ষিণে তাঁতীবাজার মোড় পর্যন্ত, উত্তরে বংশাল নতুন চৌরাস্ত থেকে পূর্ব দিকে মানসী সিনেমা হল পর্যন্ত এবং দক্ষিণে তাঁতীবাজার মোড় থেকে বংশাল নতুন চৌরাস্তা পর্যন্ত এই এলাকাটির বিস্তৃতি।

 

কীভাবে যাবেন

ঢাকার যেকোন স্থান থেকে এই এলাকায় আসার সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। রিক্সা, বাস, সিএনজি অটোরিক্স, ট্যাক্সি, প্রাইভেট কার যোগে এই এলাকায় যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে।

  • ঢাকার মিরপুর, ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান হয়ে সদরঘাট রুটে চলাচলকারী ইউনাইটেড, দিশারী ও বিহঙ্গ পরিবহনের বাসযোগে বংশাল নতুন চৌরাস্তা নেমে হাতের বাম পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে যে সড়কটি গিয়েছে সেই সড়কটি ধরে কিছুটা পথ এগোলে কিংবা যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই দেখিয়ে দেবে।
  • ঢাকার টঙ্গী, উত্তরা, বনানী, মহাখালী, মগবাজার, মালিবাগ, কাকরাইল থেকে গুলিস্তান হয়ে সদরঘাট রুটে চলাচলকারী কে.টি.সি., আজমেরী পরিবহন যোগে বংশাল নতুন চৌরাস্তা নেমে হাতের বাম পাশের সড়কটি ধরে পূর্ব দিকে কিছুটা পথ এগুলোই মালিটোলা এই এলাকাটির দেখা মিলবে।
  • ঢাকার কুড়িল, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ থেকে গুলিস্তান হয়ে সদরঘাট রুটে চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহনের যেকোনে বাসযোগে বংশাল নতুন চৌরাস্তা নেমে হাতের বাম পাশের সড়কটি ধরে পূর্ব দিকে কিছুটা পথ এগুলোই মালিটোলা এই এলাকাটির দেখা মিলবে।
  • যারা গাবতলী, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, আজিমপুর থেকে আসবেন তাদের জন্য রয়েছে সদরঘাট টু গাবতলী রুটে চলাচলকারী ৭ নম্বর বাস। এই বাসযোগে বংশাল নতুন চৌরাস্তা নেমে হাতের বাম পাশের সড়কটি ধরে পূর্ব দিকে কিছুটা পথ এগুলোই মালিটোলা এই এলাকাটির দেখা মিলবে।
  • আর যারা যাত্রাবাড়ি, সায়েদবাদ থেকে আসবেন তাদের জন্য রয়েছে রাজধানী পরিবহনের মিনিবাসগুলো। এগুলো যাত্রাবাড়ি মোড় থেকে ৫ মিনিট পরপর বাবুবাজার ও সদরঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এই পরিবহন যোগে রায় সাহেব বাজার মোড় অথবা তাঁতী বাজার মোড়ে নেমে যে কাউকেই জিজ্ঞাসা করলেই দেখিয়ে দেবে।
  • সদরঘাট থেকে যারা আসবেন তারা রায়সাহেব বাজার মোড়, তাঁতী বাজার মোড় অথবা বংশাল নতুন চৌরাস্তা মোড়ে নেমে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই দেখিয়ে দেবে।
  • এছাড়া প্রাইভেট কার, ট্যাক্সি ক্যাব, সিএনজি অটোরিক্সা নিয়েও উপরোক্ত মোড়গুলো দিয়ে এই এলাকায় প্রবেশ করা যায়।

 

এলাকাটির প্রকৃতি

পুরাতন ঢাকা স্বাভাবিকভাবেই সকলের নিকট অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকা। সেদিক থেকে এই এলাকাটিও ব্যতিক্রম নয়। এই এলাকার ভবনগুলো এক তলা থেকে শুরু করে পাঁচ, ছয়, সাত তলা পর্যন্ত বিস্তৃত। একেকটি ভবন একটির সাথে আরেকটি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়েছে। সম্পূর্ণ এলাকাটি অসংখ্য ছোট ছোট গলিপথে বিভক্ত। তবে গলিপথগুলোর বিশেষত্ব হলো প্রতিটি গলিপথই একটির সাথে অন্যটি সংযুক্ত। গলিপথগুলো দিয়েই আপনি সম্পূর্ণ মালিটোলা ঘুরে বেড়াতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখবেন ঘুরতে ঘুরতে যেনো হারিয়ে না যান।

 

গলিপথগুলো

ঢাকার ‘বাইশ গলি’ নামটি সম্পর্কে আমরা অনেকেই পরিচিত হলেও অনেকেরই দেখা হয় নি। এটি আসলে একটিমাত্র গলি নয়, ছোট ছোট অসংখ্য গলিপথের সংযোগে সৃষ্টি হয়েছে বাইশ গলির। মালিটোলা এলাকার পশ্চিম পাশের এবং নর্থ সাউথ রোডের পূর্ব পাশের গলিগুলোকেই বাইশ গলি বলা হয়ে থাকে। মালিটোলা আহলে হাদিস মসজিদের পাশ দিয়ে যে গলি পথটি রয়েছে সেখান থেকেই মূল বাইশ গলির শুরু এভাবে মালিটোলা রোড ধরে দক্ষিণ দিকে একটু আগে বাড়লে পড়বে আরেকটি গলি, এভাবে দক্ষিণে যতদূর পর্যন্ত যাবেন কিছুদুর পরপরই চোখে পড়বে ছোট ছোট গলিপথ। প্রতিটি গলিপথেরই একটির অন্যটির সাথে সংযোগ রয়েছে। এই গলিপথগুলোর শেষ প্রান্ত গিয়ে মিশেছে দক্ষিণে তাঁতীবাজার মোড় সংলগ্ন মালিটোলা বাঁশপট্টিতে। এছাড়া পূর্ব পাশেও কিছু গলিপথ রয়েছে। তবে সেগুলোর একটির সাথে অন্যটির তেমন কোনো সংযোগ নেই।

 

এলাকার বিভাজন

সম্পূর্ণ মালিটোলা এলাকাটি ৩টি ভাগে বিভক্ত। যেমন –

  • মালিটোলা রোড
  • পুরানা মোগলটুলী
  • গোলক পাল লেন

এই তিনটি এলাকা নিয়েই সম্পূর্ণ মালিটোলা এলাকাটি গঠিত।

 

মালিটোলা রোড

বংশাল নতুন চৌরাস্তা থেকে শুরু করে দক্ষিনে ইংলিশ রোড পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের বাড়িগুলো মালিটোলা রোডের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া বাইশ গলির সম্পূর্ণ অংশই মালিটোলার অন্তর্ভুক্ত।

 

পুরানা মোগলটুলী

মালিটোলা রোডের সংযোগ স্থল থেকে দক্ষিণ দিকে কিছুটি পথ এগোলে যে তিন রাস্তার মোড়টি রয়েছে সেই মোড় থেকে পূর্ব দিকে যে রোডটি রয়েছে সেটি পুরানা মোগলটুলী লেন নামে পরিচিত। এই লেনটি পূর্ব দিকে নবাবপুর রোডে গিয়ে মিশেছে এবং অন্য একটি গলিপথ উত্তর দিকে মানসী সিনেমা হলের পাশ দিয়ে বংশাল রোডে গিয়ে মিশেছে।

 

গোলক পাল লেন

মালিটোলা রোডের দক্ষিণ প্রান্তের সংযোগ স্থল সংলগ্ন মাজহারুল ইসলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে যে গলিপথটি পূর্ব দিকে গিয়েছে সেটি গোলকপাল লেন নামে পরিচিত। এই গলিপথটি পূর্ব দিকে নবাবপুর রোডের সাথে গিয়ে মিশেছে।

 

বিশেষ স্থান

এই এলাকাটির একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। আর সেটি হলো ‘বাংলার মোড়’। এই স্থানটি সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য থাকে। বংশাল নতুন চৌরাস্তা থেকে দক্ষিণ দিকে কিছুটা পথ এগোলেই যেই তিন রাস্তার মোড়টি রয়েছে সেটিই বাংলার মোড় নামে সকলের নিকট পরিচিত।

 

খাবার দাবার

খাবারের দিক থেকে মালিটোলাবাসী অত্যন্ত ভোজন রসিক হলেও মালিটোলা এলাকায় তেমন কোনো খাবারের দোকান চোখে পড়ে না। তবে বাংলার মোড়ে অবস্থিত রশি বিরিয়ানী এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এটি একটি তেহারীর দোকান। সকাল থেকে রাত অবধি এই দোকানটিতে গরুর মাংসের তৈরি তেহারী বিক্রি করা হয়। মালিটোলা বাংলার মোড়ে গেলেই সুস্বাদু তেহারীর ঘ্রান যে কারো দৃষ্টি ফেরাতে সক্ষম। এটি ছাড়াও মালিটোলায় আরো বেশ কিছু ছোট-বড় খাবারের হোটেল, পিঠার দোকান, বাকরখানির দোকান, মাংসের দোকান ও ফলের দোকান রয়েছে।

 

স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসা

এই এলাকাটিতে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। হাজী মাজহারুল হক প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ইংলিশ রোড সংলগ্ন মালিটোলা বাঁশপট্টিতে এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়টি মালিটোলা বাংলার মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে ইংলিশ রোডের দিকে যাওযার পথে আল-কোরআন মসজিদ থেকে পূর্ব দিকে যে রোডটি রয়েছে সেটি ধরে কিছুটা এগোলেই দেখা মিলবে। এখানে কোনো কলেজ ও মাদ্রাসা নেই। মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে মালিটোলা আহলে হাদীস মসজিদ, আল-কোরআন মসজিদ, মালিটোলা বাঁশপট্টি মসজিদ। আহলে হাদীস মসজিদটি মালিটোলা রোড ধরে দক্ষিণ দিকে কিছুটা এগোলেই হাতের ডান পাশে চোখে পড়বে, এখান থেকে দক্ষিণ দিকে ইংলিশ রোডের দিকে আরেকটু এগোলে হাতের ডান পাশে পড়বে আল-কোরআন মসজিদটি এবং মালিটোলা বাঁশপট্টিতে রয়েছে আরও একটি মসজিদ।  

 

বাড়ি ভাড়া

এই এলাকাতে এক-একটি দুই রুমের ফ্ল্যাটের ভাড়া পড়ে ৬,০০০ – ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত এবং তিন রুমের ফ্ল্যাটের ভাড়া ১০,০০০ – ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত। সেই সাথে অগ্রীম হিসেবে ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা প্রদান করতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অগ্রীম টাকা প্রতি মাসের ভাড়া থেকে অল্প অল্প করে শোধ করে দেওয়া হয়। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ভাড়া ছেড়ে দেওয়ার সময় অগ্রীম টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়।

 

ব্যবসায়িক গুরুত্ব

ব্যবসায়িক দিক থেকে পুরাতন ঢাকার মধ্যে এই এলাকাটির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কেননা এখানে রয়েছে গার্মেন্টস মেটেরিয়ালের মার্কেট, চামড়ার মার্কেট, ক্যামিকেল ও রংয়ের মার্কেট, ফোমের মার্কেট, রেকসিনের মার্কেট, বিবাহ সামগ্রীর মার্কেট, আসবাবপত্রের মার্কেট, কাঠের নকশা তৈরির কারখানা, স্কীন প্রিন্টের কারখানা সহ আরও অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া আরো রয়েছে কাঁচা বাঁশের মার্কেট।

 

গার্মেন্টস মেটেরিয়াল মার্কেট

গার্মেন্টস মেটেরিয়ালের দোকানগুলো বংশাল নতুন চৌরাস্তা থেকে শুরু করে পূর্ব দিকে সুরিটোলা লেন ও দক্ষিণে পুরো মালিটোলা রোডের দুই পাশে অবস্থিত। এসব দোকানগুলোতে স্টীল ও লোহার তৈরি বোতাম, হুক, বেল্টের বকলেস, ব্যাগের চেইন, ব্যাগের ফিতা, জুতার ফিতা সহ গার্মেন্টস এর সকল ধরনের উপকরণ এখানে পাওয়া যায়। এছাড়া বাইশ গলির ভিতরেও অসংখ্য গার্মেন্টস পণ্যের দোকান রয়েছে। এখানকার দোকানগুলোতে পাইকারী ও খুচরা উভয়ভাবেই বিক্রি করা হয়ে থাকে।

 

চামড়ার মার্কেট

বেশির ভাগ চামড়ার দোকান পুরানা মোগলটুলী রোডে অবস্থিত। এছাড়া মালিটোলা রোডেও কিছু চামড়ার দোকান রয়েছে। মালিটোলা বাংলার মোড় থেকে পূর্ব দিকে পুরানা মোগলটুলী রোড ও পুরানা মোগলটুলী থেকে বংশাল মানসী সিনেমা হলের দিকে যে গলিপথটি রয়েছে তার দুই পাশে অসংখ্য চামড়ার দোকান অবস্থিত। এসব দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের জুতা, ব্যাগ, বেল্ট, মানিব্যাগ সহ বিভিন্ন ধরনের চামড়া খুচরা মূল্যে বিক্রি করা হয়।

 

রং ও কেমিক্যাল মার্কেট

রং ও কেমিক্যাল মার্কেটের সবগুলো দোকানই পুরানা মোগল টুলীতে অবস্থিত। বাংলার মোড় থেকে পুরানা মোগলটুলীর দিকে কিছুটা পথ এগুলোই রাস্তার দুই পাশে চোখে পড়বে সারি সারি রং ও কেমিক্যালের দোকান। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের রং, রাসায়নিক পদার্থ, স্ক্রীন প্রিন্ট, ব্লক-বাটিক সহ বিভিন্ন শিল্পের পণ্য সামগ্রী পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করা হয়। উল্লেখ্য, গোলক পাল লেনেও কিছু কেমিক্যাল ও রংয়ের দোকান রয়েছে।

 

ফোম ও এ্যাডহেসিভ মার্কেট

ফোমের দোকানগুলো বংশাল নতুন চৌরাস্তা থেকে শুরু করে পূর্ব দিকে মানসী সিনেমা হল এবং দক্ষিণে মালিটোলা রোডের সংযোগ স্থল থেকে বাংলার মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া বাইশ গলির ভিতরেও কিছু ফোমের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মাপের সোফা, খাঁট, গদির ফোম পাওয়া যায়। পাশাপাশি এখানে সোফার কভার, খাটের ফোমের কভার ও কুশন কভার পাওয়া যায়। কভারের দোকানগুলো বংশাল পুলিশ ফাঁড়ির আশেপাশে অবস্থিত। 

 

রেকসিন মার্কেট

বংশাল নতুন চৌরাস্তা থেকে শুরু করে মালিটোলার শেষ সীমানা ইংলিশ রোড পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে এবং বাইশ গলির ভিতরে অসংখ্য রেকসিনের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের রেকসিন, ফ্লোরমেট, ওয়াল পেপার পাইকারী ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করা হয়। এছাড়া বংশাল রোডেও অসংখ্য রেকসিনের দোকান রয়েছে।

 

বিবাহ সামগ্রীর মার্কেট

মালিটোলার গোলক পাল লেনে রয়েছে অসংখ্য বিবাহ সামগ্রীর দোকান ও কারখানা। এসব দোকানে পাগড়ি, নাগড়া জুতা, শেরওয়ানী, মালা, প্লাস্টিকের জরি ও ফুল, গায়ে হলুদের ডালা, জন্মদিনের মোমবাতি, সোলার বোর্ড সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যাচ‌ও পাওয়া যায়। এছাড়া গোলক পাল লেনে আরও রয়েছে কাঠের উপর বিভিন্ন ডিজাইন তৈরির একাধিক কারখানা।

 

আসবাবপত্রের মার্কেট

অন্যন্য পণ্য সামগ্রীর দোকানগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থিত হলেও আসবাবপত্রের দোকানগুলো একই স্থানে অবস্থিত। মালিটোলা রোডের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে ইংলিশ রোড ঘেঁষে এসব দোকানগুলো অবস্থিত। ফজলুল করিম কমিউনিটি সেন্টারের নিচতলা এবং কমিউনিটি সেন্টারের উত্তর পাশের রোডে ফার্নিচারের দোকানগুলো অবস্থিত। এই মার্কেটে স্টীলের তৈরি আলমারি, সোকেস, লোহা ও প্লাস্টিকের তৈরি চেয়ার, পড়ার টেবিল, জুতার রেক,  পাওয়া যায়। এছাড়া এখানে সকল প্রকার আসবাবপত্র সার্ভিসিংয়েরও ব্যবস্থা রয়েছে।

 

কাঁচা বাঁশের মার্কেট

পুরান ঢাকার মালিটোলায় রয়েছে কাঁচা বাঁশের মার্কেট। বাঁশের দোকানগুলো মালিটোলার একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে ইংলিশ রোড সংলগ্ন হাজী মাজহারুল ইসলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ ঘেঁষে রাস্তার উপর অবস্থিত। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের বাঁশের পাশাপাশি মই ও চাটাই পাওয়া যায়।

 

এলাকার বিশেষত্ব

এই এলাকাটি পুরাতন ঢাকাবাসীর কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। কেননা মালিটোলা এলাকাতে রয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ মরহুম ফজলুল করিম সাহেবের বাসভবন। তার বাসভবনটি বংশাল নতুন চৌরাস্তা সংলগ্ন মালিটোলার প্রবেশ মুখের সাথেই অবস্থিত। এছাড়া আরও রয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৩৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হোসেন মোল্লার বাসভবন। তার বাসভবনটি ফজলুল করিম সাহেবের বাসভবন লাগোয়া। এছাড়া এখানে আরও রয়েছে হিন্দু ধোপা শ্রেণীর লোকের বসবাস। পুরানা মোগলটুলীতে এসব ধোপা শ্রেণীর লোকেরা বসবাস করে আসছে।

 

আইন শৃঙ্খলা

এই এলাকাটির সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে সদা নিয়োজিত রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন বংশাল থানা পুলিশ। এছাড়া এলাকার ছোটোখাটো বিচার সালিশ সম্পাদনের জন্য রয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটি।

 

সামাজিক প্রতিষ্ঠান

সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফজলুল করিম কমিউনিটি সেন্টার। এই কমিউনিটি সেন্টারটি ইংলিশ রোডে অবস্থিত। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন বরেণ্য ব্যক্তির নামে একাধিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

 

কাঁচাবাজার

এই এলাকাটিতে তেমন কোনো বাজার বা মার্কেট নেই। তাই এলাকার লোকজনকে বাজার করতে ছুটে যেতে হয় নয়াবাজার, রায় সাহেব বাজার ও ঠাঁটারী বাজারে। তবে ফেরিওয়ালাদের সরব উপস্থিতি এখানে লক্ষ্য করা যায়।

 

ব্যাংক ও এটিএম বুথ

ব্যবসায়িক দিক থেকে মালিটোলা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে কোনো ব্যাংক ও এটিএম বুথ নেই। তবে বংশাল রোডে বেশ কিছু বেসরকারী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের একটি শাখা রয়েছে এবং বংশাল নতুন চৌরাস্তায় ডাচ বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথ রয়েছে।

 

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বংশাল রোডে ডিসি লালবাগ জোনের অফিস, তার পাশেই রয়েছে মানসী সিনেমা হল। এছাড়া ফজলুল করিম কমিউনিটি সেন্টারের পাশে রয়েছে বংশাল জোনের বিদ্যুৎ অফিস।

 

থানার অবস্থান

এই এলাকাটি বংশাল থানার অন্তর্গত। বংশাল থানাটি ইংলিশ রোড ফজলুল করিম কমিউনিটি সেন্টারের ২য় তলায় অবস্থিত।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
নাটক সরণিএখানে নাটক সরনি এলাকা পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে।
বংশালবংশাল এলাকা পরিচিতি
গোড়ানগোড়ান এলাকা পরিচিতি
মগবাজারমগবাজার এলাকা পরিচিতি
নাজিরা বাজারনাজিরা বাজার এলাকা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যের বর্ণনা রয়েছে।
ওয়ারীওয়ারী এলাকা পরিচিতি
আগামাসিহ লেনআগামাসিহ লেনের বর্ণনা রয়েছে
মালিটোলামালিটোলা এলাকার বর্ণনা রয়েছে
কসাইটুলীকসাইটুলী এলাকার পরিচিতি
দয়াগঞ্জদয়াগঞ্জ এলাকা পরিচিতি
আরও ১ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি