পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

কসাইটুলী

নামটি শুনেই মনে হতে পারে এই এলাকাটির সাথে কসাই সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আসলেও তাই, এক সময় এই এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা কসাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। সময়ের বিবর্তনে তাদের অনেকেই অন্য পেশায় নির্ভরশীল হয়েছেন। তবে এখনো অনেকে পূর্ব পুরুষের পেশা আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এক সময় কসাইটুলীতে ঢাকা মহানগরীর সিংহভাগ গরু-ছাগল জবাই হতো। প্রতিদিন সকাল বেলা এসব গরু-ছাগল জবাই হয়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে চলে যেত। গরু-ছাগল জবাই করার জন্য খিলঘর নামক আলাদা একটি স্থান ছিল। তবে এখন আর সেই খিলঘর নেই। এখন সেখানে তৈরি হয়েছে নতুন ভবন আর এই ভবনে গড়ে উঠেছে আধুনিক শরীর চর্চা কেন্দ্র এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

 

এলাকাটির অবস্থান

এই এলাকাটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বংশাল থানা এবং নবনির্ধারিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নং ওয়ার্ডের (সাবেক ৬৮ নং ওয়ার্ড) অন্তর্গত। বুড়িগঙ্গা ২য় সেতুর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত নয়াবাজার ও এর উত্তর এবং পশ্চিম পাশের এলাকাগুলো নিয়ে পুরো কসাইটুলী এলাকাটি গঠিত। এই এলাকাটির পূর্ব পাশে রয়েছে নয়াবাজার ফ্রেন্স রোড, পশ্চিম পাশে আরমানিটোলা রোড, উত্তর পাশে বংশাল রোড এবং দক্ষিণ পাশে নয়াবাজার-বাবুবাজার রোড।

 

যাতায়াত ব্যবস্থা

এই এলাকার রাস্তাগুলো সরু হওয়ার ফলে এই এলাকাটিতে ভারী বড় কোনো যানবাহনের চলাচলের ব্যবস্থা নেই। তবে ছোটখাটো প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিক্সা ও রিক্সা যোগে এই এলাকায় যাওয়া যায়।

 

প্রবেশমুখগুলো

এই এলাকায় প্রবেশের একাধিক রাস্তা রয়েছে।

  • নয়াবাজার ব্রীজের গোড়া থেকে উত্তর দিকে একটি রাস্তা রয়েছে এই রাস্তা দিয়ে কিছুটা পথ এগোলেই একটি চার রাস্তার মুখ পড়বে। সেখান থেকে পূর্ব দিকের রাস্তাটি চলে গিয়েছে নয়াবাজারের দিকে, পশ্চিম দিকের রাস্তাটি গিয়েছে বাগডাসা লেনের দিকে, উত্তর দিকের রাস্তা দিয়ে সামনে বাড়লে একটি তিন রাস্তার মুখ পড়বে সেখান থেকে হাতের বাম পাশের সড়কটি চলে গিয়েছে সামসাবাদ লেনের দিকে এবং ডান পাশের রাস্তাটি গিয়েছে ফ্রেন্স রোডের দিকে।
  • বংশাল পুরাতন চৌরাস্তা থেকে দক্ষিণ দিকে এবং নয়াবাজার বাহাদুর শাহ পার্ক মোড় থেকে উত্তর দিকে কিছুটা পথ আগে বাড়লে রাস্তার পূর্ব পাশে মিল্লাত উচ্চ বিদ্যালয় নামক একটি স্কুল রয়েছে এই স্কুলের বিপরীত পাশে যে সড়কটি রয়েছে এটি হাবিবুল্লাহ সড়ক। এই সড়ক ধরে কিছুটা পথ আগে বাড়লে একটি তিন রাস্তার মোড় পড়বে। এই মোড়ের বাম পাশের রাস্তাটি গিয়েছে নয়াবাজারের দিকে। পূর্ব দিকের রাস্তাটি ধরে আরও কিছুটা পথ আগে বাড়লে একটি কমিউনিটি সেন্টারের দেখা মিলবে। এটি এই এলাকার একমাত্র কমিউনিটি সেন্টার। কমিউনিটি সেন্টারের পাশ দিয়ে আরও একটি রাস্তা উত্তর দিকে গিয়েছে এটি হাজী আ: রশিদ লেন নামে পরিচিত। হাবিবউল্লাহ সড়ক ধরে পূর্ব কিছুটা পথ এগোলো আরও একটি তিন রাস্তার মোড় পড়বে। এখান থেকে উত্তর দিকের রাস্তাটি হল কোপি ঘোষ স্ট্রিট। এই রাস্তাটি উত্তর দিকে বংশাল রোডে গিয়ে মিশেছে। আর পূর্ব দিকের রাস্তাটি মূল কসাইটুলীর দিকে চলে গিয়েছে।  
  • আরমানিটোলা তারা মসজিদ সংলগ্ন মাহুতটুলী চৌরাস্তা থেকে পূর্ব দিকে আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যে সড়কটি রয়েছে সেটি কাজিমুদ্দীন সিদ্দিকী লেন নামে পরিচিত। এই রাস্তাটি দিয়ে পূর্ব দিকে সামনে এগোলে একটি তিন রাস্তার মোড় পড়বে। এটি বাংলার মোড় নামে পরিচিত। এই স্থানটিই কসাইটুলীর সবচেয়ে ব্যস্ততম স্থান। বাংলার মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে যে রাস্তাটি রয়েছে সেটি আরমানিটোলা মাঠের দিকে চলে গেছে। আর পূর্ব দিকের রাস্তাটি দিয়ে আরেকটু এগোলে আরও একটি তিন রাস্তার মোড় পরবে। এই মোড়ে একটি মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এখান থেকে উত্তর দক্ষিণ দিকের রাস্তাটি বাগডাসা লেন হয়ে নয়াবাজার ব্রীজের দিকে চলে গেছে। আর পূর্র দিকে স্কুলের দুই পাশ দিয়ে দুটি রাস্তা রয়েছে, রাস্তা দুটি ভিন্ন হলেও দুটি রাস্তা দুটি যে স্থানে গিয়ে মিলিত হয়েছে সে স্থানটি এলাকার বাসিন্দাদের নিকট নওয়াব আলীর হোটেলের মোড় নামে পরিচিত। এই মোড়ে একটি মসজিদ রয়েছে। এখান থেকে পূর্ব দিকে যে রাস্তাটি রয়েছে সেটি কেপি ঘোষ স্ট্রিট ও হাবিবউল্লাহ সড়কের দিকে গেছে আর পশ্চিম দিকের রাস্তাটি ধরে সামনে এগোলে উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক মুখী তিনটি রাস্তার দেখা মিলবে। এর মধ্যে ডান পাশ দিয়ে উত্তর দিকে যে রাস্তাটি রয়েছে সেটি কসাইটুলী খিলঘর হয়ে বংশাল রোডে গিয়ে মিশেছে। আর পশ্চিম দিকের রাস্তাটি গিয়ে কাজিমুদ্দিন সিদ্দিকী লেনে সংযুক্ত হয়েছে এবং দক্ষিণ দিকের রাস্তাটি বাংলার মোড়ে গিয়ে মিশেছে।
  • এছাড়াও বংশাল রোড, বাবুবাজার রোড, মকিম বাজার রোড দিয়েও কসাইটুলী এলাকার প্রবেশ পথ রয়েছে।

 

লেনগুলো

ছোট ছোট কয়েকটি লেন নিয়ে পুরো কসাইটুলী এলাকাটি গঠিত। এই এলাকার লেনগুলোর মধ্যে রয়েছে –

  • কে. পি. ঘোষ স্ট্রীট
  • সামসাবাদ লেন
  • বাগডাসা লেন
  • হাবিবুল্লাহ সড়ক
  • কাজিমুদ্দীন সিদ্দিকী লেন
  • কসাইটুলী

 

 

কে. পি. ঘোষ স্ট্রীট

বংশাল নতুন চৌরাস্তা থেকে পশ্চিম দিকে কিছুটা পথ এগোলে হাতের ডান পাশে একটি মসজিদ পড়বে। এই মসজিদটি এলাকাবাসীর নিকট পেলাওয়ালা মসজিদ নামে পরিচিত। এই মসজিদ থেকে আরও কিছুটা পথ এগোলে হাতের বাম পাশ দিয়ে একটি রাস্তা দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। আর এই রাস্তাটিই কে.পি. ঘোষ স্ট্রীট নামে পরিচিত। এই লেনটি উত্তরে বংশাল রোড থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণে হাবিবউল্লাহ সড়ক ও কসাইটুলী সংযোগ সড়কে গিয়ে শেষ হয়েছে।

 

সামসাবাদ লেন

কসাইটুলী নওয়াব আলীর হোটেলের মোড় থেকে মসজিদের পাশ দিয়ে দক্ষিণ দিকে যে রাস্তাটি রয়েছে সেই রাস্তা দিয়ে ২০ গজ আগে বাড়লেই একটি ভিডিও গেমসের দোকান চোখে পড়বে। এই ভিডিও গেমসটির পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে একটি ছোট গলিপথ রয়েছে এই গলিপথ দিয়ে কিছুটা পথ সামনে এগোলে একটি খেলার মাঠের দেখা মিলবে। আর এই খেলার মাঠের চারপাশের বাড়িঘরগুলোকে নিয়েই সামসাবাদ লেন। সামসাবাদ লেন থেকে দক্ষিণ দিকে যে রাস্তাটি রয়েছে সেটি বাগডাসা লেন হয়ে নয়াবাজারের দিকে চলে গেছে।

 

বাগডাসা লেন

কসাইটুলী বাংলার মোড় থেকে পূর্ব দিকে যে তিন রাস্তার মোড়টি রয়েছে সেখান থেকে মসজিদের পাশ দিয়ে দক্ষিণ দিকে যে রাস্তাটি রয়েছে সেটিই বাগডাসা লেন। এই রাস্তাটি দক্ষিণ দিকে কিছুটা পথ এগোলে হাতের বাম পাশে একটি ছোট গলিপথ রয়েছে। এই গলিপথটিও বাগডাসা লেনের অন্তর্গত। এই গলিপথটির পূর্ব প্রান্ত গিয়ে মিশেছে সামসাবাদ লেনের সাথে। আর সোজা দক্ষিণে এগোলে একটি তিন রাস্তার চার রাস্তার মোড় পড়বে। এই চার রাস্তার মধ্যে পূর্ব দিকের রাস্তাটি নয়াবাজারের দিকে, পশ্চিম দিকের রাস্তাটি আরমানিটোলার দিকে, উত্তর দিকের রাস্তাটি বাগডাসা লেনের দিকে এবং দক্ষিণ দিকের রাস্তাটি গিয়ে বাবুবাজার রোডের সাথে মিশেছে। এই রাস্তাটি যে স্থানে গিয়ে মিশেছে সেখানে হাম্মাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় নামক একটি স্কুল ও ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে।

 

হাবিবউল্লাহ সড়ক

ফ্রেন্স রোডে অবস্থিত মিল্লাত উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশের সড়কটিই হাবিবউল্লাহ সড়ক নামে পরিচিত। এই রাস্তাটি ফ্রেন্স রোড থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমে কেপি ঘোষ স্ট্রীট ও কসাইটুলীর সংযোগ সড়কে গিয়ে শেষ হয়েছে।

 

কাজিমুদ্দীন সিদ্দিকী লেন

মাহুতটুলী চার রাস্তার মোড় থেকে পূর্ব দিকে যে রাস্তাটি রয়েছে সেটি কাজিমুদ্দিন সিদ্দিকী লেন নামে পরিচিত। এই রাস্তাটি এখান থেকে শুরু হয়ে কসাইটুলী বাংলার মোড়ের গিয়ে শেষ হয়েছে। এই রোডের উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সেন্টার নামক একটি মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

 

কসাইটুলী

মূল কসাইটুলী এলাকাটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে যথাক্রমে কেপি ঘোষ স্ট্রীট, বাগডাসা লেন, সামসাবাদ লেন, হাবিবউল্লাহ সড়ক, কাজিমুদ্দিন সিদ্দিকী লেন। হাবিবউল্লাহ সড়ক ও কেপিঘোষ স্ট্রীট সংযোগস্থল থেকে পূর্ব দিকে যে রাস্তাটি রয়েছে সেখান থেকেই কসাইটুলীর সীমানা শুরু। পূর্ব দিকে কসাইটুলীর শেষ সীমানা গিয়ে মিশেছে কাজিমুদ্দিন সিদ্দিকী লেনের সাথে, দক্ষিণে বাগডাসা লেনের সাথে এবং উত্তরে খিলঘর হয়ে বংশাল রোডের সাথে।

 

আবাসন ব্যবস্থা

এই এলাকার অধিকাংশ বাড়ি পাঁচ থেকে ছয় তলা পর্যন্ত। তবে কিছু কিছু বাড়ি এক তলা থেকে সর্বোচ্চ দুই তলা পর্যন্ত। পুরাতন ঢাকার চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী এখানকার বাড়িগুলোও একটির সাথে আরেকটি জড়িয়ে আছে। স্থানীয় বাড়ির মালিকগণ বাড়ির অতিরিক্ত রুম বা ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দিয়ে থাকেন। দুই রুমের নরমাল ফ্ল্যাটগুলো সর্বোচ্চ ৬,০০০ থেকে ৬,৫০০ টাকা এবং টাইলস বা মোজাইককৃত দুই রুমের এক একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর তিন রুমের নরমাল ফ্ল্যাটগুলো ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা এবং টাইলস বা মোজাইকৃত ফ্ল্যাটগুলোর ভাড়া ১২,০০০ থেকে ১৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া সকল বাড়িওলাই ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অগ্রীম হিসেবে ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত অগ্রীম নিয়ে থাকেন।

 

খাবার দাবার

বিকাল বা সন্ধ্যার পর কসাইটুলী এলাকায় কিছুক্ষণ হাটলেই বুঝা যায় এই এলাকার মানুষ কতোটা ভোজন রসিক। কেননা এই এলাকার প্রতি মোড়ে মোড়ে রয়েছে একাধিক খাবারের দোকান। ফ্রেন্স রোড দিয়ে হাবিবুল্লাহ সড়ক ধরে একটু আগে বাড়লেই যে কমিউনিটি সেন্টারটি রয়েছে সেখানে চোখে পড়বে ভোজন রসিকদের বিশাল এক জটলা। কেননা সেখানে রয়েছে চটপটি, ফুসকা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গার, স্যুপ, আলুরদম, ডিম চপ, নুডুলস সহ আরও বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। এখান থেকে পশ্চিমে আরেকটু আগে বাড়লে নওয়াব আলীর হোটেলের সামনে চোখে পড়বে অনুরূপ আরেকটি জটলা। সন্ধ্যার পর এই হোটেলে আলু পুরি, ডাল পুরি, কিমা পুরি, মোগলাই পরোটা, আলুর চপ, নুডুলস সহ হরেক রকমের খাবার পাওয়া যায়। এখান থেকে কেপি ঘোষ স্ট্রীটে গেলে পিঠার সুমিষ্ট ঘ্রাণ যে কাউকে ফিরে তাকাতে বাধ্য করবে। পুরাতন ঢাকায় এই পিঠার দোকানটির যথেষ্ট পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠাঘর নামক এই পিঠার দোকানটিতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি পুলি পিঠা, ভাপা পিঠা, পাটি সাপটা পিঠা, ডাল রুটি, পোয়া পিঠা সহ নাম না অজানা বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু পিঠা পাওয়া যায়। বিয়ে সাদী সহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে পিঠা সরবরাহ করতেই এই দোকানের কর্মচারীদের সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে কসাইটুলীর সবচেয়ে বড় খাবারের হাটটি জমে বাংলার মোড়ে। সন্ধ্যার পর ভোজন রসিকদের পদচারণায় সাধারণ পথচারীদেরই হাঁটতে অসুবিধা হয়। বাগডাসা লেন থেকে শুরু করে বাংলার মোড় ছাড়িয়ে কাজিমুদ্দিন সিদ্দিকী লেন পর্যন্ত রাস্তার পাশে বেশ কিছু খাবারের দোকান চোখে পড়বে। এসব খাবারের দোকানের মধ্যে রয়েছে পিঠার দোকান, গুগনি-বুটের দোকান, ফাস্টফুডের দোকান, পুরি-আলুচাপ-মোগলাই পরোটার দোকান, পরোটা-ভাজির দোকান, চটপটি-ফুসকার দোকান। সামসাবাদ লেন ও বাগডাসা লেনেও কয়েকটি খাবারের হোটেল রয়েছে। এছাড়া পারিবারিক খাবার-দাবার তো রয়েছেই।

 

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

পুরো কসাইটুলী এলাকা জুড়েই রয়েছে পুরাতন কাঁচের বোতল প্রক্রিয়াজাত করণ শতাধিক শিশি বোতলের কারখানা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুরাতন কাঁচের বোতল সংগ্রহ করে এখানে এনে এগুলো পরিষ্কার করে পুণরায় বাজারজাত করা হয়ে থাকে। এছাড়া হাবিবউল্লাহ সড়কে রয়েছে ঢেউটিন ও প্লেন সিটের দোকান,  বাগডাসা লেনে রয়েছে পুরাতন স্টীলের দরজা ও জানালার দোকান, কসাইটুলীতে রয়েছে কাপড় ও জরি-ফিতার দোকান এবং পুরাতন কাগজের দোকান।

 

স্কুল/কলেজ

এই এলাকার স্কুল কলেজগুলোর মধ্যে বাগডাসা লেনে রয়েছে হাম্মাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। এর পাশেই রয়েছে আহমেদ বাওয়ানি একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ, কাজিমুদ্দিন সিদ্দিকী লেনে রয়েছে আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। কসাইটুলী বাংলার মোড়ে রয়েছে কসাইটুলী মুসলিম একাডেমী নামে আরও একটি হাই স্কুল। এলাকার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কসাইটুলী বাংলার মোড় সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত।

 

মসজিদ/মাদ্রাসা

এই এলাকায় মোট ৩টি মসজিদ আছে। মসজিদগুলোর একটি কসাইটুলী নওয়াব আলীর হোটেলের বিপরীত পাশে অবস্থিত। আরেকটি মসজিদ কসাউটুলী ও বাগডাসা লেনের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং অন্য আরেকটি মসজিদ বাগডাসা লেন পুরাতন দরজা-জানালার মার্কেটে অবস্থিত। এছাড়া হাবিবউল্লাহ সড়কে উসওয়াতুন হাসানাহ মাদ্রাসা নামক একটি মাদ্রাসা রয়েছে।

 

ব্যাংক ও এটিএম বুথ

অত্র এলাকার একমাত্র ব্যাংকটি হাবিবউল্লাহ সড়কে অবস্থিত। এই রোডে পূবালী ব্যাংকের একটি শাখা রয়েছে। এছাড়া কসাইটুলীর অন্য কোথাও আর কোনো ব্যাংক বা এটিএম বুথ নেই।

 

বাজার/মার্কেট

কসাইটুলীর পাশেই রয়েছে নয়াবাজার। অত্র এলাকার সবাই এই বাজার থেকেই বাজার সদাই করে থাকেন। এছাড়া এই এলাকায় কয়েকটি থান কাপড়ের দোকান, একটি জুতার দোকান রয়েছে।

 

হাসপাতাল ও ফার্মেসী

নওয়াব আলীর হোটেলের সাথে পরপর তিনটি বড় বড় ফার্মেসী রয়েছে। এছাড়া পুরো কসাইটুলী এলাকা জুড়েই একাধিক ফার্মেসী রয়েছে। এই এলাকার হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে কসাইটুলী মাতৃসদন কেন্দ্র, এটি কসাইটুলী খিলঘরে অবস্থিত। আরও রয়েছে ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, এটি বাগডাসা লেনের শেষ প্রান্তের সাথে অবস্থিত। এছাড়া কাজিমুদ্দিন সিদ্দিকী লেনে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার নামক একটি মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।

 

আইন – শৃঙ্খলা

এই এলাকার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত রয়েছে বংশাল থানা পুলিশ। এছাড়া এলাকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ-বিরোধ মীমাংসার জন্য রয়েছে কসাইটুলী পঞ্চায়েত কমিটি। এই কমিটির কার্যালয়টি কসাইটুলী বাংলার মোড়ে অবস্থিত কসাইটুলী মুসলিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত।

 

কমিউনিটি সেন্টার

হাজী জুম্মন কমিউনিটি সেন্টার নামক এলাকার একমাত্র কমিউনিটি সেন্টারটি হাবিব উল্লাহ সড়কে অবস্থিত। এই কমিউনিটি সেন্টারটি তিন তলা বিশিষ্ট। নিচতলায় গাড়ি পার্কিং ও রান্নাবান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়।

 

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান

অত্র এলাকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বংশাল রোড সংলগ্ন কেপি ঘোষ স্ট্রীটে একটি সেরাজেম থেরাপী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া কে.পি ঘোষ স্ট্রীটে একটি এবং বাগডাসা লেনে দুটি কবুতর ও পশু-পাখির খাবারের দোকান রয়েছে।     

 

আপলোডের তারিখ: ২৬/০৪/২০১২

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
নাটক সরণিএখানে নাটক সরনি এলাকা পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে।
বংশালবংশাল এলাকা পরিচিতি
গোড়ানগোড়ান এলাকা পরিচিতি
মগবাজারমগবাজার এলাকা পরিচিতি
নাজিরা বাজারনাজিরা বাজার এলাকা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যের বর্ণনা রয়েছে।
ওয়ারীওয়ারী এলাকা পরিচিতি
আগামাসিহ লেনআগামাসিহ লেনের বর্ণনা রয়েছে
মালিটোলামালিটোলা এলাকার বর্ণনা রয়েছে
কসাইটুলীকসাইটুলী এলাকার পরিচিতি
দয়াগঞ্জদয়াগঞ্জ এলাকা পরিচিতি
আরও ১ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি