পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ওয়ারী

১৬১০ সালে কিংবা কারো মতে ১৬০৮ সালে যখন ইসলাম খান ঢাকাকে রাজধানী ঘোষণা করেন তখন থেকেই ঢাকার জনবসতি বাড়তে থাকে। সে সময় বুড়িগঙ্গার তীরের ঢাকা এখনকার মতই এলোমেলো ভাবে গড়ে উঠছিল। কিন্তু বৃটিশ শাসনামলে একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে ওয়ারীকে গড়ে তোলা হয়। সে হিসেবে এটি ঢাকার পুরাতনতম পরিকল্পিত এলাকা।

 

 

 

নামকরণের পটভূমি:

১৮৮৪ সালে ঢাকার রাজস্ব প্রশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ফ্রেডরিক ওয়্যার বর্তমান ওয়ারী এলাকায় পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কাজে হাত দেন। তাঁর নামানুসারেই এলাকাটি ওয়ারী নামে পরিচিত পায় বলে ধারণা করা করা হয়।

 

সীমানা:

এর উত্তর পূর্ব সীমানা হচ্ছে টিকাটুলী রোড, দক্ষিণ-পূর্ব সীমানা হচ্ছে নারিন্দা সড়ক, দক্ষিণে টিপু সুলতান রোড, আর মোটামুটিভাবে  পশ্চিম সীমানা হচ্ছে র‌্যাঙ্কিন স্ট্রীট । অবশ্য র‌্যাঙ্কিন স্ট্রীট-ই শেষ সীমানা নয়, এরপরও কিছুটা এলাকা ওয়ারী এলাকার অন্তর্গত।

 

থানা: ওয়ারী এলাকাটি ওয়ারী থানার অন্তর্গত।  

 

বৈশিষ্ট্য:

একটি সময় ওয়ারী ঢাকার একটি অভিজাত এলাকা হিসেবে বিবেচিত হত। কিন্তু ঢাকার সম্প্রসারণের সাথে সাথে নতুন নতুন অভিজাত এলাকা গড়ে ওঠে আর ওয়ারীও তার স্থান হারায়। তবে এখনো ওয়ারী পুরনো ঢাকার একটি অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত।

 

পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠার কারণে ওয়ারীর রাস্তাগুলো মোটামুটিভাবে সরল রেখা, উত্তর-দক্ষিণে এবং পূর্ব-পশ্চিমে কয়েকটি সোজা রাস্তায় চলাচলের সুবিধা ভোগ করেন এখানকার অধিবাসীরা। উত্তর-দক্ষিণে চলে যাওয়া রাস্তাগুলোর মধ্যে র‌্যাঙ্কিন স্ট্রীট এবং লারমিনি স্ট্রীট উল্লেখযোগ্য আর পূর্ব-পশ্চিমে চলে যাওয়া রাস্তাগুলোর মধ্যে হেয়ার স্ট্রীট এবং নওয়াব স্ট্রীট উল্লেখযোগ্য। তবে এই স্ট্রীটগুলোর মধ্যে র‌্যাঙ্কিন স্ট্রীটই সবচেয়ে ব্যস্ত এবং এই রাস্তাটির দু’পাশে অধিকাংশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান।

 

উনিশ শতকে যখন এলাকাটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয় তখন এর প্রায় পুরোটাই জঙ্গলাকীর্ণ ছিল বলে জানা যায়। আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার সময় এখানে ওভারহেড পানির ট্যাংক, রাস্তার দু’পাশে ড্রেন, খেলার মাঠ স্কুল সবই গড়ে তোলা হয়। সবুজে ঘেরা ওয়ারীর সে চিত্র আর নেই। তবে এখনো ওয়ারীর পথ ধরে হাঁটলে পুরনো কিছু খোলামেলা একতলা দোতলা বাড়ি চোখে পড়বে। অধিকাংশ প্লটেই বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে এখন ।

 

উল্লেখযোগ্য স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান:

ওয়ারীর সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনা হচ্ছে দূর্লভ গাছপালার সংগ্রহ নিয়ে গড়ে এঠা বলধা গার্ডেন। ওয়ারীর নওয়াব স্ট্রীটের পূর্ব প্রান্তে এর অবস্থান। এছাড়া রয়েছে ওয়ারী হাইস্কুল এবং জয়কালী মন্দির।

র‌্যাঙ্কিন স্ট্রীট ধরে গেলে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ, সুপার শপ, ফাস্ট ফুড শপ, চাইনীজ রেষ্টুরেন্ট, ব্যাংক, এটিএম বুথ, পোস্ট অফিস সবই পাওয়া যাবে। র‌্যাঙ্কিন স্ট্রীটের উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে আছে ওয়ারী পোস্ট অফিস এবং ওয়ারী পুলিশ ফাঁড়ি।

 

অন্যান্য স্থাপনা:

স্কুল: ক্ষুদে পন্ডিতের পাঠশালা, সিলভার ডেল প্রিপারেটরী হাই স্কুল।

সুপার শপ: স্বপ্ন এবং বিগ বাজার।

ফ্যাশন হাউজ: চৈতী, একসট্যাসি, নবরূপা, বৈশাখী মেলা, আড়ং, রুপসী বাংলা, ক্যাটস আই, গার্ডেনিয়া, প্রাইড ইয়োলো, বাটা বাজার। সবগুলোই র‌্যাঙ্কিন স্ট্রীটের দ'পাশে অবস্থিত।

খাবারের দোকান ও রেষ্টুরেন্ট: মি: বেকার, মহল চাইনীজ রেষ্টুরেন্ট, ডিসেন্ট পেস্ট্রি শপ, আনন্দ বেকারী।

ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক।

এছাড়া বেশ কয়েকটি বেসরকারী ব্যায়ামাগার বা জিমনেসিয়ম এবং স্যাইবার ক্যাফে রয়েছে।

 

লারমিনি স্ট্রীটের উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হিসেবে সানাই কমিউনিটি সেন্টারের কথা বলা যায়। কমিউনিটি সেন্টারের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বেকারী, ডেকোরেটর এবং ক্যাটারিং সার্ভিস দেয়া হয় এখান থেকে।

টিপু সুলতান রোডের পূর্ব প্রান্তে সিটি কর্পোরেশনের একটি কমিউনিটি সেন্টার আছে। বেসরকারী কমিউনিটি সেন্টারের তুলনায় এটি কিছুটা সুলভ বলা যায়।

এছাড়া ওয়ারীর টিপু সুলতান রোডে রয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ ডিগ্রি কলেজ, ওয়্যার স্ট্রীটে নারিন্দা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, বিউটি পর্লার সম ব্রাইডাল, নওয়ার স্ট্রীটে আফতাব রেষ্টুরেন্ট, হেয়ার স্ট্রীটে তানফীজুল উলূম মাদ্রাসা

 

তবে ওয়ারীর যোগীনগর রোড এবং বনগ্রাম রোড কিছুটা ঘনবসতিপূর্ণ এবং বিশৃঙ্খল। এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে আছে ওয়ারী জামে মসজিদ এবং এম এ আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

যাতায়াত ব্যবস্থা:

এটি মূলত আবাসিক এলাকা। এখানকার অধিবাসীরা প্রধানত পায়ে হেঁটে, নিজস্ব বাহনে কিংবা রিকশায় যাতায়াত করেন। বাস বা টেম্পো এখানে চলে না।

 

 

 

কিভাবে ওয়ারী যেতে হবে?

ঢাকার গুলিস্তান থেকে ওয়ারী বেশি দূরে নয়। এখান থেকে সহজেই রিকশা নিয়ে ওয়ারী কিংবা ওয়ারীর বলধা গার্ডেনে যাওয়া সম্ভব। এছাড়া মতিঝিল থেকে টিকাটুলী হয়ে রাজধানী মার্কেটের পাশ দিয়ে ওয়ারীতে প্রবেশ করা যায়; নারিন্দা হয়ে দক্ষিণ দিক থেকে ওয়ারীতে প্রবেশ করা যায়; সদরঘাট থেকে ধোলাইখাল হয়ে ওয়ারী এলাকায় প্রবেশ করা যায়।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
নাটক সরণিএখানে নাটক সরনি এলাকা পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে।
বংশালবংশাল এলাকা পরিচিতি
গোড়ানগোড়ান এলাকা পরিচিতি
মগবাজারমগবাজার এলাকা পরিচিতি
নাজিরা বাজারনাজিরা বাজার এলাকা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যের বর্ণনা রয়েছে।
ওয়ারীওয়ারী এলাকা পরিচিতি
আগামাসিহ লেনআগামাসিহ লেনের বর্ণনা রয়েছে
মালিটোলামালিটোলা এলাকার বর্ণনা রয়েছে
কসাইটুলীকসাইটুলী এলাকার পরিচিতি
দয়াগঞ্জদয়াগঞ্জ এলাকা পরিচিতি
আরও ১ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি