পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

আবহাওয়া (Weather)

 

 

আবহাওয়া কি? (What is Weather?)

আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা। সাধারণত এক দিনের এমন রেকর্ডকেই আবহাওয়া বলে। আবার কখনও কখনও কোনো নির্দিষ্ট এলাকার স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থাকেও আবহাওয়া বলা হয়। আবার কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি হয় সে স্থানের জলবায়ু। আবহাওয়া নিয়ত পরিবর্তনশীল একটি চলক। আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখা আলোচনা করে তাকে আবহাওয়া বিজ্ঞান বলা হয়।

 

আবহাওয়া ও জলবায়ু (Weather and Climate)

জলবায়ু বলতে নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের, সাধারণত ২০-৩০ বছরের আবহাওয়ার বিভিন্ন অবস্থার গড়পড়তা হিসাবকে বোঝানো হয়। জলবায়ু সাধারণত বৃহৎ এলাকার নির্ণীত হয়ে থাকে।

শুরুতে

আবহাওয়ার উপাদানগুলো (Weather Components)

আবহাওয়ার উপাদান বলতে সেসকল উপাদানকে বোঝায়, যাদের পরিবর্তনের ভিত্তিতে কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার পরিবর্তন সূচিত হয়। আবহাওয়ার এমন উপাদানগুলো হলো:

  • বায়ুপ্রবাহ (Wind Blow)
  • তাপ (Heat)
  • চাপ (Pressure)
  • বৃষ্টিপাত (Rainfall)
  • আর্দ্রতা (Humidity)

 

জলবায়ুর নিয়ামকগুলো (Factors of Climate)

জলবায়ু কতগুলো বিষয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে, যেগুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলা হয়ে থাকে। যথা:

  • অক্ষাংশ (Latitude): অক্ষাংশ অনুযায়ী সূর্যকীরণ পতনের তারতম্য ঘটে, কোথাও লম্বভাবে পড়ে, অথবা কোথাও তীর্যকভাবে পড়ে। তাই স্থানভেদে উষ্ণতা ও আর্দ্রতার তারতম্য ঘটে। নিরক্ষরেখা বরাবর স্থানসমূহে সূর্যরশ্মি খাড়াভাবে পড়ে বিধায় ঐসকল অঞ্চলে উষ্ণতা বেশি। নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে তাপমাত্রা ক্রমেই কমতে থাকে। ১° অক্ষাংশে উষ্ণতা ১° হ্রাস পায় বলেই নিরক্ষরেখা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তি উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বরফ রয়েছে।
  • উচ্চতা (Height): উচ্চতার বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা হ্রাস পায়। প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। এমনকি উচ্চতার তারতম্যে একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই অঞ্চলের তাপমাত্রা দুরকম হয়।
  • সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from the Sea): কোনো স্থান সমুদ্র থেকে কতটা দূরে তার প্রেক্ষিতে বাতাসের আর্দ্রতার মাত্রা নির্ভর করে আর আর্দ্রতার প্রেক্ষিতে জলবায়ুর উষ্ণতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। সমুদ্র নিকটবর্তি এলাকার বায়ুতে গরমকালে আর্দ্রতা ও শীতকালে মৃদু উষ্ণতা বিরাজ করে। এধরণের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
  • বায়ুপ্রবাহের দিক (Wind Direction): সমুদ্র থেকে প্রবাহিত জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু যে অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়, সে অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হয়। কিন্তু স্থলভাগ থেকে প্রবাহিত শুষ্ক বায়ু আবার উষ্ণতা বাড়ায়।
  • বৃষ্টিপাত (Rainfall): কোনো স্থানে বৃষ্টিপাত হলে সেখানকার উত্তাপ কমে আবার বৃষ্টিপাতহীন অঞ্চলে উষ্ণতা বেশি থাকে। তাই মরুভূমি এলাকায় জলবায়ু উষ্ণ। তাছাড়া বৃষ্টিপাতের মাত্রার উপর আর্দ্রতার মাত্রাও নির্ভরশীল, যা জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে।
  • সমুদ্রস্রোত (Ocean Current): শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের কারণে উপকূলবর্তি এলাকার আবহাওয়ায়ও পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। এর উদাহরণ হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির প্রবাহ এল নিনোর কথা উল্লেখ করা যায়, যার প্রভাবে উপকূলবর্তি দেশগুলোতে দীর্ঘ খরা পর্যন্ত দেখা দিয়েছে।
  • পর্বতের অবস্থান (Mountain Location): উঁচু পর্বতে বায়ুপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হলে আবহাওয়া ও জলবায়ুগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, হিমালয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে মৌসুমী জলবায়ু বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  • বনভূমি (Lawn/ Forests): গাছের প্রস্বেদন ও বাষ্পীভবনের মাধ্যমে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। বনভূমির প্রগাঢ়তার কারণে কোনো কোনো স্থানে সূর্যালোক মাটিতে পড়ে না, ফলে ঐসকল এলাকা ঠান্ডা থাকে। তাছাড়া বনভূমি ঝড়, সাইক্লোন, টর্নেডো ইত্যাদির গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার রূপ বদলে দেয়।
  • ভূমির ঢাল (Land Slope): সূর্যকীরণ উঁচু স্থানের ঢাল বরাবর পড়লে ভূমি উত্তপ্ত হয়ে তাপমাত্রা বাড়ে আবার ঢালের বিপরীত দিকে পড়লে তাপমাত্রা অতোটা বাড়ে না। তাছাড়া ঢাল বরাবর লম্বভাবে সুর্যালোকের পতন, তীর্যকভাবে সূর্যালোক পতনের তুলনায় তুলনামূলক উত্তপ্ত আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।
  • মাটির বিশেষত্ব (Soil Specialty): বেলেমাটির বিশেষত্ব হলো তা যত দ্রুত গরম হয়, তত দ্রুত ঠান্ডাও হয়। সেই তুলনায় কর্দমযুক্ত পলিমাটি দ্রুত গরমও হয়না, গরম হলে ঠান্ডা হতেও দেরি হয়। তাই কোনো স্থানের মাটির বিশেষত্বের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

শুরুতে

বৃষ্টিপাত (Rainfall)

বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি সুপেয় জলের বড় উৎস। বিচিত্র জৈবব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখতে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি সচল রাখতে ও কৃষি সেচব্যবস্থা সচল রাখতে বৃষ্টির প্রয়োজন হয়। যদিও সকল প্রকার বৃষ্টি ভূপৃষ্ঠ অবধি পৌঁছায় না। শুকনো বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় কিছু বৃষ্টির বিন্দু শুকিয়ে যায়। ভারগা নামে পরিচিত এই বৈশিষ্ট্যটি শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চলে দেখা যায়। বৃষ্টিপাত মাপার ক্ষেত্রে বৃষ্টির ধারাকে মিলিলিটারে গণনা করা হয়। তারপর স্কেল অনুযায়ী পরিমাপ করে হালকা, ভারি, অতি ভারি ও চরম বৃষ্টিপাতের হিসাব দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ঘন্টায় ০.২৫ মিলিমিটার থেকে ১ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতকে হালকা, ৪ মিলিমিটার থেকে ১৬ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতকে ভারি, ১৬ মিলিমিটার থেকে ৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতকে অতি ভারি এবং ৫০ মিলিমিটারের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতকে চরম বৃষ্টি আখ্যা দেয়া হয়।

 

কৃত্রিম বৃষ্টি (Artificial Rain)

বৃষ্টিপাতের জন্য প্রথমেই দরকার পড়ে জলীয় বাষ্প, সেই জলীয় বাষ্প হালকা হওয়ার কারণে উপরে উঠে গিয়ে বাতাসের ধূলিকণা, বালুর কণা ইত্যাদির সহায়তায় জমাটবদ্ধ হয়ে তৈরি করে মেঘ। এভাবে মেঘের আকৃতি বড় হতে হতে যখন ভারি হয়ে যায়, তখন হয় বৃষ্টি। এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটিকে মানবনিয়ন্ত্রীত পন্থায় করাকেই বলা হচ্ছে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত। কৃত্রিম বৃষ্টিপাতে, কখনও পুরো প্রক্রিয়াটি, কখনও তার আংশিক (জলীয় বাষ্পকে মেঘে রূপান্তর) নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রথমে দ্রুতগতির বড় পাখা দিয়ে কোনো জলক্ষেত্রের পানিকে বাষ্পিভূত করা হয়। হালকা সেই বাষ্প উপরে উঠে গিয়ে বাতাসের ধূলিকণার সাথে মিশে জমাট বাঁধে। তবে এই জমাট বাঁধানোর ব্যাপারটিও কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সিলভার আয়োডাইডের কণা ছুঁড়ে দিয়ে। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি জলীয় বাষ্পকে জমানোর জন্য বন্দুক কিংবা রকেট ব্যবহার করে ভূমি থেকে উপরের দিকে, কিংবা বিমান ব্যবহার করে আকাশ থেকে ভূমির দিকে সিলভার আয়োডাইডের কণা ছড়িয়ে দেয়া হয়। উষ্ণ অঞ্চলে একাজে ব্যবহার করা হয় ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড। এভাবে জমাটবদ্ধ জলীয় বাষ্প বা মেঘ যখন ভারি হয়ে যাবে, তখন ঐ স্থানে ঝরে পড়বে মেঘ, হবে বৃষ্টি। কৃত্রিম বৃষ্টির এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ।

কৃত্রিম বৃষ্টির কথা প্রথম ভেবেছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানী ভিনসেন্ট শায়েফার। তিনি বাতাসের জলীয় বাষ্পকে জমাট বাঁধিয়ে মেঘ বানাতে ব্যবহার করেছিলেন জমাট বাঁধা কার্বন ডাইঅক্সাইডের টুকরা (ড্রাই আইস: Dry Ice)। তিনি বার্কশায়ার পাহাড়ের কাছে ড্রাই আইস ছুঁড়ে দিয়ে তুলোর মতো মেঘ বানাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই তাঁকেই কৃত্রিম মেঘের জনক বলা হয়ে থাকে।

কৃত্রিম বৃষ্টি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশার বাণী নিয়ে এসেছে। সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে চীন। চীনের উত্তর অংশে বৃষ্টিপাত সাধারণ খুব কম হয়। পানির অন্যান্য উৎসগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ খারাপ। তাই কৃত্রিম বৃষ্টি কাজে লাগিয়ে তারা ইচ্ছামতো বৃষ্টি ঝরিয়ে নদ-নদীর পানি ১৩% পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে বৃষ্টিমুক্ত রাখতেও কাজে লাগানো হয় এই কৃত্রিম বৃষ্টির পদ্ধতি। কিন্তু কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে কিনা, তা এখনও সন্দেহের অতীত নয়। বেইজিংয়ের প্রতিবেশী অঞ্চলগুলো অভিযোগ এনেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় তাদের বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প টেনে নেয়া হচ্ছে। যথেচ্চ কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের এই ব্যবস্থা বৈশ্বিক উষ্ণায়নও ঘটাতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।

শুরুতে

জলবায়ুর আর্দ্রতা (Climate Moisture)

বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কে বাতাসের আর্দ্রতা দ্বারা পরিমাপ করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে আর্দ্রতা বলতে আমরা আপেক্ষিক আর্দ্রতাকে বোঝাই। আপেক্ষিক আর্দ্রতা হল কোন নির্দিষ্ট জায়গার বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্পের আংশিক চাপ ও ঐ তাপমাত্রায় জলীয় বাষ্পের সম্পৃক্ত বাষ্পচাপ। নির্দিষ্ট তাপে ও চাপে বাতাসে সর্বোচ্চ কি পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে তা সুনির্দিষ্ট। আর্দ্রতাকে পরম আর্দ্রতা ও নির্দিষ্ট আর্দ্রতাও বলা হয়। আপেক্ষিক আর্দ্রতা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর্দ্রতা বেশি হলে গ্রীষ্মকালে বাইরে গেলে আমরা বেশি গরম অনুভব করি, কারণ তা ঘামের মাধ্যমে শরীরের তাপ বের করে দেবার প্রক্রিয়াটির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাপ সূচক ছকে এই প্রভাব হিসাব করা হয়।

 

বায়ুপ্রবাহ (Wind Blow)

বায়ুপ্রবাহ বা বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন বলতে বিরাট ক্ষেত্র জুড়ে বায়ুর স্থান পরিবর্তনকে বোঝায়। বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমেই পৃথিবীপৃষ্ঠে উত্তাপের বিতরণ ঘটে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বিবেচনায় সূর্যের তাপ পৃথিবীতে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে পড়ে, যার ফলে কোনো স্থান যখন সরাসরি উত্তপ্ত হয়, তখন তুলনামূলক শীতল স্থানের দিকে উত্তপ্ত বায়ু প্রবাহিত হয়। বায়ুর ধর্মই হলো বায়ু, অধিক উষ্ণ স্থান থেকে শীতল স্থানের দিকে প্রবাহিত হয়, আর একারণেই পৃথিবীতে বায়ুপ্রবাহের ঘটনা ঘটে। এই বায়ুপ্রবাহ যখন সীমাবদ্ধ মাত্রায় হয়, তখন দখিনা হাওয়ার মতো সুখকর অনুভূতি বয়ে আনে, আবার যখন তা মাত্রাতিরিক্ত হয়, তখন তা স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড় এবং জলভাগে তৈরি করে জলোচ্ছাস। সৌরজগতের বৃহতাকার গ্রহ বৃহস্পতি গ্রহে বিভিন্ন গ্যাস ও বায়ুর প্রচন্ড সঞ্চালন লক্ষ করা যায়। এমনকি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় ঝড়টির পেছনে কাজ করছে এই বায়ুপ্রবাহ। সৌরজগতের অষ্টম গ্রহ নেপচুনে চলছে পৃথিবীর আকৃতির সমান একটি ঝড়। সূর্য থেকে ৪,৫৩,৬৮,৭৪,৩২৫ কিলোমিটার দূরে সন্তরণশীল এই গ্রহে বায়ুপ্রবাহের কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

শুরুতে

বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু (Weather of Bangladesh)

বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক অতি জরুরি কিছু তথ্যঃ

  • বাংলাদেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ বা সমভাবাপন্ন।
  • বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল মৌসুমী বায়ু।
  • ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
  • বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১ সেলসিয়াস।
  • বাংলাদেশের শীতকালের গড় তাপমাত্রা ১৮.৭২ সেলসিয়াস।
  • বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালের গড় তাপমাত্রা ২৭.৮ সেলসিয়াস।
  • বাংলাদেশের বর্ষাকালের গড় তাপমাত্রা ২৬.৭ সেলসিয়াস।
  • বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৫.১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা (১৮ মে, ১৯৭২ সালে রাজশাহীতে) রেকর্ড করা হয়।
  • বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত সর্বোনিম্ন ১.৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা (৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৫ সালে দিনাজপুরে) রেকর্ড করা হয়।
  • ঢাকায় আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪২.৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা (১৯৬০ সালে) রেকর্ড করা হয়।
  • বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত পরিমান ২০৩ সে.মি.।
  • বাংলাদেশে বর্ষাকালে গড় বৃষ্টিপাত ৩০৯ সে.মি.।
  • বাংলাদেশে সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালখানে (৩৮৮ সে.মি.)।
  • বাংলাদেশে সর্বনিম্ন গড় বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে (১৫৪ সে.মি.)।
  • বাংলাদেশে সর্বোচ্চ আর্দ্রতা জুলাই মাসে (৯৯%) এবং সর্বনিম্ন আর্দ্রতা ডিসেম্বর মাসে (৩৬%)।
  • বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর জন্য।
  • বাংলাদেশে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় না কারন ভূমির ওপর দিয়ে আসা বাতাস শুষ্ক থাকে।
  • বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান নাটোরের লালপুর।
  • বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা রাজশাহী।
  • বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল।
  • বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট।
  • বাংলাদেশের প্রায় মধ্য ভাগ কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রান্ত হয়েছে।
  • গ্রীনিচমান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশের সময় ৬ ঘন্টা অগ্রগামী।
  • বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
  • বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারী।
  • বাংলাদেশের জলবায়ু বিষুবীয় নামে পরিচিত।
  • বাংলাদেশের বর্ষা ঋতুকে ‘স্বতন্ত্র ঋতু’ বলা হয়।
  • বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর (Bangladesh Meteorological Department) ঢাকার আগারগাঁয়ে অবস্থিত।
  • বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর (Bangladesh Meteorological Department) প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে।
  • বাংলাদেশের আবহাওয়া কেন্দ্র ৪টিঃ ঢাকা, পতেঙ্গা, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় অবস্থিত।
  • বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস ৩৫ টি।
  • মহাকাশ গবেষণা এবং দূর অনুধাবন কেন্দ্রের নাম হল SPARRSO, যার পূর্ণরূপ হলঃ Space Research and Remote Sensing Organization। এটি হল ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একমাত্র পূর্বাভাস কেন্দ্র। এটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। SPARRSO অবস্থিত ঢাকার আগারগাঁয়ে এবং এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • কৃত্রিম উপগ্রহ, ভূমি জরিপ কাজে নিয়োজিত SPARRSO -এর প্রকল্পের নাম হল ‘ল্যান্ড স্যাট ও নোয়া’।
  • বাংলাদেশ পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের নাম হল BEMF, যার পূর্ণরূপ হলঃ Bangladesh Environment Management Forum।
  • গ্রিন-হাউসের ক্ষতির কারণ হল সিএফসি (CFC) গ্যাস।
  • বায়ুমন্ডলের কোন স্ট্যাটোস্ফিয়ার স্তরে ওজনের বিপুল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
  • নেদারল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনের নাম হল গ্রিন পিস।
  • পরিবেশ আন্দোলনের সূচনাকারী হলেন ইংল্যান্ডের ‘হেনরী ডেভিড হ্যারো’।
  • স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড রিসিভিং স্টেশন (Satellite Ground Receiving Station) বাংলাদেশের খরা ও বন্যার ক্ষতির পরিমাপ, ভূমি জরিপ, ভূমি ক্ষয়, মাটির লবনাক্ততা নির্ণয়, সমুদ্র পানির উচ্চতা, চিংড়ি চাষ, ম্যানগ্রোভ বন পরিমাপ করার কাজ করে থাকে।
  • বর্তমানে অকার্যকর স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড রিসিভিং স্টেশনটি ঢাকার সাভারে অবস্থিত।
  • ম্যাট্রোলজিক্যাল স্যাটেলাইট (Meteorological Satellite) –এর কাজ হল দু-ঘন্টা পর পর মেঘ-বৃষ্টি, ঝড়, সাইক্লোন ইত্যাদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস করা।
  • সম্প্রতি জাপানের আর্থিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের কক্সবাজারে রাডার কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

শুরুতে

আবহাওয়ার পূর্বাভাস (Weather Forecast)

অনলাইনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার জন্য অনেকগুলো ওয়েবসাইট আছে। যেমনঃ

এই ওয়েবসাইট গুলোতে কাঙ্ক্ষিত এলাকার নাম বা ঐ এলাকার জিপ কোড (Zip Code) লিখে সার্চ দিলেই এলাকাটির ঐ মূহুর্তের আবহাওয়া বের হয়ে আসবে।

এছাড়া বাংলাদেশের যেকোনো মূহুর্তের আবহাওয়া জানার জন্য রয়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর (Bangladesh Meteological Department) –এর নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.bmd.gov.bd)।

বাংলাদেশের সাতটি বিভাগীয় শহরের ও আশেপাশের এলাকার আবহাওয়া জানা যাবে নিচের লিংকগুলো থেকেঃ

শুরুতে

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change in Bangladesh)

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশেও অস্থায়ী এবং স্থায়ী, নেতিবাচক এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের বিপর্যয়ের এই ঘটনাকে বাংলাদেশ সরকারের বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নব্বইয়ের দশকে প্রণীত ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট এ্যাকশন প্ল্যান (National Environment Management Action Plan বা NEMAP) –এ দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সত্যিই পড়ছে কিনা, তা চারটি মানদন্ডে বিবেচনা করা হয়:

(ক) জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ।

(খ) কোথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি হচ্ছে।

(গ) সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা কোথায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

(ঘ) ক্ষতিগ্রস্থ দেশটি ক্ষতি মোকাবিলায় বা অভিযোজনের জন্য এরই মধ্যে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে।

বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, বন্যা ইত্যাদি সবগুলো দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং হচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও অনেক বেশি। মালদ্বীপ, টুভ্যালু, টোবাগো –এদের সবার ক্ষেত্রে এই সবগুলো মানদন্ডই কার্যকর নয়। তাছাড়া মালদ্বীপের মোট জনসংখ্যা বাংলাদেশের অনেক জেলার জনসংখ্যার চেয়েও কম। তাই এই চারটি মানদন্ডেই বাংলাদেশ, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় শীর্ষে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ-এর ২০১০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স (Global Climate Risk Index বা CRI) অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতির বিচারে শীর্ষ ১০টি ক্ষতিগ্রস্থ দেশের মধ্যে প্রথমেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এই সমীক্ষা চালানো হয় ১৯৯০ থেকে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১৯৩টি দেশের উপর। উল্লেখ্য, উক্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকাশিত ২০০৭ এবং ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্থতার বিচারে বিশ্বব্যাপী গবেষকগণ বাংলাদেশকে পোস্টার চাইল্ড (Poster Child) হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন।

শুরুতে

পাঁচটি ক্যাটাগরিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ দেশগুলো (Top Countries at Risk of Global Warming)

ক্যাটাগরি

মরুকরণ

বন্যা

ঝড়

সমুদ্রপৃষ্ঠের

উচ্চতা বৃদ্ধি

কৃষিতে

অনিশ্চয়তা

র‍্যাংকিং

(১)

মালাউয়ি

বাংলাদেশ

ফিলিপাইন

সব নিচু দ্বীপদেশ

সুদান

(২)

ইথিওপিয়া

চীন

বাংলাদেশ

ভিয়েতনাম

সেনেগাল

(৩)

জিম্বাবুয়ে

ভারত

মাদাগাস্কার

মিসর

জিম্বাবুয়ে

(৪)

ভারত

কম্বোডিয়া

ভিয়েতনাম

তিউনিশিয়া

মালি

(৫)

মোজাম্বিক

মোজাম্বিক

মলদোভা

ইন্দোনেশিয়া

জাম্বিয়া

(৬)

নাইজার

লাওস

মঙ্গোলিয়া

মৌরিতানিয়া

মরক্কো

(৭)

মৌরিতানিয়া

পাকিস্তান

হাইতি

চীন

নাইজার

(৮)

ইরিত্রিয়া

শ্রীলঙ্কা

সামোয়া

মেক্সিকো

ভারত

(৯)

সুদান

থাইল্যান্ড

টোঙ্গা

মিয়ানমার

মালাউয়ি

(১০)

শাদ (চাদ)

ভিয়েতনাম

চীন

বাংলাদেশ

আলজেরিয়া

(১১)

কেনিয়া

বেনিন

হন্ডুরাস

সেনেগাল

ইথিওপিয়া

(১২)

ইরান

রুয়ান্ডা

ফিজি

লিবিয়া

পাকিস্তান

 
 
আপডেটের তারিখঃ ২৫ জুলাই, ২০১৩ ইং
 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
জরুরী ফোন নাম্বারN\A, N\A
বাড়ি তৈরি করার ইট সিমেন্ট আর রডের যাবতীয় হিসাব নিকাশজেনে নিন বাড়ি তৈরি করার ইট সিমেন্ট আর রডের যাবতীয় হিসাব নিকাশ
শৌখিন মৎস্য শিকারN\A, N\A
বড়শিতে মাছ শিকারবড়শিতে মাছ শিকারের টুকিটাকি
বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাবাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থা
প্রবীণ নিবাসপ্রবীণ নিবাস
বিশ্ব শিশু কেন্দ্র ডে-কেয়ার এন্ড প্রি-স্কুলদারুসসালাম, মিরপুর ১
সবুজের মেলা উত্তরা, সেক্টর ০১
মাচ্ মোর লেটিং সার্ভিস খিলগাঁও, গোড়ান
বাড়ি ভাড়া আইনএ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে
আরও ৮ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি