পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট

 

মৃত্যুতেই মানব দেহের সকল আনুষ্ঠানিকতার অবসান হয় না। কেননা, আস্তিক মানুষের কাছে জন্মের মতো মৃত্যুর ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু ধর্মীয় আচার ও প্রথা। এই সকল আচার ও প্রথা ধর্ম ভেদে ভিন্ন রকমের হয়। সনাতন ধর্মের লোকজনের নিকট মৃতদেহের সৎকারের জন্য শ্মশান একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কেননা, ধর্মীয় প্রথা মোতাবেক শবদাহের জন্য প্রয়োজন শ্মশানের। এই শ্মশানেই থাকে শবদাহের চুল্লী এবং ডোম। শবদাহের প্রস্তুতিমূলক সকল আয়োজনই থাকে শ্মশানে। ঢাকাবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য রয়েছে তেমনই একটি শ্মশান, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট নামে যা সর্বজনবিদিত। এই শ্মশানে শুধু শবদাহের ব্যবস্থাই নয়, ধর্মীয় রীতি মোতাবেক শব সমাহিত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠাকাল

বাংলা ১২৮৩ এবং ইংরেজী ১৮৭৬ সালে ইহা প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

কর্তৃপক্ষ ও অফিস

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, অঞ্ঝল-১ এর অধীনে এই শ্মশান ঘাট। দ্বিতীয় গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে বাম দিকে পূর্ব পাশে এর অফিস অবস্থিত।

 

অবস্থান ও আয়তন

এটা ঢাকার পোস্তগোলা বাস স্ট্যান্ড থেকে আধা কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে তীরের দিকে ১৫০ গজ ভিতরে অবস্থিত। শ্যামপুর থানার মধ্যে এর অবস্থান। এর আয়তন বর্তমানে ৪.৫ বিঘার মত হবে, যার মধ্যে শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করা হয় ২.৫ বিঘা এবং সমাহিত করার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয় ২ বিঘা জমি।

 

যোগাযোগ

গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ি হয়ে পোস্তগোলা দিয়ে যাওয়া যায় অথবা গুলিস্তান রায়সাহেব বাজার হয়ে লোহারপুল/ সূত্রাপুর হয়ে পোস্তগোলা দিয়ে যাওয়া যায়। আর নদীর ওপার অর্থাৎ কেরানীগঞ্জ থেকে পোস্তগোলা ব্রীজ পার হয়েও শ্মশান ঘাটে যাওয়া যায়। এখানে অফিসের কোন ফোন, মোবাইল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট নেই। তবে, এখানে যারা কাজ করে তাদের মোবাইল নম্বর হল- ০১৯১২৫৭৬৬৭৬ ও ০১৯১২৯২২২৫৪।

 

বিবরণ

  • চুল্লীর ব্যবস্থা হিসেবে এখানে সাধরণ ও ইলেক্ট্রিক দুই ব্যবস্থাই আছে। তবে, বর্তমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে ইলেক্ট্রিক ব্যবস্থা বন্ধ আছে।
  • এখানে ডোম আছে ৭ জন। যার মধ্যে ৫ জন প্রকৃত ডোম, ২ জন ক্লীনার হিসেবে কাজ করে। তারা শ্মশানেই/শ্মশানের আশে-পাশে থাকে। তাদের সব সময়ই পাওয়া যায়।
  • শ্মশানের নিজস্ব কোন মন্দির নাই। তবে পাশেই স্থানীয় কালি মন্দির  অবস্থিত।
  • ব্যক্তির নামে ফলক চিহ্ন রাখা যায়। সে ক্ষেত্রে তাকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম পূরন করে সাথে ২৫,০০০ টাকা জমা দিতে হবে। অনুমতিপত্র নিয়ে শ্মশানে গেলে ফলক চিহ্ন রাখা যায়। এর মেয়াদ ৫ বছর।
  • পূর্ণ সৎকারের ক্ষেত্রে এখানে ন্যূনতম ২০ টাকা ফি দিতে হয়।
  • এখানে শৌচাগার আছে ২টা এবং স্নানঘর আছে ৪টা।  গেট দিয়ে একটু ভিতরে গিয়ে হাতের বাম পাশে এর অবস্থান।

 

অন্যান্য

এখানে সমাহিত করারও ব্যবস্থা আছে তবে বর্তমানে সাধারনের জন্য তা আপাতত বন্ধ আছে। শুধু জাতীয় নেতা, বিশেষ ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এটা কার্যকর আছে। এ জন্য সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে মেয়াদ ভিত্তিক আবেদন করতে হবে। সাধারনের জন্য ৩ মাস মেয়াদে ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, ১০ বছরের জন্য ১,৫০,০০০ টাকা, ১৫ বছরের ২২৫,০০০ টাকা, ২০ বছরের জন্য ৩ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। লাশ এনে প্রথমে নাম এন্ট্রি করতে হবে। তার সাথে লাশের জাতীয় পরিচয় পত্র এবং যদি হাসপাতালে মারা যায়, তবে সাথে হাসপাতালের ক্লীয়ারেন্স কপি সাথে আনতে হবে। লাশ এনে প্রথমে সৎকারের জন্য যা যা প্রয়োজন তা লাশের সাথে আনতে হবে বা এখানে কিনতেও পাওয়া যায়। যেমন- কাঠ, মোম, পাঠখড়ি, বাঁশ ইত্যাদি। এখানে বিভিন্ন ধরনের পূজা অনুষ্ঠিত হয়। যেমন- কার্তিক মাসে দীপান্বিতা, কালী পূজা, মাঘ মাসে রতন্তি কালী পূজা, ফাল্গুন মাসে শিবপূজা, চৈত্র মাসে সংক্রান্তি, আশ্বীন মাসে ডোমদের পক্ষ থেকে দূর্গা পূজা করা হয়। ১৫ দিন অন্তর অন্তর পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় কালী পূজায়  ভোগ অনুষ্ঠিত হয়। নভেম্বর মাসে তিন দিন ব্যাপী নাম সংকীর্তন হয়।

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
শাহজাহানপুর কবরস্থানমতিঝিল, শাহজাহানপুর
খ্রিষ্টান কবরস্থানওয়ারী, ওয়ারী
উত্তরা কবরস্থানউত্তরা, সেক্টর ১০
শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানশাহ আলী, মিরপুর ১
জুরাইন কবরস্থানশ্যামপুর, জুরাইন
বনানী কবরস্থানগুলশান, বনানী
পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটঢাকা, পোস্তগোলা শ্বশান ঘাট
আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানঢাকা, কবরস্থান
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি