পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

মুশফিকুর রহিম

মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান ক্রিকেটার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের এপ্রিল-মে মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট সিরিজে ড্র ও ওয়ানডে সিরিজে ২:১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর তিনি অধিনায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।  মূলত তিনি একজন উইকেট-রক্ষক এবং নিম্ন সারির ব্যাটসম্যান। ছোটখাটো গড়নের এই সদা হাস্যোজ্জ্বল খেলোয়াড়টি স্ট্যাম্পের পেছনে বকবক করার জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তথা সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেন।

 

জন্মঃ

১৯৮৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তারিখে, বাংলাদেশের বগুড়া জেলায় মুশফিক জন্মগ্রহণ করেন।

 

মুশফিকের ক্যারিয়ারঃ

২০০৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে মুশফিক প্রথমবারের মত জাতীয় দলে সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটাই ছিলো বাংলাদেশের প্রথম সফর। অপরিচিত পরিবেশ এবং সীম বোলিংয়ের মোকাবেলায় তাই বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের যথেষ্ট ভুগতে হয়। প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলে মুশফিক পরিবেশের সাথে ধাতস্থ হয়ে নেন। যার প্রমাণ সাসেক্সের বিরুদ্ধে তার ৬৩ রানের ইনিংস এবং নটিংহ্যাম্পশায়ারের বিরুদ্ধে করা অপরাজিত ১১৫। শুরুর দিকে যদিও তাকে কেবল উইকেটকিপার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, গা গরমের ম্যাচগুলোতে তার ক্রীড়া প্রদর্শন নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। ফলশ্রুতিতে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তিনি স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে জায়গা করে নেন। ১৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। দল অল আউট হয় ১০৮ রানে এবং সাকুল্যে তিনজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছুতে সমর্থ হন। এ্যাংকেল ইনজুরির কবলে পড়ায় সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো তার আর খেলা হয়নি।

২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে মুশফিক বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন। অন্যান্যদের মধ্যে এই দলে ছিলেন ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক তারকা সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল। মুশফিকের নেতৃত্বে দলটি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে সমর্থ হয়।

২০০৬ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক আবার জাতীয় দলে সুযোগ পান। এই ট্যুরে তার সাথে সাথে ফরহাদ রেজা এবং সাকিব আল হাসানেরও ওয়ানডে অভিষেক হয়। হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মুশফিক তার প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি করেন এবং পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য খালেদ মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হন।

জুলাই, ২০০৭ এ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক আবার দলে ডাক পান। এক ইনিংস ও ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশ পরাজিত হয়। মুশফিক, মোহাম্মদ আশরাফুলকে সঙ্গী করে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রেকর্ড ১৯১ রান করেন। ৮০ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন মুশফিক।

 

মুশফিকের ব্যাটিং গড়ঃ

 

ম্যাচ

ইনিংস

নট আউট

মোট রান

সর্বোচ্চ রান

রানের গড়

স্ট্রাইক রেট

১০০র সংখ্যা

৫০-র সংখ্যা

আন্তর্জাতিক টেস্ট

৩২

৬২

১৮৩৪

২০০

৩১.৬২

৪৫.৯১

আন্তর্জাতিক এক দিনের খেলা

১১৬

১০৬

১৯

২২৬৩

১০১

২৬.০১

৬৭.০৫

১১

আন্তর্জাতিক টি২০ খেলা

২৭

২৪

২৯০

৪১*

১৬.১১

১০৬.২২

প্রথম শ্রেণীর খেলা

৬৩

১১২

১২

৩২৯৯

২০০

৩২.৯৯

...

১৯

জাতীয় দলে খেলা

১৪৪

১৩১

২৪

৩০৩৩

১১৪

২৮.৩৪

...

১৭

টি২০ খেলা

৬৩

৫৬

১৪

১১৪৪

৮৬

২৭.২৩

১২১.৯৬

* নট আউট

 

মুশফিকের প্রাথমিক ক্যারিয়ারঃ

 

বিপক্ষ দল

ভেন্যু

তারিখ

প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট

ইংল্যান্ড

লর্ডস

২৬ থেকে ২৮ মে, ২০০৫

প্রথম আন্তর্জাতিক এক দিনের খেলা

জিম্বাবুয়ে

হারারে

৬ আগস্ট, ২০০৬

প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ খেলা

জিম্বাবুয়ে

খুলনা

২৮ নভেম্বর, ২০০৬

প্রথম প্রথম-শ্রেণীর খেলা

জিম্বাবুয়ে (বিসিবি একাদশের পক্ষে)

চট্টগ্রাম

১ থেকে ৩ জানুয়ারি, ২০০৫

প্রথম জাতীয় দলে খেলা

জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল

কুয়েকুয়ে

৩ মার্চ, ২০০৫

প্রথম টি২০ খেলা

জিম্বাবুয়ে

খুলনা

২৮ নভেম্বর, ২০০৬

 

মুশফিকের রেকর্ডঃ

মুশফিকুর রহিম প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেন। ৩২১টি বল মোকাবিলা করে ২২ চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ২০০ রান করেন। ২০১৩ শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি এই রেকর্ডটি করেন। তিনি ৮ম উইকেটরক্ষক যিনি টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন এবং ৯ম ব্যাটসম্যান যিনি টেস্টে ৬নং এ নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন।

 

সহ-অধিনায়ক ও অধিনায়কের দায়িত্বে মুশফিকঃ

২০০৯ এর জিম্বাবুয়ে ট্যুরে মুশফিক বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন। তৎকালীন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় সাকিব তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং সহ-অধিনায়ক সাকিবের দায়িত্ব পান মুশফিক। ২০১০ এর ২১ জানুয়ারী ভারতের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিনে মুশফিক তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। মাত্র ১১২ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি বাংলাদেশের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হন। ১১৩ রানের ব্যবধানে ভারত ম্যাচটি জিতে নেয়।

ঐ বছরের ৮ নভেম্বর ওয়ানডেতে মুশফিক তার সেরা ইনিংসটি খেলেন। জাতীয় ক্রিকেট লীগের একটি ম্যাচে তিনি রাজশাহীর হয়ে ১১৪ বলে করেন ১২০ রান। ডিসেম্বর, ২০১০ এ মুশফিকের জায়গায় তামিম ইকবাল সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান।

২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এশিয়া কাপে নিজেদের সেরা সাফল্য রানার্সআপ হয়।

 

আপডেটের  তারিখঃ ৪ এপ্রিল, ২০১৩

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
শচীন টেন্ডুলকারক্রিকেট ইতিহাসের অনেক উঁচুমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত
জুনায়েদ সিদ্দিকীজুনায়েদ সিদ্দিকী একজন জনপ্রিয় বাংলাদেশী ক্রিকেটার
মুশফিকুর রহিমমুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান ক্রিকেটার
রবিউল ইসলামউদীয়মান ক্রিকেট খেলোয়াড়
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদবাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সহকারি অধিনায়ক
নাসির হোসেনবর্তমানে বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার
তামিম-আয়েশার ভালোবাসার গল্পপরিচয় পর্ব থেকে বিয়ে পর্যন্ত সকল ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে
কাকা ও সেলিকোর দুর্দান্ত প্রেমকাহিনীতাদের প্রেম-ভালোবাসা এবং বিয়ে সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে
কাজী সালাউদ্দিন৭০ এর দশকের মাঠ দাবড়ানো ফুটবলার
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোজীবনের নানা অজানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে
আরও ২১ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি