পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

আবদুর রহমান বয়াতী

আবদুর রহমান বয়াতী বাউল গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। প্রায় চার যুগ ধরে তিনি বাউল গানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের মঞ্চ মাতিয়েছেন। তার সম্পর্কে যার তেমন জানাশোনা নেই তারা অনেকেই ভাবতে পারেন বাড়িয়ে বলছি। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি - আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বুশের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন এই শিল্পী। এই ধরনের আমন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রে আমাদের দেশের অনেক মন্ত্রীর ভাগ্যেও জোটে না।

 

১৯৩৬ সালের ১লা জানুয়ারি ঢাকার দয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন বাউল গানের এই মহাসাধক। তার পিতার নাম তোতা মিয়া এবং মাতার নাম আজমেরী বেগম। অর্থের অভাবে খুব বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেই তাকে এ পাঠ চুকাতে হয়। তার পিতা তোতা মিয়া ছিলেন হোটেল দোকানি। তার পিতার হোটেলে প্রতিদিনই জমতো বাউল গানের আসর। সেখান থেকে আবদুর রহমান বয়াতীর বাউল গানের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। সংগীত বিষয়ে তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তারপরও তার একটি অসাধারণ গুণ ছিল – কোনো গান মুখস্থ করার জন্য তার একবারের বেশি দু’বার শুনতে হতো না। একা একা বসে চেয়ার-টেবিল অথবা মাটির পাতিলকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে বেছে নিয়ে গুনগুনিয়ে গান করতেন। এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় কিছু লোক তাঁকে গান গাইতে বললে গানপাগল কিশোর আব্দুর রহমান গেয়ে উঠলেন - 'লাউয়ের আগা খাইলাম ডগা খাইলাম এনই সাধের ডুগডুগি, আমার কদুর বয়সে করলো বৈরাগী'। তাঁর কণ্ঠের সুরের কারম্নকাজ শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী আলাউদ্দিন বয়াতী, সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বুকে টেনে নেন। সেই থেকে শুরু হল তার সংগীত জীবন। তবে তার সংগীত জীবনের পথচলা মসৃণ ছিল না। স্বয়ং তার পিতাই তার পথচলায় বাধা হয়ে দাড়ায়। তার বাবার কঠোর নিষেধের মধ্যেও ছুটে যেতেন বাউল গানের আসরে।

 

একদিন হাইকোর্ট মাজারে তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে খ্যাতনামা সঙ্গীত পরিচালক শাহনেওয়াজ বিটিভিতে অডিশনের জন্য নিয়ে যান। কিন্তু ঢাকার লোক ঠিকভাবে কথা বলতে পারে না, এই অযুহাত দেখিয়ে বাদ দিয়ে দিলেন তাঁকে। পর পর দুইবার সত্য বলায় সে অডিশন থেকে একই অযুহাতে বাদ পড়ায়, তৃতীয়বার মিথ্যার আশ্রয় নিলেন। তৃতীয়বার তাঁকে অডিশনের জন্য ডাকেন বরেণ্য শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বাড়ি কোথায় ? তিনি বলেছিলেন, বাবার পৈতৃক বাড়ি বিক্রমপুরে। মিথ্যা বললেও এ ছিল এক চরম সত্য।

 

১৯৭২ সালে দেশের বরেণ্য শিল্পী আব্দুল আলীমের সঙ্গে নিজের লেখা ও সুর করা 'মরণেরই কথা কেন স্মরণ কর না, আজরাইল আসিলে কারো কৈফিয়ত চলবে না' গানটি বিটিভিতে পরিবেশন করে শ্রোতাদের কাছে অনেক প্রিয় হয়ে ওঠেন।

 

তিনি শুনে শুনে হাজার হাজার গান রপ্ত করা ছাড়াও পালা গানের বিভিন্ন কৌশল, কোরান, হাদিস, গীতা, বাইবেলসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের তত্ত্বজ্ঞান আয়ত্ব্ব করেন। তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় কয়েকটি গান হল-

  • 'মন আমার দেহঘড়ি সন্ধান করি কোন মেসত্মরি বানাইছে',
  • 'আমার মাটির ঘরে ইঁদুর ঢুকেছে', মরণেরই কথা কেন স্মরণ কর না',
  • 'মা আমেনার কোলে ফুটলো ফুল',
  • 'ছেড়ে দে নৌকা মাঝি যাবো নদীয়া',
  • 'আমি ভুলি ভুলি মনে করি প্রাণের ধৈর্য মানে না'সহ অসংখ্য গান।

 

প্রাপ্ত সম্মাননা ও পুরষ্কার সমূহ:

দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি বহু সম্মাননা ও পুরষ্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।  এছাড়াও তিনি আরও অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।

  • সিটিসেল চ্যানেল আই এ্যাওয়ার্ড
  • সোলস এ্যাওয়ার্ড
  • টেলিভিশন দর্শক ফোরাম কর্তৃক লাইফ টাইম এ্যাচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড
  •  ২০০৬ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী কর্তৃক গুণীজন সংবর্ধনা
  • নজরম্নল একাডেমী সম্মাননা ২০০৪
  • সমর দাস স্মৃতি সংসদ এ্যাওয়ার্ড
  • বাংলাদেশ বাউল সমিতি আজীবন সম্মাননা এ্যাওয়ার্ড
  • মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতি আজীবন সম্মাননা এ্যাওয়ার্ড
  • ইউএসএ জাগরনী শিল্পীগোষ্ঠী এ্যাওয়ার্ড
  • স্বরবীথি থিয়েটার কর্তৃক বাংলা নববর্ষ ১৪১২ উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান
  • কায়কোবাদ সংসদ আজীবন সম্মাননা
  • স্পেল বাউন্ড বিশেষ সম্মাননা
  • বাংলাদেশ বাউল সংগঠন কর্তৃক গুণীজন সম্মাননা পদক
  • বিক্রমপুর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পদক
  • জাতীয় যুব সাংস্কৃতিক সংস্থা কর্তৃক সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি স্বর্ণ পদক ও আজীবন সম্মাননা-২০০৫
  • সিটি কালচারাল সেন্টার কর্তৃক গুণীজন সম্মাননা পদক
  • বাউল একাডেমী পদক
  • একতা এ্যাওয়ার্ড, লোকসঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য স্বীকৃতি স্বরূপ লোকজ বাউলমেলা পদক ২০০৪
  • ওসত্মাদ মোমতাজ আলী খান সঙ্গীত একাডেমী কর্তৃক সম্মাননা পদক ২০০৬
  • শ্রেষ্ঠ বাউলশিল্পী অডিও ক্যাসেট পুরস্কার

 

জীবনাবসান:

২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্বদেশ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রেকর্ডিং করতে গিয়ে ব্রেন স্ট্রোক করেন। তারপর থেকে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা কিছু ছিল ইতিমধ্যে প্রায় সব বিক্রি করতে হয়েছে। অবশেষে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট সকাল সোয়া ৮টার দিকে ঢাকার জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাউল আব্দুর রহমান বয়াতি। এই গুণী শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রাফিয়াথ রশিদ মিথিলামিথিলার পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত
সানিয়া সুলতানা লিজা২০০৮ সালের ক্লোজআপ ওয়ান বিজয়ী সংগীত তারকা
দিলশাদ নাহার কণাবাংলা গানের অন্যতম শিল্পী
হাবিব ওয়াহিদবর্তমান প্রজন্মের হার্টথ্রুব সংগীত তারকা
মিলা ইসলামবর্তমান সময়ের হুদয় কাপানো সঙ্গীত শিল্পী হচ্ছে মিলা।
কণ্ঠশিল্পী তপু ও নজিবার ভালোবাসার গল্পকণ্ঠশিল্পী তপুর ও নজিবার ভালোবাসার গল্প বিস্তারিত পড়ুন
আবদুর রহমান বয়াতীবাউল গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
পার্থ বড়ুয়াপার্থ বড়ুয়া সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে
আজম খানবাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের পথ প্রদর্শক
হাসন রাজামরমী বাউল শিল্পী
আরও ২৫ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি