পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

কলিম শরাফী

বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন কলিম শরাফী। দেশাত্মবোধক গানের ক্ষেত্রেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল বেশ। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন।  

 

জন্ম

৮মে, ১৯২৪ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর মহকুমার অন্তর্গত খয়রাদিহি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কলিম শরাফী। তাঁর পুরো নাম মাখদুমজাদা শাহ সৈয়দ কলিম আহমেদ শরাফী।

 

পারিবারিক জীবন

  • কলিম শরাফীর পিতা সামি আহমেদ শরাফী ও মাতা আলিয়া বেগম।
  • মাত্র চার বছর বয়সে মা আলিয়া বেগমকে হারান তিনি।
  • রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া কলিম শরাফীর আরও দুই বোন রয়েছে।
  • ১৯৫০ সালে কলিম শরাফী চলে আসেন ঢাকায়।
  • কলিম শরাফী প্রথমবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৪৯ সালে। প্রথমা স্ত্রীর সাথে ১৯৫৭ সালে বিচ্ছেদ ঘটার পর ১৯৬৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন।
  • কলিম শরাফীর দ্বিতীয় স্ত্রী অধ্যাপিকা নওশেবা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা ছিলেন।
  • কলিম শরাফীর দুই সন্তানের একজন আলেয়া শরাফী এবং অপরজন আজিজ শরাফী।

 

পড়াশোনা

  • তাঁর হাতেখড়ি হয় আরবি ওস্তাদজী আর বাংলা পণ্ডিত মশাইয়ের কাছে।
  • ১৯২৯ সালে পাঠশালায় ভর্তি হন। তাঁতিপাড়া প্রাইমারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে চলে আসেন কলকাতায় বাবা সামি আহমেদ শরাফীর কাছে।
  • ১৯৩৫ সালে ভর্তি হন মাদ্রাসা-ই-আলিয়াতে অ্যাংলো পার্শিয়ান বিভাগে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন।
  • সাংবাদিক শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার তাঁর সহপাঠি ছিলেন।
  • ১৯৪২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন কলিম শরাফী।
  • কলকাতার বিখ্যাত সঙ্গীত বিদ্যালয় 'দক্ষিণী' থেকে ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত সঙ্গীত শিক্ষা অর্জন করেন।

 

সাংস্কৃতিক জীবন

  • রক্ষণশীল পরিবার থেকে উঠে আসলেও কলিম শরাফী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নিজেকে সবসময়ে নিয়োজিত রেখেছেন।
  • ১৯৪৪ সালে তিনি ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার এ্যাসোসিয়েশন (আইপিটিএ)-এ যোগ দিয়ে কলকাতার হাজারা পার্কে হাজার হাজার দর্শকশ্রোতার উপস্থিতিতে সর্বপ্রথম গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন।
  • ১৯৪৬ সালে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি এইচএমভি থেকে বের হয় কলিম শরাফীর প্রথম গণসঙ্গীতের রেকর্ড।
  • সে সময় নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন কলকাতা বেতারে। 
  • ১৯৪৮ সালে নীতিগত বিরোধের কারণে মহর্ষি মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, শম্ভু মিত্র, তৃপ্তি মিত্র, অশোক মজুমদার, মোহাম্মদ ইসরাইল, কলিম শরাফী প্রমুখ আইপিটিএ থেকে বেরিয়ে এসে গঠন করেন নাট্যসংস্থা 'বহুরূপী'।
  • ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকায় এসেই ক্যাজুয়াল আর্টিস্ট হিসেবে যোগ দেন রেডিওতে।
  • ১৯৫১ সালে ঢাকা ছেড়ে তিনি চলে যান চট্টগ্রামে। গড়ে তোলেন 'প্রান্তিক' নামে একটি সংগঠন।
  • ঢাকায় 'হ-য-ব-র-ল' নামে একটি সংগঠনগড়ে তোলেন। এ সংগঠনের ব্যানারেই মঞ্চস্থ করেন 'তাসের দেশ' নাটকটি। সে সময় কলিম শরাফীর সহযোগী ছিলেন ড. আনিসুর রহমান ও ড. রফিকুল ইসলাম।
  • ১৯৫৭ সালে চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো কলীম শরাফী রবীন্দ্র সঙ্গীতে কন্ঠ দেন  “আকাশ আর মাটি” চলচ্চিত্রে।
  • ১৯৫৮ সালে কলিম শরাফীর গান রেডিওতে সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিলো।
  • ১৯৬০ সালে সোনার কাজল চলচ্চিত্রে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন পরবর্তী প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান।
  • সূর্যস্নান ছবিতে পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া রে গানটি গেয়ে তিনি শ্রোতামহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
  • ১৯৬৪ সালে ঢাকায় প্রথম টিভি সেন্টার চালু হলে তিনি সেখানে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর পদে এবং ১৯৬৯ সালে সত্যেন সেনের সঙ্গে উদীচীর কর্মকাণ্ডে যোগ দেন
  • ১৯৭৯ সালে কলিম শরাফীর উদ্যোগে গঠিত 'জাহিদুর রহিম স্মৃতি পরিষদ' বর্তমানের 'জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ'।
  • কলিম শরাফীর মাত্র ৫টি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হলো - এই কথাটি মনে রেখো, আমি যখন তার দুয়ারে, কলিম শরাফীর যত গান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান এবং জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের কথা ও সুরে নবজীবনের গান।।

 

কর্মময় জীবন

  • ১৯৬৪- ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান টেলিভিশনে প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • ১৯৬৯-৭২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান গ্রামোফোন কোং লিঃ এর পরিচালক ও জেনারেল ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
  • ১৯৭৪-৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন এর চীফ ইনফরমেশন অফিসার ও জেনারেল ম্যানেজার পদে দায়িত্ব পালন করেন।
  • তিনি শিল্পকলা একাডেমী কাউন্সিল ও শিশু একাডেমী কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে এবং  বাংলাদেশ বেতার টিভি শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী সংস্থা ও নাগরিক নাট্য অঙ্গন-এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

 

রাজনৈতিক জীবন

  • কলিম শরাফী যখন দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তখন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু কলকাতায় অবস্থিত 'হলওয়েল মনুমেন্ট' অপসারণের আন্দোলন শুরু করেন। কিশোর কলিম শরাফী সে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
  • ১৯৪২ সালে তিনি গান্ধীর 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনে যুক্ত হন।
  • ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় নিজ এলাকায় এক সভায় সভাপতিত্ব করার কয়েক দিন পর ডিফেন্স অব ইন্ডিয়া অ্যাক্টের আওতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়।
  • কারাগারেই আন্দোলনকর্মী বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বীরভূম জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সেক্রেটারির দায়িত্ব নেন।
  • পঞ্চাশের মন্বন্তর হিসেবে পরিচিত পাওয়া দুর্ভিক্ষের সময় লঙ্গরখানায় কাজ করার সময় তিনি কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মুজাফফর আহমেদের সংস্পর্শে আসেন এবং যোগ দেন কমিউনিস্ট পার্টিতে।
  • ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের সংগঠিত করার কাজ করেন তিনি।

 

পুরস্কার

  • সঙ্গীত শিল্পে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জনাব কলিম শরাফী একুশে পদক (১৯৮৫), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৯), 'নাসিরউদ্দিন স্বর্ণ পদক' (১৯৮৮), 'বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহবুব উল্লাহ স্বর্ণ পদক' (১৯৮৭), সত্যজিত রায় পুরস্কার (১৯৯৫) এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হতে 'কৃতি বাঙ্গালী সম্মাননা পদক' (১৯৮৮)-এ ভূষিত হন।
  • বাংলা একাডেমী ফেলোশীপ, রবীন্দ্র সুবর্ণ জয়ন্তী পাটনা, বুলবুল ললিতকলা একাডেমী, সিকোয়েন্স এওয়ার্ড অব অনার, রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এওয়ার্ড, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গুণিজন সংবর্ধনা, পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৫তম জন্ম বার্ষিকী, ডি-৮ আর্ট এন্ড কালচার ফেস্টিভেল, পাকিস্তান অনুষ্ঠানে সম্মানিত হন।
  • সর্বশেষ তিনি বাংলা একাডেমী প্রবর্তিত 'রবীন্দ্র পুরস্কার-২০১০' এ ভূষিত হন।

 

মৃত্যু

  • ২রা নভেম্বর, ২০১০ তারিখে নিজে বাসভবনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয় সম্মাননার পর মিরপুর বুদ্ধজীবী গোরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।               
 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রাফিয়াথ রশিদ মিথিলামিথিলার পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত
সানিয়া সুলতানা লিজা২০০৮ সালের ক্লোজআপ ওয়ান বিজয়ী সংগীত তারকা
দিলশাদ নাহার কণাবাংলা গানের অন্যতম শিল্পী
হাবিব ওয়াহিদবর্তমান প্রজন্মের হার্টথ্রুব সংগীত তারকা
মিলা ইসলামবর্তমান সময়ের হুদয় কাপানো সঙ্গীত শিল্পী হচ্ছে মিলা।
কণ্ঠশিল্পী তপু ও নজিবার ভালোবাসার গল্পকণ্ঠশিল্পী তপুর ও নজিবার ভালোবাসার গল্প বিস্তারিত পড়ুন
আবদুর রহমান বয়াতীবাউল গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
পার্থ বড়ুয়াপার্থ বড়ুয়া সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে
আজম খানবাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের পথ প্রদর্শক
হাসন রাজামরমী বাউল শিল্পী
আরও ২৫ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি