পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

মধুপুর পিকনিক স্পট

পর্যটন ও ঐতিহাসিক স্থানের দিক দিয়ে যে জেলাটি সকলের কাছে অতি পরিচিত সেই জেলাটির নাম টাঙ্গাইল। মধুপুর পিকনিক স্পটটি টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত।  

কোথায় অবস্থিত
ঢাকা থেকে ১৪২ কি.মি এবং টাঙ্গাইল থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে মধুপুর পিকনিক স্পট অবস্থিত।

কিভাবে যাবেন
ঢাকার মহাখালি থেকে বিনিময় পরিবহনের যে কোন বাসে করে টাঙ্গাইল যাওয়া যায়।   সময় লাগে ৪/৫ ঘন্টা। ভাড়া ২৫০ টাকা। শুভেচ্ছা পরিবহনের আরামদায়ক গাড়ি মহাখালি থেকে বিকাল ৫টায় মধুপুর টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। টাঙ্গাইল থেকে বাসে করে মধুপুর পিকনিক স্পট এ যাওয়া যায়।
যোগাযোগ: ০১৭২৯৭০২১৪০

দেখতে পাবেন
পাহাড়, নদী, বন ও বনবাসি গারো-কোচ হাজংসহ নানা নামের আদিবাসি অধ্যুষিত মধুপুরের প্রধান আকর্ষণ শাল বন। এখানে আছে আজুলি, গাধিয়াল, কাইকা, পলাশ, হরিতকি, বহেড়া, আমলকি, সোনালু ও জয়নাসহ হাজারো প্রজাতির উদ্ভিদ ও গুল্ম লতা। আছে বিরল প্রজাতির হনুমান, বানর, হরিন, বন মোরগ, বাগডাস, অজগর এবং নানা প্রজাতির পাখি। এ পিকনিক স্পটের লহুরিয়া চিড়িয়াখানায় আছে শতাধিক হরিণ। চিড়িয়াখানার পাশের টাওয়ারে উঠে নির্জন ও নির্মল প্রকৃতিকে প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারবেন, দেখতে পাবেন বিভিন্ন বন্যপ্রাণী, পাখি।

থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
মধুপুর উপজেলা সদরে আদিত্য, সৈকত এবং ড্রিমটাচ নামের তিনটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। হোটেল আদিত্যের এসি রুম ভাড়া প্রতিদিন এক হাজার টাকা। সিঙ্গেল ১৫০, ডাবল ২৫০ টাকা। মোবাইল-০১৯২৯১০৬৩৫০। সৈকতে সিঙ্গেল ১০০ টাকা, ডাবল ২০০ টাকা। মোবাইল-০১৭২০৯৫০২৯৯। ড্রিম টাচে সিঙ্গেল ১০০ টাকা, ডাবল ১৫০ টাকা। মোবাইল-০১৭১৭১৮৭৯৯। এখানেই আছে মৌচাক এবং সুনীল হোটেলে রুচিসম্মত খাবার হোটেল। অগ্রীম বুকিং দিয়ে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ফোন ০৯২১-৬২৮৮৪, ধনবাড়ি নবাব প্যালেস বাংলো (এসি/ ননএসি) মোবাইল-০১৭৬৮৭৩৭২১৪, কাকরাইদ বিএডিসির বাংলো (এসি/ ননএসি) মোবাইল-০১৭১৩০২৭৮৮৯ নাম্বারে যোগাযোগ করে আসতে পারেন। জঙ্গলে রাত যাপন করতে হলে টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন অফিসের ০৯২১-৬৩৫২৪ নাম্বারে বুকিং দিতে হবে। ভিআইপি দোখলা বাংলো নভেম্বর হতে মার্চ পিক সিজনে তিন হাজার ৩শ। অপসিজনে ১ হাজার ৬৫০ টাকা।  চুনিয়া কটেজ পিক সিজনে ২ হাজার ২শ। অফসিজনে ১ হাজার ১শ টাকা।

আরও যা দেখবেন
মধুপুর সদর থেকে নিজস্ব গাড়িতে কিংবা সিএনজি,ইজিবাইক বা রেন্ট এ কার ভাড়া করে ভ্রমণে যেতে পারেন। মধুপুর থেকে গহীন জঙ্গলে ইট বিছানো সর্পিল পথ ধরে যেতে হবে রসুলপুর। সেখান থেকে পাঁচ কি.মি দূরেই দোখলা পিকনিক স্পট। জলে ঢাকা বাইদের (দুই পাহাড়ের মাঝখানের নিচু জলাভূমি) এপারে দোখলা রেস্ট হাউজ। ওপারে চুনিয়া কটেজ। এই দোখলা রেস্ট হাউজে বসেই বাংলাদেশের সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। এই রেস্ট হাউজের পূর্বপাশ জুড়ে তেঁতুল আর আমলকির বন। দখিনের সড়ক গেছে রাবার বাগান অবধি। পিকনিক স্পটের খোলা চত্বরে সাইডভিউ টাওয়ার। একটু এগুলেই গারো পল্লী। এই পল্লীর ঘরবাড়ি একেবারে ঝকঝকে তকতকে। আঙ্গিনায় হরেক প্রজাতির ফুলফলের বাগান। কাছেই পীরগাছা ক্রাইস্ট মিশন ও গীর্জা। গারো কালচারাল সেন্টার ও আদিবাসি পোশাক বিক্রয় কেন্দ্র। পাশেই মিশন স্কুল। জলজ উদ্ভিদে ভরা সুদৃশ্য বাইদ,আকাশ ছোঁয়া গজারির সারি,সুমিষ্ট আনারস ও কাঁঠাল বাগান,সবুজ অরণ্যানির আড়ালে ছিমছাম গারো বাড়ি। মিশন থেকে আরো ৫ কি.মি পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা পেরুলে শোলাকুড়ি গ্রামের সুলতানী আমলের সামন্ত রাজা ভগবত দত্তের বিশাল দীঘি। দেড় হাজার একরের বিশাল দীঘির পাড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বিদের প্রাচীন মন্দির।  বৈশাখের পূর্ণিমায় সেখানে শিব পূজা ও রাস মেলা বসে।
এখানে আছে সাত হাজার একরের সরকারি রাবার বাগান। খুব ভোর থেকেই শ্রমিকরা গাছের বাকল কেটে সংগ্রহ করে কাঁচা রাবার। সংগৃহিত কাঁচা রাবার কারখানায় জমিয়ে ধুঁম ঘরে নিয়ে প্রসেস করা হয়। সন্তোষপুর রাবার বাগানে যেতে পড়বে বিএডিসির সুদৃশ্য কাকরাইদ ক্যাম্পাস। একশ’ গজ সামনেই জয়তেঁতুল গ্রামের পাহাড়ি ঝরনা। কয়েক কি.মি সামনেই ইতিহাস প্রসিদ্ধ সাগরদীঘি। শতাব্দী প্রাচীন হিজলতলা মন্দির। কাকরাইদ থেকে ময়মনসিংহ সড়ক ধরে এগুলে বন গবেষণা কেন্দ্রের ভেষজ উদ্যান,বৈষ্ণবদের আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী সনাতন মন্দির,জলছত্র ক্রাইস্ট মিশন,বেলজিয়ামেরঅনুদানে নির্মিতবৃহত্তম কুষ্ঠ ব্যাধি হাসপাতাল, কারিতাস সিল্ক ফ্যাক্টরি ও শোরুম। আরো সামনে রসুলপুর বিমান বাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জের সুদৃশ্য চত্বর ও হযরত জয়েনশাহী পীরের মাজার। মধুপুরে এলে ধনবাড়ি নওয়াব প্রাসাদ দেখতে ভুলবেন না। নবাবদের ব্যবহারকৃত পোশাক, তৈজশপত্র, কুশন, খাটপালঙ্ক ও যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে যাদুঘর। আছে পারস্য স্থাপত্য রীতির চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাদশাহী মসজিদ।  
 

 

আপডেটের তারিখঃ ৩০ জুন, ২০১৩ ইং

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
হামহাম জলপ্রপাতপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও যাতায়াত সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
নিঝুম দ্বীপএই দ্বীপের নৈগর্গিক সৌন্দর্য ও যাতায়াত সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
জগদ্দল বিহারজগদ্দল বিহার নওগাঁ জেলার এক অতি প্রাচীন নিদর্শন
শালবন বৌদ্ধ বিহারকুমিল্লা জেলায় অবস্থিত শালবন বৌদ্ধ বিহার প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন
নুহাশ পল্লীনুহাশ পল্লী ঢাকার অদুরে গাজীপুরে অবস্থিত একটি বাগানবাড়ী
পরিকুন্ড জলপ্রপাতস্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
সোনাদিয়া দ্বীপএই দ্বীপের প্রাকৃতিক ও যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
আলুটিলা রহস্য গুহালোকেশন, যাওয়ার ব্যবস্থাসহ বিস্তারিত তথ্য রয়েছে
নাফাখুম ঝর্নাএই স্থানে যাতায়াত, থাকা, খাওয়া সহ সকল তথ্য রয়েছে
আরও ৪৪ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি