পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

রামসাগর

রামসাগর জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। এটি দিনাজপুর সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে রামসাগর দিঘিকে ঘিরে অবস্থিত। ১৯৬০ সালে রামসাগর বাংলাদেশের বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আনা হয়। ১৯৯৫-৯৬ সালে রামসাগরকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয় এবং ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল একে জাতীয় উদ্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 

 

রামসাগরের বিবরণঃ

এই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ৭টি পিকনিক কর্নার। সেখানে আছে ২টি টয়লেট, ১টি ক্যাফেটেরিয়া ও শিশুপার্ক। এছাড়া সেখানে আছে কিছু সংখ্যক হরিণ। এই উদ্যানে প্রবেশের জন্য রয়েছে টিকিটের ব্যবস্থা। এছাড়াও আছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর গড়ে তোলা রামসাগর গ্রন্থাগার নামে ৮ শতাধিক বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে একটি অনুমোদনহীন পাঠাগার।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অলক্ষে এই উদ্যানটি সন্ত্রাসী এবং মাদকসেবীদের অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকব্যবসায়ের স্থান হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কখনও কখনও তারা পর্যটকদেরও হয়রানিও করে থাকে। এছাড়া পিকনিক কর্নারগুলোও অযত্ন অবহেলায় ভঙ্গুর, অরক্ষিত এবং প্রায় ব্যবহার-অযোগ্য।

 

রামসাগর দিঘিঃ

রামসাগর উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ হলো বিশাল রামসাগর দিঘি। তটভূমিসহ রামসাগরের আয়তন ৪,৩৭,৪৯২ মিটার, দৈর্ঘ্য ১,০৩১ মিটার ও প্রস্থ ৩৬৪ মিটার। গভীরতা গড়ে প্রায় ১০ মিটার। পাড়ের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার।

 

রামসাগরের লোককথাঃ

রামসাগর দিঘি নিয়ে প্রচলিত আছে বিভিন্ন লোককথা। কথিত আছে, ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে প্রচণ্ড এক খরা দেখা দিলে পানির অভাবে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে হাজার হাজার প্রজা। এসময় দয়ালু রাজা প্রাণনাথ স্বপ্নাদেশ পেয়ে একটি পুকুর খনন করেন। কিন্তু সেই পুকুর থেকে পানি না ওঠায় একসময় রাজা স্বপ্নে দৈববাণী পেলেন যে, তাঁর একমাত্র ছেলে রামকে দীঘিতে বলি দিলে পানি উঠবে। স্বপ্নাদিষ্ট রাজা, দীঘির মাঝখানে একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করেন। তারপর এক ভোরে যুবরাজ রামনাথ সাদা পোষাকাচ্ছাদিত হয়ে হাতির পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু করলেন সেই দীঘির দিকে। দীঘির পাড়ে পৌঁছে যুবরাজ রাম সিঁড়ি ধরে নেমে গেলেন মন্দিরে। সঙ্গে সঙ্গে দীঘির তলা থেকে অঝোর ধারায় পানি উঠতে লাগল। চোখের পলকে যুবরাজ রামনাথসহ পানিতে ভরে গেল বিশাল দীঘি।

 

রামসাগর নামকরণ ও ইতিহাসঃ

তবে ঐতিহাসিকদের মতে, দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ (রাজত্বকাল: ১৭২২-১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ) পলাশীর যুদ্ধের আগে (১৭৫০-১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) এই রামসাগর দিঘি খনন করেছিলেন। তাঁরই নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় রামসাগর। দিঘিটি খনন করতে তৎকালীন প্রায় ৩০,০০০ টাকা এবং ১৫,০০,০০০ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়েছিল।

 

আপডেটের তারিখঃ ১০ এপ্রিল, ২০১৩

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
হামহাম জলপ্রপাতপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও যাতায়াত সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
নিঝুম দ্বীপএই দ্বীপের নৈগর্গিক সৌন্দর্য ও যাতায়াত সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
জগদ্দল বিহারজগদ্দল বিহার নওগাঁ জেলার এক অতি প্রাচীন নিদর্শন
শালবন বৌদ্ধ বিহারকুমিল্লা জেলায় অবস্থিত শালবন বৌদ্ধ বিহার প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন
নুহাশ পল্লীনুহাশ পল্লী ঢাকার অদুরে গাজীপুরে অবস্থিত একটি বাগানবাড়ী
পরিকুন্ড জলপ্রপাতস্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
সোনাদিয়া দ্বীপএই দ্বীপের প্রাকৃতিক ও যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
আলুটিলা রহস্য গুহালোকেশন, যাওয়ার ব্যবস্থাসহ বিস্তারিত তথ্য রয়েছে
নাফাখুম ঝর্নাএই স্থানে যাতায়াত, থাকা, খাওয়া সহ সকল তথ্য রয়েছে
আরও ৪৪ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি