পূর্ববর্তী লেখা  
পুরো লিস্ট দেখুন

রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ

বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই প্রিয় স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে আমরা সবাই একত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম। এভাবে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে উদ্ধুদ্ধ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। আধুনিক উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের এই জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেম সবসময় প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক বুদ্ধিজীবী হত্যা একটি ন্যাক্করজনক ঘটনা। বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়।

 

 

প্রতিষ্ঠাকাল

বর্তমান আধুনিক বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধটি ১৪ ই ডিসেম্বর ১৯৯৯ইং সালে উদ্বোধন করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্মৃতি সৌধটি উদ্ধোধন করেন।

 

যোগাযোগ

রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ দেখতে যেতে হলে ঢাকার বাসিন্দাদের বাবুবাজার আসতে হবে। বাবু বাজার ব্রীজের নীচে নদী সংলগ্ন থেকে যানজাবিল ব্রাদার্স নামে কিছু লোকাল বাস এখান থেকে ছেড়ে যায়। এতে ১২ টাকার একটি টিকেট কেটে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আসা যাবে। এছাড়া গাবতলী থেকে আসতে হলে ঠিক তেমনি যানজাবিল ব্রাদার্স প্রভৃতি পরিবহনে ১৩/১৪ টাকার টিকেটে কেটে আসা যাবে। এই রুটে ব্রাদার্স পরিবহনের যথেষ্ট গাড়ি চলাচল করে।

 

ইতিহাস

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানী হানাদানর বাহিনী কর্তৃক বুদ্ধজীবী হত্যা একটি ন্যাক্করজনক ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে ভারতীয় মিত্রবাহিনী এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী নিয়ে একটি যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। এর ফলে স্থল, নৌপথ, ও আকাশ পথে একযোগে আক্রমন করা সম্ভব হয় হানাদার বাহিনীর উপর। এতে তারা সহজেই পর্যুদস্ত হয়। পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পাকিস্তানি শাসকচক্র বাংলাদেশকে চিরতরে মেধাশূন্য করার এক ঘৃণ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়। তারা ভেবেছিল এদেশকে মেধাশূন্য করা গেলে বাঙ্গালি জাতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাবে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধ শুরু থেকেই তারা হত্যা করেছিল বাঙ্গালি জাতির বিবেক, চেতনা, মননশীলতা, ঐতিহ্য ও সংষ্কৃতির ধারক ও বাহক এ মাটির  সন্তান বুদ্ধিজীবীদের। তবে ১০ থেকে ১৪ই ডিসেম্বরের মধ্যে এই বর্বরতা ও হত্যাযজ্ঞ ভয়াবহ রূপধারন করে। পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশনা ও মদদে এদেশীয় একশ্রেনীর দালাল এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, নাট্যকার, শিল্পী প্রভৃতি শ্রেণীর বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং এই হত্যাযজ্ঞ ঘটায়। তারা ড. গোবিন্দচন্দ্র দেব, মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, শহিদুল্লাহ কায়সার, ডাঃ ফজলে রাব্বীসহ এদেশের প্রথম সারির অনেক বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। বিজয় লাভের কিছুদিন পর তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ রায়ের বাজারের উক্ত স্মৃতিসৌধের স্থানটিতে পাওয়া যায়। তাদের স্মৃতিকে স্মরনীয় করে রাখতে এই বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মান করা হয় যা রায়ের বাজার বধ্যভূমি “স্মৃতিসৌধ” নামে পরিচিত।

 

বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে বধ্যভূমি এলাকাটি সংরক্ষিত করে এতে একটি চমৎকার স্মৃতিসৌধ নির্মান করা হয়েছে। উক্ত স্মৃতিসৌধটি স্থপতি মোঃ জামী আল সাফী এবং স্থপতি ফরিদ উদ্দীন আহমেদ এর নকশায় নির্মিত। নান্দনিক নকশায় নির্মিত এই স্মৃতিসৌধটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রাণালয়ের অধীনে রয়েছে। এখানে পর্যটকরা এসে অতীতের কথা জানতে পারে।

 

লাইব্রেরী বা জাদুঘর

স্থাপনা প্রাঙ্গনে কোন লাইব্রেরী বা জাদুঘর নেই। এর পূর্বদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট অফিস রয়েছে।

এই নান্দনিক স্থাপত্যের পাশে একটি জলাধার রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের বসার জন্য কয়েকটি টেবিল রয়েছে।

 

টিকেট

এখানে টিকেটের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিনামূল্যে যেকোন পর্যটক ঘুরে দেখতে পারে।

 

খোলা-বন্ধ

এই স্থাপনাটি সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সবার জন্য উম্মুক্ত থাকে। রাতের বেলায় এখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

 

কর্তৃপক্ষ

উক্ত স্থাপনাটি বাংলাদেশ সরকারের গণফুর্ত অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে।

 

ফুড কর্ণার

বধ্যভূমি সংলগ্ন এলাকায় কোন ভাল মানের হোটেল বা ফুড কর্ণার নেই। বাইরের কিছু হকার এসে ‌এখানে সেখানে বসে। তারা চা, সিগারেট, পান, চিপস, ফুচকা, চটপটি প্রভৃতি বিক্রি করে। স্মৃতিসৌধের ভিতরে কোন হকারকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না।

 

বিশেষ দিন

বিশেষ দিনে বিশেষ করে ডিসেম্বর মাস এলেই এর কদর বেড়ে যায়। বিশেষ করে ১৬ই ডিসেম্বরে অনেক লোকের সমাগম হয়। জাতি বুদ্ধিজীবীদের অবদান স্মরণ করতে এখানে ছুটে আসে।

 

টয়লেট

উক্ত স্মৃতিসৌধের নিজস্ব কোন টয়লেট ব্যবস্থা নেই। সংরক্ষনের দায়িত্বে  নিয়োজিত অফিসের নিজস্ব টয়লেট রয়েছে। পর্যটকদের স্থাপনার পূর্বদিকে একটি মসজিদ, ৩টি টয়লেট ব্যবহার করার ব্যবস্থা রয়েছে। মহিলাদের জন্য আলাদা কোন টয়লেটের ব্যবস্থা নেই।

 

গাড়ি পার্কিং

স্থাপনা সংলগ্ন স্থানে ১০০টির বেশিগাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে। এটি সৌধের পূর্বদিকে প্রবেশ গেইটের কাছে অবস্থিত। এখানে পার্কিং চার্জ নেই।

 

অগ্নি নির্বাপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে। তবে নিরাপত্তা খুবই দূর্বল, যেকেউ দেয়াল টপকিয়ে এখানে প্রবেশ করতে পারে। ফলে  এখানের পর্যটকদের ভ্রমন সব সময় নিরাপদ নয়।

 

দলভিত্তিক প্রবেশ

দলভিত্তিক প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। এর জন্য কোন চার্জ নেই।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
ছোট কাটরাছোট কাটরার বিস্তারিত বিবরণ আছে
লালকুটি/ নর্থব্রুক হল প্রাচীন স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন
লালবাগ কেল্লা (ঐতিহাসিক স্থান)মোঘল আমলের বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন লালবাগ কেল্লা
গুরুদুয়ারা নানকশাহীঢাকা শহরে অবস্থিত একটি শিখ ধর্মের উপাসনালয়
আহসান মঞ্জিলঢাকার নবাবদের প্রাসাদ ও দরবার হল
বড় কাটরামোগল শাসনামলের স্থাপত্যকলার নিদর্শন
রূপলাল হাউজব্রিটিশ স্থাপত্যকলার নিদর্শন বর্নিত আছে
হোসেনী দালানবাংলাদেশের শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় স্থান
খান মোহাম্মাদ মৃধা মসজিদমসজিদটির বিস্তারিত বর্ণনা আছে
বালিয়াটি প্রাসাদঐতিহাসিক প্রাসাদটির বিস্তারিত বর্ণনা আছে
আরও ৯ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি