পূর্ববর্তী লেখা  
পুরো লিস্ট দেখুন

সোহরাওয়ার্দী পাতাল জাদুঘর

 

১৯৭১ সালে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল। উত্তাল মার্চের ৭ তারিখ বঙ্গবন্ধু এই স্থানেই বিশাল জনসমুদ্রে বলেছিলেন, "এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, ‍এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"। সেই দিন থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা নিয়ে সংগ্রামী বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করে। ঐতিহাসিক কারণেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এখানে জাদুঘর ও স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১১ সালের ৭ মার্চ এই পাতাল জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উত্তর পাশে অবস্থিত। জাদুঘরটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়।

 

প্রবেশের সময়সূচী

জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের পরিদর্শনের জন্য প্রতিদিন বিকাল ৫.০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬.০০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সপ্তাহে দুইদিন শুক্রবার ও শনিবার এবং সকল সরকারী ছুটির দিনে এ জাদুঘরটি বন্ধ থাকে। বর্তমানে জাদুঘরে বিনা টিকেটে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। এককভাবে এবং দলভিত্তিক প্রবেশের সুযোগ রয়েছে এই পাতাল জাদুঘরে। জাদুঘরে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা পথ ব্যবহার করতে হয়।

 

ভবন প্রাঙ্গণ

শিশু পার্কের পেছনের রাস্তা থেকেই এই জাদুঘর কমপ্লেক্সের মূল প্রাঙ্গণ শুরু। ভবন প্রাঙ্গণের শুরুতেই রয়েছে প্রবেশপথ এবং শিখা চিরন্তনী। এরপর সিঁড়ি পার হয়ে মূল প্রাঙ্গনে প্রবেশ করলেই হাতের বায়ে দেয়ালের গায়ে পোড়া মাটির ম্যুরালে অংকন করা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চোখে পড়বে। প্রাঙ্গনটির ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি বৃত্তাকার জলাধার, যেখান থেকে জাদুঘরের অভ্যন্তরের ওয়াটার ফলের পানির যোগান হয়, দক্ষিণ পাশে রয়েছে আরো একটি বিশাল অগভীর জলাধার। এই জলাধারের পশ্চিম পাড়ে রয়েছে ছোট ছোট বসার বেঞ্জ। জাদুঘরের পাতালে প্রবেশমুখে হাতের  ডানে অডিও ভিজুয়্যাল রুম রয়েছে, যেটি এখনও চালু হয়নি। গ্যালারীতে রয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমির ছবি ও লিখিত দলিল এবং এখানেই হাতের বামে রয়েছে চমৎকার ওয়াটার ফল। তারপরের গ্যালারীতে যাওয়ার পথের দুপাশের দেয়ালে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া নির্যাতনের নির্মম তথ্যচিত্র, যা দেখে আমাদের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ে। গ্যালারীতে আরো রয়েছে ডঃ হেনরি কিসিঞ্জারের কাছে পাঠানো স্যামুয়েল এম হসকিনসন এর গোপন দলিল। এখানে আরো রয়েছে  ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যে টেবিলের উপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্ঝলের কমান্ডার লেঃ জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খনা নিয়াজী আত্বসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন তার একটি অনুকৃতি টেবিল, রয়েছে গোপন বেতার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার দালিলিক প্রমাণ এবং সেই ঐতিহাসিক আত্মসমর্পনের মুহুর্তের বড় একটি ছবি।

 

বর্তমান অবস্থান

এখনও জাদুঘরটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। তাই এখানে ক্যান্টিন বা ফুড কর্ণার, গাইড, অডিটোরিয়াম এবং নিজস্ব কোন লাইব্রেরী সুবিধা নেই।

 

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

জাদুঘর কমপ্লেক্সটির নিরপত্তার জন্য ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং আনসার বাহিনীর ১৯ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। জাদুঘরের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম রয়েছে। জাদুঘরে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা কর্মীরা মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশি করে। এখানে মাদকদ্রব্য, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করা সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরদেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা নিদর্শনের প্রদর্শনী
ভাষা আন্দোলন জাদুঘরভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক জিনিস গুলো সংরক্ষিত আছে
আহসান মঞ্জিলঢাকার নবাবদের প্রাসাদ ও দরবার হল
লালবাগ কেল্লামোঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত দূর্গ
শহীদ বরকত জাদুঘরভাষা শহীদ আবুল বরকতের স্মৃতি স্মরণে
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরমহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নিদর্শন স্থল
সামরিক জাদুঘরএই জাদুঘর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে
বিমান বাহিনী জাদুঘরঢাকার আগারগাঁওয়ের বিমান বাহিনী জাদুঘর পরিদর্শনে প্রয়োজনীয় তথ্য
টাকা জাদুঘরএই জাদুঘর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘরস্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতার স্মৃতিচারণ স্বরূপ
আরও ২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি