পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

চীনা ইতিহাসে আমের অবস্থান

আজ থেকে পঁঞ্চাশ বছর আগে এশিয়ার দেশ চীন এক নতুন সংগ্রামের মুখোমুখি হয়েছিল। দেশটির ক্ষমতায় থাকা কমরেড মাও সেতুংয়ের আমলের ওই সময় গোটা চীন জুরে চলছিল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক তীব্রতা। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সেই সময় প্রায় হঠাৎ করেই ফল হিসেবে আম এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নেয়। সম্প্রতি বিবিসি’র পক্ষ থেকে বেঞ্জামিন র‌্যাম আমের সেই ঘটনার বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন নিজস্ব তথ্য এবং বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে।

১৯৬৬ সাল। চীনের চেয়ারম্যান মাও শিক্ষার্থীদের সংগঠন রেড গার্ডের সদস্যদের প্রতিক্রিয়াশীল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ঘোষণা দেন। চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে ছিল দেশ থেকে শিক্ষাকাঠামো থেকে সামন্তবাদসহ আমলাতান্ত্রিক পরিবারপ্রথাকে সমূলে বিনাশ করা। কারণ দীর্ঘসময় চীন সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতর থাকায় দেশে সমাজতান্ত্রিক কাঠামো বিরাজ করার পরেও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সেই আমলাতান্ত্রিকতা টিকেই ছিল। কিন্তু ১৯৬৮ সালের গ্রীস্মে রেডগার্ড সদস্যরা চেয়ারম্যান মাওয়ের নির্দেশ অনুসারে দেশটির সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এক মাইলফলক রচনা করেন।

চেয়ারম্যান তার রেডগার্ড কর্মীদের মধ্য থেকে ত্রিশ হাজার সদস্যকে পাঠালেন বেইজিংয়ের চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাওয়ের পাঠানো কর্মীদের কাছে ছিল শুধু গলায় বাধা কবচ আর হাতে রেডবুক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের উপর বর্শা ও সালফিউরিক এসিড দিয়ে হামলা চালায়। সেই হামলায় পাঁচজন রেডগার্ড কর্মী নিহত ও সাত শতাধিক আহত হয়। যদিও শেষমেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় মাও তার কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে আনুমানিক চল্লিশটি আম উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। ওই আমগুলো তার একদিন আগেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেয়ারম্যান মাওকে উপহারস্বরুপ দিয়েছিলেন। মজার বিষয় হলো মাওয়ের ওই আম উপহার দেয়া পরবর্তীতে চীনের রাজনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলেছিল।

ঐতিহাসিক ফ্রেডা মুর্ক ওই ঘটনার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে উত্তর চীনের মানুষ আম কি জিনিস তা জানতো না। যে কারণে কর্মীরা মাওয়ের দেয়া আম নিয়ে গোটা রাত বসে থাকলেন এবং নিজেদের মধ্যে কথা বলতে লাগলেন। তারা কেবলই ভাবতে লাগলেন যে এটা নিশ্চয়ই কোনো জাদুকরি ফল। মাও সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় ফেরত কর্মীদের উচ্চ মর্যানদাসম্পন্ন পদও দিয়েছিলেন। আর সেই স্বীকৃতি পেয়ে প্রচণ্ড খুশিও হয়েছিল কর্মীরা।’

পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থীদের হাত থেকে শ্রমিক শ্রেণির হাতে ক্ষমতার পরিবর্তন কিন্তু খুব সহজ কথা নয়। মাও সেই কাজটিই ওই ত্রিশ হাজার কর্মীদের দিয়ে করিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনের পর চীনের মানুষ অনুধাবন করতে সমর্থ্য হয় যে, মাও শেষমেষ সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগি হয়েছেন এবং আম হলো চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শেষ হবার চিহ্ন।

ঝ্যাং কুই হলেন সেই ত্রিশ হাজার কর্মীর মধ্যে একজন যিনি চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় দখলে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য মতে, মাওয়ের আম যখন তার কর্মক্ষেত্রে এসে পৌছায় তখন সেখানে ওটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি তার দুই হাতে একটি আম উঁচু করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিল। ওই আম নিয়ে তখন ঝ্যাংয়ের কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে যায় এই জন্য যে, তারা এই আম দিয়ে কি করবে। তারা ওই আম খাবে নাকি সবার মাঝে ভাগ করে দেবে এনিয়ে ব্যাপক চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে যায়। শেষমেষ সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই আমটি সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

ঝ্যাংয়ের ভাষায়, ‘আমরা একটা হাসপাতাল পেয়েছিলাম কাছেই যেখানে ফরমালডিহাইড করে রাখা যেত। আমরা এটাকে একটা নমুনা হিসেবে তৈরি করলাম। ওটা ছিল প্রথম সিদ্ধান্ত। এরপর দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমটিকে গলিত মোম দিয়ে মুড়িয়ে একটি কাচের বাক্সে ঢুকিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেই মোমের আমের প্রতিকৃতি আমরা প্রত্যেক বিপ্লবী শ্রমিককে একটি করে দিয়েছিলাম।’

শ্রমিকরা সকলেই মাওয়ের দেয়া আম সংগ্রহ করতে চাইছিলেন কিন্তু আমতো ছিল খুব অল্প। তাই এই ঝ্যাংদের বানানো মোমের আমের প্রতিকৃতিই প্রত্যেক শ্রমিক খুব শ্রদ্ধাভরে সংরক্ষণ করেন। ওয়াং শিয়াপিং তাদেরই মধ্যে একজন যিনি ওই মোমের আম পেয়েছিলেন এবং সমাজে ওই আমধারী ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মান দেয়া হয়। উল্লেখ্য যে, আজও উত্তর চীনের প্রাচীন পরিবারগুলোতে গেলে ওই আমদের প্রতিকৃতি পাওয়া যাবে।

কিন্তু আমগুলো তো আর আজীবন অক্ষত থাকেনি। একটা সময় আমগুলো পঁচতে শুরু করে। তখন শ্রমিকরা সেই আমের খোসা ছাড়িয়ে গরম পানিতে সেই খোসাগুলোকে সেদ্ধ করে পবিত্র পানিতে রূপান্তরিত করেন। পরবর্তীতে সেই পবিত্র পানি সকলে এক চামচ করে খান। তৎকালীন সময়ে আম চীনা সমাজে এমন একটি অবস্থান তৈরি করে নেয় যে, চেয়ারম্যান মাও ও তার উপহার দেয়া আম নিয়ে অনেক কবিতা-গল্পও লেখা হয়েছিল।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
জাপানি বিজ্ঞানীর জমজমের পানির রহস্য আবিষ্কার করলেন!এখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
অবশেষে ফেঁসে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
টাইটানিকের চেয়ে ২০ গুন বড় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজবিস্তারিত জানুন টাইটানিকের চেয়ে ২০ গুন বড় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ সম্পর্কে
পোষা সিংহ নিয়ে ব্যস্ত সড়কে, আটক করলো পুলিশএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
রোগ সারানোর নামে মারধরের পর গোবর খাওয়ানো হল তরুণীকে এখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
গোমূত্রে তৈরি সাবান, শ্যাম্পু বিক্রি করবে আরএসএসএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
ফিডারের দুধে বিষ মিশিয়ে সন্তানকে হত্যা, মা আটকএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
মাত্র একঘন্টার জন্য ইফতার করেন ফিনল্যান্ডের মুসলমানরাএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নামে টয়লেট পেপার!এখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
দাড়ি না কাটায় স্বামীর মুখ ঝলসে দিলেন স্ত্রীএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
আরও ১৩২০ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি