পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ত্রিশ জন ছাত্রকে পড়িয়ে ত্রিশ টাকা

গাইবান্ধা শহর থেকে বালাসীঘাট সড়ক ধরে মদনের পাড়ার দুরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। সেখান থেকে বামে মোড় নিয়ে পাকা রাস্তা ধরে আরো অন্তত তিন কিলোমিটার দুরে বাগুড়িয়া গ্রাম। গ্রামের এক কোনে ওয়াপদা বাঁধের পাশে একটি ছোট্ট টিনের ঘরে বাস করেন এক টাকার মাস্টার লুৎফর রহমান। লুৎফর রহমানকে নিজ নামে কেউ চেনেন না। এক টাকার মাস্টার হিসেবে শুধু বাগুড়িয়া নয়, আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ তাকে চেনেন।

প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ী থেকে বেরিয়ে পড়েন এই মানুষটি। কোন চাকরি বা আয় রোজগারের জন্য নয় এই মানুষটির উদ্দেশ্য একেবারে ভিন্ন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটিয়ে দেন শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর কাজে।

হাঁটছেন তো হাঁটছেন। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম। মাইলের পর মাইল পাঁয়ে হেঁটে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান। বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের যোগাড় করেন। অভিভাবকদের বুঝিয়ে বই আর খাতা কলমসহ তাদের নিয়ে কখনো রাস্তার ধারে, বাঁধে, কখনো গাছ তলায় বসে যান তিনি। তার টার্গেট মূলত নদী ভাঙ্গা, দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়ে। মধ্যবিত্ত বা ধনী পরিবারের ছাত্রদেরও পড়ান। ছাত্রদের পড়ানোটাই তার প্রতিদিনের রুটিন। পড়া শেষে ছাত্রদের কাছ থেকে প্রতিদিন গ্রহণ করেন মাত্র এক টাকা। সারাদিনে প্রায় ত্রিশ জন ছাত্রকে পড়িয়ে তার হাতে আসে ত্রিশ টাকা। তাতেই তিনি খুশি। সামান্য এই টাকা দিয়েই কষ্টেসৃষ্টে সংসার চালান তিনি। এভাবে এলাকায় তিনি এক টাকার মাস্টার বলে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছেন।

লুৎফর রহমানের ছাত্র বাগুড়িয়া গ্রামের সমাজকর্মী জাহেদুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘ছোট বেলা থেকেই তিনি দেখেন লুৎফর রহমান এভাবেই ছেলেমেয়েদের পড়ান। অনেকেই তাকে পাগল বলেও কটুক্তি করেছেন। তারপরও দমে যাননি। বাগুড়িয়া, মদনের পাড়া, পুলবন্দি, চন্দিয়া, ঢুলিপাড়া, কঞ্চিপাড়া ও পূর্বপাড়ায় এ পর্যন্ত শতশত ছেলেমেয়েকে পড়িয়েছেন। তার অনেক ছাত্র এখন শিক্ষক, পুলিশ, ডাক্তারসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন।’

শিক্ষাবিদ মাজহার উল মান্নান বলেন, ‘এই মানুষটি একজন বিদ্যার ফেরিওয়ালা। অবহেলিত-দরিদ্র পরিবারের মানুষের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। কোন মানুষ নি:স্বার্থভাবে এমন কর্মকান্ড পরিচালনা করেন বলে তার জানা নেই।’

গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক লেবু বলেন, ‘মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি শিক্ষার আলো ছড়ান। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ছোট্ট সোনামণিদের আলোর পথ দেখাচ্ছেন এই মানুষটি। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়লেও তার মনোবল কমেনি। শিক্ষার আলো ছড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। বিনিময় বলতে ছাত্রদের দেওয়া মাত্র এক টাকা। আলোকিত এই মানুষটির উদ্যোগকে আরো এগিয়ে নিতে সাহায্যের হাত নিয়ে তার পাশে দাঁড়ানো দরকার।’

গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল মমিন খান বলেন, ‘লুৎফর রহমান একজন সাদা মনের আলোকিত মানুষ। নিরবে নিভৃতে তিনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন। এই মানুষটিকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হবে। যাতে আরো ভালোভাবে এসব কাজ করতে পারেন।’

লুৎফর রহমানের জন্ম ১৯৫০ সালের ৭ আগষ্ট গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়ায়। বাবা ফইমুদ্দিন ব্যাপারী মারা গেছেন অনেক আগে। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। ১৯৭২ সালে ফুলছড়ি উপজেলার গুণভরি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করেন। ৭০-৮০ বিঘা জমি, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু সবই ছিল তার। ১৯৭৪ সালে নদী ভাঙনে সব হারিয়ে সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিয়ে কোনমতে মাথাগুঁজে আছেন।

স্ত্রী লতিফুল বেগম, মেয়ে লিম্মি, লিপি ও ছেলে লাভলু আর লিটনকে নিয়ে তার সংসার। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে লাভলু এসএসসি পাশ করার পর অর্থাভাবে আর পড়তে পারেনি। এখন অটো রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছোট ছেলে লাভলু একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। সংসারে অভাব অনটনের শেষ নেই। কিছু দিন আগেও খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো। এখন বড় ছেলের সামান্য আয় দিয়ে কোনমতে সংসার চলে।

নিজের বা পরিবারের জন্য কখনোই ভাবেননি তিনি। লুৎফর রহমান জানান, পড়াশোনা করে সমাজের মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছে ছিল তার। ১৯৭২ সালে মেট্রিক পাশ করার পর দরিদ্রতার কারণে কলেজের বারান্দায় পা রাখতে পারেননি। তাই নির্লোভ এই মানুষটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে নিজের কষ্ট মেটাতে চান। এ ছাড়া আর কিছুই চান না তিনি। লক্ষ্য একটাই মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়ানো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবেই মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পৃথিবী ছাড়তে চান।

বয়সের কারণে এখন হাঁটতে কষ্ট হয় বলেও জানান তিনি। কিন্তু একটি বাই সাইকেল কেনারও সামর্থ্য নেই তার।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
জাপানি বিজ্ঞানীর জমজমের পানির রহস্য আবিষ্কার করলেন!এখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
অবশেষে ফেঁসে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
টাইটানিকের চেয়ে ২০ গুন বড় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজবিস্তারিত জানুন টাইটানিকের চেয়ে ২০ গুন বড় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ সম্পর্কে
পোষা সিংহ নিয়ে ব্যস্ত সড়কে, আটক করলো পুলিশএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
রোগ সারানোর নামে মারধরের পর গোবর খাওয়ানো হল তরুণীকে এখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
গোমূত্রে তৈরি সাবান, শ্যাম্পু বিক্রি করবে আরএসএসএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
ফিডারের দুধে বিষ মিশিয়ে সন্তানকে হত্যা, মা আটকএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
মাত্র একঘন্টার জন্য ইফতার করেন ফিনল্যান্ডের মুসলমানরাএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নামে টয়লেট পেপার!এখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
দাড়ি না কাটায় স্বামীর মুখ ঝলসে দিলেন স্ত্রীএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
আরও ১৩২০ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি