পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

আজও রহস্যঘেরা বামনদের গ্রাম!

ভাবুন তো এমন একটা গ্রামের কথা যেখানে সবকিছু ছোট। ছোট বলতে আক্ষরিক অর্থেই ছোট। ছোট ছোট হাত পা, ছোট্ট মুখ, ছোট ছোট জামা-কাপড়, সেই সঙ্গে অসম্ভব বড় মনের অধিকারী কিছু মানুষ। যেন রূপকথার পাতা থেকে উঠে আসা একটা জায়গা। যেখানে কেবল মানুষ নয়, সাজানো রয়েছে ছবির মতন সুন্দর, ছোট্ট আর ছিমছাম কিছু বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট, যানবাহনসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছু। এবং স্বাভাবিকভাবেই সেগুলোও ছোট। যেন একটা পুতুলের গ্রাম!

ভাবছেন এমন গ্রাম আবার হয় নাকি? তাও আবার আমাদের চিরচেনা এই পৃথিবীতে? এমনটাতো কেবল গল্প আর কল্পকাহিনিতেই সম্ভব। কিন্তু না! বাস্তবেও এই গ্রাম আছে। আর সেটাও আর কোথাও নয়, এই পৃথিবীতেই। এশিয়ার দেশ চীনে এমন একটি গ্রাম অবস্থিত। অন্যান্য গ্রামের চাইতে অনেকটা আলাদা এই গ্রামটিতে বাস করেন কেবল ক্ষুদে ক্ষুদে বামনেরাই। জানতে ইচ্ছে করছে গ্রামটিকে নিয়ে আরো কিছু? তাহলে এবার জেনে নিন চীনের এই ডোয়ার্ফ ভিলেজ বা বামন গ্রামের তথ্য।

এই গ্রামের শুরুটা ঠিক আর দশটা গ্রামের মতন করে হয়নি। হওয়ার কথাও ছিলনা। প্রথমদিকে একটা থিম পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হয় গ্রামটিকে। যেখানে পার্কটির মালিক বেশকিছু বামন মানুষকে চাকরি দেন, থাকার জায়গা দেন। মোটকথা সেখানেই তারা বাস করতে শুরু করে। পার্কটিতে এর মালিক তৈরি করে দেন বামদের উপযোগী সব জিনিসপত্র। যাতে একদমই অসুবিধে না হয় তাদের। তবে এর বদলে বামনদেরকে অবশ্যই কাজ করতে হত।

বামনদের এলাকা হিসেবে পরিচিত পায় এটি, যেখানে সেই থেকে আজ অব্দি মানুষ বেড়াতে আসে। দেখতে আসে বামন নগরীকে। আর তাদের মনোরঞ্জন করেই নিজেদের অন্ন-সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয় বামনদেরকে। তবে বর্তমানে মনোরঞ্জনের দিকটা থাকলেও এ পার্কে বসবাসরত মানুষেরা হয়ে গিয়েছে একে অন্যের আত্মীয়ের মতনই। গড়ে তুলেছে নিজেদের আলাদা একটি থাকার স্থান। নিজেদের গ্রাম।

অনেকেই এপার্কটিকে নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা তুললেও এর মালিকের মতে, এখন এ স্থানটিতে বসবাসরত ১০০ জন বামনেরই গ্রাম। যারা নিজেদের মতন খুব সুখে আছে আর ভালো আছে। নিজেদের কর্মসংস্থান হিসেবে অন্যের মনোরঞ্জন করাকে বেছে নিলেও এ ছাড়া তাদের করার মতন খুব বেশি কিছু ছিল না। অন্তত স্বাভাবিক মানুষের পৃথিবীতে।

এতো গেল মানুষের তৈরি করা চীনের বামন গ্রামের কথা। তবে এছাড়াও চীনের শিচুয়ার প্রদেশে রয়েছে আরেকটি বামন গ্রাম যেটাকে মানুষ একা নয়, তৈরি করেছে প্রকৃতিও! ইয়াংশি নামের এই গ্রামটি সেই যুগের পর যুগ ধরে রয়েছে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে বিজ্ঞানীদের কথা তো না বললেই নয়! আর সবার এই আগ্রহের মূল কারণ হচ্ছে এখানকার বামনেরা। অবাক করা তথ্য হলেও সত্যি যে, দক্ষিণপূর্ব চীনের এই গ্রামটিতে বসবাসকারী মানুষের ৪০ শতাংশই স্বাভাবিক মানুষের চাইতে অনেকটা ছোট আকৃতির বা বামন। এখানে মোট ৮০ জন মানুষ বাস করে। যাদের ভেতরে ৩৬ জনের উচ্চতাই প্রচণ্ড কম। আর এই ৩৬ জনের ভেতরে সবচাইতে লম্বা মানুষটির উচ্চতা মাত্র ৩ ফিট ১০ ইঞ্চি। আর সবচাইতে ছোট্ট মানুষটি ২ ফুট ১ ইঞ্চির।

কেন এমনটা হয়েছে এখানে? কেনই বা এখনো হয়ে চলেছে? না, মানুষ নয়। প্রকৃতির হাতও আছে এর পেছনে। কিন্তু কী সেই হাত? কী করে আর কেনইবা এভাবে একের পর এক বামনের জন্ম দিচ্ছে প্রকৃতি এ গ্রামে? অনেক গবেষণার পরেও আজ অব্দি এ রহস্য উদঘাটন করা যায়নি।

তবে হাল ছাড়েনি বিজ্ঞানীরা। নিজেদের মতন অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে তারা আজও। যদিও গ্রামের খুব বয়স্কদের কথানুসারে এর ভেতরে গবেষণার নতুন কিছু নেই। তাদের মতে অনেক অনেক বছর আগে হঠাৎ করে একবার এক ভয়াবহ রোগ হানা দিয়েছিল এ গ্রামে। সেসময় সেই রোগের প্রকটে পড়া ৫ থেকে ৭ বছর বয়সি ছেলে-মেয়েরা হঠাৎ করেই বাড়া বন্ধ করে দেয়। ছোট্টটিই হয়ে থেকে যায়। সেই শুরু। এরপর থেকে এখন অব্দি সেই রোগ ছাড়েনি তাদের গ্রামকে। একের পর এক এই যে বামন শিশু জন্ম নিচ্ছে গ্রামে তার পেছনে রয়েছে সেই অজানা রোগেরই হাত।

তবে কোন এক অজানা রোগের ওপর সবটা দায় ছেড়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি বিজ্ঞানীরা। ইয়াংশিতে গিয়ে বেশ কয়েকবার সেখানকার মাটি, পানি, শস্য আর পানিকে পরীক্ষা করে দেখেছেন তারা। পরীক্ষা করেছেন সেখানকার মানুষদেরকেও। তবে হাজারটা পদ্ধতিতে চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত রহস্য সেইখানেই রয়েছে যেইখানটায় দাড়িয়ে ছিল আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগেও। কোনো রকমের কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অনেকে মনে করেন এই সমস্যাটি প্রথম নজরে আসে ১৯৫১ সালে। সে বছরের জেলা অফিসের দলিলপত্র অনুসারে জানা যায় তখন এ গ্রামে ছোট আকৃতির মানুষ ছিল। ১৯৮৫ সালে এক আদমশুমারীতে জানা যায় যে এখানকার অধিবাসীদের প্রায় ১১৯ জন বামন। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিজ্ঞানীদের মতে এই বামন গ্রামের উত্পত্তি বা এই গ্রামটিতে বামনদের অতিরিক্ত জন্ম নেওয়া শুরু হয় ১৯১১ সাল থেকে। ১৯৯৭ সালে একবার ধারণা করা হয় এখানকার মাটির ভেতরে থাকা পারদের কারণেই এমনটা হচ্ছে। তবে সেটা সত্যিই আছে কিনা তা নিয়ে একটুও মাথা-ব্যাথা দেখা যায়নি গ্রামবাসীদের। 

গ্রামবাসীদের ধারণা এ ব্যাপারে নানারকম। কেউ দোষ দেয় খারাপ আত্মাকে, কেউ বা অনেক বছর আগে ঠিকঠাকভাবে কবর না দেওয়া ফেঙ শুইকে। তবে অনেকে একটা অদ্ভূত পা ওয়ালা কচ্ছপের কথা বলে থাকে, যেটা কিনা গ্রামের পথ ধরেই যাচ্ছিল। সেসময় কেটে খেয়ে ফেলে গ্রামবাসীরা কচ্ছপটিকে। আর তারপর থেকেই এই রোগ চলে আসে তাদের ভেতরে। গ্রামবাসীদের অনেকেরই ধারণা সেই কচ্ছপটিকে খাওয়াটাই ছিল মস্তবড় ভুল। ওটাকে না খেয়ে যেতে দিলেই আর এমনটা হত না তাদের। 

চীন সবসময়ই তাদের এই বামন গ্রামকে লুকিয়ে রাখতে চেয়েছে পুরো পৃথিবীর কাছ থেকে। বিদেশিদের যাওয়া নিষেধ সেখানে। তবে তারপরেও বর্তমানে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে এ গ্রামে। ধীরে ধীরে এখানে যাচ্ছে মানুষ আর এখানকার মানুষেরাও নিজেদের বামনত্বকে উপেক্ষা করে মিশতে চাইছে স্বাভাবিক দুনিয়ার সঙ্গে।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
জাপানি বিজ্ঞানীর জমজমের পানির রহস্য আবিষ্কার করলেন!এখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
অবশেষে ফেঁসে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
টাইটানিকের চেয়ে ২০ গুন বড় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজবিস্তারিত জানুন টাইটানিকের চেয়ে ২০ গুন বড় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ সম্পর্কে
পোষা সিংহ নিয়ে ব্যস্ত সড়কে, আটক করলো পুলিশএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
রোগ সারানোর নামে মারধরের পর গোবর খাওয়ানো হল তরুণীকে এখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
গোমূত্রে তৈরি সাবান, শ্যাম্পু বিক্রি করবে আরএসএসএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
ফিডারের দুধে বিষ মিশিয়ে সন্তানকে হত্যা, মা আটকএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
মাত্র একঘন্টার জন্য ইফতার করেন ফিনল্যান্ডের মুসলমানরাএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
ট্রাম্পের নামে টয়লেট পেপার!এখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
দাড়ি না কাটায় স্বামীর মুখ ঝলসে দিলেন স্ত্রীএখানে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।
আরও ১৩২০ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি