পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়া

থমাস এডওয়ার্ড লরেন্স (Thomas Edward Lawrence) ছিলেন  একজন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ, মিলিটারি অফিসার, এবং কূটনীতিক। তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ছিলেন সিনাই এবং ফিলিস্তিনি অভিযান ও তুরস্কের অটোম্যান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহে তার ভূমিকার জন্য। তার কাজের প্রসার ও বৈচিত্রতা এবং সেগুলো স্পষ্ট লেখনিতে বর্ণনা করার সক্ষমতা লরেন্স অব অ্যারাবিয়া নামে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। ১৯৬২ সালে নির্মিত চলচ্চিত্রের শিরোনাম ‘লরেন্স অব অ্যারাবিয়া’ (যা মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তার ভূমিকার ওপর নির্মিত) যা পরবর্তীকালে তাকে এই নামেই পরিচিত করে তোলে।  

আমেরিকার সাংবাদিক লওয়েল থমাসের আরব বিদ্রোহের ওপর করা একটি সংবেদনশীল প্রতিবেদন তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর ১৯২২ সালে তার আত্মজীবনী সেভেন পিলার’স অফ উইজডম তাকে খ্যাতির শিখরে নিয়ে যায়।

শৈশব

লরেন্স জন্মে ছিলেন ১৮৮৮ সালের ১৬ অগাস্ট যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ট্রেমাডগে। তার বাবার নাম স্যার থমাস শ্যাপমেন। থমাস তার বাড়ির আয়া সারাহ জুনার সাথে প্রেমের সম্পর্কের কারণে প্রথম স্ত্রী এডিথকে ছেড়ে দেন। থমাস ও সারাহ এর সন্তান হচ্ছেন টি ই লরেন্স। তারা কখন বিয়ে করেননি। তাদের সন্তান ছিল পাঁচটি এবং লরেন্স ছিলেন তাদের দ্বিতীয় সন্তান। ১৮৯৪-১৮৯৬ সময়ে ওয়েলস থেকে তাদের পরিবার স্কটল্যান্ডের গ্যালওয়ের কিরকুডব্রাইটে, তারপর ব্রিটানির  ডাইনারডে হয়ে তারা জার্সিতে চলে যায়। সেখানে ছোটো লরেন্স তার বন্ধুদের সাথে লুকিয়ে নৌকা বাইচ দেখতে যেতেন। ১৮৯৬ সালে পরিবারটি অক্সফোর্ডের পলস্টিড রোডে চলে যায় এবং ১৯২১ সাল পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। লরেন্স সিটি অফ অক্সফোর্ড হাই স্কুলে লেখাপড়া করতেন।

১৫ বছর বয়সে তিনি ও তার বন্ধু সিরিল বেসন সাইকেলে করে বার্কশায়ার, বাকিংহ্যামশায়ার ও অক্সফোর্ডশায়ারের প্রতিটি গ্রামের চার্চ পরিদর্শন করেন এবং সেগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা ও পুরাতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তারা তাদের তথ্যগুলো এশমলিয়ান জাদুঘরে উপস্থাপন করেন। এরপর দুই বন্ধু মিলে সাইকেলে করে ফ্রান্স ভ্রমণ করেন। লরেন্স ১৯০৭-১৯১০ পর্যন্ত জেসাস কলেজে ইতিহাস অধ্যয়ন করেন। ১৯০৯ সালের গ্রীষ্মে তিনি একাই তিন মাসের একটি পদযাত্রায় সিরিয়ার অটোম্যানের উদ্দেশ্যে বের হন। এ সময় তিনি পায়ে হেটে ১৬০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করেন। এরই মধ্যে তিনি প্রথম শ্রেণিতে অনার্স পাস করেন। ১৯১০ সালের দিকে তিনি অক্সফোর্ডের ম্যাগডালেন কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শুরু করেন। কিন্তু মাঝ পথে তিনি পোস্ট  গ্র্যাজুয়েশন ছেড়ে দিয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা অনুশীলন করা শুরু করেন। সেই বছর ডিসেম্বরে তিনি বৈরুতের জিবাইলে যান এবং আরবি অধ্যয়ন করেন। তারপর তিনি উত্তর সিরিয়ার জেরাব্লুসের নিকটে কারখেমিসে খনন কাজে যান। সেখানে তিনি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের আর ক্যাম্বেল থমসন ও হগারথের অধীনে কাজ করেন। পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন তিনি যা কিছু অর্জন করেছেন তার জন্য তিনি হগারথের নিকট ঋণী। ১৯১৪ সালে তিনি তার সহকর্মী উলি সাথে ব্রিটিশ মিলিটারি দ্বারা  নেগেভ মরুভূমিতে একটি সামরিক জরিপের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এখানে তাদের বাইবেলে উল্লেখিত “ওয়াইল্ডারনেস অফ জিন” নামক একটি জায়গা খুঁজে বের করার জন্য প্যালেস্টাইন এক্সপ্লোরেশান ফান্ড থেকে অর্থ সরবরাহ করা হয়েছিল। সে সময় নেগেভ ডেসার্ট ভৌগলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ অটোম্যান আর্মি যদি মিশর আক্রমণ করে তাহলে তাদেরকে সে মরুভূমি অতিক্রম করে যেতে হবে। উলি ও লরেন্স প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানের প্রতিবেদনে এ এলাকার একটি হালনাগাদ মানচিত্র তৈরি করেন যা সামরিক প্রাসঙ্গিকতার দিক থেকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি ১৯১৪ সালে অক্টোবর মাসে জেনারেল তালিকায় কমিশন প্রাপ্ত হন এবং বছর শেষ হওয়ার পূর্বেই কায়রোতে ইন্টেলিজেন্স স্টাফ পদে স্থলাভিষিক্ত হন।

আরব বিদ্রোহ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্বালে লরেন্স ছিলেন একজন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট গবেষক যিনি অটোম্যান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশ ব্যাপকভাবে ভ্রমণ করেছেন যার ফলে তিনি অটোম্যান সাম্রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পরিচিত ছিলেন এবং তাদের জার্মান প্রযুক্তি ও পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত রেলপথ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। এদিকে ব্রিটেন ফরেইন অফিসের আরব ব্যুরো অটোম্যান সাম্রাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যে আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের সম্ভাবনা আঁচ করতে পারে । ব্রিটেন ফরেইন অফিস বুঝতে পারে যে মধ্য প্রাচ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে সাহায্য করলে অটোম্যান সাম্রাজ্যকে অনেকটা দুর্বল করা যাবে।

সিরিয়া, লিভান্ত ও মেসোপটেমিয়া সম্পর্কে ভাল ধারনা থাকায় কায়রোতে ইন্টেলিজেন্স স্টাফের জি ও সি তাকে হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। যুদ্ধে লরেন্স আরব সেনাবাহিনীর কমান্ডার আমির ফায়সালের অধীনে লড়াই করেন। এ সময় তিনি আরব নেতৃত্বকে বোঝাতে সক্ষম হন যে তাদের কর্মকাণ্ড ব্রিটিশ কৌশলের সাথে সমন্বয় করা প্রয়োজন। তিনি তাদেরকে বোঝান তারা যেন অটোম্যান সাম্রাজ্যের শক্তিশালী দুর্গ মদিনায় সম্মুখ আক্রমণ না করে যাতে করে তুর্কী সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে আটকান যায়। এরপর আরবরা তুর্কী দুর্বল জায়গা হিজাজ রেলপথ যেটি তুর্কিদের সৈন্য সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেটি আক্রমণ করতে মনোনিবেশ করতে পারে। এতে করে আরও তুর্কী সেনাবাহিনী সদস্যদের আটকাতে সমর্থ হন। ১৯১৭ সালে ৩ জানুয়ারি লরেন্স প্রথমবার ৩৫ জন সশস্ত্র সেনা নিয়ে রাতের আধারে এক অভিযান পরিচালনা করেন এবং সফল হন। মার্চের শেষের দিকে তিনি তুর্কী রেলস্টেশন আবু আল নাম-এ অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি সতর্কতার সাথে রেলপথ পর্যবেক্ষণ করেন এবং তার নিচে বোমা পুতে দেন এরপর যাওয়ার সময় টেলিগ্রাফের তার কেটে ফেলেন। পর দিন সকালে কিছু বেদুইন রেলস্টেশনে আগুন লাগিয়ে দেয়। রেলটি যেই স্টেশন থেকে বের হচ্ছিল লরেন্স বোমা মেরে রেলের প্রথম অংশটি উড়িয়ে দেন।

 

আকাবা জয়

১৯১৭ সালে লরেন্স আরব উপজাতি ওউদা আবু তায়ি সহ অন্যান্য শক্তিগুলোর সাথে যৌথভাবে আকাবা শহরে অভিযান পরিচালনা করেন। ৬ জুলাই লরেন্স ও আরব শক্তিগুলো এক আকস্মিক স্থল অভিযানে আকাবা শহর পতন ঘটান। এই বিজয়ের পর লরেন্সকে মেজর হিসেবে পদন্নোতি দেয়া হয়।

তাফিলাহ যুদ্ধ

১৯১৮ সালের জানুয়ারি জাফার পাশা আল আস্কারি এর অধীনে লরেন্স আরবদের সঙ্গে নিয়ে তাফিলাহ যুদ্ধে লড়াই করেন। প্রথমদিকে যুদ্ধটি ছিল আত্মরক্ষামুলক কিন্তু পরবর্তীতে এটি আক্রমণাত্মক রূপ নেয়। এই যুদ্ধে অবিস্মরণীয় নেতৃত্বের জন্য লরেন্সকে ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অর্ডার-এ পুরস্কৃত করা হয় এর সাথে তাকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়।

১৯১৮ সালের গ্রীষ্মে তুর্কী সরকার লরেন্সকে গ্রেফতারের জন্য ১৫০০০ পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করে যদিও কেউ তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি।

দামেস্ক পতন

যুদ্ধের শেষ কয়েক সপ্তাহে লরেন্স দামেস্ক পতন পরিকল্পনার জড়িত হয়ে পড়েন। তিনি আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি কারণ তার পৌছার পূর্বেই দামেস্কের পতন ঘটে। তিনি সদ্য স্বাধীন হওয়া দামেস্কে বাদশা ফায়সালের অধীনে একটি প্রাদেশিক সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধের শেষ বছরে ব্রিটিশ সরকারের ঊর্ধ্বতনদের বোঝাতে সক্ষম হন যে আরব স্বাধীনতা মূলত ব্রিটিশ স্বার্থের পক্ষে এবং এটি একটি মিশ্র সফলতা।

যুদ্ধ পরবর্তী লরেন্স

যুদ্ধের পর লরেন্স পূর্ণ কর্নেল হিসেবে ফিরে আসেন। ১৯১৯ সালে ১৭ মে তাকে বহনকারী মিশর-গামী একটি ফ্লাইট ভূপাতিত হয়। প্লেনের পাইলট নিহত হলেও লরেন্স বেচে যান। ১৯১৯ সালে লওয়েল থমাস নামে এক সাংবাদিক ফটো শো এর আয়োজন করেন। বেদুইনের পোশাকে লরেন্সের ছবি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সারা ফেলে। এরপর লন্ডনে থমাস আবার আরব পোশাকে লরেন্সের কিছু ছবি তোলেন। এতে লরেন্স লন্ডনের প্রতিটা ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেন। ১৯২২ সালে লরেন্স রয়্যাল এয়ার ফোর্সে জন হিউম রস নামে তালিকাভুক্ত হন। কিন্তু ছদ্ম নামের কারণে প্রত্যাখ্যাত হন। লরেন্স নিজেও পরে স্বীকার করেন তিনি ছদ্ম নাম ব্যবহার করেছেন। পরবর্তীতে তিনি   রয়্যাল এয়ার ফোর্সে একটি লিখিত আদেশের বলে যোগদান করেন। কিছুদিন পর রয়্যাল ট্যাঙ্ক কর্পসে যোগ দান করেন। ১৯২৮ সালে তাকে ব্রিটিশ ইন্ডিয়াতে পাঠান হয়। কিন্তু গুপ্তচর বৃত্তির গুজবে তাকে ব্রিটেনে ফেরত পাঠান হয়।

লরেন্স মোটর সাইকেল চালাতে পছন্দ করতেন। বিভিন্ন সময়ে তার আঁটটি ব্রাফ সুপিরিয়র মোটর সাইকেল ছিল।

মৃত্যু

মিলিটারি সার্ভিস ছাড়ার দুই মাস পর লরেন্স তার  ব্রাফ সুপিরিয়র এস এস ১০০ চালানোর সময় ওয়্যারহ্যামের নিকট ক্লাউডস হিলের ডোরসেটে দুর্ঘটনায় পতিত হন এবং মারাত্মক আহত হন। দুর্ঘটনার ছয়দিন পর ১৯ মে ১৯৩৫ সালে মারা যান। দুর্ঘটনা স্থলে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে।  লরেন্সের মা ও তাদের আত্মীয় ফ্রেমটন পরিবার মিলে লরেন্সের অন্ত্যস্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করেন এবং তাদের পারিবারিক কবরে দাফন করেন।              

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি