পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

মার্ক টোয়েনঃ অ্যামেরিকান সাহিত্যের জনক

স্যামুয়েল ল্যাঙ্গহোর্ণ ক্লিমেন্স (নভেম্বর ৩০, ১৮৩৫ - এপ্রিল ২১, ১৯১০), ছিলেন একজন মার্কিন রম্য লেখক, সাহিত্যিক ও প্রভাষক। তিনি অবশ্য 'মার্ক টোয়েইন' ছদ্মনামেই বেশী পরিচিত। যদিও টোয়েইন আর্থিকভাবে খুব একটা সচ্ছল ছিলেন না, তা সত্বেও তার রম্যবোধ আর চপলবুদ্ধি ছিল তীক্ষ্ণ, এবং তিনি জনসমক্ষেও ছিলেন ভীষন জনপ্রিয়। তার সময়ে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিনিই ছিলেন সবচাইতে জনপ্রিয় তারকা। মার্কিন গ্রন্থকার উইলিয়াম ফল্কনার টোয়েইন সম্বন্ধে বলেছিলেন যে, টোয়েইন ছিলেন " প্রথম এবং প্রকৃত আমেরিকান লেখক, তার পরের আমরা সকলেই তার উত্তরাধিকারী"। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্য কর্ম হচ্ছে "অ্যাডভেঞ্চার্স অফ টম সয়্যার" এবং "অ্যাডভেঞ্চার্স অফ হাকলবেরি ফিন"। এই উপন্যাসদ্বয় বিশ্ব সাহিত্যে ক্লাসিকের মর্যাদা লাভ করেছে। টোয়েইন তার  বেড়ে ওঠা শহর হ্যানিবাল, মিসৌরীতেই তার বিখ্যাত দুটি উপন্যাস হাকলবেরি ফিন এবং টম সয়্যার রচনার মূল উপাদান খুঁজে নিয়েছিলেন। একজন প্রকাশকের অধীনে কিছুদিন শিক্ষানবিশ তারপর মুদ্রণ সন্নিবেশক হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার বড় ভাই ওরিয়নের সংবাদপত্রের জন্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। বড়ভাই ওরিয়নের সাথে নেভাডাতে যোগ দেয়ার আগে টোয়েইন মিসিসিপি নদীতে নৌকার মাঝি হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৮৬৫ সালে তার কৌতুকপূর্ণ গল্প "The Celebrated Jumping Frog of Calaveras County" প্রকাশিত হয়।  ক্যালিফোর্নিয়াতে কিছুদিন খনি শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময়ে শোনা হাস্যরসে ভরা এ ছোট গল্পটি তৎকালীন সময়ে তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। এমনকি গ্রীক ক্লাসিক হিসেবে অনুদিত হয় তার এ ছোট গল্পটি। মার্ক টোয়েইন বক্তৃতা এবং লেখালেখি থেকে কামিয়েছেন অঢেল। কিন্তু তারপরও এক ব্যবসাতে টাকা বিনিয়োগ করে একবার তিনি প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত আর্র্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে তিনি নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে হেনরি হাটলসন রজার্সের সহযোগিতায় আস্তে আস্তে আর্থিক দু:সময় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হলে সকল দেনা পরিশোধ করেন যদিও আইনগতভাবে তাঁর ওপর এমন কোন বাধ্যবাধকতা ছিলোনা। টোয়েইনের জন্ম হয়েছিলো পৃথিবীর আকাশে হ্যালির ধূমকেতু আবির্ভাবের ঠিক কিছুদিন পরেই। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে তিনি সত্যি সত্যিই হ্যালির ধূমকেতুর পুনরায় প্রত্যাবর্তনের পরদিনই পরলোকগমণ করেন। উইলিয়াম ফকনার টোয়েইনকে আখ্যায়িত করেছিলেন " আমেরিকান সাহিত্যের জনক হিসেবে।"

জন্ম ও শৈশব

স্যামুয়েল ল্যাঙহর্ন ক্লেমেন্স ৩০ নভেম্বর,১৮৩৫ সালে ফ্লোরিডা,মিসৌরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কেন্টাকির অধিবাসিনী জেন এবং জন্মসূত্রে ভার্জিনিয়ান জন মার্শাল ক্লেমেন্স এর সন্তান। তাঁর বাবা মিসৌরীতে বসবাস শুরু করার সময়ে তাঁর বাবা-মা'র পরিচয় ঘটে এবং পরবর্তীতে ১৮২৩ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ছিলেন সাত ভাইবোনের মাঝে ষষ্ঠ, কিন্তু তাদের মধ্য থেকে শৈশব অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন মাত্র তিনজন। টোয়েইনের বয়স যখন চার বছর, তখন তার বাবা হ্যানিবাল, মিসৌরীতে বসবাস করার জন্য চলে আসেন। মিসৌরী ছিলো একটি দাস শহর এবং ছোট্ট টোয়েইন আমেরিকার দাস প্রথার ইতিহাসের সাথে এখান থেকেই পরিচিত হন। পরবর্তীতে এ অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর লেখাতেও নানা ভাবে টেনে এনেছেন। টোয়েইনের বাবা একজন এটর্নী এবং বিচারক ছিলেন। ১৮৪৭ সালে, টোয়েইনের বয়স যখন এগারো, তখন তার বাবা নিউমোনিয়াতে মারা যান। এর পরের বছর টোয়েইন একজন প্রকাশকের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগদান করেন। ১৮৫১ সালে তিনি একজন মুদ্রণ সন্নিবেশক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং "হ্যানিবাল জার্নালে" একজন প্রদায়ক হিসেবে নানা প্রবন্ধ ও রম্য স্কেচ আঁকা শুরু করেন। ১৮বছর বয়সে টোয়েইন হ্যানিবাল ত্যাগ করেন এবং নিউইয়র্ক সিটি, ফিলাডেলফিয়া, সেন্ট লুইস,মিসৌরী এবং সিনসিনাট্টি,ওহিওতে প্রকাশক হিসেবে কাজ করেন। একবার মিসিসিপি নদী ধরে নিউ ওর্লিয়েন্স, লুইজিয়ানা অভিমুখে গমনকালে এক বাস্পনৌকার নাবিক টোয়েইনকেও নাবিক হবার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। সেসময়ে একজন নাবিকের চাকরি যথেষ্ঠ মর্যাদাপূর্ণ ছিলো যাতে মাসিক বেতন ছিলো ২৫০ডলার। এই চাকরির কল্যাণেই তিনি "মার্ক টোয়েইন" কলম নামটি বেঁছে নেন। ১৮৬১ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শুরু হবার পর মিসিসিপি নদী দিয়ে সবধরনের যোগাযোগ স্থগিত হয়ে যায়। এর আগ পর্যন্ত টোয়েইন তাঁর চাকরিতে বহাল ছিলেন। তারপর তিনি তাঁর ভাইয়ের সাথে কাজ করার উদ্দেশ্যে নেভাডা অভিমুখে গমন করেন।

ভ্রমণ

১৮৬১ সালে টোয়েইন ও তার ভাই ওরিয়ন একসাথে পশ্চিমে রওনা দেন। দুই ভাই মিলে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একটি স্টেজকোচে চেপে বৃহৎ ভূমি এবং রকি পর্বতের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেন। টোয়েইনের ভ্রমণ ভার্জিনিয়া সিটি, নেভাডার রৌপ্য খনির শহরে এসে শেষ হয়। টোয়েইন সেখানে "কমস্টক লোড" এ খনি শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু টোয়েইন খনি শ্রমিক হিসেবে ব্যর্থ হন এবং ভার্জিনিয়া সিটির পত্রিকা "দ্য টেরিটরিয়াল এন্টারপ্রাইজ" এ কাজ শুরু করেন। লেখক এবং বন্ধু ড্যান ডিক্যুইলের অধীনে কাজ করার সময়েই তিনি সর্বপ্রথম "মার্ক টোয়েইন" নামটি ব্যবহার করেন। পশ্চিমে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি "Roughing It" ও  "The Celebrated Jumping Frog of Calaveras County" লেখার  নানা উপাদান খুঁজে পেয়েছিলেন । লেখক হিসেবে টোয়েইন সর্বপ্রথম সফলতার দেখা পান যখন নিউইয়র্কের "দ্য স্যাটারডে প্রেস" নামের একটা  সাপ্তাহিক পত্রিকায়  ১৮ নভেম্বর, ১৮৬৫ সালে তাঁর রম্য বড় গল্প "The Celebrated Jumping Frog of Calaveras County" প্রকাশিত হয়। তাঁর এই লেখা তাকে জাতীয় পর্যায়ে খ্যাতি এনে দেয়।

 

বিবাহ এবং সন্তানাদি

১৮৬৮সালের পুরোটা সময়জুড়ে টোয়েইন এবং অলিভিয়া একসাথে ছিলেন কিন্তু অলিভিয়া টোয়েইনের প্রথমবার করা বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। অবশ্য এর দুই মাস পর তাঁরা পরস্পরের সম্মতিতে বাগদান করেন। ১৮৭০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এলমিরা, নিউইয়র্কে অলিভিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন. অলিভিয়া ছিলেন ধনী এবং প্রগতিশীল পরিবারের মেয়ে। টোয়েইন দম্পতি ১৮৬৯ থেকে ১৮৭১ সাল পর্যন্ত বাফেলো, নিউইয়র্কে বসবাস করেন। বাফেলোতে থাকাকালীন সময়ে তাঁদের সন্তান ল্যাঙডন মাত্র উনিশ মাস বয়সে ডিপথেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। টোয়েইন দম্পতি তিন কন্যার জনক-জননী ছিলেন: সুসি ক্লেমেন্স(১৮৭২-১৮৯৬), ক্লারা ক্লেমেন্স(১৮৭৪-১৯৬২) এবং জীন ক্লেমেন্স(১৮৮০-১৯০৯)। দীর্ঘ ৩৪বছর একসাথে কাটানোর পর ১৯০৪ সালে অলিভিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

আর্থিক দুর্গতি

টোয়েইন তাঁর লেখালেখি থেকে প্রচুর অর্থ আয় করেছিলেন। কিন্তু সে অর্থের একটি বড় অংশ তিনি নতুন আবিস্কার এবং প্রযুক্তিতে, বিশেষ করে "পেইগ মুদ্রণ সন্নিবেশকারী যন্ত্রের" ওপর বিনিয়োগ করার মাধ্যমে খুইয়েছিলেন। ১৮৮০ থেকে ১৮৯৪ সালের মধ্যে টোয়েইন এই যন্ত্রের পেছনে ৩,০০,০০০ ডলার ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু এটি পুরোপুরি উপয়ুক্ত হবার পূর্বেই লাইনোটাইপ যন্ত্রের কারণে অযোগ্য হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে টোয়েইন তার বই থেকে উপার্জিত অর্থ হারানোর পাশাপাশি তার স্ত্রী অলিভিয়ার সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য অংশও হারিয়ে ফেলেন। টোয়েইনের লেখা এবং বক্তৃতা, সাথে এক নতুন বন্ধুর নি:স্বার্থ সহযোগিতা, তাঁকে আবার আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিলো। ১৮৯৩ সালে হেনরি এইচ রজার্সের সাথে তার দীর্ঘ ১৫বছরের বন্ধুতার সূচনা হয়। রজার্স প্রথমে টোয়েইনকে দেউলিয়া ঘোষণার জন্য আবেদন করতে বলেন। অত:পর টোয়েইনের সকল লিখিতকর্মের স্বত্বাধিকার টোয়েইনের স্ত্রী অলিভিয়ার কাছে হস্তান্তর করান যাতে টোয়েইনের পাওনাদাররা সেসবের দখল নিতে না পারে। টোয়েইন রবার্ট এ্যরো স্মীথের একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ একবছর মেয়াদের জন্য বিশ্বব্যাপী বক্তৃতা প্রদানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। এটি ১৯৮৫ সালের জুলাই মাসের ঘটনা। তাঁর পাওনাদারদের সকল পাওনা শোধ করার উদ্দেশ্যেই তাঁর এই যাত্রার সূচনা, যদিও পাওনা পরিশোধের ব্যপারে তার ওপর আইনগতভাবে কোন বাধ্যবাধকতা ছিলো না। যাত্রার অংশ হিসেবে তিনি হাওয়াই, ফিজি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, মৌরিতানিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ড ভ্রমণ করেন। পাওনা শোধ করার মত যথেষ্ট অর্থ উপার্জনে শেষে ১৯০০ সালে টোয়েইন আমেরিকায় ফিরে আসেন।

বক্তৃতা প্রদানে সংশ্লিষ্টতা

নির্বাচিত রম্য বক্তা হিসেবে টোয়েইনের দারুণ নামডাক হয়েছিলো। তিনি নানা জায়গায় গিয়ে একক রম্য বক্তৃতা প্রদান করতেন যেটাকে বর্তমান সময়ের স্ট্যান্ড-আপ কমেডির সাথে তুলনা করা যায়। তিনি নানা পুরুষ সংঘ যেমন অথরস' ক্লাব, বীফস্টিক ক্লাব, ভ্যাগাবন্ডস, হোয়াইট ফ্রায়ারস এবং হ্যার্টফোর্ডের সোমবারের সান্ধ্যকালীন সংঘ ইত্যাদিতে বক্তৃতা দিয়েছেন। ১৮৯০ সালের শেষভাগে টোয়েইন লন্ডনের স্যাভেজ ক্লাবে বক্তৃতা দেন এবং সে ক্লাবের নির্বাচিত সম্মানসূচক সদস্যপদ লাভ করেন। যখন তাঁকে জানানো হয় যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অফ ওয়েলস ষষ্ঠ এডওয়ার্ড সহ মাত্র তিনজনকে এখন পর্যন্ত এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন - "এ খবর শুনে প্রিন্স নিশ্চয়ই খুব ভালো অনুভব করবেন।" ১৮৯৭সালে টোয়েইন ভিয়েনার কনকর্ডিয়া প্রেস ক্লাবে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা প্রদান করেন। জার্মান ভাষায় তিনি যখন তাঁর " Die Schrecken der deutschen Sprache” ("The Horrors of the German Language") শীর্ষক বক্তৃতা শুরু করেন উপস্থিত শ্রোতাগণ তা' শুনে মুগ্ধ হয়ে যান। ১৯০১ সালে তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের "সাইলোসোফিক সাহিত্য সংঘ"তে বক্তৃতা প্রদানের জন্য আমন্ত্রিত হন। পরবর্তীতে তাকে উক্ত সংঘের সম্মানসূচক সদস্যও করে নেয়া হয়।

পরবর্তী জীবন এবং মৃত্যু

১৮৯৬ সালে টোয়েইনের মেয়ে সুসি মেনিনজাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সেসময় থেকে টোয়েইন তার ব্যক্তিগত জীবনে গভীর বিষণ্নতাবোধে আক্রান্ত হন। সেটা ছিলো কেবল শুরু মাত্র। তাঁর স্ত্রী অলিভিয়া মারা যান ১৯০৪সালে, আরেক মেয়ে জীনকেও হারান তারও কয়েক বছর পরে, ১৯০৯সালে। এতগুলো কাছের মানুষের বিয়োগবেদনার সাক্ষী হয়ে টোয়েইনের বিষণ্নতা কেবল গভীরতর হয়।এখানেই শেষ নয়। ২০মে, ১৯০৯ সালে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বিপদে পাশে দাঁড়ানো অকৃত্রিম বন্ধু রজার্সও হুট করে মৃত্যুবরণ করেন। টোয়েইন যেসব ছোট ছোট মেয়েদেরকে নিজের নাতনী হিসেবে মনে করতেন তাদের জন্য ১৯০৬ সালে "দ্য এঞ্জেল ফিশ এন্ড এক্যুয়ারিয়াম ক্লাব" নামে একটি সংঘ তৈরি করেন। ১৯০৮ সালে টোয়েইন তাঁর লেখায় এ সংঘটিকে উল্লেখ করেন নিজের "জীবনের পরম আনন্দ" হিসেবে। ১৯০৭সালে টোয়েইন এগারো বছর বয়েসী ডরোথি কুইকের সাথে পরিচিত হন এবং তাঁদের এ বন্ধুত্ব জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অটুট ছিলো। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ১৯০৭ সালে টোয়েইনকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯০৯ সালে টোয়েইন মন্তব্য করেন। "১৮৩৫ সালে হ্যালির ধূমকেতুর সাথেই আমি পৃথিবীতে এসেছিলাম। আগামী বছর এটি আবার আসছে, এবং আমি আশা করি এর সাথেই আমি আবার চলে যাবো। হ্যালির ধূমকেতুর সাথে সাথেই যদি আমার প্রস্থান না ঘটে তাহলে এটি হবে আমার জীবনের সবচে বড় হতাশাপূর্ণ ঘটনা। কোন সন্দেহ নেই যে স্রষ্টা বলেছিলেন: 'এই হলো দুই দায়িত্বজ্ঞানহীন উন্মাদ; এরা এসেছিলো একসাথে, এদের যেতেও হবে একসাথে"। তাঁর সেই ভবিষ্যতবাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছিলো। টোয়েইন এপ্রিল ২১, ১৯১০সালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রীডিং,কানেকটিকাট শহরে মৃত্যুবরণ করেন। দিনটি ছিলো হ্যালির ধূমকেতু পৃথিবীর সাথে সবচে কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান করার ঠিক পরের দিন। নিউইয়র্কের "ওল্ড ব্রীক" প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চে টোয়েইনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এলমিরা, নিউইয়র্ক শহরে তাঁদের পারিবারিক "উডলন সমাধি"তে টোয়েইনকে সমাহিত করা হয়। ল্যাঙডন পরিবারের যে জায়গাটিতে তিনি সমাহিত আছেন সেখানে ১২ফুট দৈর্ঘ্যের একটি স্তম্ভ স্থাপন করেন তার জীবিত মেয়ে, ক্লারা। তার মাথার কাছে ছোট একটি সমাধিস্তম্ভও স্থাপন করা আছে। জীবদ্দশায় টোয়েইন চাইতেন যেন মৃত্যুর পর তাঁর দেহভস্ম করা হয়। (যেমন: "Life on the Mississipi" বইতে তিনি এ কথা উল্লেখ করেছেন।)। তবে তিনি এও জানিয়ে গিয়েছিলেন যে, মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি