পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারঃ একজন সফল অভিনেতা ও বডি বিল্ডার

আর্নল্ড শোয়ার্জ়নেগার (জন্ম : জুলাই ৩০, ১৯৪৭) একজন অস্ট্রিয়ান-আমেরিকান বডিবিল্ডার, অভিনেতা, মডেল, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ৩৮তম গভর্নর। শোয়ার্জনেগার ১৫ বছর বয়স থেকে ভারোত্তোলন শুরু করেন। তিনি ২২ বছর বয়সে মিস্টার ইউনিভার্স হন। এ ছাড়া তিনি সাত বার মিস্টার অলিম্পিয়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। অবসর নেয়ার পরও শোয়ার্জনেগার বডিবিল্ডিং বা শরীর গঠন জগতে একজন প্রখ্যাত ব্যক্তি। শরীর গঠন বিষয়ে তিনি একাধিক বই ও নিবন্ধ লিখেছেন।

শোয়ার্জনেগার হলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। ‘দ্য টার্মিনেটর’, ‘কোনান দ্য বার্বারিয়ান’, ‘প্রিডেটর’ তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। শোয়ার্জনেগার রিপাবলিকান পার্টির একজন পদপ্রার্থী হিসেবে ২০০৩ সালের অক্টোবরে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন গভর্নর গ্রে ডেভিসকে স্থলাভিষিক্ত করেন। ২০০৩ এর ২৩ নভেম্বর শোয়ার্জনেগার শপথ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ৭ নভেম্বর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে পুনঃ নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টি পদপ্রার্থী ফিল অ্যাঞ্জেলিডেসকে পরাজিত করেন।

শৈশবকাল

শোয়ার্জনেগারের পিতা গুস্তাভ শোয়ার্জনেগার (১৯০৭-১৯৭২) ছিলেন স্থানীয় পুলিশের প্রধান। গুস্তাভ শোয়ার্জনেগার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করেছেন। আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার পরিবার সূত্রে রোমান ক্যাথলিক ধর্মের অনুসারী।

শোয়ার্জনেগারের বাবা শোয়ার্জনেগারের বড় ভাই মেইনহার্ডকে অধিক পছন্দ করতেন। কারণ তার ভাই তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী ছিল। তার বাবা তাকে মারধর করতেন ও ভয় দেখাতেন এমনকি দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া বাধিয়ে দিতেন। তার বাবা ছেলের বডি বিল্ডার হওয়ার স্বপ্নকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতেন। তাই ঘরে তাদের মধ্যে সব সময় ক্রুদ্ধ সম্পর্ক বিরাজ করত। সে স্মৃতি এতটাই তার জন্য কষ্টদায়ক ছিল যে তিনি ১৯৭২ সালে তার বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যেতে অস্বীকার করেন। এর আগের বছর তার ভাইও এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। মায়ের সাথে শোয়ার্জনেগারের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। শোয়ার্জনেগার তাঁর মায়ের সাথে মৃত্যু অবধি পাশে ছিলেন। বিদ্যালয়ে শোয়ার্জনেগার মধ্যম মানের ছাত্র ছিলেন। তবে তিনি সুন্দর চরিত্র ও হাস্যরসের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

ছেলেবেলায় শোয়ার্জনেগার খেলাধুলায় ভালো ছিলেন এবং এ ব্যাপারে তিনি তাঁর বাবার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। ১৪ বছর বয়সে শোয়ার্জনেগার বডিবিল্ডিং বা শরীর গঠন শুরু করেন। এক প্রশ্নের জবাবে শোয়ার্জনেগার বলেন যে, তিনি ১৫ বছর বয়স থেকে ভারোত্তোলন শুরু করেন। ১৭ বছর বয়স থেকে তিনি এ ব্যাপারে পরিকল্পনা শুরু করেন। তাঁর বাবা চেয়েছিলেন তাঁর মতো পুত্র শোয়ার্জনেগারও পুলিশ অফিসার হোক। অস্ট্রিয়ার গ্র্যাজ নামে এক শহরের একটি জিমে তিনি প্রথম শরীর গঠন শুরু করেন। এই শহরের এক সিনেমা হলে তিনি বিখ্যাত সব বডিবিল্ডার, যেমন- রেগ পার্ক, স্টিভ রিভস্, জনি উইসমুলারকে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পেলেন। তাঁদেরকে দেখে তিনি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। যখন ২০০০ সালে স্টিভ রিভস মারা গেলেন, শোয়ার্জনেগার রিভস্‌কে স্মরণ করে বলেছেন, “আমি যখন কিশোর ছিলাম, স্টিভ রিভস আদর্শ হিসেবেই দেখেছি। তাঁর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো আমাকে শরীর গঠনে প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে, যদিও সেসময় আমার আশেপাশের মানুষজন এসব ব্যাপার এবং আমার স্বপ্নকে সবসময় বুঝতে পারত না...আমার যেসব অর্জন, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রেই স্টিভ রিভস আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

যৌবন

শোয়ার্জনেগার ১৯৬৫ সালে অস্ট্রীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এ বছরই তিনি জুনিয়র মিস্টার ইউরোপ খেতাব অর্জন করেন। সেনাবাহিনীতে চাকরি থাকা অবস্থাতে শোয়ার্জনেগার এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিনা অনুমতিতে ইউরোপে যান, ফলে তাঁকে এক সপ্তাহ জেলখানায় বন্দি থাকতে হয়েছে। পরবর্তিতে শোয়ার্জনেগার ইউরোপের সেরা বডিবিল্ডার নির্বাচিত হন এবং ক্রমেই বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। ১৯৬৬ সালে মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার একজন কোচ, চার্লস বেনেট শোয়ার্জনেগারের পারদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে প্রশিক্ষণ দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু শোয়ার্জনেগার উপযুক্ত অর্থ ছিল না। তখন বেনেট শোয়ার্জনেগারকে তাঁর নিজের বাড়িতে থাকার কথা বলেন। শোয়ার্জনেগার এই সুযোগ গ্রহণ করেন। বেনেটের প্রশিক্ষণ শোয়ার্জনেগারকে আরও দক্ষ করে তোলে। বেনেটের বাড়ি ছিল লন্ডনের পূর্বপ্রান্তে। বেশ কিছু বছর লন্ডনে থাকার ফলে শোয়ার্জনেগার ইংরেজি শিখে ফেলেন।

১৯৬৬ সালে শোয়ার্জনেগার তাঁর শৈশবের আদর্শ, রেগ পার্কের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান। পরবর্তীতে রেগ পার্ক তাঁর বন্ধু ও বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা হয়ে ওঠেন। ১৯৬৭ সালে শোয়ার্জনেগার মাত্র ২০বছর বয়সে মিস্টার ইউনিভার্স খেতাব অর্জন করেন। শোয়ার্জনেগারই বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী পুরুষ হিসেবে এই খেতাব অর্জন করেন। উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য শোয়ার্জনেগার জার্মানি মিউনিখে যান। এখানে তিনি বাণিজ্য বিভাগে পড়াশোনাও করেন। ১৯৬৮ সালে শোয়ার্জনেগার লন্ডনে ফিরে আসেন এবং এ বছরও মিস্টার ইউনিভার্স খেতাব অর্জন করেন। মিউনিখে থাকাকালে শোয়ার্জনেগার স্থানীয় এক বন্ধুকে প্রায়ই বলতেন, 'আমি অনেক বড় অভিনেতা হতে যাচ্ছি'। পরের বছরে শোয়ার্জনেগার মিস্টার ইউনিভার্স খেতাব অর্জন করেন, এর বদৌলতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পান।

হলিউড যাত্রা:

শোয়ার্জনেগার যখন ছোটবেলায় নিজের শহর গ্রাজের সিনেমা হলে ছবি দেখতেন তখন থেকেই তিনি হলিউড মুভিতে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখতেন। বড় পর্দায় যাওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল যখন বডি বিল্ডিং বিশ্বে তার উত্থান ঘটছিল। ১৯৭৬ সালে “Stay hungry” মুভিতে একটি ছোট্ট চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী হিসেবে “Golden Globe” পুরস্কার পান। ৮০’র দশকে কয়েকটি ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন যার মধ্যে Conan the Barbarian (1982), The Terminator (1984) উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সাইন্স ফিকশন ছবি The Terminator (1984) ছবিতে অভিনয় করেন।

পর্দার বাইরেও তিনি বিভিন্ন কারণে আলোচনায় ছিলেন। তিনি কেনেডি পরিবারে সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন। । বিয়ে করেন জন.এফ.কেনেডির বোনের মেয়ে মারিয়া ওয়িংস শ্রিভারকে। তাদের মোট ৪ সন্তান। ক্যাথেরিন(ঞ্জন্ম ১৯৮৯),ক্রিস্টিনা (জন্ম ১৯৯১),প্যাট্রিক (জন্ম ১৯৯৩),ক্রিস্টোফার (জন্ম ১৯৯৭)।

গভর্নর শোয়ার্জনেগারঃ

২০০৩ সালে তিনি আবার সফলতার স্বাক্ষর রাখেন যখন তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদের জন্য নির্বাচনে বিজয়ী হলেন।  এটি এমন একটি রাজ্যে যেটি আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত ছিল। এবং নতুন ভূমিকায়ও তিনি সফল হলেন। এ সময় তিনি তার রাজ্যের আর্থিক স্থিতিশীলতা, নতুন ব্যবসায়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করে করেন। ২০০৬ সালে তিনি আবার পুন নির্বাচনের জন্য অনুমতি পেলেন। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি খুব একটা সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। যদিও তিনি কঠিন আর্থিক সময়েও চেষ্টা করে গেছেন। ২০১১ সালে অবসরের পর তিনি আবার বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। এর কয়েক মাস পরেই তিনি তার স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই বিচ্ছেদের জন্য তিনি তার গৃহকর্মী সাথে সন্তান হওয়ার ঘটনা দায়ী বলে স্বীকার করেন।

সাম্প্রতিক সময়:

২০১০ সালে তিনি The Expendables ছবিতে অভিনয় করেন। ২০১২ সালে তিনি  The Expendables 2 নিয়ে আবার ফিরে আসেন। এই ছবি ১ সপ্তাহের মধ্যে বক্স অফিসে শীর্ষে উঠে আসে। ২০১২ সালে তিনি শিরোনাম হন অভিনেত্রী ব্রিগিটে নিয়েলসন সংগে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানর জন্য। এরপর ২০১৪ সালে তিনি The Expendables 3 নিয়ে আসেন। সর্বশেষ তাকে ২০১৫ সালে তিনি Terminator Genisys ছবিতে দেখা যায়।       

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি