পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

স্টিভেন স্পিলবার্গ: শৌখিন এক চিত্র পরিচালকের গল্প

স্টিভেন স্পিলবার্গ একজন মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা, গল্পলেখক ও ব্যবসায়ী। শূন্য থেকে শুরু করে শীর্ষে যারা পৌঁছেছেন তাদের মধ্যে ‘স্টিভেন স্পিলবার্গ’ অন্যতম। শুরুতে তিনি ছিলেন সাধারণ একজন চিত্র পরিচালক। আর এখন আমেরিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী সেলিব্রেটি তিনি। পাশাপাশি জমিয়েছেন অর্থের পাহাড়। এসবই তিনি করেছেন মুভি নির্মাণের মাধ্যমে। এ পর্যন্ত ৫০ এর বেশি ছবি পরিচালনা করেছেন স্পিলবার্গ৷ এর মধ্যে যেমন বিনোদনমূলক মুভি রয়েছে, তেমনি রয়েছে ইতিহাস, বর্ণবাদ, মানবাধিকার এসব জটিল বিষয়ের ছবিও৷ এই পেজটিতে স্পিলবার্গের জীবনের বিভিন্ন খুঁটিনাটি তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

জন্ম ও পরিবার

শৌখিন এই চিত্র পরিচালকের জন্ম হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ১৮ই ডিসেম্বর আমেরিকায়। তার পরিবারের বসবাস ছিল ওহায়ো শহরে। আর তার পরিবার ছিল আপাদমস্তক এক ইহুদি পরিবার। এ নিয়ে অবশ্য স্পিলবার্গকে অনেক বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। স্পিলবার্গ কখনো নিজেকে আপাদমস্তক ইহুদি হিসেবে মেনে নিতে পারতেন না। ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বাবা আর পিয়ানোশিল্পী মা সবসময় তার বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন। তবে নিউ জার্সি ও এরিজোনাতে শৈশব কাটানো স্পিলবার্গের বাবা-মায়ের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায় স্পিলবার্গ ছোট থাকতেই। এরপর স্পিলবার্গ তার বাবার সাথে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে আসেন।

 

শুরুটা যেভাবে হলো

তখন স্পিলবার্গের বয় পাঁচ পেরিয়ে ছয় এ পা রেখেছে। একদিন তার বাবা তাকে সার্কাস দেখতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। সার্কাসের প্রতি স্পিলবার্গেরও ভালো লাগা ছিল। এর এক সপ্তাহ পর বাপ-ছেলে মিলে নিউ জার্সি থেকে ফিলাডেলফিয়ায় যায়। শীতকালের সেই সময়টায় অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে বাপ-ছেলে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা যেখানটায় প্রবেশ করে জায়গাটি ছিল ধোঁয়াটে, মৃদু আলোকিত এবং গম্বুজাকার একটি ঘর। ছোট্ট স্পিলবার্গ বুঝতে পারছিলেন না তার বাবা তাকে সার্কাসের কথা বলে কোথায় নিয়ে এসেছেন। যখন সামনের পর্দাটি উঠে যায় তখন স্পিলবার্গ বুঝতে পারেন তার বাবা তাকে সার্কাস নিয়ে বানানো একটি সিনেমা দেখতে নিয়ে এসেছেন। এই হলো স্পিলবার্গ-সিনেমা পরিচয় পর্ব। সার্কাস দেখানোর নাম করে সার্কাসের তৈরি সিনেমা দেখতে নিয়ে যাওয়ায় বাবার প্রতি রাগও হয়েছিল স্পিলবার্গের। কিন্তু সে রাগ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি। এখান থেকেই সিনেমার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন স্পিলবার্গ।

 

এরপরের ভাবনা কৌতুহল

স্পিলবার্গের বাবা তাকে যে সিনেমাটি দেখতে নিয়ে গিয়েছিলেন সেই সিনেমায় একটি ট্রেন দুর্ঘটনার দৃশ্য ছিল। সেই দৃশ্যটিই মনের মধ্যে গেথে রইলো স্পিলবার্গের। ছোট্ট স্পিলবার্গ পরে জানতে পারেন যে ট্রেনটি ছিল একটি খেলনা ট্রেন এবং এটি একটি স্পেশাল ইফেক্টের কাজ। কিন্তু তার কাছে এই দৃশ্যটি সবচেয়ে বাস্তব দৃশ্য বলে মনে হলো। একসময় বাবার কাছে বায়না ধরেন তাকে খেলনা ট্রেন কিনে দেওয়ার জন্য। কিন্তু একটি ট্রেন দিয়ে তো আর অ্যাক্সিডেন্ট করানো যায় না। তাই বাবার কাছে আবার বায়না ধরলেন আরেকটি ট্রেন কিনে দেওয়ার জন্য। যথারীতি বাবা কিনে দিলেন। এখন সেই সিনেমায় দেখা দুর্ঘটনার দৃশ্য তৈরি করার জন্য তার ট্রেন দুটিকে দু দিক থেকে মুখোমুখি ছেড়ে দিতেন। দুটো ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ট্রেন দুটো ভেঙ্গে যায়। এরপর তার বাবা ট্রেন দুটো ঠিক করে দেন এবং যদি আবার এভাবে দুটো ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ করে তাহলে ট্রেন দুটো তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়ার ভয় দেখায়।

 

এবার ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা

সিনেমায় দেখা এই দৃশ্যটিই ছিল স্পিলবার্গের সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্য। তাই তিনি বারবার দেখতে চাইতেন এই দৃশ্যটি। কিন্তু ট্রেন দুটি যদি মুখোমুখি সংঘর্ষ করায় তাহলে ট্রেন দুটো তার কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে যাবে। তাই তার মাথায় খেলল ভিন্ন এক চিন্তা। স্পিলবার্গের বাবার কোডাকের একটি ৮ মিমি মুভি ক্যামেরা ছিল। স্পিলবার্গ ভাবলো দুটো ট্রেনের সংঘর্ষকে যদি সে ক্যামেরায় ধারণ করে তাহলে চাইলেই সে বারবার এই দৃশ্য দেখতে পারবে। যেই ভাবনা সেই কাজ। ট্রেন দুটোকে দুই দিক থেকে ছেড়ে দিয়ে দুই দিক থেকে দুটি ট্রেনের ভিডিও করেন স্পিলবার্গ। এরপর যখন ট্রেন দুটো কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসে তখন ক্যামেরা ঠিক দুই ট্রেনের মাঝের দূরত্বের মাঝখানে ধরেন। ব্যাস ধারণ হয়ে যায় তার কাঙ্ক্ষিত সেই দৃশ্য। কিন্তু এবার আর তার ট্রেন দুটোর একটিরও ক্ষতি হয় নি। এরপরই মাথায় ভর করে এই ক্যামেরা দিয়ে তিনি আর কি কাজ করতে পারেন। এভাবে চিন্তা করতে করতে একসময় মাথায় খেলে মুভি বানানোর বিষয়টি। 

 

ক্যামেরা হাতে স্পিলবার্গ

সময়টা ছিল ১৯৫৮ সাল। এসময় স্পিলবার্গ বয় স্কাউটে যোগ দেয়। সেখানে একটি পরীক্ষার বিষয় ছিল, সেটি হল স্থিরচিত্র দেখিয়ে কোনো একটি ঘটনার বর্ণনা দেওয়া। কিন্তু স্পিলবার্গের বাবার যেই ক্যামেরাটি ছিল ভিডিও ক্যামেরা, কিন্তু এখানে লাগবে স্টিল ক্যামেরা। তাই স্পিলবার্গ তার প্রশিক্ষকের সাথে কথা বলে তার বাবার ভিডিও ক্যামেরা দিয়েই ৯ মিনিটের একটি ওয়েস্টার্ন শর্ট ফিল্ম তৈরী করে। ফিল্মটি যখন অন্য স্কাউটদের সামনে প্রদর্শন করা হয় তখন স্কাউটদের মধ্যে হাসির রোল, চিৎকার ও হাততালির জোয়ার বইতে লাগলো। স্পিলবার্গ তার এই শর্ট ফিল্মটির নাম দিয়েছিলেন The Last Gunfight এবং এটি Photography Merit Badge অর্জন করেন। এটিই ছিল দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া স্পিলবার্গের প্রথম প্রতিক্রিয়া। এই প্রতিক্রিয়া স্পিলবার্গকে প্রচন্ডভাবে আগ্রহী করে তোলে সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে।   

 

এরপরের গল্প

৯ মিনিটের পর এবার নির্মাণ করেন ৪০ মিনিটের একটি শর্ট ফিল্প। সে সময় তার বয়স হয়েছিল ১৩ বছর। পূর্ব আফ্রিকার একটি যুদ্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা এই মুভিটির নাম ছিল ‘Escape to Nowhere’। এটি একটি পুরস্কার জিতে নেয়। ১৯৬৩ সালে এসে শুধুমাত্র ক্যামেরার পিছনেই কাজ করেন নি। পাশাপাশি রচনার কাজেও হাত দিয়েছেন স্পিলবার্গ। তার নিজস্ব রচনায় প্রথম মুভিটি ছিল ‘Firelight’। সাইন্স ফিকশন অ্যাডভেঞ্চার বিষয়ক এই মুভিটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৪০ মিনিট। মুভিটি তার এলাকার একটি হলে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো মুভিটির মোট বাজেট ছিল ৫০০ ডলার এবং মুভিটি থেকে আয় হয় ৫০১ ডলার। অর্থাৎ ১ ডলার লাভ হয়।

 

 

পড়াশোনা

ক্যালিফোর্নিয়ার Saratoga High School থেকে ডিগ্রি অর্জন করার পর ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় নাটক, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য তিনবার আবেদন করে তিনবারই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। পরবর্তীতে California State University তে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার আগেই পরিচালক হয়েছিলেন। স্পিলবার্গ যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনবার ভর্তির জন্য আবেদন করেও প্রত্যাখিত হয়েছিলেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ই পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তাঁকে অনারারি ডিগ্রি প্রদান করে। আর ১৯৯৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি হিসেবে যোগদান করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের ৩৫ বছর পর ২০০২ সালে স্পিলবার্গ তাঁর ডিগ্রি শেষ করেন আর ফিল্ম প্রোডাকশন আর ইলেকট্রনিক আর্টের ওপর BA ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

পেশাদার কর্মজীবনের শুরু

স্পিলবার্গ তার কর্মজীবন শুরু করেন ‘ইউনিভার্সাল স্টুডি’ তে ইন্টার্ন হিসেবে এডিটিং বিভাগে। এই স্টুডিও থেকে স্পিলবার্গ থিয়েটারে মুক্তির জন্য নির্মাণ করেন ২৬ মিনিটের একটি মুভি, যার নাম ‘Amblin’। স্টুডিওর ভাইস প্রেসিডেন্ট মুভিটি দেখে মুগ্ধ হন। এই মুভিটির সুবাদে ‘মেজর হলিউড স্টুডিও’ স্পিলবার্গের সাথে দীর্ঘ সময়ের একটি চুক্তি করেন। ১৯৬৯ সালে পেশাদার চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে পথচলা শুরু করা স্পিলবার্গ প্রথম দিকে টেলিভিশনে প্রচারের জন্য মুভি তৈরি করলেও ধীরে ধীরে বড়পর্দায় নিজের মুন্সিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে থাকেন। ‘মেজর হলিউড স্টুডিও’ এর দুই প্রযোজক Richard D Zanuck এবং David Brown স্পিলবার্গকে Jaw মুভি পরিচালনার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী স্পিলবার্গ সেই মুভিটি পরিচালনা করেন। বক্স অফিস কাঁপানো এই মুভিটি আয় করে লক্ষ লক্ষ ডলার। একই সাথে স্পিলবার্গ হয়ে ওঠেন সবচেয়ে কম বয়সীয় মাল্টি মিলিওনিয়ার। এই মুভিটির সূত্র ধরে স্পিলবার্গের সাথে পরিচয় হয় Richard Dreyfuss এর সাথে। তিনি ছিলেন এই মুভির অভিনেতা। তারা দুজন মিলে ১৯৭৭ সালে তৈরী করেন Close Encounters of Third King।  এই মুভিটির মাধ্যমে স্পিলবার্গের ঝুলিতে যোগ হয় দুটি অস্কার। এরপর স্পিলবার্গ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের্‌ উপর একটি মুভি নির্মাণ করেন, মুভিটির নাম ‘1941’। বিগ বাজেটের এই মুভিতে স্পিলবার্গ তার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেন নি। কেননা মুভিটি সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। এরপর স্পিলবার্গ জুটি বাঁধেন George Lucas এর সাথে। তিনি ছিলেন Star Wars এর স্রষ্ঠা। তারা দুজন মিলে তৈরী করেন Indiana Jones এর প্রথম ছবি Raiders of the Lost Ark। ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া এই মুভিটি সে সময় বক্স অফিসে ব্যাপক সফলতা লাভ করে।

 

এর পরের মুভিতে স্পিলবার্গ মনোযোগ দেন সাইন্স ফিকশন ধর্মী ছবির দিকে। স্পিলবার্গের প্রথম সাইন্স ফিকশনধর্মী মুভিটি হলো ‘E.T. the Extra-Terrestrial’। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া এই মুভিটি সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা মুভি হিসেবে এটি স্থান করে নেয়। এরপর স্পিলবার্গ আরও দুটি ব্যবসা সফল মুভি নির্মাণ করেন। সেগুলো হলো - Poltergeist, The Twilight Zones। সাইন্স ফিকশন মুভি থেকে স্পিলবার্গ আবার ফিরে যান Indiana Jones এর পরবর্তী ছবি Indiana Jones and The Temple of Doom। ১৯৮৫ সালে মুক্তি পায় স্পিলবার্গের পরবর্তী ছবি The Colour Purple।  ১৯৮৯ এ স্পিলবার্গ পরিচালনা করেন তৃতীয় ইন্ডিয়ানা জোন্স মুভি Indiana Jones and the Last Crusade। একি সালে স্পিলবার্গ পরিচালনা করেন তাঁর প্রথম রোমান্টিক কমেডি Always। যদিও খুব একটা নাম করতে পারেনি ছবিটি। ১৯৯১ সালে Robin Williams কে নিয়ে তৈরী করেন Hook। ১৯৯৩ সালে স্পিলবার্গ আবারো ফিরে আসেন এডভেঞ্চার মুভিতে। তৈরী করেন বিখ্যাত মুভি Jurassic Park, আরো একটি ব্যবসা সফল ছবি। তাঁর পরবর্তী ছবি ছিল সত্য ঘটনা নিয়ে নির্মিত ছবি Schindler’s List। ছবিটির জন্য স্পিলবার্গ অর্জন করেন প্রথম সেরা পরিচালক হিসেবে একাডেমি এ্যাওয়ার্ড।

 

মুভির জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং ফিরে আসা

মুভির পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় পরিবার পরিজনের কথাই ভুলতে বসেন স্পিলবার্গ। তাই ১৯৯৪ সালে পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য মুভির জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন স্পিলবার্গ। এই সময়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘DreamWorks’ নামে নিজস্ব একটি স্টুডিও। দীর্ঘ তিন বছর পর ১৯৯৭ সালে আবার ফিরে আসেন মুভির জগতে এবং হাল ধরেন জুরাসিক পার্ক এর। ১৯৯৭ সালে নির্মাণ করেন জুরাসিক পার্কের পরবর্তী মুভি ‘The Lost World: Jurassic Park’। এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর স্পিলবার্গ যে মুভিটি নির্মাণ করেছিলেন সেটি সফলতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। ১৯৯৮ সালে এসে আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর মুভি নির্মাণ করেন স্পিলবার্গ। মুভিটির নাম ‘Saving Private Ryan’। এবার কিন্তু নিজের জাত চেনাতে ভুল করেন নি স্পিলবার্গ। এই মুভিটির মাধ্যমে নিজের ঝুলিতে ভরেন দ্বিতীয় অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড। স্পিলবার্গের এক সহকর্মী + বন্ধু ছিলেন। তিনি হলেন ‘Stanley Kubrick’। ‘Stanley Kubrick’ এর একটি শেষ প্রজেক্ট ছিল ‘A.I. Artificial Intelligence’। ২০০১ সালে মুভিটি নির্মাণ করলেও তার সেই বন্ধু তার আগেই মারা যান। এরপর টম ক্রুজকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘Minority Report’। এটিই টম ক্রুজ ও স্পিলবার্গের প্রথম কাজ। ২০০২ সালে তিনি কাজ করেন Leonardo DiCaprio এর সাথে Catch Me if You Can। ২০০৪ সালে Tom Hanks আর Catherine Zeta-Jones এর সাথে নির্মান করেন The Terminal । ২০০৮ এ মুক্তি পায় স্পিলবার্গের ইন্ডিয়ানা মুভি Indiana Jones and the Kingdom of the Crystal Skull। ২০০৯ সালে এসে ভিন্ন পথে হাটা শুরু করেন স্পিলবার্গ। এবার তিনি নির্মাণে হাত দেন ট্রিলোজি মুভি ‘The Adventure of Tintin’। ২০১১ সালে এই মুভিটি মুক্তি পায়। ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর স্পিলবার্গের সর্বশেষ ছবি ‘লিংকন’ মুক্তি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন এর উপর এই মুভিটি নির্মাণ করেন অস্কারে ১২ টি বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া এই ছবিটি ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করে। এই আয়ের এক-তৃতীয়ায়শই এসেছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে। তবে শেষ পর্যন্ত ১২ টি বিভাগের মধ্যে ২টি বিভাগে অস্কার জিতে এই মুভিটি।

 

পরবর্তী মুভি

চলতি বছর মুক্তি পাবে স্পিলবার্গ প্রযোজিত ট্রান্সফরমার্স সিরিজের ‘ট্রান্সফরমার্স: এজ অফ এক্সটিঙ্কসন’ সিনেমাটি। তাছাড়া  তিনি ‘দ্য হানড্রেড ফুট জার্নি’ সিনেমাটির কাজেও ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এরপর ডেভিড কার্টজারের উপন্যাস ‘দ্য কিডন্যাপিং অফ এডগার্ডো মোরটারা’-র ছায়া অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন হলিউডি পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। স্পিলবার্গ দ্য উইনস্টিন কো.-এর সঙ্গে যৌথভাবে উপন্যাসটি অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। আর এ ক্ষেত্রে স্পিলবার্গের সঙ্গে কাজ করবেন টনি কুশনার। স্পিলবার্গের সর্বশেষ অস্কার মনোনীত সিনেমা ‘লিংকন’-এর চিত্রনাট্য রচনা করেছিলেন কুশনার। ২০০৮ সালে কুশনারের সঙ্গে এই উপন্যাসটি নিয়ে সিনেমা নির্মাণের প্রজেক্ট শুরু করা হয়। কিন্তু তখন ‘লিংকন’-এর কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেন কুশনার। স্পিলবার্গও তার পরবর্তী সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর তাই থেমে যায় এ সিনেমাটির কাজ। ডেভিড কারটজেরের ‘দ্য কিডন্যাপিং অফ এডগার্ডো মোরটারা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে। উপন্যাসে ১৮৫৮ সালের প্রেক্ষাপটে ৬ বছরের এক ইহুদি শিশুর গল্প তুলে ধরা হয়। যাকে পুলিশ আটক করে এবং তার মা-বাবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। তাকে পরবর্তীতে একটি ক্যাথলিক পরিবারে রাখা হয়। ক্যাথলিক হিসেবেই বড় হওয়ার পর অগাস্টানিয়ান রীতিতে তিনি একজন যাজক হয়ে ওঠেন। ২০১৫ সালে মুক্তিপাবে জুরাসিক সিরিজের ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ সিনেমাটি।

 

আমেরিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী সেলিব্রেটি

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফোর্বস’ সাময়িকীতে ২০১৪ সালে প্রকাশিত জরিপ মতে আমেরিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী সেলিব্রেটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্পিলবার্গ। সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী সেলিব্রেটির তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে আসেন স্পিলবার্গ।

স্পিলবার্গের বাবা ও মায়ের বৃদ্ধ বয়সের ছবি

সেরা নির্মাতা

২০১৩ সালে সেরা নির্মাতার পুরস্কারটি উঠেছে স্পিলবার্গের হাতে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠেয় ‘আমেরিকান সিনেমা এডিটরস (এসিই) এডি’ পুরস্কারের ৬৩তম আসরে ‘গোল্ডেন এডি ফিল্ম মেকার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

 

জীবনে ‘না’ শুনতে হয়েছিল স্পিলবার্গকেও

স্পিলবার্গ সিনেমা বানাতে চাইলেই, প্রযোজকরা লাইন ধরেন তার দরজায়। কিন্তু জানেন কি, স্পিলবার্গও হয়েছিলেন প্রত্যাখাত? সিনেমা বানাতে চেয়েও শুনতে হয়েছিল প্রযোজকের ‘না’! তাও আবার যে সে ছবি নয়, জেমস বন্ড সিরিজের ছবি বানাতে চেয়েছিলেন স্পিলবার্গ। নিজেই উপযাজক হয়ে গিয়েছিলেন প্রযোজকের কাছে। কিন্তু জেমস বন্ডের ছবিগুলোর সেসময়কার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হর্তা-কর্তা অ্যালবার্ট রোমোলো ব্রক্কলি যিনি ‘কাবি’ নামেই হলিউডে পরিচিত ছিলেন তিনি কিনা সরাসরি বলে দিলেন, ‘না’!

 

বিয়ে ও পরিবার

ব্যক্তিগত জীবনে স্পিলবার্গ দুটো বিয়ে করেন। ১৯৮৫ সালে অভিনেত্রী ‘অ্যামি আরভিং’ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন স্পিলবার্গ। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তাদের এই বিয়ে টিকেছিল। এরপর আরেক অভিনেত্রী ‘কেট ক্যাপশো’ কে ১৯৯১ সালে বিয়ে করেন স্পিলবার্গ। দুই সংসারে স্পিলবার্গের ৭ ছেলে-মেয়ে রয়েছে।

ছবিতে ১ম স্ত্রীর সাথে স্পিলবার্গ (বায়ে); ২য় স্ত্রীর সাথে স্পিলবার্গ (ডানে)

     

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি