পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

উসাইন বোল্ট: এক ক্রিকেটারের গতি মানব হয়ে ওঠা

উসাইন বোল্ট পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন মানুষ। যিনি মাত্র ৯.৬৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিলেন। তার পূরাববর্তী দ্রুতগতির রেকর্ড ছিল ৯.৭২ সেকেন্ড। তিনি পাঁচবার বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। নিজেই আবার নিজের রেকর্ড ভাঙেন। উসাইন বোল্টের জীবনের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় এই পেজটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

 

 

জন্ম ও পরিবার

বোল্টের জন্ম ১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট। জ্যামাইকার ছোট শহর শেরউড কনটেন্ট নামের ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন উসাইন বোল্ট।  সেখানেই বাবা ওয়েলেসলি, মা জেনিফার বোল্ট, ভাই সাদেকি ও বোন শেরিনকে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বেড়ে ওঠা। উসাইন বোল্টের বাবা ছিলেন সামান্য মুদি দোকানদার। বাবার সাথে মাও দোকান চালাতে সাহায্য করতেন। একসময় উসাইন বোল্টকেও চাল-ডাল বিক্রি করতে হয়েছিল বাবা-মায়ের সাথে। এই মুদি দোকান থেকে যা আয় হতো তা দিয়েই কোনোরকমে চলতো তাদের সংসার। 

 

 

ছেলেবেলা ও দৌড়বিদ হয়ে ওঠা

ছোট বেলায় ভাইয়ের সঙ্গে গ্রামের রাস্তায় ক্রিকেট ও ফুটবল খেলে সময় কাটত বোল্টের। এই দুটি খেলার প্রতিই বোল্টের ভালো লাগা রয়েছে। যে কোনো খেলার মাধ্যমেই হোক সারাক্ষণ দৌড়ের উপরেই থাকতেন তিনি। প্রাইমারি শিক্ষা গ্রহণের জন্য ভর্তি হলেন ওয়েলডেসিয়া প্রাইমারি স্কুলে। সেই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্প্রিন্ট ট্র‌্যাকে ১ম পা পড়ে বোল্টের এবং শুরুতেই বাজিমাত করেন বোল্ট। ১০০ মিটারে স্কুলের সেরা দৌড়বিদ হন তিনি। তবে একটা বিষয় জানিয়ে রাখি যে, বোল্ট ক্রিকেট, ফুটবল যখন যেটা পেতেন সেটাই খেলতেন। তবে ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের দিকেই এগোচ্ছিলেন বোল্ট। এই বিষয়ে বিস্তারিত নিচে আলোচনা উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পর বোল্টের ক্ষিপ্র গতি চোখে পড়ে তার ক্রিকেট কোচের। তার অনুপ্রেরণায় দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন বোল্ট। বোল্টকে দেখে অলিম্পিকের সাবেক এক স্প্রিন্টারও বোল্টকে পরামর্শ দেন অ্যাথলেটিক্স এর মনোযোগ দেওয়ার জন্য। জ্যামাইকার হয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ইভেন্টে প্রথম অংশ নেন ২০০১ সালে। প্রথমবার অংশ নিয়েই ২০০ ও ৪০০ মিটারে জিতে নেন রুপা। একই বছর হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটারে অংশ নেন। কিন্তু ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলেও তখন পর্যন্ত ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং (২১ দশমিক ৭৩ সে.) করেন।

 

সাল

কৃতিত্ব

২০০২

  • ১৫ বছর বয়সে কিংস্টন বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যক্তিগত ২০০ মিটারে সোনা জেতেন বোল্ট। একই টুর্নামেন্টে ৪ x ১০০ মিটার ও ৪ x ৪০০ মিটার রিলেতে রুপা জেতেন তিনি।

২০০৩

  • কানাডার শেরব্রুকেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটারে সোনা জয়।

২০০৪

  • জুনিয়র অ্যাথলেটদের মধ্যে ২০০ মিটারে প্রথম ২০ সেকেন্ডের নিচে টাইমিংয়ের (১৯.৯৩ সেকেন্ড) রেকর্ড।

২০০৫

  • মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটারে সোনা জয়।

২০০৭

  • ওসাকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটারে রুপা জয়। একই টুর্নামেন্টে ৪০০ মিটার রিলেতেও (দলগত) রুপা জেতেন।

২০০৮

  • রিবক গ্রা প্রিতে ৯.৭২ সেকেন্ড নিয়ে ১০০ মিটারে বিশ্ব রেকর্ড করেন।
  • বেইজিং অলিম্পিকের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ৯.৬৯ সময়ের রেকর্ড গড়ে সোনা জয়।
  • বেইজিং অলিম্পিকের ২০০ মিটার স্প্রিন্টে ১৯.৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জয়।
  • বেইজিং অলিম্পিকের ৪–১০০ মিটার রিলে সোনা জয়।
  • ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের (আইএএএফ) দৃষ্টিতে বিশ্বের সেরা পুরুষ অ্যাথলেট নির্বাচিত হন।

২০০৯

  • বার্লিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বকালের সেরা টাইমিং করে (৯.৫৮ সেকেন্ড) ১০০ মিটারে সোনা জয়।
  • ১৯.১৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড করে একই টুর্নামেন্টে ২০০ মিটারে সোনা জয়।

২০১০

  • যুক্তরাষ্ট্রের স্প্রিন্টার টাইসন গের কাছে ১০০ মিটার ফাইনালে হেরে যান। স্টকহোমে বোল্টের এই হার ছিল ১০০ মিটারে তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পরাজয়।
  • দেগু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নে ১০০ মিটারে ‘ফলস স্টার্ট’-এর কারণে ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে বিদায় নেন। ওই ইভেন্টে সোনা জেতেন বোল্টের স্বদেশি ইয়োহান ব্লেক।
  • একই টুর্নামেন্টে ২০০ মিটারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখেন। একই সঙ্গে ৪ x ১০০ মিটার রিলেতে ৩৭.০৪ সেকেন্ড টাইমিং করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড করে জ্যামাইকাকে সোনা জয় করতে সহায়তা করেন।

২০১২

  • জ্যামাইকায় অলিম্পিক ট্রায়ালে স্বদেশি ইয়োহান ব্লেকের কাছে ১০০ ও ২০০ মিটার দুটিতেই হেরে যান। কিন্তু জ্যামাইকার অলিম্পিক দলে ঠিকই জায়গা করে নেন।
  • পেশির ইনজুরির কথা স্বীকার করেন। কিন্তু, নিজের টাইটেল ধরে রাখার ঘোষণা দেন।
  • লন্ডন অলিম্পিকের ১০০ মিটারের সোনা জয়। ৯.৬৩ সেকেন্ডের সময়টা অলিম্পিকের দ্বিতীয় দ্রুততম।
  • লন্ডন অলিম্পিকের ২০০ মিটারেও সোনা জয়। সময় নেন ১৯.৩২ সেকেন্ড। বেইজিংয়ের মতো লন্ডনেও ১০০ ও ২০০ মিটারে সোনা জেতায় বলা হচ্ছে ‘ডাবল’ ডাবল জিতলেন উসাইন বোল্ট।

২০১৩

  • মস্কো অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের আসর থেকেও ট্রেবল (৩টি স্বর্ণ) জয় করেছেন উসাইন বোল্ট। ১০০, ২০০ ও ৪´১০০ মিটার রিলের স্বর্ণ উঠলো তার গলায়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টে মাত্র ৯.৭৭ সেকেন্ড টাইমিং গড়ে দখল করেছেন বিশ্বসেরার খেতাব। সেই সঙ্গে হয়েছেন দ্রুততম মানব।

 

বোল্টের কিছু অনন্য কীর্তি

  • তিনবার ২০০ মিটার স্প্রিন্ট জয়ী প্রথম অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট। দুইবার করে জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাইকেল জনসন ও ক্যালভিন স্মিথ
  • দুইবার ১০০ ও ২০০ মিটারের ‘ডাবল’ জয়ের একমাত্র কীর্তি
  • ৫টি ব্যক্তিগত স্বর্ণ জিতে বোল্ট স্পর্শ করেছেন কার্ল লুইস ও কেনেনিসা বেকেলেকে। মাইকেল জনসন ও সের্গেই বুবকা অবশ্য এগিয়ে। এ দু’জন জিতেছেন ৬টি করে ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক।
  • ৮টি স্বর্ণ জয়ের বিরল রেকর্ড। এই রেকর্ডে বোল্টের সঙ্গী কার্ল লুইস ও মাইকেল জনসন। কার্ল লুইস তিনটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে জিতেছিলেন ৮টি স্বর্ণ। মাইকেল জনসনকে ৮টি স্বর্ণ জিততে খেলতে হয়েছিল ৫টি আসর। মস্কোতে ৩টি স্বর্ণ জিতে উসাইন বোল্ট র্স্প করেছেন এই দুজনকে। মেয়েদের মধ্যে অবশ্য ৮টি স্বর্ণ আছে মার্কিন স্প্রিন্টার অ্যালিসন ফেলিক্সের।

 

অবসরের ঘোষণা ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

২০১৬ সালে অনুষ্ঠেয় রিও ডি জেনিরো অলিম্পিকের পর ট্র্যাক থেকে বিদায় নেবেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন উসাইন বোল্ট। ২০১৬ সালে অবসর নিচ্ছেন না তিনি। অংশ নেবেন ২০১৭ সালের লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও। বুটজোড়া তুলে রাখতে পারেন এর পর। অবসর প্রশ্নে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন এ গ্রহের দ্রুততম মানব, ‘রিওর পরই অবসর নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ভক্তরা চায়, আমি যেন অন্তত আরও একটা বছর খেলে যাই। আমার স্পনসররা একই মত দিয়েছে। কোচও বলেছেন, এটা করা যেতে পারে।’

 

ক্রিকেট এবং উসাইন বোল্ট

ছোটবেলা থেকেই মনেপ্রাণে ক্রিকেটকে ভালোবাসেন উসাইন বোল্ট। বলা চলে ক্রিকেটই তার প্রথম ভালোবাসা। জ্ঞান হওয়ার পর নাকি এই ক্রিকেটই তিনি প্রথম ভালোবেসেছিলেন। স্কুলজীবনে এই ক্রিকেটই নাকি ছিল তাঁর একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। একসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলারও নাকি স্বপ্ন দেখতেন তিনি। অতীতে জ্যামাইকার অনেক মাঠেই ব্যাট-প্যাড পরে ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে তাঁকে। ২০১৭ সালের অলিম্পিক গেমস শেষে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উসাইন বোল্ট। এরপর ক্রিকেট খেলা শুরু করতে পারেন উসাইন বোল্ট। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-২০ লীগ বিগ ব্যাশের শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বাধীন দল মেলবোর্ন স্টার্সের আলোচনাও হয়েছে এ বিষয়ে।

 

উড়তে পারবেন বোল্ট

গতির রাজা উসাইন বোল্ট উড়তে পারবেন কথাটা সম্পূর্ণ সত্যি হলেও তা পৃথিবীতে সম্ভব নয়। এজন্য তাকে যেতে হবে শনিগ্রহের চাঁদ টাইটানে। ইউনিভার্সিটি অফ লিচেস্টারের এক দল গবেষক ‘জার্নাল অফ ফিজিক্স স্পেশাল টোপিকস’ নামক এক নিবন্ধে দাবি করেছেন ২৭ বছর বয়সী বোল্টের জন্য শনি গ্রহের চাঁদ টাইটান আদর্শ এক জায়গা। কারণ, সেখানে গেলে উড়তে পারবেন বোল্ট। ওই গবেষক দলের দাবি, ‘শনি বিশেষত টাইটানের নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ আবহাওয়া বোল্টকে উড়তে সহাযতা করবে। এজন্য অবশ্য উইংশ্যুট পরিধাণ করতে হবে জ্যামাইকান গতিদানবকে। টাইটানের ভূপৃষ্ঠে পৃথিবীর থেকে ৫০ শতাংশ চাপ বেশি- এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে ওই পৃষ্ঠতলের ওপরে ও নিচের চাপ বোল্টের উইংশ্যুটের জন্য পাখা হিসেবে কাজ করবে। সেক্ষেত্রে বোল্ট তার তীব্র বেগের দৌঁড় শুরু করলে আলাদা একটা সারফেস তৈরি হবে। তখন পাখির মতো উড়তে পারবে বোল্ট। এমনিতে প্রতি সেকেন্টে ১২.২৭ মিটার দুরত্ব পিক আপ করেন বিশ্বের দ্রুততম মানব। টাইটানে উইংশ্যুট পরে এই গতিতে দৌঁড়ালে উড়তে পারবেন বোল্ট। সেক্ষেত্রে জ্যামাইকান দানবের জন্য কোন প্রপালশন লাগবে না।

 

একদিনে ১০০ মুরগী

একদিনে ১০০ মুরগী খাওয়া সম্ভব শুধুমাত্র অতিমানবদের পক্ষেই। আর এই অতিমানবীয় এই কাজটি করা গতিমানব উসাইন বোল্টের কাছে কোনো বিষয়ই নয়। বোল্টের আত্মজীবনী থেকে জানা যায় ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য সেখানে ১০ দিন ছিলেন। প্রথম দিন তিনি মধ্যাহ্ন ভোজ এ ২০ মুরগীর একটি প্যাকেট নেন এবং রাতের খাবারেও ঐ একই রকম আরেকটি মুরগীর প্যাকেট সাবাড় করেন। কিন্তু পরের দিন থেকেই তার মুরগী আসক্তি প্রবল আকার ধারণ করে। সকালের নাস্তায় তিনি ২০ মুরগীর দুটি প্যাকেট সাবাড়ের পর মধ্যাহ্ন ভোজে একটা এবং সন্ধ্যায় আরো দুটি প্যাকেট ভক্ষণ করেন। এই মুরগীগুলোর সঙ্গে তিনি অ্যাপল পাই এবং কিছু সবজিও নিতেন।

 

প্রেম-ভালোবাসা

গতির রাজা উসাইন বোল্টের বুকের ভেতরে এলোপাথাড়ি দৌড়াদৌড়ি করে প্রেমের গতির ঝড় তুলছেন ‘মেগান এডওয়ার্ডস’। মেগান মডেল দুনিয়ায় তিনি রীতিমত সুপরিচিত নাম।  লন্ডন অলিম্পিকের আগে জামাইকা দলের জার্সি উদ্বোধনে দুজনের প্রথম চোখাচোখি। তারপর আলাপ, এসএমএস, সাক্ষাত্‍ এবং প্রেম। বোল্টের সোনা জয়ের হ্যাটট্রিকের পর ইস্ট লন্ডনের বিখ্যাত পার্টিতে ছিলেন মেগান। সেই পার্টিতে বোল্ট শুধু মেগানকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। এখন সেই প্রেম একেবারে মধ্যগগনে। বিশ্বের দ্রুততম মানুষ এখন এতটাই প্রেমে মগ্ন যে সারাদিন মোবাইলে ব্যস্ত। কখনও প্রেমিকা মেগানকে ফোন করছেন, কখনও বা এসএমএস। সব মিলিয়ে বোল্ট এখন প্রেম জ্বরে ভুগছেন। 

 

খাদ্যাভাস

আগেই জেনেছি একদিনে ১০০ মুরগি খাওয়ার রেকর্ড বোল্টের রয়েছে। আসলে মুরগির মাংসের প্রতি বোল্টের দুর্বলতা রয়েছে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তাই মুরগির রোস্ট থাকতেই হয়। এছাড়া তার খাদ্য তালিকায় রয়েছে আফ্রিকার এক ধরনের গাছ আলু। এখান থেকেই প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-সিক্স ও পটাশিয়াম সরবরাহ হয় বোল্টের শরীরে। সকালে সাধারণত জ্যামাইকার ঐতিহ্যবাহী খাবার অ্যাকে ও সল্টফিশ, রান্না করা কলা আর এই গাছ আলু দিয়েই নাশতা সারেন বোল্ট। দুপুরে পাস্তা আর মুরগি। রাতে খান ভাত আর মটরশুঁটি দেওয়া শূকরের মাংস।  ফাস্টফুড জাতীয় খাবার যতক্ষণ পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে পারেন ততক্ষণ তার ধারেকাছেও যান না।

 

বোল্ট যখন কবুতর

বোল্টের মত গতির ঝড় তোলা একটি কবুতরও রয়েছে এই পৃথিবীতে। তবে বোল্টের নামানুসারেই তার নাম রাখা হয়েছে। বোল্ট যেমন দামী তারকা তেমনি এই কবুতরটিও বিশ্বের সবচেয়ে দামী কবুতর। বাংলাদেশি টাকায় কবুতরটির দাম তিন কোটি টাকা। এটি অসম্ভব দ্রুতগতির এক রেসিং কবুতর। তার ওড়ার গতির সঙ্গে বিজলির চমকের তুলনা করা হয়। বোল্ট শুধু ওড়ার গতির জন্যই বিখ্যাত নয়, তার মেধার জন্যও বিশেষভাবে বিখ্যাত। বোল্ট মালিকের কথা শুনে সে দিক চিনতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও মানতে পারে। বোল্টের ব্যাপারে বলা হয় দুর্লভ কবুতর। কারণ বোল্টের গতি শুধু অবিশ্বাস্যই নয়, সাধারণ কবুতরের চেয়ে অনেক বেশি।

 

পুমা এবং বোল্ট

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রত্যেক তারকাদেরই কোনো না কোনো কোম্পানির সাথে স্পন্সরশীপ চুক্তি থাকে। স্প্রিন্টার ট্র‌্যাকে দৌড়ানোর শুরু থেকেই অর্থাৎ ২০০২ সালে ১৬ বছর বয়সেই প্রথমবারের মতো চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন পুমার সঙ্গে। তারপর থেকে আর কখনোই স্পন্সর পরিবর্তন করেননি বোল্ট। বর্তমান এই চুক্তির মেয়াদ থাকবে ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিক পর্যন্ত। আর যদি ২০১৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও অংশ নেন, তাহলে সে বছরও এক কোটি ডলার পেয়ে যাবেন বোল্ট। অবসর নেওয়ার পরও তিনি যুক্ত থাকতে পারবেন পুমার সঙ্গে। তখন কোম্পানির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করলে বছরে পাবেন ৪০ লাখ ডলার।

 

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা খেলোয়াড়দের তালিকায় বোল্ট

এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা খেলোয়াড়দের তালিকায় বোল্ট আছেন ৪০ নম্বর অবস্থানে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী গত বছর তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ২ কোটি ৪২ লাখ ডলার। যার বেশির ভাগই এসেছে বিভিন্ন স্পনসরশিপ চুক্তি থেকে।

 

ইঞ্জিনের গতিও হার মেনেছে

স্বাভাবিকভাবে ইঞ্জিনের গতির সাথে পেরেও ওঠা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছে গতির দানব ‘উসাইন বোল্ট’। আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারসে শিশুদের জন্য কোচিং ক্লিনিক উদ্বোধনের জন্য যান উসাইন বোল্ট। সেখানকার একটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের অনুরোধে যাত্রীবাহী বাসের বিপক্ষে রেসে নামেন বোল্ট। ৮০ মিটারের এই রেসটিতে অনায়েসেই বাসটির আগে ফিনিশিং লাইন পার করনে উসাইন বোল্ট।

 

 

 

সাফল্যের রহস্য

বোল্টের ক্ষিপ্র গতির রহস্য খুঁজতে গিয়ে গবেষকরা রাতের ঘুম হারাম করে ফেলেছেন। অবশেষে তাদের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে তারা যা বলেছেন তা হলো, উসাইন বোল্টের সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিখুঁত হাঁটু। হাঁটুর জোরেই নাকি তিনি অ্যাথলেটিকস বিশ্ব কাঁপাচ্ছেন। জ্যামাইকান অ্যাথলিটদের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যে তরুণদের পা বিশেষ করে হাঁটু চমৎকার আছে, তারাই ভালো স্প্রিন্টার হতে পারছেন। এই সমীক্ষা ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু হয়েছে। ৩০০ জন স্কুল অ্যাথলিটের ৮ বছর থেকে ২২ বছর পর্যন্ত বেড়ে ওঠা দেখার পরে সিদ্ধান্তে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু অপরপক্ষে নর্থুম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জন মানিং বলেছেন, দুই হাঁটুতে সিমেট্রি থাকলে অ্যাথলিটরা সাফল্য পেতে পারেন। বোল্টের ক্ষেত্রেও এক কথা প্রযোজ্য। তবে আমাদের সিমেট্রি তত্ত্বকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে আরও গবেষণা দরকার। এই মুহূর্তে জামাইকান অ্যাথলিটদের দিকে সন্দেহের তীর ছোঁড়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, ডোপ করেই এমন সাফল্য পাচ্ছেন তারা। এক ঝাঁক অ্যাথলিট সাসপেন্ড হয়ে রয়েছেন। বোল্ট, ব্লেকদের দিকেও অনেকে আঙুল তুলেছে।

 

টানা তিন বার বর্ষসেরা

উসাইন বোল্ট সর্বমোট পাঁচ বার বর্ষসেরা অ্যাথলেট (পুরুষ) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে টানা তিনবার তিনি বর্ষসেরা পুরস্কার অর্জন করেছেন। ২০০৮, ২০০৯, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ এই পাঁচ বছর তিনি বর্ষসেরার পুরস্কার জয় করেন। মাঝখানে ২০১০ সালে সালে বোল্টকে হতাশ করে উৎসব করেছিলেন কেনিয়ান মাঝারিপাল্লার দৌড়বিদ ডেভিড রুডিশা। না হলে টানা ছয়বারের একটা রেকর্ড গড়ে ফেলতেন উসাইন বোল্ট।

 

বোল্টের নিজের কিছু কথা ও বোল্ট সম্পর্কে অন্যদের কিছু কথা

  • ‘ফোর্বস’ সাময়িকীর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বোল্ট বলেছিলেন, ‘জীবনে আমি খুব বেশি সফলতা লাভ করতে পারিনি! কারণ, আমি একজন অলস প্রকৃতির মানুষ।’
    বরাবরের মতো খামখেয়ালি স্বভাবের উসাইন বোল্ট একবার বলেছিলেন, ‘ছোটবেলায় খেলা ছাড়া আর কোনো কিছুই আমি চিন্তা করতে পারতাম না।’
  • ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের জীবন্ত কিংবদন্তি কার্ল লুইস বলেন, “বোল্ট অবিশ্বাস্য, সে অন্য গ্রহের।”
  • ইভেন্টটির আরেক মহাতারকা মাইকেল জনসন বলেন, “পৃথিবীতে এমন কোনো অ্যাথলেট নেই, যিনি বোল্টকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।”

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি