পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

জেমস বন্ড: কাল্পনিক এক চরিত্রের বিশ্ব জয়ের গল্প

‘জেমস বন্ড’ এর নাম শুনেন নি এমন মানুষ খুব কমই রয়েছেন। আবার অনেকে ‘জেমস বন্ড’ এর নাম শুনলেও জানেন না কে এই ‘জেমস বন্ড’। ‘জেমস বন্ড’ কি রক্ত মাংসের কোনো মানুষ? তাকে দেখতে কেমন? ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন অনেকের মাথায় ঘুরপাক খায়। এই পেজটিতে সেই সব প্রশ্নের উত্তরই তুলে ধরা হয়েছে।

 

কে এই ‘জেমস বন্ড’

যারা ভাবছেন ‘জেমস বন্ড’ রক্ত মাংসের একজন মানুষ, তাদের ধারণা সম্পূর্ণই ভুল। ‘জেমস বন্ড’ একটি কাল্পনিক চরিত্রের নাম। তবে কিছু রক্ত মাংসের মানুষ যুগে যুগে ফুটিয়ে তুলছেন কাল্পনিক এই চরিত্রটিকে। বিখ্যাত ব্রিটিশ সাহিত্যিক ‘ইয়ান ফ্লেমিং’ জন্ম দেন কাল্পনিক এই চরিত্রের। ‘ইয়ান ফ্লেমিং’ তার ‘ক্যাসিনো রয়েল’ উপন্যাসের নায়কের নাম ঠিক করতে গিয়ে মহা ঝামেলায় পড়েন। কোনো নামই তার মনের মতো হচ্ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন তার এই উপন্যাসের নায়ক হবে দুর্ধর্ষ চরিত্রের কেউ, চরিত্রের মতোই দুর্ধর্ষ হবে তার নাম। তাই সে রকম একটি নাম খোঁজার জন্য বিভিন্ন বই নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করেন ‘ইয়ান ফ্লেমিং’। শেষমেষ ক্যারিবিয়ান পাখিদের নিয়ে লেখা একটি বইয়ের দিকে চোখ পড়তেই থমকে যায় ‘ইয়ান ফ্লেমিং’ এর চোখ। বইটির লেখকের নাম ছিল ‘জেমস বন্ড’। এক মুহূর্তের দেখাতেই ভালো লেগে যায় নামটি। ব্যাস জন্ম হয়ে গেল ‘জেমস বন্ড’ এর। এটি ছিল তার ১ম উপন্যাস।

 

ইয়ান ফ্লেমিং এর ‘জেমস বন্ড’ কেমন ছিলেন?

ইয়ান ফ্লেমিং চেয়েছিলেন তার এই উপন্যাসের নায়ক হবে দুর্ধর্ষ চরিত্রের কেউ। তবে তিনি তার উপন্যাসে ‘জেমস বন্ড’ এর কোনো বয়স উল্লেখ করেন নি। মুভিতে যে ‘জেমস বন্ড’কে দেখা গিয়েছে তার বয়স ৪০ এর উপরে এবং ব্যক্তি হিসেবে তিনি সাহসী , বুদ্ধিমান এবং নারীদের কাছে যৌনাবেদনময়ী পুরুষ। তার পোষাক-পরিচ্ছদে দেখা যায় বেশিরভাগ সময় তিনি ডিনার জ্যাকেট পড়েন। এছাড়া তার হাতে শোভা পায় রোলেক্স সাবমেরিন ঘড়ি। নৌ বাহিনীর গুপ্তচর হিসেবে যখন ইয়ান ফ্লেমিং কাজ করতেন তখন ব্রিটিশ গুপ্তচর ‘দুস্কো পোপোভ’ এর বিভিন্ন গুণ তাকে আকৃষ্ট করে। ব্রিটিশ এজেন্ট হিসেবে তিনি গোপনে নাৎসি গুপ্তচরদের সঙ্গে মিশে যেতেন, সংগ্রহ করতেন জার্মানদের সব গোপন খবর। ব্রিটিশদের সম্বন্ধে ভুল খবর দিয়ে নাৎসি বাহিনীকে উলটোপথে পরিচালিত করতেন। উপন্যাসের বন্ডের মতো বাস্তবের এই বন্ড দুস্কো পোপোভ খুব বিপজ্জনকভাবে বাঁচতেন। রাজকীয় জীবন যাপন করতেন। আর কর্মদক্ষতা ছিলো অসাধারণেরও অসাধারণ। আশ্চর্য্যরকম দক্ষতায় তিনি সব বাধা দূর করতেন। ইয়ান ফ্লেমিং তার ‘জেমস বন্ড’ চরিত্রে ফুটিয়ে তোলেন সেই ‘দুস্কো পোপোভ’কে। উপন্যাসে বন্ডকে দেখানো হয় রয়্যাল নেভির একজন কমান্ডার হিসেবে, পরে যাকে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের গোয়েন্দা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের নাম পরিবর্তন করে এমআই৬ রাখা হয়, যার মানে অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস। জেমস বন্ডের কোড হচ্ছে ০০৭। ০০ কোড শুধু তাদেরই দেওয়া হয় যারা প্রয়োজনে হত্যা করার লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

 

এবার এগিয়ে যাবার পালা

১৯৫২ সালে ‘জেমস বন্ড’ খ্যাত কাল্পনিক এই চরিত্রটির পথচলা শুরু হয়। যেখান থেকে পথচলা শুরু হয় সেটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জ্যামাইকা দ্বীপের গোল্ডনেয়ি শহরের ‘ইয়ান ফ্লেমিং’ এর বাড়ি। মন মতো নায়কের নাম খুঁজে পাওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকান নি ‘ইয়ান ফ্লেমিং’। ‘ইয়ান ফ্লেমিং’ এর কাল্পনিক এই চরিত্রটিই জয় করে নিয়েছেন পুরো বিশ্বকে। ফ্লেমিং জেমস বন্ডকে নিয়ে লিখেছেন ১২টি উপন্যাস আর দুটি ছোটগল্পের সংকলন। ফ্লেমিংয়ের মৃত্যুর পর জেমস বন্ড চরিত্রটিকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য বই, চলচ্চিত্র, কমিকস, ভিডিও গেমস ইত্যাদি । এছাড়া জেমস বন্ড চরিত্রটিকে নিয়ে এ পর্যন্ত ২৩ টি মুভি নির্মাণ করা হয়েছে।

 

ইয়ান ফ্লেমিং এর পরিচয়

‘ইয়ান ফ্লেমিং’ এর পুরো নাম ইয়ান ল্যাংকেষ্টর ফ্লেমিং (Ian Lancaster Fleming)। ১৯০৮ সালের ২৮ মে ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরের মেফেয়ারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পেশাগতভাবে ‘ইয়ান ফ্লেমিং’ ব্রিটিশ লেখক, সাংবাদিক ও নৌ-গোয়েন্দা হিসেবে পরিচিত। লন্ডনের এটন কলেজে থেকে পড়াশুনা সম্পন্ন করেন ফ্লেমিং। জেমস বন্ডের উপর মোট ১২ টি উপন্যাস লিখেন তিনি। ২০০৮ সালে টাইমস পত্রিকা ইয়ন ফ্লেমিংকে “১৯৪৫ সালের পর সেরা ৫০ ব্রিটিশ লেখক”দের একজন ঘোষনা করে। মাত্রাতিরিক্ত ধূমপান ও মদাসক্তির জন্য ১৯৬১ সালে হার্ট অ্যাটাকের স্বীকার হন ফ্লেমিং। ১৯৬৪ সালে পুনরায় হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরন করেন তিনি।

 

‘জেমস বন্ড’ সিরিজের যতো ছবি

‘ইয়ান ফ্লেমিং’ এর লেখা উপন্যাস অবলম্বনে এ পর্যন্ত ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের ২৩ টি মুভি মুক্তি পেয়েছে।

মুভির নাম

মুক্তির সাল

পরিচালক

অভিনেতা

আইএমডিবি রেটিং

Dr. No

১৯৬২

Terence Young

শন কেনারি

৭.৩

From Russia with Love’

১৯৬৩

Terence Young

৭.৫

Goldfinger

১৯৬৪

Guy Hamilton

৭.৯

Thunderball

১৯৬৫

Terence Young

৭.০০

You Only Live Twice

১৯৬৭

Lewis Gilbert

৬.৯

On Her Majesty's Secret Service

১৯৬৯

Peter R. Hunt

জর্জ ল্যাজেনবি

৬.৮

Diamonds Are Forever

১৯৭১

Guy Hamilton

শন কেনারি

৬.৭

Live and Let Die

১৯৭৩

Guy Hamilton

রজার মুরে

৬.৮

The Man with the Golden Gun

১৯৭৪

Guy Hamilton

৬.৬

The Spy Who Loved Me

১৯৭৭

Lewis Gilbert

৭.১

Moonraker

১৯৭৯

Lewis Gilbert

৬.১

For Your Eyes Only

১৯৮১

John Glen

৬.৮

Octopussy

১৯৮৩

John Glen

৬.৫

A View to a Kill

১৯৮৫

John Glen

৬.১

The Living Daylights

১৯৮৭

John Glen

টিমোথি ডাল্টন

৬.৭

Licence to Kill

১৯৮৯

John Glen

৬.৫

GoldenEye

১৯৯৫

Martin Campbell

পির্য়াস ব্রুসনান

৭.১

Tomorrow Never Dies

১৯৯৭

Roger Spottiswood

৬.৪

The World Is Not Enough

১৯৯৯

Michael Apted

৬.৩

Die Another Day

২০০২

Lee Tamahor

৬.৪

Casino Royale

২০০৬

Martin Campbell

ডেনিয়েল ক্রেগ

৭.৯

Quantum of Solace

২০০৮

Marc Forster

৬.৮

Skyfall

২০১২

Sam Mendes

৭.৮

Spectre ২০১৫ Sam Mendes ৭.১

 

শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল ‘জেমস বন্ড’

সেই ১৯৬২ সাল থেকে ২০১৪, দীর্ঘ এই সময়ে দর্শক মহলে এতটুকু জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের। কিন্তু মুভি হিসেবে মুক্তি পাওয়ার আট বছর আগে প্রথমে টিভি সিরিয়াল তৈরি করা হয় ‘ইয়ান ফ্লেমিং’ এর ‘ক্যাসিনো রয়েল’ উপন্যাস অবলম্বনে। সেই টিভি সিরিয়ালে ‘জেমস বন্ড’ চরিত্রে অভিনয় করেন ‘ব্যারি নেলসন’। তবে সেই সিরিয়ালে নায়কের চরিত্রের নাম ছিল ‘জিমি বন্ড’। দর্শকমহলে খুব একটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে নি সেই সিরিয়ালটি। হলিউড বোদ্ধারা প্রায় ধরেই নিয়েছিলেন ‘জেমস বন্ড’ চরিত্রটি মুখ থুবড়ে পড়বে। কেননা ‘ইয়ান ফ্লেমিং’ তার উপন্যাসে নায়ককে যেভাবে তুলে ধরেছেন পর্দায় ‘ব্যারি নেলসন’ সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন নি। তাই চরিত্রটি সকলের কাছে সেভাবে মন:পুত হয় নি।  (ছবিতে ব্যারি নেলসন)

 

আবার এগিয়ে যাওয়া

টিভি সিরিয়ালে ফ্লপ ‘জেমস বন্ড’ চরিত্রটিকে নিয়ে এবার মুভি বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। টিভি সিরিয়ালে নায়কের কারণে মার খায় চরিত্রটি। তাই এবার নায়কের ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেন ‘ইয়ান ফ্লেমিং’। ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের প্রথম মুভি ‘ডাক্তার নো’ এর নায়কের বর্ণনা করতে গিয়ে ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের লেখক ‘ইয়ান ফ্লেমিং’ বলেছিলেন – নায়ককে লম্বায় হতে হবে ছয় ফুটের উপরে, তার থাকতে হবে পুরুষালি কন্ঠস্বর, দড়ির গোছার মতো শরীরের এখানে ওখানে ছড়িয়ে থাকবে পেশী, চুলগুলো হবে কোঁকড়ানো কিন্তু মসৃণ, তার গতি হবে চিতা বাঘের মতো, উপস্থিত বুদ্ধিতে সে হবে সকলের সেরা, খেলনার মতো অস্ত্র চালাতে জানতে হবে, মেয়েদের কাবু করতে যার চোখের একটি পলকই যথেষ্ট, কিন্তু দয়া-মায়া-মমতা বলতে তার মধ্যে কিছু থাকতে পারবে না। বুঝতেই পারছেন এমন একজন পুরুষ মানুষ খুঁজে বের করা চাট্টিখানি কথা নয়। তারপর বহু কাঠখড় পোড়ানোর পর অবশেষে দেখা মিলল কাঙ্ক্ষিত সেই পুরুষের। তার নাম ‘শন কেনারি’। দুর্দান্ত সব অ্যাকশনের পাশাপাশি তার অনবদ্য রসিকতা সবার মনে ধরেছিল। শন কনারির তীব্র পুরুষালি কণ্ঠে সেই পরিচয় প্রদান 'মাই নেম ইজ বন্ড, জেমস বন্ড' আজও বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা সংলাপ।

 

জেমস বন্ড চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন

‘জেমস বন্ড’ সিরিজের মুভিগুলোতে এ পর্যন্ত ছয় জন অভিনেতা অভিনয় করেছেন। তারা হলেন শন কেনারি, জর্জ ল্যাজেনবি, রজার মুরে, টিমোথি ডাল্টন, পির্য়াস ব্রুসনান এবং সর্বশেষ ডেনিয়েল ক্রেগ ।  ১৯৬২ সালে ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের ১ম মুভিটি মুক্তি পায়। এতে ‘জেমস বন্ড’ চরিত্রে অভিনয় করেন ‘শন কেনারি’। আগেই বলেছি মুখ থুবড়ে পড়া ‘জেমস বন্ড’কে দর্শক হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছিলেন ‘শন কেনারি’। ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের ৬টি মুভিতে তিনি অভিনয় করেন। মাঝে ‘শন কেনারি’র ব্যস্ততার কারণে একটি মুভিতে ‘জেমস বন্ড’ এর হাল ধরেন জর্জ ল্যাজেনবি। ‘শন কেনারি’ পর পর ৫টি মুভিতে অভিনয় করার পর ১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অন হার ম্যাজেস্টি’স সিক্রেট সার্ভিস’ মুভিতে বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন। খেলোয়াড়ি গড়নের ল্যাজেনবি ছিলেন নম্র-ভদ্র স্বভাবের। তবে মেজাজ ছিল ভীষণ রকম। পর্দায় জেমস বন্ডকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হন তিনি। তাই এই সিরিজের পরের আর কোনো মুভিতে অভিনয় করার সুযোগ তার হয় নি। ১৯৭১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের ‘ডায়মন্ডস আর ফরএভার’ মুভিতে আবার ফিরিয়ে আনা হয় ‘শন কেনারি’কে। কিন্তু বয়স হয়ে যাওয়ায় ‘শন কেনারি’কে আর সেভাবে চরিত্রের সাথে মানানসই মনে হচ্ছিল না। ‘শন কেনারি’র দায়িত্ব গিয়ে পড়ে ‘রজার মুরে’র কাঁধে। ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের আরেক সফল নায়ক হচ্ছেন তিনি। এই সিরিজের টানা ৭টি মুভিতে অভিনয় করেন তিনি। ‘রজার মুরে’র সবকিছুই ছিল বলা যায় “ভাল”। বন্ডের জন্যে যে এক্সট্রা অর্ডিনারি একটা ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন ছিল, সেটার কিছু অভাব সম্ভবত তাঁর মধ্যে ছিল। তাই শন কনারি যে ইমেজটা তৈরি করে গিয়েছিলেন বন্ডের, সেটা থেকে তিনি উপরে উঠতে পারেননি। তাঁর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা অতি রোমান্টিক অ্যাপিয়েরেন্স।  যার খেসারাত দিতে হয় পরিচালককে পরবর্তী ‘জেমস বন্ড’ টিমোথি ডাল্টনের মধ্যে জেমস বন্ড চরিত্রের মূলভাব ফুটিয়ে তুলতে। এই সিরিজের দুটি মুভিতে অভিনয় করার পর তাকে আর নেওয়া হয়নি। তিনি ছিলেন খামখেয়ালি ও সময়ের ব্যাপারে উদাসীন। তাই তার এই দোষগুলো না থাকলেও ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের পরের মুভিগুলোতেও তিনি অভিনয় করতে পারতেন। ডাল্টন এর পর ‘জেমস বন্ড’ এর ভার দেওয়া হয় আইরিশ অভিনেতা ‘পিয়ার্স ব্রুসনান’কে। ‘শন কেনারি’র অনেক বৈশিষ্ট্যই তার মধ্যে ছিল। তাইতো এই সিরিজের পর পর ৪টি মুভিতে কাজ করার সুযোগ হয় তার। সর্বশেষ ‘জেমস বন্ড’ হিসেবে পর্দায় উপস্থাপন করা হয়েছে ‘ডেনিয়েল ক্রেগ’কে। পরিচালক মার্টিন ক্যাম্পবেল অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ‘জেমস বন্ড’ চরিত্রের ভার তার উপর দেন। ‘ডেনিয়েল ক্রেগ’ হলেন এ পর্যন্ত যতজন অভিনেতা ‘জেমস বন্ডে’র চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাদের সবার চেয়ে খাটো। তার উচ্চতা ছিল ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। তাই ‘জেমস বন্ডে’র শারীরিক গঠনের সাথে তার শারীরিক গঠনের মিল ছিল না। এছাড়া ক্রেগের কন্ঠস্বরও কিছুটা কর্কশ। তার উপর ‘ডেনিয়েল ক্রেগ’ সবেমাত্র উঠতি অভিনেতা। এই সুযোগে ‘মিরর’ ম্যাগাজিন ক্রেগকে নিয়ে ঠাট্টাছলে প্রচ্ছদও রচনা করেছিলেন। আর তা হলো "দ্য নেম ইজ ব্ল্যান্ড, জেমস ব্ল্যান্ড”। কিন্তু নিজের অভিনয় প্রতিভা দিয়ে সেই ঠাট্টার জবাব দিতে ভুল করেন নি ‘ডেনিয়েল ক্রেগ’। ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের যতো মুভি এর আগে মুক্তি পেয়েছে, সেগুলোকে পেছনে ‘ক্যাসিনো রয়েল’ সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবি হিসেবে স্থান করে নেয়। ব্যক্তিগতভাবে ‘ডেনিয়েল ক্রেগ’ বাফটা অ্যাওয়ার্ডের জন্যে মনোনীত হন এবং এম্পায়ার বেস্ট অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এখন পর্যন্ত ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের মুভিগুলোতে নায়কের চরিত্রে ‘ডেনিয়েল ক্রেগ’ই অভিনয় করছেন।

 

যুগ যুগ ধরে জয় করে চলেছে পুরো বিশ্ব

কি আছে এই বন্ড চরিত্রে? কেনো পুরো বিশ্ব পাগল এই চরিত্রের জন্য? এরকম অনেক প্রশ্নই কাল্পনিক এই চরিত্রটিকে নিয়ে রয়েছে। এটি এমন একটি চরিত্র যাকে বলা চলে ‘একের ভিতর অনেক’। যেমন - ব্যাটম্যান, সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান জনপ্রিয় এই চরিত্রগুলোতে শুধুমাত্র ফ্যান্টাসির পরিমাণ বেশি। এছাড়া শার্লক হোমসের ছিনা কোন নারীলিপ্সা, এরকুল পোয়ারোতো শুধু ধাঁধাঁ সমাধান করেই দিন পার করতেন। কিন্তু বিখ্যাত চরিত্রের সাথে বন্ড চরিত্রের একটা বড় পার্থক্য আছে, যা মানুষকে আরও বেশি আকর্ষণ করে। তা হল বন্ডের ব্যক্তিত্ব, যা একেবারে ধোয়া তুলসী পাতা নয়। মদ, নারী, মৃত্যু- এই তিন নিয়েই যেন বন্ডের সব খেলা। অন্যসব চরিত্রের দিক দিয়ে এখানেই তিনি ব্যতিক্রম।

 

বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিলো ‘জেমস বন্ড’

‘জেমস বন্ড’ সিরিজের ২৩ তম মুভিটি প্রযোজনা করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘এমজিএম স্টুডিও’। ২০১০ সালে এমজিএম স্টুডিও দেনার দায়ে যখন প্রায় বন্ধ হতে চলেছিল। ইওএন প্রোডাকশনের কাছে তাদের প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন ডলার দেনা রয়েছে। এই কারণে ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের ২৩ তম মুভি ‘স্কাইফল’ এর কাজ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে কোনোরকমে মুভিটির কাজ শেষ করে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১২ সালে ছবিটি মুক্তি পায়৷ বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে সফল ব্রিটিশ ছবি হিসেবে সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল এই বন্ড ছবিটি৷ গোটা বিশ্বে বক্স অফিসে ১১০ কোটি ডলার ব্যবসা করেছিল ‘স্কাইফল'৷ তবে পাওনাদার কোম্পানি দেনা পরিশোধের সময় কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়ায় নতুন করে বন্ড সিরিজের মুভির কাজে হাত দিয়েছে এমজিএম স্টুডিও।

 

আবার আসছে ‘জেমস বন্ড’

এ পর্যন্ত ‘জেমস বন্ড’ কে নিয়ে ২৩ টি মুভি মুক্তি পেয়েছে। সর্বশেষ ২০১২ সালে "Bond 23"  মুভিটি মুক্তি পায়। ২০১৫ সালের শেষের দিকে মুক্তি পাবে ২৪ তম বন্ড মুভি৷ ব্রিটেনে মুক্তির তারিখ স্থির করা হয়েছে ২৩শে অক্টোবর, অ্যামেরিকায় ৬ই নভেম্বর৷ আপাতত সেটিকে ‘বন্ড ২৪' বলা হচ্ছে৷ ছবিটির পরিচালক স্যাম মেন্ডেজ এবারের জেমস বন্ড সিরিজের ছবিতে দর্শকদের ব্যতিক্রমধর্মী এবং আধুনিক কিছু উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। উল্লেখ্য এখন আলাদা স্টোরি লাইন ধরে মুভিগুলো বানানো হয়।

 

অস্কারে জেমস বন্ড

অস্কারের ৮৫তম আসরে সম্মাননা জানানো হয়েছে ‘জেমস বন্ড’কে। কাল্পনিক এই চরিত্রর বয়স এখন ৫০ বছর। অস্কারের মনোনয়ন পেয়েছে ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের সর্বশেষ সংযোজন স্কাইফল। এর আগে এই সিরিজের গোল্ডফিঙ্গার (১৯৬৪) বেস্ট সাউন্ড ইফেক্ট ও থান্ডারবল (১৯৬৫) বেস্ট স্পেশাল ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বিভাগে অস্কার পেয়েছিল।

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি