পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

মেরিলিন মনরো: বিশ্ব মাতানো এক অভিনেত্রীর জীবনের গল্প

মেরিলিন মনরোকে মানুষ কত ভালবাসত তা বলে বুঝানোর কিছু নেই। মনরোর মৃত্যুর পর শুধু আমেরিকারে আত্মহত্যার হার ১২% বেড়ে গিয়েছিল। ৫০ ও ৬০ এর দশকের আমেরিকার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর জীবনের খুঁটিনাটি বিভিন্ন তথ্য এই পেজটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

 

জন্ম ও পরিবার

স্থানটা ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলস কাউন্টি হাসপাতাল। ১৯২৬ সালের ১ জুন এই হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন কালজয়ী এই অভিনেত্রী। তার মায়ের নাম গ্লাডিস পার্ল বেকার। তার মায়ের একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্ক থাকায় তার প্রকৃত বাবার পরিচয় কখনো জানা যায় নি। তবে মেরিলিন মনরো জন্মের আগে থেকেই তার মায়ের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে সমস্যা ছিল। মানসিক ভারসাম্য ঠিক থাকলে হয়তোবা তিনি বলতে পারতেন। মেরিলিন মনরো নামে বিখ্যাত এই মানুষটিকে আমরা চিনলেও তার আসল নাম ‘নরমা জেন মর্টেনশন’।

 

ছোট্ট বয়সেই ঠিকানা হয়েছে এতিমখানায়

পিতৃহীন মেরিলিন মনরোর একমাত্র অভিভাবক ছিলেন তার মা। মনরোর বয়স যখন ৯ এর কাছাকাছি তখন তার মা মারাত্মকভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন মনরো। তাই ঠিকানা হয় এতিমখানায়। এতিমখানাটির নাম ছিল ‘ফষ্টার চাইল্ড হোম’। সেখানে ২ বছর থাকার পর ১১ বছর বয়সে পালক পিতামাতার সংসারে স্থান হয় মনরোর। তার পালক মা গ্রেস ম্যাককি গডার্ড ছিলেন মনরোর আসল মায়ের বান্ধবী। কিন্তু খুব বেশিদিন সেই সংসারের সুখ কপালে টেকে নি মনরোর। ঠিক দুই বছর পরই তার পালক পিতার আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে তিনি মনরোকে আবার এতিমখানায় পাঠিয়ে দেন।

প্রেম ও বিয়ে

খুব কম বয়সেই মনরো বিয়ে করেন। এতিমখানার জীবন মনরোর মোটেও ভালো লাগছিলো না। তাই ১৯৪২ সালের ১৯ জুন তার বয়স যখন ১৬ বছর তখন এক এয়ারক্রাফট প্লান্টে কাজ করা এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। ভদ্রলোকের নাম ছিল ‘জেমস ডোগার্থি’। মনরো পালক বাবা-মায়ের বাসার পাশের বাসাতেই থাকতেন তার স্বামী। আসা-যাওয়ার পথে তাদের দুজনের আলাপচারিতা হয় এবং একসময় তা প্রেমে রূপ নেয়। বিয়ের কিছুদিন পর মনরোর স্বামী সামুদ্রিক একটি বাণিজ্যিক জাহাজে চাকরি পান। চাকরির উদ্দেশ্যে সমুদ্রেই থাকতে হয় তাকে। এই সুযোগে মনরোর সাথে পরিচয় হয় ‘ডেভিড কনোভার’ নামের এক ফটো সাংবাদিকের। এক সময় ‘ডেভিড কনোভার’ মনরোকে মডেলিং এর প্রস্তাব দেন। মডেলিং এর লোভে পড়ে মনরোর সাথে তার ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রথম দিকে নিজ স্বার্থে ‘ডেভিড কনোভার’ এর সাথে সম্পর্ক রাখলেও পরবর্তীতে মনরোও প্রেমে পড়ে যান তার। শেষ পর্যন্ত বিয়ের চার বছর পর ইতি ঘটে মনরোর প্রথম সংসারের। একসময় ‘ডেভিড কনোভার’ মনরোকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু মনরো তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর প্রযোজক জোয়ি ডি ম্যাগিওর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মনরো এবং তাদের একসময় বিয়েও হয়। তবে সাত মাসের বেশি তারা একসাথে সংসার করতে পারেন নি। ২য় বিয়ে বিচ্ছেদের পর বেশি কিছুদিন একাকী কাটে মনরোর। এরপর ‘আর্থার মিলার’ নামে আমেরিকার একজন খ্যাতিমান লেখক ও নাট্যকারের সাথে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। দীর্ঘদিন প্রেম চলার পর ১৯৫৬ সালের ২৯ জুন বিয়ে করেন তারা দুজন। কিন্তু এবারও বেশিদিন সংসার করা হয় নি দুজনের একসাথে। এরপর আর বিয়ের দিকে পা বাড়াননি মনরো। তবে অনেকের সাথে প্রেমের গুজব প্রায় সময়ই শোনা যেত।

ছবিতে উপরে ১ম স্বামীর সাথে মনরো (বায়ে), ২য় স্বামীর সাথে মনরো (ডানে); নিচে ৩য় স্বামীর সাথে মনরো (বায়ে) এবং সবশেষে ডেভিড কনোভার এর সাথে মনরো

লাইম লাইটে উঠে আসা

১৯৪৫ সালে ১ম স্বামী জেমস ডোগার্থির সহয়তায় এরোপ্লেন পার্টস কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মনরো। অসাধারণ গ্ল্যামার আর শারীরিক অভিব্যক্তির কারণে অল্প সময়েই ঐ প্রতিষ্ঠানটির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে যান। ঐ কোম্পানীর শো-গার্ল হিসেবে প্রথম তিনি মডেলিং করেন। এরপর পরই পাল্টে যেতে থাকে তার জীবন।

 

এরপর ফটোগ্রাফার ডেভিড কনোভার একটি পত্রিকার জন্য মনরোর একটি ছবি তোলেন। সে ছবি প্রশংসিত হয় বিভিন্ন মহলে। এরপরই মনরোর ডাক আসে মডেলিং দুনিয়ার বড় বড় এজেন্সি থেকে। উল্লেখ্য, মনরোর ১ম স্বামী যখন চাকরি সূত্রে বাইরে চলে যায় তখন ডেভিড কনোভার এর সাথে পরিচয় হয় তার। তার কারণেই ১ম সংসার ভেঙ্গে যায় মনরোর। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের দুজনের বিয়ে হয় নি। তবে অন্য একটি সূত্র বলে, ফটোজেনিক মেরিলিন মনরোর ছবি বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে। মনরোর ১ম স্বামী বিষয়টিকে ভালোভাবে নেন নি। তিনি মনরোর মডেলিং করার বিপক্ষে ছিলেন। তাই তিনি মনরোকে কঠিনভাবে জানিয়ে দেন যে, সংসার করতে হলে মডেলিং তাকে ছাড়তে হবে। শেষ পর্যন্ত মডেলিং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে মডেলিংটাকেই বেছে নেন মনরো।

 

অভিনয় জীবন

অভিনয়জীবনের শুরুতেই তিনি তার ব্রাউনিস কালার চুলকে পরিবর্তন করে তাতে প্লাটিনাম হোয়াইটের এক আভা আনেন, যা তার ট্রেডমার্ক বলা চলে। আর তার নতুন নাম হয় মেরিলিন মনরো। ১৯৪৫ সালের দিকে টুকটাক মডেলিং দিয়ে নিজের আগমন বার্তা জানান দেন বিশ্ববাসীকে। ১৯৪৭ সালে 20th Century-Fox স্টুডিওর সাথে চুক্তি বদ্ধ হন মনরো  এবং অতিথি শিল্পী হিসেবে দুটি ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পান। ১৯৪৮ সালে এসে 20th Century-Fox স্টুডিও মনরোর সাথে চুক্তি নবায়ন করেনি। এই কারণে মনরো চুক্তিবদ্ধ হন Columbia Pictures এর সাথে। এক সময় Columbia Pictures মনরোর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তাই বাধ্য হয়ে ১৯৪৯ সালে আবার মডেলিং এ ফিরে আসতে হয় মনরোকে। মডেলিং এ ফিরে এসেই ভিন্নভাবে নিজেকে সকলের সামনে তুলে ধরেন মনরো। একটি ম্যাগাজিনের জন্য নুড হন মনরো। সে সময়ের অখ্যাত এবং বর্তমান সময়ের বিখ্যাত এই ম্যাগাজিনটির নাম ‘প্লে-বয়’। মেরিলিন মনরোই Playboy's first "Sweetheart of the Month"

 

আবার 20th Century-Fox স্টুডিও তে ফিরে আসা

প্রথমবার 20th Century-Fox স্টুডিও মনরোর সাথে চুক্তি নবায়ন না করলেও ১৯৫০ সালে তারা All About Eve মুভির জন্য মনরোকে অফার করেন। এই ছবিতে অভিনয় করেই লক্ষ লক্ষ পুরুষের স্বপ্নের রানী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মনরো। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি মনরোকে। এরপর 20th Century-Fox স্টুডিও মনরোর সাথে আরও সাত বছরের চুক্তি করেন। ১৯৫৫ সালে মুক্তি পায় মনরোর The Seven Year Itch মুভিটি। দর্শক হৃদয়ে ভালোই সাড়া ফেলেন মনরো। ১৯৫৩ সালে ‘নায়াগ্রা’ ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর একে একে ‘জেন্টেলম্যান প্রেফার ব্লোন্ডেজ’, ‘হাও টু ম্যারি এ মিলিনিয়াম’ ও ‘দি সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবির মাধ্যমে তার পরিচিতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। হলিউডের অ্যাকটিং স্টুডিও থেকে মনরো অভিনয়ের উপর একটা স্পেশাল ডিগ্রি নেন। ১৯৫৬ সালের ‘বাস স্টপ’ ছবিতে তার অভিনয় তাকে ‘গোল্ডেন গ্লোব’ পুরস্কারের নমিনেশনে নিয়ে আসে। এরপর তিনি ছবি প্রডাকশনে কাজে নাম লেখান। তার প্রডাকশন হাউজটির নাম রাখেন ‘মার্লিন মনরো প্রডাকশন’। প্রডাকশন হাউজের ব্যানারে প্রথম নির্মিত ছবি মুক্তি পায় ১৯৫৭ সালে  ‘দ্য প্রিন্স এন্ড দ্য শোগার্ল’। এ ছবির জন্যে তিনি বাফটা অ্যাওয়ার্ডে নমিনেশন পান এবং ’ডেভিড ডি ডোনাটেলো‘ পুরস্কার জিতে নেন। ১৯৫৭ সালে মনরো ইংল্যান্ডে যান প্রথম বারের মত মুভিতে অভিনয় করতে। ইংল্যান্ড থেকে ফিরেই মনরো অভিনয় করে তার সবচেয়ে ব্যবসা সফল মুভি Some Like It Hot (1959)।  মনরোর সর্ব শেষ অভিনীত মুভি The Misfits (1961)

 

মেরিলিন মনরো সম্পর্কে প্রযোজকদের অভিযোগ
মনরোর সম্পর্কে সব মুভি ডিরেক্টরদের একই অভিযোগ ছিল। আর তা হলো সে মুভি সেটে আসতে অনেক দেরি করে। শেষের দিকে কোন স্টুডিওই তাকে তাদের কাজে নিতে চাচ্ছিল না,কারন মনরোর সময়ানুবর্তিতা অভাবে তাদের লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হচ্ছিল।

 

জীবনের ছন্দপতন

ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর মনরো অতিরিক্ত পরিমান alcohol ও pills নেয়া শুরু করে দেয়।

 

প্লে-বয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জায়গা করে নেওয়া

১৯৫২ সালে আজকের বিখ্যাত প্লে­বয় ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যার কাভারে সম্পূর্ণ উন্মুক্তভাবে নিজেকে মেলে ধরেন মেরিলিন মনরো গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে হৈ চৈ ফেলে দেন। নগ্নতাকে প্রতিষ্ঠিত করেন শিল্পে। তার ছবি কভারে ছাপার মাধ্যমেই সেক্স-ম্যাগাজিন হিসেবে প্লে-বয় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

 

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির সাথে সম্পর্ক

১৯৬২ সালের কোল্ড ওয়ারে কিউবায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সময় জন এফ কেনেডির একজন ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে কাজ করেন মনরো। মনরোর সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের ঘটনাটি ছিল জন এফ কেনেডির সঙ্গে গোপন প্রেম। এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও গল্পটা একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কেনেডি জন ও রবার্টের বোন প্যাট্রিসিয়ার লেখা বইতেও মেরিলিন ও কেনেডি ভাইদের মধ্যকার প্রেমের কিছু কথা পাওয়া গেছে।

 

সংগীত শিল্পী মনরো

সৌন্দর্য আর রহস্যময় হাসির অধিকারী মনরো আরও একটি গুণের জন্য পরিচিত সবার কাছেই। সেটি হলো তার সঙ্গীত প্রতিভা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির জন্মদিনে গাওয়া ‘হ্যাপি বার্থডে মি. প্রেসিডেন্ট’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এ ছাড়া তার গাওয়া ‘মাই হার্ট বিলংস টু ড্যাডি, ‘আই ওননা বি লাভড বাই ইউ’ এবং ‘ডায়মন্ডস আর এ গার্লস বেস্ট ফ্রেন্ডস’ গানগুলোও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

 

প্লাস্টিক সার্জারী করেছিলেন মেরিলিন মনরো

একজন চিকিৎসকের প্রতিবেদন অনুসারে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, বিখ্যাত আবেদনময়ী নায়িকা মেরিলিন মনরো সৌন্দর্য বাড়াতে কসমেটিক সার্জারি করিয়েছিলেন। হলিউডের প্লাস্টিক সার্জন মাইকেল গার্ডিনের একটি নোট অনুযায়ী জানা গেছে, মনরো ১৯৫০ সালে চিবুকে কার্টিলেজ অপারেশন করিয়েছিলেন যা ধীরে ধীরে শরীরে খাপ খেয়ে যায়। চায়না ডেইলি এ তথ্য জানিয়েছে।

 

এক নজরে মেরিলিন মনরো

  • আসল নাম : নরমা জেন মর্টেনসন বেকার
  • জন্ম : ১ জুন, ১৯২৬
  • জন্মস্থান : ক্যালিফোর্নিয়া, লস এঞ্জেলস্
  • মৃত্যু : ৫ আগস্ট ১৯৬২
  • স্থান : ব্রেন্টউড, লস এঞ্জেলস
  • শিক্ষাগ্রহণ : ফস্টার চাইল্ড হোম
  • পেশা : অভিনেত্রী, মডেল, গায়িকা ও প্রযোজক
  • ক্যারিয়ার সময় : ১৯৪৭ – ১৯৬২
  • বিয়ে: জেমস ডোর্টি (১৯৪২-১৯৪৬), জো ডিম্যাগি (১৯৫৪-১৯৫৪), আর্থার মিলার ( ১৯৫৬-১৯৬১)

 

অজানা মেরিলিন মনরো

  • মনরোকে কোনো ছবিতে চশমা পরা অবস্থায় দেখেছেন এমন লোক একটিও নেই। কারণ তিনি কোনো ছবিতে চশমা পড়তেন না। তবে বাস্তব জীবনে তিনি চশমা পড়তেন।  
  • বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘প্লেবয়’ এর ১ম সংখ্যার প্রচ্ছদ জুড়ে ছিলেন মেরিলিন মনরো।
  • প্রথমবার মেরিলিন হিসেবে অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে নিজের নামের বানান জানতে চেয়েছিলেন, বুঝতে পারছিলেন না কোথায় ‘আই’বসাবেন।
  • শুটিং না থাকলে মেরিলিন সবসময় শুধু বাথরোব পরে থাকতেন।
  • মারা যাওয়ার সময় তার হাতে ধরা ছিল টেলিফোন।
  • সব সময় একটি বই মনরোর হাতে থাকত, ‘বায়োগ্রাফি অব আব্রাহাম লিংকন’।
  • প্রায় সব ছবির শুটিংয়েই মনরো অসুস্থ হয়ে পড়তেন।
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে মেরিলিন একটা সময় রাজনৈতিক পরামর্শ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন।
  • মেরিলিন মনরোর মৃতদেহের কোনো ছবি আজ পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় নি।
  • মেরিলিন মনরো তার সমসাময়িক অভিনেত্রী এলিজাবেথ টেলরকে মোটেও সহ্য করতে পারতেন না।

 

মেরিলিন মনরোর সৌন্দর্যের রহস্য

  • আকর্ষনীয় ঠোঁটের জন্য মেরিলিন ঠোঁটে ৫ টি ভিন্ন লিপস্টিকের শেড ব্যবহার করতেন। বহুমাত্রিক ফলের জন্য প্রতিটি লেয়ারের পর গ্লসি শেডের প্রলেপ দেয়া হত তার ঠোঁটে। ঠোঁটের উপরিভাগে লাল রঙের গাঢ় শেড ও মাঝামাঝি স্থানে হালকা রঙের শেড ব্যবহার করতেন তিনি।
  • মুখের ফাউন্ডেশনের নীচে মেরিলিন Vaseline প্রয়োগ করতেন যেন তার চেহারা আরো দ্যুতিময় দেখায়। এর ফলে ক্যামেরায় তার চেহারা উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় দেখাত।
  • মেরিলিন তার চোখে অর্ধেক সেটের আইল্যাশ ব্যবহার করতেন যেন তার চোখ আরো বড় দেখায়। তার উপর কয়েক প্রলেপ মাসকারা দিয়ে আইল্যাশটি চেহারায় মানানসই করে নিতেন।
  • মেরিলিন মনরোর চেহারার গড়ন ছিল হার্ট শেপের। এই গড়নের সাথে মানিয়ে তার ভ্রু মিনারের মত করে ছাঁটা হত, যেন কপাল বড় দেখায়; চেহারার উপরিভাগে হাইলাইটার ব্যবহার করা হত; এবং চেহারার নিম্নাংশে গাঢ় পাউডারের শেডস দেয়া হত।
  • মেরিলিনের নাকে ব্লাশ দেয়া হত যেন তার নাক ছোট ও চেহারায় মানানসই দেখায়। এক্ষেত্রে ব্লাশের পূর্বে Vaseline এর প্রয়োগ করা হত।
  • চোখ বড় করার জন্য কালো কুচকুচে অথবা ব্রাউন রঙের আইলাইনার ব্যবহার করতেন মেরিলিন।
  • হালকা ধূসর রঙের পেনসিলের সাহায্যে তার ল্যাশের শেষ ভাগে খানিকটা শ্যাডো এঁকে তা ল্যাশের নিচের দিকে এমন ভাবে টানা হত যেন মনে হয় ল্যাশটি উপর থেকে নীচে নেমে যাচ্ছে।
  • চোখের চারপাশে হাইলাইটার ব্যবহার করা মেরিলিন মনরোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। চোখের কোণে, ভ্রু তে এবং চোখের নীচে হাইলাইটার দিয়ে নিজেকে ফুঁটিয়ে তুলতেন তিনি।
  • চোখের পাতায় এক ধরনের ক্রিম জাতীয় আইশ্যাডো দিয়ে নিজেকে সাজাতেন মেরিলিন। চোখের পাতা থেকে ভ্রু-এর আগ পর্যন্ত এটা থাকত। আর বাইরের অংশে হালকা ধূসর অথবা হালকা নীল রঙের শ্যাডো দিয়ে নিজের লাস্যময়ী চোখ দুটো আরো কামনাময়ী করে তুলতেন তিনি।
  • মনরো সবসময় গোলাপী অথবা কোরাল ব্লাশ দিয়ে নিজেকে সাজাতেন। তারূণ্যময় রূপের জন্য নিজের এমন স্টাইল পছন্দ করতেন তিনি।

 

মৃত্যু

খুব বেশিদিন পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকতে পারেন নি মেরিলিন মনরো। ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট ৩৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই খ্যাতিমান অভিনেত্রী। তবে তার মৃত্যু নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। লস এঞ্জেলস এর যে বাড়িতে মনরো মারা যান সেখানে তার বিছানার পাশে ঘুমের ওষুধ এর খালি বোতল পাওয়া গিয়েছিল। বলা হয় অতিমাত্রায় ড্রাগ সেবনের কারণে তিনি মারা যান। মনরোর মৃত্যু তার হাসির মতোই এক রহস্য হয়ে আছে মানুষের কাছে। সবার কাছে আত্মহত্যা হলেও কেউ কেউ মনে করেন, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যা। কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে তার মৃত্যুরহস্য চাপা পড়ে যায়।

 

মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

২০১৩ সালের ১৪ জুলাই প্রকাশিত এক সংবাদে জানা যায়, হলিউডের খ্যাতিমান মানুষদের ওপর স্পাইগিরির জন্য কুখ্যাত গোয়েন্দা ব্যক্তি হচ্ছেন ফ্রেড ওটাস। মনরো যেদিন মারা যান সেদিনও তিনি তার ওপর নজর রেখেছিলেন। মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগেও তিনি মনরো, পিটার লফোর্ড ও রবার্ট ববি কেনেডির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় রেকর্ড করেছিলেন। তর্কের সময় মনরো বলছিলেন, তাকে ‘এক টুকরো মাংসের মতো' ব্যবহার করেছিলো কেনেডি ভাইয়েরা। এসময় তাদের মধ্যে গোপন সম্পর্ক ও মনরোকে দেয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়েও তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। মনরো প্রচণ্ড চিৎকার করছিলেন। তারা দুজনেই তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। তার চিৎকার যেন প্রতিবেশীরা শুনতে না পায় সেজন্য এক পর্যায়ে ববি তাকে বিছানায় ফেলে  মুখে বালিশ চেপে ধরেন। অবশেষে মনরো শান্ত হন। এর কিছুক্ষণ পরে ববিকে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।'পুলিশের হিসাবমতে, ওটাসে উল্লেখিত সময়ের কিছু পরেই মনরোর মৃত্যু হয়। ওটাস শুধু তখনই মনরোর মারা যাওয়ার খবর পান যখন লফোর্ড তাকে ঘটনার দিন ভোরে ডেকে ওই ঘর থেকে সমস্ত তথ্য প্রমাণ সরিয়ে ফেলতে বলেন। গোয়েন্দা ফ্রেড ওটাস ১৯৯২ সালে ৭০ বছর বয়সে মারা যান।

 

মনরোর ভাস্কর্য

কিংবদন্তী অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর একটি ভাস্কর্য রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবিতে মনরোর পরনের স্কার্ট উড়ে যাওয়ার সেই বিখ্যাত ভঙ্গিটি ভাস্কর্যটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ১৯৫৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবিটিতে মনরোকে সাদা রঙের একটি স্কার্ট পড়ে সাবওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ঠিক সেসময় সাবওয়েতে বয়ে যাওয়া বাতাসে বেসামাল হয়ে পড়া স্কার্ট সোমলাতে মনরো যখন ব্যস্ত ঠিক তখনই ক্যামেরার সাটার টিপেছিলেন কোনও চিত্রশিল্পী। ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া দৃশ্যটি এখনও মানুষের মনে সমান আবেদন ধরে রেখেছে। সেই ছবির ভিত্তিতেই শিকাগোর ম্যাগনিফিসেন্ট মাইলে স্থান পেয়েছে ভাস্কর সিইয়ার্ড জনসন নির্মিত আইকনিক পোজটির হুবহু ভাস্কর্য। যার নাম ফরএভার মনরো।

 

সেরা আইকনিক পোশাক মনরোর স্কার্ট

‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ছবিটিতে মনরোকে সাদা রঙের একটি স্কার্ট পড়ে সাবওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ঠিক সেসময় সাবওয়েতে বয়ে যাওয়া বাতাসে বেসামাল হয়ে পড়া স্কার্ট সামলাতে মনরোর প্রানান্ত চেষ্টা করার সেই দৃ্শ্যটি এখনও মানুষের মনে সমান আবেদন ধরে রেখেছে। চলচ্চিত্র ইতিহাসের ‘সেরা আইকনিক পোশাক’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মনরোর ওই স্কার্টটি। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। জরিপে অংশ নেয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক উত্তরদাতা মনে করেন মনরোর সেই স্কা্র্টের চেয়ে সুন্দর পোশাক আর হতে পারে না। মেরিলিন মনরোর ওই স্কার্টটি ডিজাইন করেছিলেন উইলিয়াম ট্রাভিলা।

 

মনরোর এক জোড়া কানের দুল বিক্রি হলো কোটি টাকায়

২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে এক নিলামে মেরিলিন মনরোর এক জোড়া কানের দুল নিলামে তোলা হয়। নিলামে মুনরোর এই কানের দুল শেষমেশ বিক্রি হয় ১ লাখ ৮৫ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি। ১৯৫৫ সালে এই কানের দুল জোড়া পরেই 'দ্য রোজ ট্যাটু' ছবির প্রিমিয়ারে এসেছিলেন মেরিলিন।

 

 

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি