পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ওয়াসফিয়া নাজরীন: সেভেন সামিট জয়ে এগিয়ে যাওয়া এক নারীর গল্প

ওয়াসফিয়া নাজরীন১৯৫৩ সালের মে মাসের ২৯ তারিখে হিমালয়ের এই পর্বতশৃঙ্গে প্রথম পদচিহ্ন পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের স্যার অ্যাডমন্ড হিলারি এবং নেপালের শেরপা তেনজিংয়ের। প্রথম মানব পদচিহ্ন পড়ার পর দীর্ঘদিন চলে গেছে। অনেকেই হিলারি আর তেনজিংয়ের পথ ধরে সেখানে পৌঁছেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ হিমালয়ের কাছাকাছি দেশ হওয়ার পরও বাঙালির কাছে হিমালয় চূড়ায় পৌঁছানোটা ছিল স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নই প্রথম পূরণ করেন বাংলাদেশের তরুণ মুসা ইব্রাহীম। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ২০১০ সালের মে মাসে। দ্বিতীয় আরোহণকারী এম এ মুহিত গিয়েছিলেন পরের বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের ২৩ মে। ২০১২ সালের ১৯ মে নিশাত মজুমদারের এবং সর্বশেষ ওয়াসফিয়া নাজনীন ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশী হিসেবে এভারেস্ট চূড়া জয় করেন।  আজ আমরা ওয়াসফিয়া নাজরীনের এভারেস্ট জয়ের গল্প শুনবো।

 

ব্যক্তিগত জীবনী

প্রথমেই আসা যাক ব্যক্তিগত জীবনীতে। ওয়াসফিয়া নাজরীন ১৯৮২ সালের ২৭ অক্টোবর ঢাকাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ফেনীতে। ওয়াসফিয়া নাজরীনের পিতার নাম নাজসি জামান চৌধুরী এবং মা মালিহা চৌধুরী। তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র মেয়ে ওয়াসফিয়া নাজরীন। ওয়াসফিয়ার মা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বাবা বাংলাদেশের মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফরএভার লিভিং প্রডাক্টসের কান্ট্রি হেড। ওয়াসফিয়ার শৈশব-কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। ছোটবেলা থেকেই কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের মেয়ে ওয়াসফিয়া নাজরীন। বাবা-মার আদরে কোনো কিছুতেই বাধা পাননি তিনি।  ঢাকার স্কলাসটিকা স্কুল থেকে ও এবং এ লেভেল সম্পন্ন করেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এগনেস স্কট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান ওয়াসফিয়া। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওয়াসফিয়া যান স্কটল্যান্ডে। পড়ার বিষয় সামাজিক মনোবিজ্ঞান আর স্টুডিও আর্ট। পেশায় তিনি একটি এনজিওর উন্নয়ন কর্মী, কিন্তু নেশা তার পর্বতারোহণ। তাই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি নিজের উদ্যোগে গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট’ নামে একটি ফাউন্ডেশন। সেই থেকেই চলছে পর্বত অভিযান।

 

যেভাবে পর্বতারোহনের নেশা জাগলো

ওয়াসফিয়া নাজরীনের জন্ম ঢাকাতে হলেও তার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন বাবা-মায়ের সাথে চলে যান পার্বত্য চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামেই পাহাড় প্রেম শুরু। তারপর পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান। যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পর সেখানে ওয়াসফিয়ার সাথে পরিচয় হয় পর্বত অ্যাডভেঞ্চারকারীদের সাথে। মুক্ত তিব্বতের সমর্থক ওয়াসফিয়া তিব্বতিদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু দালাইলামারও স্নেহধন্য।

 

পর্বত আরোহণের জন্য নিজেকে গড়ে তোলা

খরস্রোতা পাহাড়ি ঝরনা বা নদীতে রাবারের নৌকা চালানো (র‌্যাফটিং), গ্লাইডারে ওড়া—অনেক কিছুই করেছেন ওয়াসফিয়া। ২০০৪ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের চাকরি নিয়ে আবার যান যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর ফিরে আসেন দেশে। কেয়ারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। ভারত, ভুটান, নেপাল ও তিব্বতের পাহাড়-পর্বতে শুরু হয় তাঁর ঘোরাফেরা। ধীরে ধীরে উঁচু পর্বতে ওঠা শুরু হয় ওয়াসফিয়ার। ২০০৯ সালে নেপালের লু রী, পরের বছর আইল্যান্ড পিক জয় করেন তিনি। এ দুটি পর্বতেরই উচ্চতা ছয় হাজার মিটারের ওপর।

 

এছাড়া যখন আটলান্টায় পড়াশোনা করার জন্য যান, তখন মানবতার পক্ষে নানা রকম আন্দোলনের কর্মী হিসেবে সক্রিয় হন। ইরাক যুদ্ধবিরোধী প্রচারণা, মানবতার পক্ষে বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিতেন ওয়াসফিয়া। অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানাতেন মানবতাবিরোধী নানা বৈশ্বিক ইস্যুর। ‘ধরুন প্ল্যাকার্ড নিয়ে ৩৫০ ফুট উঁচু দালানে দড়ি বেয়ে বেয়ে ওঠানামা, দড়ি বেঁধে উঁচু দালান থেকে ঝাঁপ দেয়া, বোঝা নিয়ে দেয়াল বাওয়া—এ সবই পরে কাজে লেগেছে পর্বত আরোহণে।’

 

পর্বত আরোহণের শুরু

সেই ছোট্টবেলা থেকেই পাহাড়-পর্বতের মধ্যে বেড়ে ওঠা ওয়াসফিয়া নাজরীন সাত মহাদেশের সাত চূড়া জয়ের অভিযান শুরু করেন ২০১১ সালের ৩ জুলাই। তবে ১ম অভিযানেই ব্যর্থ হন ওয়াসফিয়া নাজরীন। ইউরোপের সর্বোচ্চ চূড়া এলবার্স জয় করতে গিয়ে মাত্র ৩০০ মিটারের জন্য চূড়াটি জয় করতে পারেন নি ওয়াসফিয়া নাজরীন। এলবার্স চূড়ার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮,৫১০ ফুট। এলাবার্স চূড়ায় ওঠার দুটি পথ ছিল। একটি উত্তর দিক দিয়ে এবং অপরটি দক্ষিণ দিক দিয়ে। সচরাচর সবাই দক্ষিণ দিক দিয়েই এলবার্স চূড়া জয়ে নামেন। কিন্তু ওয়াসফিয়া নাজরীনদের গাইড তাদেরকে বলেন এই পথ দিয়ে যাওয়া যাবে না। বাধ্য হয়ে উত্তর দিকের দুর্গম পথ দিয়েই এলবার্স জয়ে নামেন ওয়াসফিয়ারা। এই পথে আগে থেকে কোনো রশি টানানো ছিল না। তাই তাদেরকেই রশি টানিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়েছিলো। এলবার্স চূড়ার ঠিক ৩০০ ফুট নিচে ‘লেনজ রক’ থেকে দুই বার শীর্ষে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু তুষার ঝড়ের কারণে ফিরে আসতে হয়। ৩য় বার যখন আবার চূড়ার উদ্দেশ্যে রহনা দিবেন তখন তাদের এক সহযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে সুস্থ করে তুলতে অনেকটা সময় কেটে যায়। ফলে ‘এলবার্স’ চূড়ায় উঠে আবার নিচে নেমে আসার মতো পর্যাপ্ত সময় তাদের হাতে আর ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে গাইডের পরামর্শ মেনে নিয়ে মাত্র ৩০০ ফুট নিচ থেকে ফিরে আসতে হয়।

 

আর্থিক যোগান

২০১১ সালে ‘সেভেন সামিট’ জয়ের ঘোষণা দেন ওয়াসফিয়া নাজনীন। তবে এর জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। এক মাউন্ট এভারেস্ট চূড়ায় উঠতেই প্যাকেজভেদে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডলার খরচ হয়। ওয়াসফিয়া তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া কিছু গয়না ও জমি বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছেন সেখান থেকে এসব অভিযানে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেন। এছাড়া অনেক মুক্তিযোদ্ধা তাকে সহযোগিতা করেছেন। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়াসফিয়া নাজনীনের এই সাত শীর্ষ চূড়ায় অভিযানে সমর্থন দিচ্ছে। এছাড়া আরও যতদূর জানা যায় বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।  

 

এরপরের গন্তব্য কিলিমানজারো চূড়া

সেভেন সামিট এর একটি হচ্ছে আফ্রিকার ‘কিলিমানজারো’। এটির উচ্চতা ৫,৮৯৫ মিটার বা ১৯, ৩৪০ ফুট। ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সেভেন সামিটের অংশ হিসেবে কিলিমানজারো অভিযানে তানজানিয়ার মোশি শহর থেকে শুরু করেন অভিযান। ‘কিলিমানজারো’ চূড়ায় উঠতে খুব একটা কষ্ট হয় নি ওয়াসফিয়ার। ২০১১ সালের ২ অক্টোবর স্থানীয় সময় সকাল ৭ টা ২৯ মিনিটে আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কিলিমানজারোর সর্বোচ্চ চূড়া ‘চূড়া উহুরু পিকে’র বুকে পা রাখেন ওয়াসফিয়া নাজনীন এবং উঁচিয়ে ধরেন লাল-সবুজের পতাকা।

 

এবারের যাত্রা অ্যাকোনকাগুয়া

২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ৪০তম বিজয় দিবসে বিজয় করেন আর্জেন্টিনায় অবস্থিত হিমালয়ের বাইরের সবচেয়ে উঁচু পর্বত অ্যাকোনকাগুয়া (২২,৮৩০ ফুট) জয় করেন ওয়াসফিয়া নাজনীন। ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার ‘মেনডোজা’ শহর থেকে যাত্রা শুরু করে। ১৬ই ডিসেম্বর বিকাল ৩ টা ২৫ মিনিটে চূড়ায় আরোহণ করেন ওয়াসফিয়া। কিন্তু এই চূড়ায় উঠতে গিয়ে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এই অভিযানে ওয়াসফিয়া ও তার গাইড সহ মোট ৫ জন ছিলেন। পাহাড়ে ওঠার ক্ষেত্রে যার যার জিনিসপত্র তাকেই বহন করতে হতো। প্রায় ১৮-২০ কেজি কাঁধে নিয়ে পর্বত আরোহন সত্যিই কষ্টকর। এই চূড়াটি জয় করতে অভিযাত্রী দলের কেউই অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করেননি। এজন্য অবশ্য তাদের অনেক অসুবিধা হয়েছিল এবং অভিযান শেষে ফিরে আসার পর সবাই-ই অসুস্থ হয়ে পড়েন।    

 

মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের গল্প

অ্যাকোনকাগুয়া জয়ের আগেই ঠিক করেন এর পরের গন্তব্য ‘মাউন্ট এভারেস্ট’। ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ তিনি নেপালের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন। ২৬ মার্চ কাঠমন্ডু থেকে ওয়াসফিয়া নাজনীন এভারেস্ট অভিযান শুরু করেন। ওয়াসফিয়া নাজনীন এভারেস্ট হাইওয়ে দিয়ে এভারেস্ট বেসক্যাম্পে পৌঁছেন ৬ এপ্রিল। ২০১২'র মৌসুমটি অনেক ভয়ানক ছিল কারণ, এভারেস্ট অনেক জীবন্ত ছিল৷ অনেক ধরনের দুর্ঘটনা যেমন তুষারধস, পাথর ভেঙ্গে পড়ার ঘটনা ঘটছে৷ এবছর যে পরিমাণ মানুষ নিহত এবং আহত হয়েছে, এরকম নাকি এভারেস্টের ইতিহাসে খুব কম হয়েছে৷  একটানা ৪২ দিন ঠান্ডা আবহাওয়া, প্রতিকূল পরিবেশ, সুউচ্চ পবর্ত, খুম্বু আইসকলের ভয়াল দংশন, বন্ধুর পথ, দুর্গমতা সব পেরিয়ে ক্যাম্প-১, ক্যাম্প-২, ক্যাম্প-৩ গেলেন। ততদিনে ধাতস্থ হয়েছেন ওই পরিবেশের সঙ্গে, অর্জন করেছেন পর্বত উপযোগী সহ্য ক্ষমতা।

 

১৭ মে চূড়ান্ত আরোহণের আগের দিন পড়লেন অ্যাভালাঞ্চের (বরফ ধসে) কবলে। হারিয়ে গেল প্রয়োজনীয় রসদসহ তাঁবু ও অতি প্রয়োজনীয় কৃত্রিম অক্সিজেন সিলিন্ডার। হারালেন সামিট পুশের সুযোগ। নেমে এলেন বেসক্যাম্পে। সব রসদ আর অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করে ২২ মে আবার বেসক্যাম্প থেকে অভিযান শুরু করেন। আবার খুম্বু আইসফল, ক্যাম্প-১, ক্যাম্প-২, ক্যাম্প-৩, ক্যাম্প-৪, ব্যালকনি, ফাস্টস্টেপ, সেকেন্ড স্টেপ, তারপর হিলারি স্টেপ হয়ে ২৬ মে সকাল ৬টা ৪১ মিনিটে পৌঁছালেন এমন এক উচ্চতায় যার উপর এই ভূপৃষ্ঠের আর কিছুই নেই। আছে শুধু আকাশ। এভারেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বাংলাদেশি নারীর হাতে উড়লো লাল-সবুজের পতাকা। আর সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশী হিসেবে জয় করলেন এভারেস্ট চূড়া। এভারেস্টের চূড়ায় তিনি ৩০ মিনিট। ওয়াসফিয়া নাজনীনের সাথে অন্য কোনো সঙ্গী ছিলেন না। সাথে ছিলেন আমেরিকার গাইড ক্রিস ক্লিঙ্কে এবং দুজন শেরপা নিমা গুরমে দর্জি ও কুসাং শেরপা। ওয়াসফিয়া নাজনীনের এভারেস্ট অভিযানের আয়োজক ছিলেন ‘হিমালয়া ডটকম’। ওয়াসফিয়া নাজনীনের এই এভারেস্ট অভিযানে তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন সিটি ব্যাংক, গাজী ফার্মস, রেনাটা লিমিটেড এবং জাগো ফাউন্ডেশন।

 

তবে বেস ক্যাম্প ৩ থেকে ক্যাম্প ৪ এ উঠার সময় প্রায় মৃত্যুর হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান ওয়াসফিয়া নাজনীন। এছাড়া এভারেস্ট জয় শেষে নামার সময়ও এক শেরপার অবদানের কারণে প্রাণ নিয়ে ফিরতে পেরেছিলেন। ‘‘সাউথ কোল এবং সাউথ সামিটের মাঝখানের ব্যালকনিতে পাথর ভেঙ্গে পড়ছিল, ওয়াসফিয়ার ডানদিকের কাঁধে তিনবার আঘাত লাগে৷ তবে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি৷

 

ভিনসন ম্যাসিফ জয়

সেভেন সামিট এর একটি হচ্ছে মাউন্ট ভিনসন ম্যাসিফ। এটি অ্যান্টার্কটিকার উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। এটির উচ্চতা ৪,৮৯২ মিটার। ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারী এটি জয় করেন। এর আগে ২৯ নভেম্বর কানাডায় পৌঁছান। সেখানে তিনি ৩০ বছর আগে প্রথম সেভেন সামিট জয়ী প্যাট্রিক মোরোর কাছ থেকে শীতল ঊষর জনহীন প্রান্তরে তিন সপ্তাহের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন এবং সেদেশের  আবহাওয়ায় নিজেকে অভ্যস্ত করে  তোলেন। সবশেষে তিনি ২৯ ডিসেম্বর ২০১২ চিলি থেকে অ্যান্টার্কটিকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ২৯ ডিসেম্বর অ্যান্টার্কটিকা পৌঁছার পর পাহাড়ে উঠতে আমার আরো ৬ দিন সময় লাগে। এভারেস্ট এর চেয়ে ‘ভিনসন ম্যাসিফ’ এর মূল পার্থক্য পরিবেশ। কারণ মাইনাস ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অ্যান্টার্কটিকায় আরোহণ করতে হয়। এখানে সবকিছুই বরফে ঢাকা। ব্র্যাক, বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংক ওয়াসফিয়ার অ্যান্টার্কটিকা অভিযানের ব্যয়ভার বহন করে। পরবর্তীতে ওয়াসফিয়া ব্র্যাকের হয়ে কাজ করে এই টাকা পরিশোধ করে দেন।

 

মাউন্ট এলব্রুস জয়

এলব্রুস পর্বত রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের দক্ষিণাংশে, জর্জিয়ার সাথে রাশিয়ার সীমান্তের ঠিক উত্তরে অবস্থিত একটি পর্বত। ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় সকাল ৯ টা ৫১ মিনিটে ইউরোপের এই সর্বোচ্চ চূড়া জয় করেন ওয়াসফিয়া নাজনীন। জর্জিয়া সীমান্তের কাছে রাশিয়ার ককেশাস রেঞ্জে অবস্থিত মাউন্ট এলব্রুসের উচ্চতা ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঁচ হাজার ছয়শ' বেয়াল্লিশ মিটার। ওয়াসফিয়া নাজনীন এই অভিযান শুরু করেন ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ। এই পর্বত শৃঙ্গটি জয় করতে গিয়ে ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে চলা বাতাস ও প্রচন্ড ঠান্ডার সাথে লড়াই করতে হয়েছে ওয়াসফিয়াকে। এমনও সময় গিয়েছে যে, ভারী তুষারপাতের কারণে সামনের কোনো কিছুই দেখতে পান নি। এই শৃঙ্গ জয় করতে গিয়ে ওয়াসফিয়াকে 'স্নো ব্লাইন্ডনেস' এ আক্রান্ত হতে হয়েছে।

 

সেভেন সামিট এর ৫টি জয় করা হয়ে গেছে

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টসহ দক্ষিণ আফ্রিকার কিলিমানজারো, দক্ষিণ আমেরিকার আকোনকাগুয়া এবং অ্যান্টার্কটিকার ভিনসন ম্যাসিফ এরই মধ্যে জয় করেছেন তিনি। মাউন্ট এলব্রুস জয়ে মধ্যদিয়ে তার পঞ্চম চূড়ার অভিযানও সফলভাবে শেষ হলো।

 

পদে পদেই ছিল বাধা:

একে তো এভারেস্ট জয়ের ক্ষেত্রে বৈরী স্থান ও আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করতে হয়। সেই সাথে আরও অনেক কিছুর সাথে যুদ্ধ করতে হয়েছে ওয়াসফিয়া নাজনীনকে। ২০০৭ সালে একবার এভারেস্ট চূড়া জয়ের লক্ষ্যে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চীনারা সেবার ওয়াসফিয়াকে উঠতে দেয়নি। কারণ তার ব্যাগে দালাইলামার ছবি সম্বলিত বই ছিল। তারা তাকে বলেছিল, তুমি জীবনে আর কোনোদিন তিব্বতে পা রাখতে পারবে না। তবে ওয়াসফিয়াও কম যান না। সেদিনের সেই জেদের বশবর্তী হয়ে এভারেষ্টে উঠে নেপাল অংশ থেকে তিব্বতের দিকে ৫০ ফুট নেমে গিয়ে দালাইলামার একটি ছবি বরফে পুতে তার ছবি তুলে এনেছে। এছাড়া তাদের গ্রামের কিছু রক্ষণশীল পরিবারও ওয়াসফিয়ার এই পর্বত অভিযানের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগেন। এভারেস্ট জয়ের পর সেই তারাই আবার ওয়াসফিয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেন।   

 

ওয়াসফিয়া নাজনীন হচ্ছেন বাংলাদেশে সবচেয়ে কম বয়স্ক এভারেস্ট জয়ী মহিলা তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৯। ওয়াসফিয়া প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশী মহিলা যিনি হিমালয়ের বাইরে সর্বোচ্চ পর্বত আফ্রিকার একনকাগুয়া জয় করেন। তিনি একই সঙ্গে এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ভিনসনে আরোহণ করেন।

 

ভিডিও গ্যালারী:

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি