পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

এম. এ. মুহিত: এভারেস্ট জয়ের গল্প

বাংলাদেশের যে চারজন পর্বত আরোহী এভারেস্ট চূড়া জয় করেছেন তার মধ্যে ২য় হলেন এম.এ. মুহিত। তবে এম.এ. মুহিত ও মুসা ইব্রাহিমকে নিয়ে অমীমাংসিত একটি বিতর্ক রয়েছে। আর তা হলো প্রথম কে এভারেস্ট জয় করেছে। যাক আমরা সে বিতর্কে না গিয়ে আসুন এম.এ. মুহিতের এভারেস্ট জয়ের গল্প শুনি।

 

জন্ম ও পরিবার

এম. এ. মুহিতের জন্ম ১৯৭০ সালের ৪ জানুয়ারি সাগর-নদী বেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার গঙ্গাপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মনোয়ার হোসেন এবং মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম। ছোটবেলা থেকেই বড় হয়েছেন পুরনো ঢাকায়। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ভাইদের মধ্যে মুহিত সবার বড়।

 

পড়ালেখা:

পুরনো ঢাকার শাখারীবাজারে অবস্থিত পোগোজ স্কুল থেকে ১৯৮৫ সালে এস.এস.সি পাস করেন মুহিত। ১৯৮৭ সালে নটরডেম কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং ১৯৮৯ সালে সিটি কলেজ থেকে বি.কম পাস করেন।

 

পর্বত জয়ের নেশা যেভাবে ভর করলো

সেই সর্বপ্রথম এভারেস্ট জয় করা এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগের কৃতিত্ব সম্পর্কে পাঠ্যপুস্তকে পড়ে পর্বত জয়ের নেশা চেপে বসে মুহিতের মনে। ১৯৯৭ সালে বন্ধুদের সাথে সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় দিয়ে পর্বত আরোহণের সূচনা করেন মুহিত। এরপর সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হকের কাছ থেকে ট্রেকিং ও ফটোগ্রাফিতে হাতেখড়ি নেন। সময়টা ছিল ২০০৩ সাল। এই ইনাম আল হকই মুহিতকে এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখান। একই বছর ইনাম আল হক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব’ এর সদস্য হন মুহিত।  

 

 

যেভাবে নিজেকে গড়ে তুললেন

যে কেউ চাইলেই পর্বত আরোহণ করতে পারবে না এটা আমরা জানি। এই পর্বত আরোহণের জন্য করতে কঠোর অনুশীলন। এম. এ. মুহিত ২০০৪ সালে ভারতের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে মৌলিক পর্বত আরেহণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই কোর্সে তিনি A (Alpha) গ্রেড অর্জন করেন। এরপর ২০০৫ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর পর্বত আরোহণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এবারও তিনি A (Alpha) গ্রেড অর্জন করেন।

 

এভারেস্ট জয়ের আগে কিছু সফল অভিযান

  • ২০০৭ সালের ১৬ মে চুলু ওয়েস্ট পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন মুহিত। এই পর্বতটির উচ্চতা ৬,৪১৯মি. / ২১,০৫৯ ফুট।
  • ২০০৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জয় করেন মেরা পর্বতশৃঙ্গ। এই পর্বতটির উচ্চতা ৬,৬৫৪মি. / ২১,৮৩০ ফুট। এই অভিযানে এম. এ. মুহিত দলনেতা ছিলেন।
  • ২০০৮ সালের ৪ জুন জয় করেন সিংগুলি পর্বতচূড়া। এটির উচ্চতা ৬,৫০১মি. / ২১,৩২৮ ফুট।
  • ২০০৯ সালের ১৯ মে জয় করেন লবুজে পর্বতচূড়া। এই পর্বতটির উচ্চতা ২০,০৭৫ ফুট / ৬,১১৯ মিটার। এই অভিযানেও মুহিত দলনেতা ছিলেন।
  • ২০০৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জয় করেন চো-ইয়ো পর্বতশৃঙ্গ। পৃথিবীর ৬ষ্ঠ উচ্চতম এই পর্বতটির উচ্চতা ৮,২০১মি. / ২৬,৯০৬ ফুট। এর মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো বাংলাদেশী ২৬ হাজার ৯০৬ ফুট বা ৮ হাজার ২০১ মিটার পর্বতারোহীদের সম্মানজনক এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেন।
  • ২০০৯ সালের ১৮ অক্টোবর জয় করেন নেপাল-বাংলাদেশ মৈত্রী শিখর। পর্বতটির উচ্চতা ২০,৫২৮ ফুট / ৬,২৫৭ মিটার।

 

হিমালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু

এসব পাহাড় পর্বতে অভিযান পরিচালনা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। প্যাকেজ ভেদে ৪০-৮০ হাজার ডলার খরচ হয়। এম.এ. মুহিতের খরচ হয়েছিল ৩৫ হাজার ডলার। যা সে সময় বাংলাদেশী টাকায় দাঁড়িয়েছিল ২৪,৫০,০০০ টাকা। মুহিতের এই টাকার যোগান দেয় বেশ কিছু কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে নেপালের কাঠমুন্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুহিত। মুহিতদের দলে মোট অভিযাত্রীর সংখ্যা ছিল ৭ জন। প্রথমদিকে মুহিতের নেপালের সাউথ সাইড দিয়ে অভিযান শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও তাদের দলের মার্কিন সদস্যদের অনীহার কারণে তিব্বতের নর্থ সাইড দিয়ে অভিযান শুরু করেন। তিব্বতের উদ্দেশ্যে ১৯ এপ্রিল কাঠমুন্ডু থেকে রওনা দেন মুহিত।

 

এভারেস্ট জয়ের শুরু

তিব্বত থেকে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে যাওয়ার পথে ১৪ হাজার ফুট উপরে তিংরি নামক একটি ছোট শহর রয়েছে। ২০ এপ্রিল সেখানে পৌঁছার পর দুই রাত সেখানে অবস্থান করেন। ২২ এপ্রিল বেস ক্যাম্পে গিয়ে পৌঁছেন। বেস ক্যাম্পটি ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত। সেখানে ২২ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত অবস্থান করেন। এর ঠিক ১ হাজার ৯০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মিডেল ক্যাম্প। ২৭ এপ্রিল বেস ক্যাম্প থেকে মিডেল ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং ২৮ এপ্রিল এই মিডেল ক্যাম্পে এসে পৌঁছেন। মিডেল ক্যাম্প থেকে সেই দিনই অ্যাডভান্স বেস ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ২৯ এপ্রিল সেখানে গিয়ে পৌঁছেন। এই ক্যাম্পের উচ্চতা ২১,৩০০ ফুট। এখান থেকেই এভারেস্ট জয়ের মূল যাত্রা শুরু হয়। এখান থেকেই শুরু হয় সকল প্রতিকূলতার। ২৯ এপ্রিল এখানে এসে পৌঁছলেও তুষারপাত ও ঝড়ের কারণে ১৮ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় মুহিতদের যাত্রা শুরু করার জন্য। ১৮ মে সকাল ১০ টায় ক্যাম্প-১ এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন মুহিতরা। এডভান্স বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প-১ এর দূরত্ব ১,৮০০ ফুট। এই পথ পাড়ি দিয়ে যখন তারা ক্যাম্প-১ এ পৌঁছেন তখন ঘড়ির কাটা ৩:৩০ এর ঘরে। সেদিনের রাতটা ক্যাম্প-১ এ কাটিয়ে দেন মুহিতরা। এবারের লক্ষ্য ক্যাম্প-২। ক্যাম্প-১ থেকে ক্যাম্প-২ এর উচ্চতা ২,৫০০ ফুট। ১৯ মে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে ক্যাম্প-২ এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তারা। বিকাল ৪ টা নাগাদ তারা ক্যাম্প-২ গিয়ে পৌঁছেন। রাতে তারা ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করেন। তার পরের দিন, অর্থাৎ ২০ মে ক্যাম্প -২ থেকে ১,৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ক্যাম্প-৩ এর পথে হাঁটা শুরু করেন সকাল ৮ টায়। সেখানে পৌঁছার পর রাত ৯ টা নাগাদ সেখানেই বিশ্রাম গ্রহণ করেন তারা।

 

হিমালয়ের চূড়ার জয়ের পথে

ক্যাম্প-৩ থেকে এবার স্টেপ ১, ২ এবং ৩ পার হলেই মাত্র ৫৩০ ফুট উপরে হিমালয় চূড়া অবস্থিত। রাত নয়টা পর্যন্ত ক্যাম্প-৩ তে বিশ্রাম গ্রহণের পর হেড লাইট জ্বালিয়ে হিমালয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন মুহিতরা। মুহিতরা যখন ক্যাম্প-৩ তে পৌঁছেন তখন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রাত ৯টায় গিয়ে পৌঁছে মাইনাস ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। এই আবহাওয়ার মধ্যেই যাত্রা শুরু করতে হয়। ক্যাম্প-৩ থেকে ৭০০  ফুট উপরে ২৭,৯০০ ফুট উঁচুতে স্টেপ-১ অবস্থিত। সেখানে তারা পৌঁছেন রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে। স্টেপ-১ থেকে ৩০০ ফুট উপরে ২৮,২০০ ফুট উঁচুতে স্টেপ-২ এ পৌঁছেন রাত ২ টায়। আর স্টেপ-২ থেকে ৩০০ ফুট উপরে ২৮,৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত স্টেপ-৩ অতিক্রম করেন ভোর ৫ টায়। আগেই বলেছি স্টেপ-৩ থেকে হিমালয় চূড়ার দূরত্ব মাত্র ৫৩০ ফুট। অবশেষে ২১ মে নেপাল স্থানীয় সময় সকাল ৭ টায় এভারেস্ট চূড়ায় পা রাখেন এম.এ. মুহিত। এভারেস্ট চূড়ায় মুহিত ৩০ মিনিট ছিলেন। এভারেস্ট চূড়ার বাতাসের স্বাদ গ্রহণের জন্য ১০ মিনিট কৃত্রিম অক্সিজেন গ্রহণ বন্ধ রাখেন।  

 

এভারেস্ট চূড়া থেকে ফিরে আসা

হিমালয় চূড়ায় ওঠার মতো, হিমালয় চূড়া থেকে নেমা আসাটাও কিন্তু কঠিন। ২১ মে সকাল ৭ টায় এভারেস্ট চূড়া জয় করার পর সেদিন সন্ধ্যা নাগাদ ক্যাম্প-২ এ ফিরে আসেন মুহিত। তার পরের দিন অর্থাৎ, ২২ তারিখ ক্যাম্প ১ হয়ে অ্যাডভান্স বেস ক্যাম্প এ আসেন। সেখানে দুই দিন থাকার পর ২৪ মে বেস ক্যাম্পে আসার পর সেখান থেকে তিংরি নামের সেই ছোট শহরটিতে চলে আসেন। সেখানে এক রাত থাকার পর ২৫ মে আসেন কাঠমুন্ডুতে এবং ২৮ মে পা রাখেন বাংলাদেশের মাটিতে।

 

পদে পদে ছিল বিপদ

এই জয়ের পথে মৃত্যু ভয় ছিল পদে পদে৷ এম. এ. মুহিতের  সামনেই একজন অভিযাত্রী মারা গেছেন৷ তাঁর নিজের চোখও অবশ হয়ে গিয়েছিল৷  

 

পুনরায় এভারেস্ট জয়

২০১২ সালের ১৯ মে দ্বিতীয়বারের মতো এভারেস্ট জয় করেন এম. এ. মুহিত। তিনি দ্বিতীয় বাংলাদেশি এবং পঞ্চম বাঙালি হিসেবে দুবার এভারেস্টশৃঙ্গ জয় করে হয়েছেন গর্বিত ইতিহাসের অংশ। এমএ মুহিতই এক মাত্র বাঙালি যিনি উত্তর ও দক্ষিণ দুই দিক থেকে এভারেস্ট জয় করেছেন।

 

 

 

ব্যর্থ কিছু অভিযানের গল্প

২০১১ সালের ২১ মে তিব্বত দিয়ে এভারেস্ট জয় করেন মুহিত। এভারেস্ট জয়ের পরই আলোচনায় চলে আসেন মুহিত। তবে এভারেস্ট জয়ের আগে আরও অনেক পর্বত অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন মুহিত। এর কোনোটায় সাফল্য পেয়েছেন, আবার কোনোটায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। ২০০৪ সালের মে মাসেও একবার এভারেস্ট জয়ে নেমেছিলেন এম. এ. মুহিত। কিন্তু সেবার ১৭,০০০ ফুট ওঠার পর ফিরে আসতে হয় মুহিতকে। এভারেস্টের মোট উচ্চতা ২৯,০২৯ ফুট। ২০১০ সালেও একবার এভারেস্ট জয়ে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন এম. এ. মুহিত। ২০১৩ সালের এপ্রিল-মে মাসে পৃথিবীর ৩য় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজংঘা পর্বত শৃঙ্ঘ জয়ে অভিযানে নামেন মুহিত। এটির উচ্চতা ৮,৫৮৬মি.  বা  ২৮,১৬৯ ফুট। কিন্তু ৭,৬০০মি. বা ২৫,০০০ ফুট  ওঠার পর খারাপ আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসতে হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পৃথিবীর ১৪ তম পর্বতশৃঙ্গ শিশাপাংমা অভিযানে নামেন মুহিত। এটির উচ্চতা ৮,০১৩মি. / ২৬,২৮৯ফুট। এবারও খারাপ আবহাওয়ার কারণে ব্যর্থ হয়েই ফিরে আসতে হয়।

 

অনন্য এম. এ. মুহিত

পৃথিবীতে এভারেস্টের সমকক্ষ ৮,০০০ মিটারের (২৬,২৫০ ফুট) অধিক উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গ আছে ১৪টি।  এম এ মুহিত পৃথিবীর একমাত্র বাঙালী যিনি চার বার জয় করেছেন ৮,০০০মিটারের চেয়ে উঁচু তিনটি পর্বতশৃঙ্গ: এভারেস্ট (উত্তর ও দক্ষিণ দিক দিয়ে দু’বার আরোহন করেছেন), চো-ইয়ো এবং মানাসলু।  এছাড়াও তিনি হিমালয়ের ছয়টি ৬,০০০ মিটার উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গ: চুলু ওয়েস্ট, মেরা পর্বতশৃঙ্গ, সিংগু চুলি, লবুজে, ইমজাৎসে ও নেপাল-বাংলাদেশ মৈত্রী শিখর (অবিজিত এই শিখরে প্রথম সফল আরোহনের সম্মানে ‘নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন’ এই নামকরনের ব্যবস্হা করে)।

 

টুকরো কিছু তথ্য

  • মুহিত বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের ও একজন সদস্য ও খুব ভাল পাখির ছবি তোলেন ।
  • সভাপতি, বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং এন্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)
  • বর্তমানে মুহিত প্যারাগন গ্রুপের প্যারাগন প্লাস্ট ফাইবারের মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।

 

এম. এ. মুহিতের একটি সাক্ষাৎকার

অণু- এর আগে বাংলাদেশের পর্বতারোহীর এভারেস্ট জয়ের প্রমাণের অভাব নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, যথেষ্ট উপাত্ত ছিল না বলেই শুনেছি, তা হলে এভারেস্ট জয়ের প্রমাণ হিসেবে আমরা কি ধরনের জিনিস দেখে নিঃসন্দেহ হতে পারি?

মুহিত- দেখুন এভারেস্ট বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গ বটে, কিন্তু এর উপর থেকেই বিশ্বের ৪র্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎ সে, ৫ম উচ্চতম শৃঙ্গ মাকালু, ৬ষ্ঠ উচ্চতম শৃঙ্গ চৌ য়ু দেখা যায়। আপনি যেখান থেকেই ছবি তুলেন না কেন, এই ৩ চূড়ার একটি না একটি অবশ্যই আপনার ছবিতে থাকবে, এটি একটি বড় প্রমাণ।

এছাড়া অবশ্যই সাথের উচ্চতামাপক যন্ত্র অল্টিমিটারের ছবিও প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে আবহাওয়া মেঘলা থাকলে।

অণু- তাহলে কি ধরে নিব প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ীর নাম এম এ মুহিত?

মুহিত- এই বিষয়ে আমি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু বলতে নারাজ, কিন্তু মিডিয়ার কারণে যেহেতু বাংলাদেশে পর্বতারোহণ অনেক জনপ্রিয় হয়েছে বর্তমানে, তারা চাইলেই এই সত্যটি উদঘাটন করতে পারে।

অণু- তরুণদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য?

মুহিত- বি এম টি সির অন্যতম শ্লোগান হচ্ছে ধূমপানের বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে পর্বতারোহণ। তরুণেরা যেন প্রকৃতি প্রেমে মশগুল থেকেই জীবনের আনন্দকে খুঁজে নেয়। সেই সাথে তারা যেন জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে সবসময় মনে রাখে – Never stop exploring.

অণু – আপনার পর্বতারোহীর হয়ে ওঠার পিছনে কাদের অবদান সবচেয়ে বেশী মনে করেন ?

মুহিত- শুধুমাত্র একজনের কথা বলতে হলে আমি অবশ্যই ইনাম আল হকের কথা বলব, তিনি একজন ব্যক্তি নন, তিনি একজন প্রতিষ্ঠান। ইনাম আল হক বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে পাখি দেখা, প্রকৃতিতে যাওয়া, পাহাড়ে হাইকিং, পর্বতারোহণ ইত্যাদিতে দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন নিঃস্বার্থ ভাবে অনেক অনেক বছর ধরে, এবং অন্য অনেকের মত তিনি কেবলমাত্র পথ দেখিয়ে দিয়েই সরে যান নি, সবসময় আমাদের পথ তৈরি করে দিয়ে , আমাদের হাত ধরে নিয়ে এগিয়েছেন। তার জন্যই আজ বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা পাখি পর্যবেক্ষণ করে, হিমালয় জয়ের স্বপ্ন দেখে।

অণু- পর্বতের বিশেষ কোন স্মৃতি?

মুহিত- অবশ্যই মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে দাঁড়াবার সময়টুকু ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্ত।

সেই সাথে মনে পড়ে বারকয়েক সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছি স্রেফ কপাল জোরে, একবার তো এক ইউরোপিয়ান সহ অভিযাত্রী আমার মাত্র ৩০মিনিট আগে রওনা দেন, এবং তুষারধ্বসের ( অ্যাভালাঞ্জ) কবলে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া চৌ য়ু অভিযানের সময়ও একজন মার্কিন পর্বতারোহী মারা যান, এইগুলো মনে সাংঘাতিক ভাবে পীড়া দেয়, কিন্তু তারপরও এই ঝুঁকি নিয়েই মৃত্যুকে জয় করার পাগলপারা নেশাকে সঙ্গী করেই আবার শুরু করি নতুন পর্বতে অভিযান।

তবে বিশেষ করে ২০০৯ সালের চৌ য়ু অভিযানের কথা বিশেষ ভাবে মনে পড়ে, সেটি ছিল ৮০০০ মিটার উচ্চতায় বাংলাদেশের প্রথম কোন সাফল্য, এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

আমার সঙ্গী ছিল তারেক অণু, সে অক্সিজেনের স্বল্পতা জনিত কারণে কয়েকদিনের জন্য বিশ্বের উচ্চতম অ্যাডভান্স বেস ক্যাম্পে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েও দলগত সাফল্যের কথা চিন্তা করে এবং ধেয়ে আসা খারাপ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে আমাকে একাই শিখর জয়ে উৎসাহিত করে।

 

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি