পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ওয়ারেন বাফেট - শৈশব ও মিলিওনিয়ার হয়ে ওঠার গল্প

ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট

কংগ্রেস নির্বাচন প্রাথী বাবা হাওয়ার্ড বাফেট ও মা লিলা বাফেট এর ঘরে নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহাতে ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন ওয়ারেন বাফেট। তার পূর্ণ নাম ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট। বাফেট হলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। রোজ হিল এলিমেন্টারি স্কুলে বাফেট পড়ালেখা শুরু করেন। ১৯৪২ সালে বাফেটের বাবা কংগ্রেসে নির্বাচিত হন এবং সপরিবারে ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে আসেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বাফেট অ্যালিস ডিল জুনিয়র হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং উড্রো উইলসন হাই স্কুল থেকে পাস করেন।

ওয়ারেন বাফেটের শৈশব

 

শৈশবেই শেয়ার বাজারে প্রবেশ

ছোট থেকেই বাফেট অর্থ উপার্জন ও সংগ্রহের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। তিনি অল্প কিছুকাল তাঁর দাদার মুদি দোকানে কাজ করেছিলেন। স্কুলে থাকাকালে বাফেট পত্রিকা, কোকাকোলা ইত্যাদি বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। ছোটকালেই বাফেটের শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগের উপর আগ্রহ জন্মায়। দশ বছর বয়সে বাফেট নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ দেখতে নিউ ইয়র্ক শহরে আসেন। ১১ বছর বয়সে তিনি তিনটা শেয়ার ক্রয় করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তিনি জমা দেন আয়কর রিটার্ন। সেখানে তিনি নিজেকে সংবাদপত্র বিলিকারী হিসেবে পরিচয় দেন।

 

স্কুলে থাকতেই বাফেটের ব্যবসায় যাত্রা শুরু

১৯৪৫ সালে তিনি হাই স্কুলে থাকতেই এক বন্ধুর সঙ্গে ব্যবহার করা একটি পিনবল মেশিন কেনেন মাত্র ২৫ ডলারে। মেশিনটি বসানোর মতো জায়গা ছিল না তাদের। তারা এক নাপিতের দোকানের ভেতরে তা বসিয়ে দিলেন। এর মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তারা বিভিন্ন স্থানে বসালেন একই রকম তিনটি মেশিন। এভাবেই তার ব্যবসায় যাত্রা শুরু।

 

বাফেটের ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতির প্রতি বিশেষ আগ্রহ 

বাফেটের ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতির প্রতি বিশেষ আগ্রহ

১৯৪৭ সালে বাফেট ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়াতে ভর্তি হন। সেখানে তিনি প্রায় দুই বছর পড়ালেখা করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ নেব্রাস্কা-লিঙ্কন থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক হন। এরপর তিনি কলাম্বিয়া বিসনেস স্কুলে ভর্তি হন। বাফেটের কলাম্বিয়া বিসনেস স্কুলে ভর্তি হওয়ার একটাই কারণ তার প্রিয় শিক্ষক “বেঞ্জামিন গ্রাহাম” যিনি তৎকালীন সময়ের আমেরিকান ইনভেষ্টমেন্ট গুরু বলে বিবেচিত হতেন। বেঞ্জামিন গ্রাহামের লেখা “দি ইনট্যালিজেন্ট ইনভেষ্টর” বইটির প্রচণ্ড ভক্ত ছিলেন বাফেট। শুধুমাত্র গ্রাহামের কাছ থেকে শিক্ষা লাভের জন্য স্নাতোকোত্তর পর্যায়ে বাফেট ছুটে এসেছিলেন কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলে। এখানেই শেষ নয় তিনি গ্রাহামকে আকৃষ্ট করার জন্য তাঁর দি ইনট্যালিজেন্ট ইনভেষ্টর বইটি সম্পুর্ন মুখস্থ করে ফেলেছিলেন এবং ক্লাসে গ্রাহামের যে কোন প্রশ্নের উত্তরের জন্য সব সময় হাত উচিয়ে রাখতেন। ১৯৫১ সালে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকত্তোর হন। 

 

সেলসম্যান হিসেবে চাকরি শুরু

১৯৫১ থেকে ’৫৪ পর্যন্ত বাফেট-ফক অ্যান্ড কো.-তে ইনভেস্টম্যান সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করেন। নিউ ইয়র্কে গ্রাহাম-নিউম্যান করপোরেশনে সিকিউরিটি এনালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৫৪ থেকে ’৫৬ পর্যন্ত। এছাড়া তিনি বাফেট পার্টনারশিপ লি., বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ইনস্যুরেন্সসহ বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি করেছেন। এর বেশির ভাগই এখন তার নিজের।

 

মিলিয়নিয়ার বাফেট

মিলিয়নিয়ার বাফেট

১৯৬২ সালে তিনি পরিণত হন মিলিয়নিয়ারে। বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে হলো একটি টেক্সটাইল কারখানা। এখানকার প্রতিটি শেয়ার তিনি ৭.৬০ ডলারে জনগণের মাঝে ছেড়ে দেন। এক পর্যায়ে ১৯৬৫ সালে প্রতি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানি ১৪.৮৬ ডলার দেয়। এর মধ্যে ফ্যাক্টরি এবং সরঞ্জাম দেখানো হয়নি। এরপর তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেন চেস-এর নাম ঘোষণা করেন। ১৯৭০ সালে তিনি শেয়ার হোল্ডারদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত চিঠি লেখা শুর্ব করেন। শেয়ারহোল্ডারদের কাছে এ চিঠি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। এ সময়ে বেতন হিসেবে তিনি বছরে পেতেন ৫০ হাজার ডলার। ১৯৭৯ সালে তার বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে প্রতি শেয়ারের জন্য ৭৭৫ ডলার দিয়ে ব্যবসা করতে থাকে। এই শেয়ারের দাম ১৩১০ ডলার পর্যন্ত ওঠে। এ সময়ে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬২ কোটি ডলার। এর ফলে ফরবিস ম্যাগাজিনে প্রথমবারের জন্য তিনি ফরবিস ৪০০-তে স্থান পান।

 

বিল গেটসকে হটিয়ে বাফেট বিশ্বের সবচেয়ে ধনী

২০০৮ সালে বিল গেটসকে হটিয়ে বাফেট বিশ্বের সবচেয়ে ধনী

২০০৮ সালে তিনি বিল গেটসকে হটিয়ে নিজে হন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী। ফরবিসের মতে তখন তার সম্পদের পরিমাণ ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। তবে ইয়াহু’র মতে তার তখনকার সম্পদের পরিমাণ ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এর আগে পর পর ১৩ বছর ফরবিস ম্যাগাজিনের হিসাবে বিশ্বের এক নম্বর ধনী ছিলেন বিল গেটস। এর পর ২০০৯ সালে গেটস তার শীর্ষস্থান পুনর্বদ্ধার করেন। দ্বিতীয় স্থানে চলে আসেন ওয়ারেন বাফেট। ২০০৮ থেকে ২০০৯ অর্থবছরে ওয়ারেন বাফেট লোকসান করেছেন ১২০০ কোটি ডলার।

 

অবশেষে আইবিএম কোম্পানির শেয়ার ক্রয় এবং মিডিয়া জেনারেল কোম্পানির স্বত্ত

আইবিএম কোম্পানির শেয়ার ক্রয় এবং মিডিয়া জেনারেল কোম্পানির স্বত্ত

২০১১ সালের আট মাস ধরে বাফেট আইবিএম কোম্পানির ৬৪ মিলিয়ন শেয়ার ক্রয় করেন। যার মোট মূল্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার। এই অনাকাঙ্খিত বিনিয়োগ আইবিএম কোম্পানিতে তাঁর মালিকানা ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে। এর পূর্বে বাফেট বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেকবার বলেছিলেন যে তিনি কোন প্রযুক্ত খাতে বিনিয়োগ করবেন না। কারণ প্রযুক্তি বিষয়ে তিনি ভালভাবে বোঝেন না। তাই এ পদক্ষেপে অনেক পর্যবেক্ষক ও বিনিয়োগকারী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বাফেট এ ব্যাপারে বলেন যে, তিনি কর্পোরেট গ্রাহকদের ধরে রাখার বিষয়ে আইবিএম এর সক্ষমতা তাঁকে অবাক করেছে। তিনি বলেন "আমি এমন কোন বড় কোম্পানি দেখিনি যেটি তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আইবিএম এর মত এতটা সুনির্দিষ্ট।" ২০১২ সালে ওয়ারেন বাফেট মিডিয়া জেনারেল কোম্পানির স্বত্ত কিনে নেয়। কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রকাশিত ৬৩টি সংবাদপত্রের মালিক। একই বছরে এটি বাফেটের দ্বিতীয় সংবাদপত্র কোম্পানি ক্রয়।

 

ওয়ারেন বাফেটের রাফ খাতা

ওয়ারেন বাফেটের মতে, সফল প্রতিষ্ঠানের গ্রস প্রফিট মার্জিন থাকে সাধারণত ৫০-এর ওপর। বিনিয়োগের আগে তিনি এ ছোট্ট হিসাবটি সেরে নেন। তার রাফ খাতায় লেখাই থাকে অনেক প্রতিষ্ঠানের গ্রস প্রফিট মার্জিন। তার নোটসহ সেখান থেকে যা বোঝা যায় তা হল- কোকাকোলার গ্রস প্রফিট মার্জিন ৬০ (স্থিতিশীল), রেটিং কোম্পানি মুডিস ৭৩, বার্লিংটন নর্দান রেলরোড ৬১ ও রিগলি গামের ৫১ শতাংশ প্রভৃতি। ঝুঁকিপ্রবণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় গ্রস প্রফিট মার্জিনের উল্লেখ ছিল এভাবে— ইউনাইটেড এয়ারলাইনস (আপদমস্তক দেউলিয়া) ১৪, জেনারেল মোটরস ২১ (পক্ষাঘাতগ্রস্ত) ও ইউএস স্টিল ১৭ শতাংশ (মাঝে মধ্যে লোকসানেও পড়ে)। মজার একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় বাফেটের খাতায়। গাড়ির চাকার ব্যবসার নির্দিষ্ট সিজন নেই। অনেকের ধারণা সারা বছরই যেহেতু চলে; এ ব্যবসায় লস নেই। আসলে ধারণাটি ভুল। বাফেট উল্লেখ করেছেন, গুডইয়ার টায়ারের গ্রস প্রফিট মার্জিন ২০ শতাংশ। তার মানে এ ধরনের ব্যবসার অন্তর্নিহিত অর্থনীতি শক্তিশালী নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গ্রস প্রফিট মার্জিনও নির্ণয় করা যায় এভাবে। প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্য এড়িয়ে চলেন বাফেট। ফলে তার খাতায় এর শিরোনামের পাশে লেখা— ‘ঠিকমতো বুঝি না’।

 

রাজনৈতিক জীবনে বাফেট

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণায় বাফেট এবং ক্যালিফোর্নিয়ার
রিপাবলিকান গভর্নর আর্নল্ড সয়ার্জনিগারের ২০০৩ সালের নির্বাচনী প্রচারণার বাফেট আর্নল্ডের অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন

রাজনৈতিক জীবনে বাফেট আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণা ও ওবামার নির্বাচনী অর্থ সংগ্রহের কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে ওবামা ও তার প্রতিপক্ষ জন ম্যাকেইন উভয়ই বাফেটকে ভবিষ্যত সম্ভাব্য ট্রেজারি সেক্রেটারি বলে আখ্যায়িত করেন। তবে তৃতীয় ও শেষ ডিবেটে ওবামা তাকে একজন সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। তাছাড়া বাফেট ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর “আর্নল্ড সয়ার্জনিগারের” ২০০৩ সালের নির্বাচনী প্রচারণার অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন।

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি