পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ওয়ারেন বাফেট - ব্যক্তিগত জীবনের জানা অজানা তথ্য

বায়ে ওয়ারেন বাফেট ও প্রথম স্ত্রী সুসান থম্পসনের পরিবার এবং ডানে বাফেট ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী অ্যাস্ট্রিড মেনঙ

বাফেটের ব্যক্তিগত জীবন

ওয়ারেন বাফেট ১৯৫২ সালে বিয়ে করেন সুসান থম্পসনকে। তাদের রয়েছে তিন সন্তান- সুসান বাফেট, হাওয়ার্ড গ্রাহাম বাফেট এবং পিটার বাফেট। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে স্ত্রী সুসান মারা যান। এর আগে ১৯৭৭ সাল থেকে তাদের বিচ্ছেদ না ঘটলেও তারা আলাদা বসবাস করতেন। তাদের মেয়ে সুসান ওমাহাতে বসবাস করেন। তিনি সুসান এ. বাফেট ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে সেবামূলক কাজ করেন। ওয়ারেন বাফেট ২০০৬ সালে ৭৬তম জন্মদিনে বিয়ে করেন তার দীর্ঘ দিনের সঙ্গী অ্যাস্ট্রিড মেনঙকে।

 

ওয়ারেন বাফেট ও তার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী অফিসার

ওয়ারেন বাফেট ও তার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী অফিসার

ওয়ারেন কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। তাছাড়া তার ডেস্কে নেই কোন কম্পিউটার। তার কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এখন ৬৩টি কোম্পানির মালিক। এসব কোম্পানির প্রধান নির্বাহী অফিসারকে তিনি বছরে মাত্র একটি চিঠি লেখেন। তাতে সারা বছরের কর্মকৌশল বলে দেয়া থাকে। নিয়মিত তাদেরকে নিয়ে তিনি মিটিং করেন না। এজন্য তার পরামর্শ হলো- ঠিক জায়গায় ঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচিত কর্বন। অর্থাৎ ঠিক জায়গায় ঠিক ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হলে তাকে কাজের কথা বলে দিতে হয় না। ওয়ারেন বাফেট তার নির্বাহীদের দু’টি মাত্র নিয়ম বলে দিয়েছেন। তার প্রথমটি হলো- শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ নষ্ট করো না। দ্বিতীয় নিয়মটি হলো- প্রথম নিয়মকে ভুলে যাবে না। লক্ষ্য স্থির করো এবং সেদিকে লোকের দৃষ্টি কাড়তে চেষ্টা করো।

 

বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের ৩০ মিনিটের মিটিং ১০ ঘণ্টা দীর্ঘায়িত

বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের প্রথম মিটিং

২০০৩ সালের দিকে বিল গেটস ওয়ারেন বাফেটের সঙ্গে একটি মিটিংয়ের পরিকল্পনা করেন। যেহেতু ওয়ারেন বাফেটের সঙ্গে বিল গেটসের তেমন কিছুই কমন নেই, তাই বিল গেটস মাত্র ৩০ মিনিট সময় রেখেছিলেন ওয়ারেন বাফেটের জন্য। কিন্তু শুরু হওয়ার পর দুই ধনকুবেরের মধ্যে সেই মিটিং চলছিল দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা ধরে। ওয়ারেন বাফেটের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিল গেটস এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তাঁর মতো ব্যক্তি শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও ওই দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যেতে একটুও অনীহা প্রকাশ করেননি।

 

ওয়ারেন বাফেটের ৫০ বছরের বেশি পুরনো বাড়ি এবং সাধারণ জীবনযাপন

ওয়ারেন বাফেটের ৫০ বছরের বেশি পুরনো বাড়ি এবং সাধারণ জীবনযাপন

ওয়ারেন বাফেট জীবন যাপন করেন অতি সাধারণ মানের। বাফেট তাঁর হোম টাউনে ৫০ বছরের বেশি পুরনো একটি বাড়িতে থাকেন। তিন বেডরুমের এই বাড়িটি তিনি তাঁর বিয়ের পর ১৯৫৮ সালে কিনেছিলেন মাত্র ৩১ হাজার ৫০০ ডলার দিয়ে ওমাহার একটি উচ্চ-মধ্যবিত্ত আবাসিক এলাকায়। বর্তমানে এ এলাকায় একটি বাড়ির দাম হবে পাঁচ-ছয় লাখ ডলার। তাঁর বাড়ির চারদিকে কোনো দেয়াল বা বেড়া নেই, গেট নেই, দারোয়ান নেই, নেই কোনো সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরা। বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি হয়েও তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সাধারণ জীবন যাপন করেন। এ বিষয়ে তার পরামর্শ হলো- প্রকৃতপক্ষে আপনার যতটুকু দরকার তার বেশি কিছু কিনবেন না। আপনার সন্তানদেরও এমনটা ভাবতে ও করতে শেখান। বাফেটের জীবনধারাকে স্পর্শ করেনি সমাজের উচ্চশ্রেণীর সামাজিকতা। তিনি বাইরে থেকে এসে নিজেই নিজের খাবার তৈরি করেন। কিছু পপকর্ন নিজেই প্রস্তুত করে খান এবং বাসায় বসে টেলিভিশন দেখেন।

 

সবচেয়ে বড় প্রাইভেট জেট কোম্পানির মালিক হয়েও ভ্রমণ করেন ইকোনমিক ক্লাসে

ওয়ারেন বাফেট নিজেই গাড়ি চালান

ওয়ারেন বাফেট নিজে গাড়ি চালান। তাঁর কোনো ড্রাইভার নেই, নেই কোনো দেহরক্ষী। মাঝেমধ্যে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাসেও চলাফেরা করেন। সাধারণ মানুষের ভিড়ে সাধারণ দোকানপাটে কেনাকাটা করেন। তার আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেট কোম্পানি। কিন্তু ভ্রমণ করেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইকোনমিক ক্লাসে। অন্যান্য ধনকুবেরের মতো তাঁর কোনো প্রাইভেট জেট প্লেন নেই, যদিও তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাইভেট জেট কম্পানির মালিক।

 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা ওয়ারেন বাফেট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা ওয়ারেন বাফেট

ওয়ারেন বাফেটের যুগান্তকারী অনুদানের পর তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা বলে মনে করা হয়। ২০০৬ সালে তিনি ব্রিকসায়ার হ্যাথওয়ের ১০ মিলিয়ন ক্লাস বি শেয়ারের সমপরিমান অর্থ (প্রায় ৩০.৭ বিলিয়ন) ‘বিল এন্ড ম্যালিন্ডা ফাউন্ডেশনস’ এ দান করেন। তার সন্তানেরা তার দেওয়া প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী তার সম্পদের পুরোটার অধিকারী হননি। তার দেওয়া প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী তিনি তাঁর মোট সম্পত্তির ১৫ শতাংশের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ রেখে বাকি ১৪ শতাংশও দান করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই প্রতিজ্ঞা পত্রে তিনি বলেছেন তাঁর মৃত্যুর ১০ বছরের মধ্যে তাঁর সমুদয় সম্পত্তির ৯৯ শতাংশ সাধারণ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করে ফেলতে। এ প্রসঙ্গে বাফেটের মন্তব্য- “আমি আমার সন্তানদের এতটা দিতে চাই যাতে তারা মনে করে এটি দিয়ে তারা যা ইচ্ছে করতে পারবে। তবে এতটা দিতে চাই না যে তারা মনে করে তাদের কিছুই করতে হবে না।"

 

‘গেটস বাফেট গিভিং প্লেজড’ চুক্তি

২০১০ সালে ওয়ারেন বাফেট, বিল গেটস ও ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ এর ‘গেটস বাফেট গিভিং প্লেজড’ চুক্তি

২০১০ সালের শেষে ওয়ারেন বাফেট, বিল গেটস ও ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ “গেটস বাফেট গিভিং প্লেজড” নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন যেখানে তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদের সম্পদের অর্ধেক দাত্যব্য সংস্থায় দান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন ও অন্যান্য ধনীদেরও এটির জন্য আহ্বান জানান।

 

মার্কিন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেটের ব্রিজ আসক্তি

ওয়ারেন বাফেটের ব্রিজ আসক্তি

মার্কিন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট একবার বলেছিলেন, ‌’আমি যখন ব্রিজ খেলি, তখন পাশ দিয়ে যদি একজন নগ্ন নারীো হেটে যায়, আমি ফিরেও তাকাব না।’ খেলাটার প্রতি নিজের এই চরম আসক্তির কথা এভাবেই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন আমেরিকার শীর্ষ ও সফল এই বিনিয়োগকারী। শুধু ওয়ারেন বাফেটই না, আরেক শীর্ষ ধনী বিল গেটসসহ আমেরিকার আরও অনেক শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তিই আসক্ত ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ নামের এই তাসের খেলাটির উপরে। ওয়ারেন বাফেট বুদ্ধিদীপ্ত এই খেলাটিকে আভিজাত্যপূর্ণ ও পৌরুষচিত বলেও বিবেচনা করেন। এমনকি স্কুল পর্যায় থেকেই যেন খেলাটি ছেলেমেয়েদের শেখানো হয় সেজন্য ২০০৫ সালে এক মিলিয়ন ডলার অর্থসাহায্য দিয়েছেন খোদ বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেট।

৫২ তাসের এই বুদ্ধিদীপ্ত খেলাটি শেখা শুরু করলে যে কাউকে পস্তাতে হবে না সেটাও বেশ জোরগলায় বলেছেন ওয়ারেন বাফেট। অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত এমন কারও সঙ্গে পরিচিত হইনি, যে ব্রিজ খেলা শেখার পেছনে সময় দিয়েছে এবং এটাকে নিজের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা বলে বিবেচনা করেনি।’

 

ওয়ারেন বাফেটের ব্রিজ খেলা নিয়ে একটি ভিডিও

 

প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত ওয়ারেন বাফেট

ওয়ারেন বাফেট ২০১২ সালে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন

জনহিতৈষী ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেটকে বিংশ শতকের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১২ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘোষণা করে। বিপুল ধনসম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও ওয়ারেন বাফেট অত্যন্ত সরল জীবনযাপন করতেন। কিন্তু এই জনহিতৈষী ব্যক্তির রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল শরীরে প্রস্টেট ক্যান্সারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। তবে তার শরীরে ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় তা জীবনের হুমকি হয়ে ওঠেনি। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে সিটি স্ক্যান, বোন স্ক্যান এবং এম আর আই পরীক্ষা চালিয়ে যান। ক্যান্সার চিকিত্সার অংশ হিসেবে তিনি ২০১২ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে প্রতিদিন রেডিও থেরাপি চিকিত্সা গ্রহণ করেন। প্রাথমিক ভাবে প্রায় টানা দুই মাস তিনি রেডিও থেরাপি নেন এবং ১১ সেপ্টেম্বর তার রেডিও থেরাপি চিকিত্সা সফল ভাবে শেষ হয়। এসময় বাফেট বলেন, ‘ক্যান্সার চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলেও এটি শেষ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

 

আরও দেখুন:

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি