পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

লিওনেল মেসি - ফুটবল ক্যারিয়ারের নানা দিক

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় মেসির ১০ নম্বর জার্সি

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় মেসির ১০ নম্বর জার্সি

মেসি ২০০৯ সালের ২৮ মার্চ ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নামেন। এই সময় আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসেবে ছিলেন মারাদোনা এবং প্রথম খেলা। খেলার প্রথম গোলটি করেন মেসি এবং আর্জেন্টিনা ৪–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে।

 

'ফলস নাইন' পজিশনে মেসি

২০০৯ সালের উয়েফা সুপার কাপ জেতার পর বার্সেলোনা ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা মেসিকে ডান উইঙ্গ থেকে সরিয়ে ‘‘ফলস নাইন’’ পজিশনে নিয়ে আসেন। কারণ এর আগে বার্সেলোনার পূর্বের ম্যানেজার ফ্রাংক রাইকার্ড মেসিকে মাঠের বাম পার্শ্ব হতে ডান উইঙ্গে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যেন মেসি সহজে মাঠের মাঝখানে প্রবেশ করতে পারেন এবং বাম পা দিয়ে শট বা ক্রস করতে পারেন। কিন্তু প্রাথমিকভাবে এটি মেসির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিল।

 

'ব্যালন দিঅর' এর ইতিহাসে মেসির সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড

মেসি ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বার্সেলোনার সাথে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হন। এই চুক্তির সময় মেসির মূল্য রাখা হয় ২৫০ মিলিয়ন ইউরো এবং এই চুক্তির মাধ্যমে মেসির বার্ষিক আয় বেড়ে দাড়ায় ৯.৫ মিলিয়ন ইউরো। একই বছর ১ ডিসেম্বর ব্যালন দি’অর বিজয়ী হিসেবে মেসির নাম ঘোষনা করা হয়। এবারের ব্যালন দি’অর পুরষ্কারে মেসি ৪৭৩ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ২৩৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হন। এটি ছিল ব্যালন দি’অর এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। একই সময় মেসি আইএফএফএইচএস বর্ষসেরা প্লেমেকার পুরস্কারে দ্বিতীয় হন।

 

প্রথম আজেন্টাইন হিসেবে মেসির ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার অর্জন

প্রথম আজেন্টাইন হিসেবে মেসির ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার অর্জন

মেসি ১৯ ডিসেম্বর ২০০৯ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে এস্তুদিয়ান্তেসের বিপক্ষে গোল করে দলকে শিরোপা এনে দেন এবং ঐ বছর ৬টি শিরোপা এনে দেন তার দলকে। এর দুই দিন পরই তাকে ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার দেয়া হয়। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং কাকা-কে হারিয়ে মেসি এই পুরস্কার জিতেন। তিনিই প্রথম আজেন্টাইন হিসেব এই পুরস্কার জেতার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার অর্জনের পরপরি মেসি ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি ২০০৯–১০ মৌসুমের তার প্রথম হ্যাট্রিক করেন এবং বার্সেলোনা ৫-০ ব্যবধানে টেনেরিফের বিপক্ষে জয় লাভ করে এবং ১৭ জানুয়ারি মেসি বার্সেলোনার হয়ে তার ১০০ তম গোলটি করেন যার ফলে বার্সেলোনা সেভিয়ার বিপক্ষে ৪–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে।

 

'ডি স্টিফানো'র মত গ্রেটদের রেকর্ড ভাঙ্গলেন মেসি

মেসি তার বার্সেলোনা ক্লাব সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে হারিয়ে ২০১০ ফিফা ব্যালোন দি’অর পুরস্কার জিতেন। মেসি এই পুরস্কারের জন্য টানা চতুর্থবারের মত মনোনীত হয়েছিলেন। একই বছর মেসির জন্য ৫ ফেব্রুয়ারী ক্যাম্প ন্যু-তে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ০–৩ ব্যবধানে হারিয়ে বার্সেলোনা লা লিগায় টানা ১৬ খেলায় বিজয়ী হওয়ার নতুন রেকর্ড গড়ে। খেলায় মেসি হ্যাট্রিক করেন। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেন, ‘‘ডি স্টিফানো’র মত গ্রেটদের করে যাওয়া রেকর্ড ভাঙ্গতে পারাটা অনেক সম্মানের।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যদি রেকর্ডটি অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয় তার মানে এই যে তা অর্জন করা খুব কঠিন এবং আমরা সেটি অর্জন করেছি একটি শক্তিশালী দলেকে হারিয়ে।‘’

 

২০১০ বিশ্বকাপে মেসির ১০ নম্বর জার্সি

মেসি ২০১০ বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন। এই প্রথম বড় কোন প্রতিযোগীতায় তিনি ১০ নম্বর জার্সি পরে নামেন। বিশ্বকাপের প্রথম খেলায়, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলার পুরোটা সময়ই তিনি মাঠে ছিলেন। তিনি গোল করার অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করেছিলেন কিন্তু তার সবকয়টি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন নাইজেরিয়ান গোলরক্ষক ভিনসেন্ট এনইয়েমা। খেলায় আর্জেন্টিনা ১–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। পরের খেলায় কোরিয়া রিপাবলিকের বিপক্ষে মেসি মাঠে নামেন। খেলায় আর্জেন্টিনা ৪–১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। মারাদোনার অধীনে তিনি মূলত একজন আক্রমনাত্মক মাঝমাঠের খেলোয়াড় বা প্লেমেকার হিসেবে খেলেছিলেন। খেলার সবকটি গোলেই তার ভূমিকা ছিল। তার সহায়তায় গঞ্জালো হিগুয়েইন খেলায় হ্যাট্রিক করেন।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তৃতীয় ও গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় গ্রীসের বিপক্ষে মেসি অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন। খেলায় আর্জেন্টিনা ২–০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। কোন গোল না করলেও এই জয়ে মেসির বড় ভূমিকা ছিল, যার ফলে তাকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়। রাউন্ড ১৬ তে মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলায় কার্লোস তেভেজর একটি গোলে মেসি সহায়তা করেন। খেলায় আর্জেন্টিনা ৩–১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৪–০ ব্যবধানে হেরে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়। প্রতিযোগীতার গোল্ডেন বল পুরষ্কারের জন্য ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসি জায়গা পান। ফিফার টেকনিক্যাল গবেষনা দল মেসির সক্ষমতা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলে, ‘‘অসাধারন গতি, দলের জন্য সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং, শুটিং, পাসিং এ সবগুলোতেই তিনি দক্ষ এবং দর্শনীয়।’’

 

১০ বছরের সুফিয়ানেজন্য মেসির গোল উত্‍সর্গ

সুফিয়ানের জন্য মেসির গোল উত্‍সর্গ

মেসি ২০১১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ওসাসুনার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন যার ফলে বার্সেলোনা ৮–০ ব্যবধানে বড় জয় লাভ করে। খেলায় মেসি তার প্রথম গোলটি মরোক্কোর সুফিয়ান নামক ১০ বছরের এক শিশুর জন্য উত্‍সর্গ করেন। সে সময় সুফিয়ান একটি বিরল পায়ের রোগে আক্রান্ত ছিল। মেসি সাধারনত গোল করার পর দু’হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করেন কিন্তু ঐ খেলায় প্রথম গোলটি করার পর তিনি হাত দিয়ে তার উরুতে চড় মেরেছিলেন। যা সুফিয়ানের প্রতি ইংগিত বহন করে।

 

মেসি - ইউরোপ সেরা খেলোয়াড় ও ফিফা ব্যালোন দি’অর পুরস্কার অর্জন

মেসি তার ক্লাব সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে হারিয়ে ২০১১ সালের উয়ফা ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেন  এবং একই বছর জাভি হার্নান্দেজ ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে হারিয়ে তিনি ২০১১ ফিফা ব্যালোন দি’অর পুরস্কারও জিতেন। এর মাধ্যমে ফুটবলের ইতিহাসে চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে তিনবার ও দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনবার এ পুরস্কার জিতেন মেসি। এর আগে তিনবার এ পুরস্কার জিতেছেন ইয়োহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেন এবং টানা তিনবার জিতেছেন মিশেল প্লাতিনি।

 

সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙ্গলেন মেসি

মেসি ২০১২ সালের ৭ মার্চ বেয়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলায় ৫টি গোল করেন এবং দলকে ৭–১ গোলের বড় জয় এনে দেন। এর ফলে ১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ পুনঃ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক খেলায় ৫ গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন মেসি। একই বছর ২০ মার্চ গ্রানাদার বিপক্ষে মেসি হ্যাট্রিক করেন। এতে করে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা সিজার রদ্রিগুয়েজ এর ২৩২ গোলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের খেলায় ৩ এপ্রিল এসি মিলানের বিপক্ষে মেসি পেনাল্টি থেকে ২টি গোল করেন। এতে করে তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে নিজের করা ১২ গোলের ব্যক্তিগত রেকর্ড টপকে যান এবং হোসে আলতাফিনির এক মৌসুমে করা সর্বোচ্চ ১৪ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন। যেটি আলতাফিনি ইউরোপীয়ান কাপের ১৯৬২–৬৩ মৌসুমে করেছিলেন।

 

এক মৌসুমে ৭০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মেসি

২০১১-১২ মৌসুমে মেসি ৭০ গোলের মাইলফলক

মেসি ২০১১–১২ মৌসুমে মালাগার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন ১৯৭২–৭৩ মৌসুমে গার্ড ম্যুলারের করা এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬৭ গোলের রেকর্ড টপকে যান এবং ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের মালিক বনে যান। এই খেলায় হ্যাট্রিকের মাধ্যমে তিনি মৌসুমে ২১তম বার এক খেলায় একাধিক গোল করেন এবং এটি মৌসুমে লা লিগায় তার সপ্তম হ্যাট্রিক ছিল। মেসি একই বছর এস্প্যানিওলের বিপক্ষে ৪টি গোল করেন এতে মৌসুমে তার মোট গোল সংখ্যা হয় ৭৩। ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম শ্রেনীর লীগে এক মৌসুমে ৭০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান মেসি। এর আগে আমেরিকান সকার লীগে ১৯২৪–২৫ মৌসুমে বেথলেহেম স্টিলের হয়ে আর্কি স্টার্ক ৭০ গোল করেছিলেন।

 

কিংবদন্তী গার্ড ম্যুলারের করা মাইলফলক টপকে গেলেন মেসি

মেসি ২০১১–১২ মৌসুমে পহেলা ডিসেম্বর অ্যাথলেতিক বিলবাও এর বিপক্ষে বছরে তার ৮৩তম ও ৮৪তম গোল করেন এবং এর মাধ্যমে মেসি বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতা সিজার রোদ্রিগুয়েজের রেকর্ড স্পর্শ করেন। এর পরেই ৯ ডিসেম্বর রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে মেসি বছরে তার ৮৫তম ও ৮৬তম গোল করেন এবং ১৯৭২ সালে জার্মান কিংবদন্তী গার্ড ম্যুলারের করা ৮৫ গোলের মাইলফলক টপকে যান। গার্ড ম্যুলার, বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানি জাতীয় দলের হয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন। বছরের শেষে ভায়াদোলিদের বিপক্ষে মেসি একটি গোল করলে তার মোটা গোলসংখ্যা দাড়ায় ৯১ এ। যার মধ্যে ৭৯টি বার্সেলোনার হয়ে এবং ১২টি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে। মেসির এই দুর্দান্ত খেলায় বার্সেলোনা ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর মেসির সাথে নতুন করে চুক্তি করে যার ফলে ২০১৬ সাল পর্যন্ত করা চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

 

চতুর্থবারের মত 'ফিফা ব্যালন দিঅর' জেতার কৃতিত্ব গড়লেন মেসি

চতুর্থবারের মত 'ফিফা ব্যালন দি’অর' জেতার কৃতিত্ব গড়লেন মেসি

২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং সতীর্থ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে হারিয়ে টানা চতুর্থবারের মত ফিফা ব্যালন দি’অর জেতার কৃতিত্ব গড়েন মেসি। ফুটবলের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি চারবার এই পুরস্কার জিতেছেন। এই অর্জনের ফলে মিডিয়া মেসিকে সাবেক কিংবদন্তী দিয়েগো মারাদোনা এবং পেলের সাথে তুলনা করতে শুরু করে।

 

ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা গোল করার কৃতিত্ব গড়লেন মেসি

মেসি ২০১৩ সালের ১৭ মার্চে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন। এই প্রথম কোন অফিসিয়াল খেলায় তিনি বার্সেলোনার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। অধিনায়কত্বের পরে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে লা লিগায় টানা ১৯ খেলায় গোল করার কৃতিত্ব গড়েন মেসি। এছাড়াও ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লীগের সবগুলো দলের বিপক্ষে টানা গোল করার কৃতিত্ব গড়েন তিনি।

 

প্রতিপক্ষের মাঠে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়লেন মেসি

মেসি ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারে নিজের ২৩তম হ্যাট্রিক পুরণ করলে প্রতিপক্ষের মাঠে বার্সেলোনা ৩–২ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে। এই গোলের মাধ্যমে মেসি প্রতিপক্ষের মাঠে ১০০ গোলের মালিক বনে যান এবং লা লিগার ইতিহাসেও প্রতিপক্ষের মাঠে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়েন। এই গোলসমূহ তাকে লা লিগার ইতিহাসের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করে। ১৮ সেপ্টেম্বর মেসি তার ক্যারিয়ারের ২৪তম হ্যাট্রিক পুরণ করেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের আয়াক্সের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে বার্সেলোনা ৪–০ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে। এই গোলসমূহ তাকে চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করে এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থানে নিয়ে আসে। এছাড়া এই হ্যাট্রিকের মাধ্যমে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে চারটি হ্যাট্রিকের রেকর্ড গড়েন মেসি।

 

মেসি এবং দিয়েগো মারাদোনা

মেসি এবং দিয়েগো মারাদোনা

একই খেলার ধরন ও দৈহিক উচ্চতার কারণে মেসিকে প্রায়ই তার স্বদেশী দিয়েগো মারাদোনার সাথে তুলনা করা হয়। মেসি অন্যান্য খেলোয়াড়দের তুলনায় অধিক ক্ষিপ্র এবং তিনি অতি দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করতে পারেন। এছাড়াও তিনি কৌশলে ট্যাকল এড়িয়ে যেতে পারেন। তার ছোট ও শক্তিশালী পায়ের কারনে অতি অল্প সময়ে তিনি অধিক গতি অর্জন করতে পারেন। তার দ্রুতগতির জন্য গতিশীল অবস্থায়ও ড্রিবলিং করার অসাধারণ ক্ষমতা লক্ষ্য করা যায়। প্রাক্তন বার্সেলোনা ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা বলেন, ‘‘মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় যে বল ছাড়া যত দ্রুত দৌড়াতে পারে, বল সহ তার চেয়েও বেশি দ্রুত দৌড়াতে পারে।’’ মারাদোনার মত মেসিও একজন বাম পায়ের খেলোয়াড়। বল কাটাতে এবং দৌড়াতে তিনি সাধারনত তার বাম পায়ের বাহিরের অংশ ব্যবহার করে থাকেন। সতীর্থদের সহায়তা করতে ও পাস দিতে এবং ফিনিশিং এ তিনি সাধারনত তার বাম পায়ের ভেতরের অংশ ব্যবহার করেন।

মেসিকে মাঝমাঠের দাগ থেকে অথবা মাঠের ডান পার্শ্ব দিয়ে আক্রমন করতে বেশি দেখা যায়। বল পাসিং এর মহুমুখি স্টাইলের কারণে মেসিকে বহুমুখী খেলোয়াড়ও বলা হয়ে থাকে। জাভি ও ইনিয়েস্তার সাথে পাসিং ও সৃজনশীলতায় তার চমত্‍কার সমন্বয় রয়েছে। এছাড়া তিনি নির্ভূলভাবে সেট-পিস্ ও পেনাল্টি কিকও নিতে পারেন। মেসির বল কাটানোর সক্ষমতা প্রসঙ্গে মারাদোনা বলেন, ‘‘বল তার পায়ের সাথে আঠার মত লেগে থাকে। আমি আমার ক্যারিয়ারে অনেক কিংবদন্তীকে দেখেছি কিন্তু মেসির মত বল নিয়ন্ত্রন করতে কাউকে দেখিনি।’’ মারাদোনা আরও বলেন যে তিনি বিশ্বাস করেন মেসিই বর্তমানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।

 

মেসি এবং দিয়েগো মারাদোনা

কৌশলগতভাবে মেসি দলের আক্রমণ ভাগে খেলে থাকেন। মেসি উইঙ্গ বা মাঠের মাঝখান দিয়ে আক্রমন করতে পছন্দ করেন। তিনি বাম-উইঙ্গার ও ফরোয়ার্ড হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রাক্তন বার্সেলোনা ম্যানেজার ফ্রাংক রাইকার্ড তাকে ডান-উইঙ্গে নিয়ে যান। তিনি ভেবেছিলেন এই অবস্থানে থেকে মেসি আরও সহজে বিপক্ষ দলের রক্ষনভাগ ভেদ করে মাঠের মাঝখানে প্রবেশ করতে পারবেন এবং বাম পা দিয়ে গোলপোস্টে বাঁকানো শট নিতে পারবেন। গার্দিওলার অধীনে মেসি ফলস-৯ অবস্থানে খেলেছিলেন। যা মেসির প্রবৃত্তির সাথে মিলে গিয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে, মেসি একজন ফরোয়ার্ড বা লোন স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও, তিনি কখনও কখনও রক্ষনভাগে পর্যন্ত চলে যান। অন্যান্য ফরোয়ার্ড , উইঙ্গার ও আক্রমনাত্মক মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের সহায়তা করার জন্য বা আক্রমনাত্মক দৌড় শুরু করার জন্য তিনি এ কাজ করে থাকেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসি সাধারনত ফ্রন্ট লাইনের যেকোন অবস্থানে খেলে থাকেন। ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গার হিসেবে শুরু করলেও তিনি মাঠের অন্যান্য অবস্থানেও খেলেন। মারাদোনার অধীনে তিনি মূলত আক্রমনাত্মক মিডফিল্ডার বা প্লেমেকার হিসেবে খেলেছিলেন।

 

আরও দেখুন:

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি