পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

স্টিভ জবস: অ্যাপলের এগিয়ে যাওয়া ও দু:সময়

দূরদর্শী স্টিভ জবস

নাছোড়বান্দা জবস:

জবস এর পাগলামির শেষ ছিলনা। অ্যাপলে যখন McIntosh নামে একটি প্রজেক্ট চলছিলো সেই সময় একদিন নতুন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জে এলিয়টকে নিয়ে সেখানে হাজির হন জবস। কোম্পানির চেয়ারম্যান শুরু করলো তাদের সঙ্গে আলাপ। বিষয়বস্তু ছিল এমন কম্পিউটার বানাতে হবে যেটাতে কীবোর্ড ছাড়াও ইনপুট দেওয়া যায়, টেক্সট ছাড়া ছবি দেখে কমান্ড দেওয়া যায়। ইঞ্জিনিয়াররা যতো চিৎকার করে এসব সম্ভব না, ততোই নাছোড়বান্দা জবস বলতে থাকে “ভাবো।, করো।“
 

পাইরেটস নট নেভী:

জবস জটিল জিনিষ সমাধান করতে পরতেন খুব সহজেই আর সারাক্ষণই কারো না কারো সঙ্গে আলাপ করতেন। ততোদিনে স্টিভ জবস বের করে ফেলেছেন “ management by walking” তত্ত্ব। মানে কোন না কোন কর্মীর টেবিলের সামনে গিয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া, “কাজ কেমন হচ্ছে, কোন সমস্যা হচ্ছে কী না”। কোন কোনদিন সরাসরি জিজ্ঞেস করে বসতেন- “আচ্ছা, তুমি কী এমন করছো যার জন্য আমি তোমাকে টাকা দেই?” সব ধরনের কর্মীরই কিন্তু বিরক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু তারা হতেন না! ম্যাক টিমের জন্য লোক খোজার জন্য নতুন একটা ফ্রেসও বের করে ফেলেছে, “Pirates, not Navy”। বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক খুজে আনতেন জবস। ভাল লোক রেফার করতে পারলে নগদে বোনাসও দিতেন। দেখলে মনে হতো সবাই এই টিমে কাজ করার জন্য পাগল হয়ে উঠেছে।

 

 

জবসের নিত্যনতুন চাহিদা:

অ্যাপলের কর্মচারীদের চলছিল খাটাখাটনি আর  দৈনিক ১৬-১৮ ঘন্টা ধরে কাজ। সপ্তাহিক মিটিং‌ এ জবসের নতুন নতুন চাহিদা। কীরকম সেটা শুনবেন? প্রথম প্রটোটাইপ দেখে বললেন অনেক শব্দ! মানে হলো ম্যাকের ফ্যানের শব্দ। বললো ফ্যান বাদ দিতে হবে! এরকম উৎপাত সহ্য করে ইঞ্জিনিয়ারা কিন্তু ম্যাক বের করে ফেললো। খালি সাপ্তাহিক মিটিঙ! প্রতি তিনমাসে রিট্রিট আর তারপর আছে গভীর রাতে জবসের ফোন, “আমি কি তোমার সাথে একটু কথা বলতে পারি?” জবস সর্বদা নতুন নতুন পণ্য তৈয়েরির জন্য তার কর্মচারীদের কাছ থেকে উপদেশ শুনতে আগ্রহী ছিলেন।

 

ট্যালেন্টদের ধরে রাখাতে রিট্রিট:

স্টিভ জবসের টিম‌ মিটিং

ট্যালেন্টদের ধরে রাখার কাজটা আসলেই অনেক কঠিন। প্রথমে তাদের বোঝাতে হয় যে, তোমাদের যতো চিন্তা ভাবনা আছে সেটা শোনার লোক আছে। তারপর প্রমাণ করতে হয় পাগলামীতে কোম্পানিও কোন অংশে কম না। জবস ঠিক এই কাজটিই করে ছিলেন। শোনার কায়দার একটি হচ্ছে রিট্রিট। অ্যাপলের নিত্য নতুন পণ্য উদ্ভাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হল এই রিট্রিট। রিট্রিট হচ্ছে পিকনিক স্টাইলে মিটিং ও ব্রেইন স্ট্রংমিং। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রিট্রিটে সবাই প্রাণখুলে কথা বলতে পারে। নিজেদের যত আইডিয়া আছে সেটা প্রকাশ করতে পারে। এখান থেকে বের হয় নতুন চিন্তা, পুরোনো চিন্তার নতুন রূপ। আর একটা হলো টিম‌মিটিং। স্টিভ ম্যাক টিমের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি প্রতি সপ্তাহে হতো।

শুধু তাই নয়, যখনই কোন নতুন পরিস্থিতি হতো তখনই একটা মিটিং হয়ে যেত। কালেকটিভ ডিসিশন যাকে বলে। এগুলো সব কাজের কথা। ট্যালেন্টদের ধরে রাখতে হলে কোম্পানির মধ্যে বন্ডিং বাড়াতে হয়। সেটি বাড়ানোর জন্য নানানরকম কিছু করা লাগে। একটি হল সেলিব্রেশন। জন্মদিন হলো প্রধান। ঘটা করে টিমমেটদের জন্মদিন পালনতো এখন প্রায় সব হাউসে হয়। দ্বিতীয় হল কোম্পানিতে যোগদানের বার্ষিকী। এর সঙ্গে স্টিভের মাথা থেকে বের হল - মাইলস্টোন উদযাপন, কঠিন বাধা অতিক্রম উদযাপন। কী নয়! প্রতিটি মাইলস্টোন উদযাপনের জন্য কেক কাটা, টি‌শার্ট তৈরি করা এ সবই ছিল স্বাভাবিক। সে সময়ে অ্যাপল সম্ববত টি‌শার্ট কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল। এমনকি স্টিভের রুমের একটি টেবিল ক্লথের ডিজাইন হয়েছিল টি‌শার্টগুলোর ডিজাইন দিয়ে।

 

যোগ্য ও মেধাবী লোকদের সন্ধান:

অ্যাপলের সাফল্যের একটি বড় কারণ স্টিভ নিজে। তবে তার চেয়ে বড় কারণ ঠিক সময়ে যোগ্য ও মেধাবী লোকদের একজায়গায় জড়ো করতে পারা। মেধাবী লোকদের নিজের কোম্পানিতে জড়ো করতে হলে দুইটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো মেধাবীদের কাছে কোম্পানিকে আকর্ষণীয় করে তোলা। এই কাজটি কিন্তু সহজ নয়। প্রথমত মেধাবীরা কমবেশি একসেন্ট্রিক, খেয়ালী, উদাসী, আলুথালু এবং উল্টাপাল্টা চিন্তা করে। সেগুলো উদ্ভট মনে হতে পারে। আবার এমন সব কথা বলে যা কী না কোম্পানির খরচের খাতায় যোগ বাড়াতে পারে। এমন লোকদের আকর্ষণ করার একমাত্র হাতিয়ার কিন্ত বেতন নয়!

ট্যালেন্টরা কাজের পরিবেশ চায়। ওদের যখন ইচ্ছে হবে তখন ১৬-১৮ ঘন্টা কাজ করবে। আবার ইচ্ছে হলে গিটার বাজিয়ে গান করবে। কাজের পরিবেশটাও উদ্ভাবনের অনুকূল হতে হবে। মেধাবীরা মেধাবীদের বন্ধু হয়। কাজে মেধাবীদের আকর্ষন করতে হলে প্রথমে কয়েকজন মেধাবীকে আনতে হয়। তারপর তাদের জন্য ভাল কাজের পরিবেশ। মস্তিস্কের ধূসর কোষগুলো ব্যবহার করতে হয় এমন সব কাজ তাদের দিতে হবে। এতে চ্যালেঞ্জ হবে। ফলে, তারা বন্ধুমহলে কথাগুলো বলবে। তখন একটা রেফারেল সিস্টেম চালু করলেন তিনি। সিস্টেমটা এমন ছিল যে কেউ যদি তার মতো আর একজনকে ধরে আনতে পারে তাহলে ৫০০ ডলার বোনাস পাবে।

এইভাবে ট্যালেন্টদের একটি পছন্দের জায়গায় পরিণত হয় অ্যাপল। যারা সোজা রাস্তায় চলে না, তাদের নেতাকেও বিপ্লবী হতে হয়ে। স্টিভের মটো হল, “যদি পাইরেটস হতে পারো তাহলে কেন তুমি নেভী হবা”? কাজেই এপলে সব পাইরেটসরা হাজির হতে থাকে। পালোর গোদাটাকে তাহলে বড় পাইরেট হতে হয়। স্টিভ নিজেও প্রচলিত পদ্ধতিতে চিন্তা করার লোক নয়। উদ্ভট চিন্তা ভাবনাই তার পছন্দ। কারণ রতনে রতন চেনে।


রিকগনিশন - স্বীকৃতি:

উদারভাবে টিমমেটদের স্বীকৃতি দেওয়ার রেওয়াজ তৈরি করেছিলেন জবস। সেটি একটি ইমেইলও হতে পারে “Great! Keep up the spirit”। আবার নগদ নারায়নও হতে পারে। সেটি খালি যে পে বিলে এড হবে তা নয়। অন্যভাবেও হতে পারে। একবার ঠিক হলো ম্যাকটিমের সবাই ১০০ ডলার করে বোনাস পাবে। সিদ্ধান্ত হওয়ার পরদিন সকালেই স্টিভ ছুটলো ফ্যাক্টরিতে। প্রত্যেক কর্মীর চেয়ারের সামনে গিয়ে বেঞ্জামিস ফ্র্যাঙ্কলিনকে প্রত্যেকের হাতে তুলে দিলেন। এক জায়গায় জড়ো করে নয়! টাকার অঙ্কে সেটি খুব বেশি ছিল না। কিন্তু যে কর্মীটি ম্যাক কার্টনে ঢোকানোর পর সেটির ওপর ঠিকানা লেখা স্টিকার লাগায় তার কাছে কোম্পানির বোর্ড চেয়ারম্যান একটি “রহস্যময়” বিষয়। সেই চেয়ারম্যান তাকে হাতে ১০০ ডলার দিচ্ছে, পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে এর থেকে আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার বিষয় কী হতে পারে? কাজেই নিত্য নতুন ট্যালেন্টরা সেখানে যোগ দেবে সে আর আশ্চর্য কি! নতুনদের দিয়ে নতুন নতুন পণ্য হবে তাতেও কী কোন বিস্ময় থাকে।

 

ম্যাকের কেসিং‌:

ম্যাকের কেসিং এ স্টিভ এবং ওজনিয়াক সহ সবার সই                     

স্টিভ তার পাগলামির পথপরিক্রমায় একদিন প্রথম ম্যাকটিমের সবাইকে ডেকে পাঠান। ডিজাইনারদের টেবিলে সবাই একটি বড়ো শীটে সই করতে বলেন। স্টিভ আর ওজনিয়াক দুজনেও। এই শীটেরই একটি প্রতিলিপি হয়েছে প্রথম ম্যাকের কেসিং এর ভেতেরের দিকের ডিজাইন। প্রথম লটে যত ম্যাক ফ্যাক্টরি থেকে বের হয়েছে সবগুলোতে তাদের সবার সই ছিল। আপনি জানেন বা না জানেন, তারা সবাই জানতো দুনিয়ার নানা প্রান্তে তারা পৌছে যাবেন, হয়ে উঠবেন এমন একটি পণ্যের অবিচ্ছেদ্য অংগ যা বাজারজাত শুরু হওয়ার পর থেকে মানব সভ্যতার তিন ‘সি’ কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হচ্ছে মানুষকে। তিন C হল Connect, Consume and Communicate.


ম্যাকের আত্মপ্রকাশ:

১৯৮৪ সালের জানুয়ারী মাসে আত্মপ্রকাশ করে অ্যাপলের ম্যাক কম্পিউটার। ম্যাকের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে অ্যাপলের জন্য একটি এক মিনিটের বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মান করেন রিডলি স্কট। বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে দেখা যায় স্যুট‌টাই পরিহিত একদল কর্মী খাড়া হয়ে একটি অডিটরিয়ামে বসে একটি বড় পর্দার দিকে নিশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে। সেখানে একজন তাদেরকে লেকচার দিচ্ছে, বোঝা যাবে এইটি নাইনটিন এইটি ফোরের মতো পরিবেশ। ১৯৮৪ সালে সরকার জনগণের মন নিয়ন্ত্রণ করে। হঠাৎ করে টি‌-শার্ট পরিহিতা এক মহিলা এথলেট কুঠার হাতে সেখানে ঢুকে পড়ে এবং তার কুঠারটি ছুড়ে মারে পর্দায়। পর্দা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়, সূর্যের আলোতে ঘর হয়ে যায় আলোকিত আর কর্মীরাও তাদের মোহ ভেঙ্গে উঠে দাড়ায়। ভয়েসওভারে ভেসে আসে : জানুয়ারির ২৪ তারিখে অ্যাপল কম্পিউটার চালু করবে ম্যাকিন্টস এবং আপনি জানবেন ১৯৮৪ সাল কেন ১৯৮৪ এর মতো হবে না! (On January 24th Apple Computer will introduce Macintosh. And you will see why 1984 won’t be like 1984)।

ম্যাকের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে অ্যাপলের প্রথম অ্যাড

অ্যাড এজেন্সির এই অ্যাড স্টিভের খুবই পছন্দ হয়, কিন্ত জন স্কালির হয়নি। আর বোর্ড মেম্বাররা সবাই এটিকে “ঘৃণা” করেন। তারা সেটির প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। ২২ তারিখে আমেরিকার বিভিন্ন টিভিতে এটা মাত্র একবার দেখানোর জন্য মোট ৮০০,০০০ ডলারে স্লট কেনা হয়েছিল। কিন্ত অ্যাপল বোর্ডের নির্দেশে সেটি বাতিল করার চেষ্টা হল। কিন্ত সম্ভব হলো না। উপায় নাই দেখে ওজের শরনাপন্ন হলেন স্টিভ। ওজ এড দেখে বললো যদি বোর্ড টাকা না দেয় তাহলে সে আর জবস সব টাকা দিয়ে দেবে। কাজে শেষ মূহুর্তে এপলের সেলস ও মার্কেটিং‌এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ফোন কল করে বললেন সে কথা যার কথা লিখতে হলে ইতিহাসে এখন এক পাতার প্রয়োজন হয় “Air It”।

এড প্রচারের পর দর্শকরা স্টান্ট হয়ে যান। আমেরিকার ইতিহাসে এমন অ্যাড এর আগে আর কেহ দেখে নাই। রাত যত হতে থাকে ততই এই অ্যাড নিয়ে আলোচনা হতে থাকে এবং সকল টিভি চ্যানেল বুঝতে পারে এই অ্যাডের সংবাদ‌মূল্য! কাজে সকল চ্যানেলের খবরের শিরানাম হয় এই বিজ্ঞাপন চিত্র, এবং প্রায় সা চ্যানেল তাদের সংবাদে পুরো বিজ্ঞাপনচিত্রটি দেখিয়ে দেয়। কম দেখিযে কেহ হারতে চায়নি! আর বিনা পয়সায় মিলিয়ন ডলারের প্রচার পেয়ে যায় ম্যাক! এই এডটি এ পর্যন্ত ৪টি বিশ্বসেরার পুরস্কার পেয়েছে।

ঠিক দুইদিন পর যখন সবাই এডের কথা ভুলতে পারি নি, তখন নীল রঙ্গের, ডাবল ব্রেস্টেড জ্যাকেট ও টাই পরিহিত স্টিভ একটি থলি থেকে ম্যাক বের করেন আর সেটি বলে, “ Hello, I am Macintosh. Never Trust a computer you cannot lift… I am glad to be out of that bag.” “It is with considerable pride that I introduce a man who has been like a father to me -------- Steve Jobs”. জানা কথা ম্যাকের বিক্রি কেমন হবে। হলোও তাই। নিদৃষ্ট লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আয় করলো প্রথম ১০০ দিনে।

 

অ্যাপলের দুঃসময়:

অ্যাপল-২ এরপর ম্যাকের বাজারজাত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপলের বিক্রি ভালই চলছিল। প্রথম ১০০ দিনে বিক্রির টার্গট ছিল ৫০ হাজার। কিন্তু টার্গট অতিক্রম করে আয় হয় ৭০ হাজার। শুধু জুন মাসেই হলো ৬০ হাজার। কিন্তু কয়েকদিন পরেই সোনার হাসের ডিম দেওয়া বন্ধ হয়ে গেল। কারণগুলোর একটা হলো কম মেমরী (ম্যাক ১২৮ কে যখানে লিসার ১ মেগা) আর সর্বোপরি হাতে গোনা কয়েকটা মাত্র এপ্লিকেশন। এর মধ্যে কিন্তু বাজারে চলে এসেছে আইবিএম পিসি। অ্যাপলকে ঠেকাতে আইবিএম উন্মুক্ত করে দিয়েছে পিসির আর্কিটেকচার। যে কেউ বানাতে পারে আইবিএম কম্প্যাটেবল পিসি।

আর রিটেলাররা বিরক্ত দুইটি কারণে। ম্যাক হলো ইনটুইটিভ অর্থাৎ কিছুক্ষণ তাকায় থাকলে শিখে ফেলা যায় কেমনে এটি চালাতে হয়। কী-বোর্ডে ঝুকে টাইপ না করেও সেটি চালানো যায়। কাজে কম্পিউটার শেখানোর প্রশিক্ষণের কোন ব্যবসা নাই। কোন এক্নটেনশন স্লট নাই। মানে পেরিফেরিয়াল বেচার বুদ্ধিও নাই। এর ফলে অ্যাপল পরে যায় মহাসংকটে। চলতে থাকে অ্যাপলের ক্রান্তিকাল।

 

অ্যাপল থেকে জবসের বিদায়:

অ্যাপল থেকে জবসের বিদায়

অ্যাপলের বাণিজ্যিক উন্নতির জন্য সিইও হিসাবে নেয়া হয় জন স্কালি কে। স্কালিকে আনা হয় পেপসি থেকে। পেপসির মতো কম্পানিতে উদ্ভাবনের সুযোগ কই, সুযোগ কই নতুন কোন প্রোডাক্টের। স্কালি চিয়ারত পেপসিকেই বাণিজ্যের রাস্তায় নতুন করে নিয়ে এসেছেন। তার আমলে পেপসি ফুলে ফেপে বিরাট মহীরুহতে পরিণত হয়। ব্যবসা কীভাবে করতে হয়ে সেটা তিনি জানেন। কাজে, তার আমলে বিজনেজ এনালিস্টের কদর বাড়তে শুরু করে এপলে, ইঞ্জিনিয়ারদের নয়। স্টিভের যেখানে পছন্দ নিত্য নতুন প্রডাক্টের, স্কালি সেখানে যা আছে তাই দিয়ে বাজার দখলের পরিকল্পনা। বোর্ড মিটিংগুলোতে নতুন প্রোডাক্টের আলোচনা থেকে বাণিজ্যের নানা ফন্দি আলোচনা। বোর্ড মেম্বাররাও বেশিরভাগ স্কালির পক্ষে। স্কালি বললেন, ম্যাক নিজের দোষেই বাজার হারাচ্ছে। এর ডিজাইনে গলদ। কাজে স্টিভকে ম্যাক টিম থেকে বাদ দেওয়া হোক। একই বছর ১২ই সেপ্টেম্বর অ্যাপলের সিইও জন স্কালি এবং প্রকৌশলীরা  কর্পোরেটর ক্যু শুরু করে। এদিন অ্যাপল চেয়ারম্যান হিসেবে পদত্যাগ করেন জবস। বোর্ড মিটিংয়ে বলেন, ‘আমি অনেক কিছু ভাবছি। এখন আমার পুরো জীবন নিয়ে অ্যাপল থেকে বের হয়ে যাবার সময় হয়েছে। আমাকে এখন কিছু একটা করতে হবে। আমার বয়স ৩০ তো হলো।’ এরপর তিনি বের হয়ে আসেন অ্যাপল থেকে।

হতে পারে ম্যাকের বাজার খারাপ, কিন্তু সেটা ভাল হবে না কে বললো। হাজার হলেও ম্যাক তাঁর উদ্ভাবন। সব কম্পিউটার কোম্পানি হুমড়ি খেয়ে পড়েছে অ্যাপলকে নকল করতে তার মাউস, গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস, সহজে ব্যবহারের বুদ্ধির জন্য এবং সবচেয়ে বড় কথা। এটি তাঁর নিজের কোম্পানি। স্কালি চেষ্টা করেছিলেন জবসকে রাখতে কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। পরের দশ বছরে স্টিভকে তার কোম্পানিতে আর ফিরিয়ে আনা যায় নি। জবসের চলে যাওয়াকে অনেকে স্কালির সঙ্গ ব্যক্তিগত বিরোধ বলে মনে করলেও আসলে এখানে কোম্পানির ফোকাসটাও খুব গুরত্বপূর্ণ। স্কালি কিন্তু জবসের পছন্দের সিইও ছিল।

 

জবসের বিশ্বভ্রমণ:

প্রতীকী শেয়ার রেখে স্টিভ তার ২০০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার বেঁচে দিয়েছিলেন

অ্যাপল থেকে চলে আশার পর একটি প্রতীকী শেয়ার রেখে স্টিভ তার ২০০ মিলিয়ন ডলারের  শেয়ার বেঁচে দিলেন। ট্যাক্স বাদ দিয়ে সব টাকা তার পকেটে এসে পড়লো। জে এলিয়টকে বলেছিলেন যে বিশ্বভ্রমণে বের হবেন। কয়দিন পর বের হয়ে পড়লেন, ইতালির টিকেট কেটে। কিন্তু যে লোকটির মাথায় সারাক্ষনই নতুন কিছু করার চিন্তা। সে কীভাবে কাজ না করে অলস বেড়াবে? কিছুদিন পরেই স্টিভ ফেরৎ আসলেন নিজের বাড়িতে। সেসময় তাঁর মনে হয়েছে তার সাধের কোম্পানি থেকে তিনি ছিটকে পড়েছেন কিন্ত কাজ থেকে তো নয়। কাজেই ভাবলেন আবার কাজে ফেরৎ যাবেন।

 

আরও দেখুন:

 

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি