পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

স্টিভ জবস: অ্যাপলের দু:সময় ও জবসের ব্যক্তিগত জীবনের জানা-অজানা তথ্য

স্টিভ জবসের নেক্সট কোম্পানি

জবসের নেক্সট কোম্পানি এবং পিক্সারের আত্মপ্রকাশ

জবস বিশ্বভ্রমণ থেকে ফিরেই মেকিন্টস নিয় যে স্বপ্ন তিনি দেখেছেন সেটি এগিয়ে নিতে চাইলেন। নতুন প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেম আর পাওয়ারফুল কম্পিউটার। তাই অ্যাপল ছাড়ার পর শুরু করলেন নেক্সট নামের কোম্পানি। নেক্সট‌-এ স্বপ্নের মেশিন বানানোর কাজ করছেন তখন সম্পূর্ণ ভিন্নজগতে একটি পাওয়ারফুল কম্পিউটারের খবর পাওয়া গেল। যে লোকটি পাওয়ারফুল কম্পিউটারের কাজের পেছনে টাকা দিতো সে পুরো সিস্টেম - মানে দলবল, হার্ডওয়্যার আর সফটওয়্যার সবই কারো কাছে গছানোর চেষ্টা করছে নিজের বিবাহবিচ্ছেদের দায় মেটানোর জন্য। এটি ছিল জর্জ লুকাসের লুকাস ফিল্মের ডিজিটাল গ্রাফিকস ইউনিট। ক্যালিফোর্নিয়ার মেরিন কাউন্টেতে। জবস ছাড়াও সেটি কেনার চেষ্টা করেছেন রস পেরো।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি কিনে নিলেন স্টিভ জবস। এই ইউনিটকে কিনে নিয়ে স্টিভ এর নাম দিলেন পিক্সার (স্পেনিশ ভাষায় To Make Picture)। এই ইউনিটের প্রধান তিন ব্যক্তির একজন হলেন জন লাসেস্টার যে কিছুদিন ডিজনিতে কাজ করেছে এবং অর্প কিছুদিন আগে ঐ ইউনিটে যোগ দিয়েছে। দেখা গেল এর প্রধান দুইজন আসলে কম্পিটাররে অ্যানিমেশন নিয়ে যতোটা চিন্তিত ততোটা চিন্তিত নয় খোদ ঐ কম্পিউটারের শক্তি বাড়ানোর ব্যাপারে। অথচ জবস ভেবেছিলেন সেটিই তিনি করবেন। পিক্সার টিমের একটা চ্যালেঞ্জ হলো কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকে ক্রমাগত উন্নত করা যাতে একটি পূর্ণ দৈর্ঘের এনিমেটেড ফিল্ম বানানো যায়। ১৯৮৬ সালে তারা বানালো Luxo Jr। দুইটি টেবিল ল্যাম্পের গল্প, একটি ছোট আর অপরটি বড়। এখনো পিক্সারের নাম দেখানোর সময় এটি দেখা যায়। সিগগ্রাফে ৬০০০ দর্শক শেষ হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ তালি দিয়ে এটিকে অভিনন্দিত করে। এর পাশাপাশি ১৯৮৮ সালে নেক্সট কম্পিউটার বাজারে আসে। এরই মাঝে নেক্সট আর পিক্সার নিয়ে জবস ভালই বিপদে পড়ে যান। কারণ যদিও পিক্সার টুকটাক আয় করছে কিন্তু প্রতিমাসেই সেখানে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ৪ লাখ ডলারের মতো।

স্টিভ জবসের নেক্সট এবং পিক্সার কোম্পানি

২০০ মিলিয়ন ডলার অনেক টাকা, কিন্তু বসে খেলে রাজার ধনও ফুরায়। কাজে জবস ভাবলেন তাকে রাশ টেনে ধরতে হবে। পরের বোর্ড সভায় জবস বললেন তিনি পিক্সারের খরচ কমাতে চান। কাজে বন্ধ করে দেয়া হোক একটা ইউনিট, কাজ কমানো হোক, লোকও। শেষ পর্যন্ত মিটিং যখন শেষ হবে হবে তখন পিক্সারের বিক্রয় ও বিপননের ভিপি বিল এডামসের একটা এজেন্ডা বাকী ছিল। বিলের বক্তব্য খুব সহজ। যদি সিগগ্রাফে তারা এবার কিছু দেখাতে না পারে তাহলে তাদের আগের কয়েকবারের সাফল্যের কোন দাম থাকবে না। সবাই ভাববে, পিক্সারের আর কিছু দেওয়ার নাই। কাজে কেহ পিক্সার কিনে নিতে আগ্রহও দেখাবে না। বিলের যুক্তি শুনে দাড়ানো থেকে বসে পড়েন স্পিভ। তারপর বলেন‌: আমাকে দেখানোর মতো আপানদের কাছে কিছু আছে? আছে। লাসেস্টারের Tin Toy। কিছুক্ষণ আলাপ আলোচনার পর নিজের পকেটের করুন অবস্থা স্বত্ত্বেও রাজি হলেন স্টিভ। পরে বোঝাই যায় যে এটি ছিল তার জীবনের সঠিক সিদ্ধান্তগুলির একটি।


জবসের টিন টয়ের সাফল্য

টিন টয় এনিমেটেড ছবির নায়কের সব ইমোশন অনেকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। পিক্সার পেল সেরা এনিমেটেড স্বল্প দৈর্ঘের অস্কার পুরস্কার। স্নো হোয়াইট আর সিনডেরেলা বানানোর জন্য পিক্সারের সঙ্গে একাধিক মিটিং‌-এর চেষ্টা করছিল ওয়াল্ড ডিজনি। পিক্সার তখন সময় দেয়নি। কিন্ত টিন টয়ের সাফল্যের পর পিক্সারের দল একদিন গেল ডিজনির অফিসে। প্রস্তাবনা হল - ডিজনির টাকায় ওরা টিভির জন্য এক ঘন্টার একটি এনিমেটেড ফিল্ম বানিয়ে দেবে।

কিন্তু ওদের আশ্চর্য করে ডিজনি রাজী হলো না। তাদের ভাষ্য ছিল- “না, টিভি নয়। আমরা বানাতে চাই পূর্ণ দৈর্ঘের চলচ্চিত্র।" একজন প্রকৃত স্বপ্নদ্রষ্টা সবসময় সবধরণের সুযোগের জন্য প্রস্তুত থাকে। যদিও পিক্সারের পক্ষ থেকে টিভির কথা বলা হয়েছে কিন্ত প্রথম থেকে তাদের লক্ষ্য ছিল ফিল্ম তৈরি।

 

জবসের “টয় স্টোরি”

স্টিভ জবসের পিক্সারে বিশ্বের প্রথম এনিমেটেড চলচ্চিত্র টয় স্টোরি

টয় স্টোরির প্রথম যে গল্পের গাথুনি বলা হয়েছিল সেটি অনেক পরিবর্তন করা হয়েছিল কিন্তু নামটা ঠিকই রাখা হয়েছে। পরেরর পাঁচ বছর টয় স্টোরি বানানোর সংগ্রাম। প্রতিনিয়ত ক্যাশ ফ্লো নিয়ে চিন্তিত জবস, পিক্সার শেষ পর্যন্ত এটি বানাতে পারবে কিনা তাই নিয়ে সবাই শঙ্কিত। তিন মিলিয়ন ডলারের বাজেট যখন ৬ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে তখন মাঝখানে ডিজনি একবার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কারন উডি চরিত্রটি ঠিকমত ফুটছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে থেরি ঞলো টয় স্টোরি। কিন্তু রিলিজের ডেট বাতিল করলো ডিজনি। কারণ তারা সেটি প্রকাশ করতে চায় ক্রিস্টমাসে।

১৯৯৫ সালে রিলিজ হলো বিশ্বের প্রথম এনিমেটেড পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র টয় স্টোরি। শুধু আমেরিকাতেই ব্যবসা হলো ১৯০ মিলিয়ন ডলার আর পৃথিবী জুড়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। দাড়িয়ে গেল পিক্সারের সম্পূর্ণ উৎপাদন টিম। পিক্সার এখন বিশ্বের এক নম্বর এনিমেশন কোম্পানি এবং ২৫ বছরের ইতিহাসে আর কখনো কোন প্রজেক্টে ফেইল করেনি বা লসও খায়নি। টয় স্টোরি বানানোর সময় পিক্সারের বাকী দুইটি চ্যালেঞ্চ ছিল কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার আর তার সফওয়্যারের উন্নতি ঘটানো। সেটি তারা করেছেও। কিন্ত দুই লাখ ডলারের কম্পিউটার কে কিনবে? শত চেষ্টা করেও তারা মাত্র ৩০০টি কম্পিউটার বিক্রি করতে পারে।
 

অ্যাপলের ক্রান্তিকাল

১৯৯৫ সালে জবস যখন নেক্সট আর পিক্সার কে নিয়ে ব্যাস্ত মাইক্রোসফট তখন বাজারে আনে উইন্ডোজ ৯৫ এবং প্রথমবারের মতো মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেমে যোগ হয় মাউস ক্লিক ভিত্তিক গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস যাকে ধরা হয় ব্যবহার বান্ধব হিসেবে অ্যাপলের গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস-এর মতো। উইন্ডোজ ৯৫ বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়ে যায় এবং বাজারে পিছিয়ে পড়ে অ্যাপল। এর মধ্যে অ্যাপলের যা ক্ষতি হবার তা হয়ে গেছে। জবস চলে আসার পর জন স্কালির কৌশল ব্যার্থ হওয়ায় অ্যাপলে তলিয়ে যেতে থাকে। স্কালির কৌশল ছিল- ‘বাজারে যতো ধরনের কম্পিউটার আছে, অ্যাপলেরও ততো ধরনের কম্পিউটার চাই তার’। বাজার দখলের এই কৌশল কোমল পানীয়র বেলায় কাজ করতে পারে। যেমনটা বলা চলে, কোকাকোলার বিপরীতে পেপসি কোলা, স্প্রাইটের বিপরীতে সেভেন আপ। কিন্তু কম্পিউটারের বাজার যে ভিন্ন যেটি স্কালি তখন যেমন বুঝতে পারেন নি, তেমনি অ্যাপলের অন্য বোর্ড মেম্বাররাও বুঝতে পারেননি যে, তারা জবসকে সরিয়ে দিকে কি ভুলই করেছিল। পরে তার মাশুল তারা প্রতি পদে পদে বুজতে পেরেছিল।

 

অ্যাপলে জবসের প্রত্যাবর্তন

অ্যাপলে জবসের প্রত্যাবর্তন

স্কালি এবং বোর্ড মেম্বারদের ভুলের কারণে ১৯৯৫ সালের অ্যাপলের পণ্য বিক্রি হয়েছে ১১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের, ১৯৯৬ সালে এটি দাঁড়ায় ৯.৫ বিলিয়ন। ওই টাকা থেকে উৎপাদন ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিলে গোটা কোম্পানি তখন ছিলো লোকসানের খাতায়। এর ফলে অ্যাপল দাঁড়িয়ে পরেছিল দেউলিয়া হওয়া থেকে মাত্রই ৯০ দিন দূরে। অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অর্থ সমাগম করতে না পারলে কোম্পানি বন্ধ করে দিতে হবে। ১০ বছর পর যখন অ্যাপল দেউলিয়া হওয়ার পথে তখন স্কালি এবং বোর্ড মেম্বাররা তাদের ভুল বুজতে পেরে ১৯৯৬ সালে স্টিভ জবসের নেক্সটকে ৪২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ক্রয়ের ঘোষণা দেয়। ১৯৯৬ সালের শেষ দিকে লেনদেন চূড়ান্ত হয়। এর মাধ্যমে অ্যাপলের বোর্ড মেম্বার হিসেবে স্টিভ জবস এর প্রত্যাবর্তন ঘটে। ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে অ্যাপলের তত্‍কালীন প্রধান নির্বাহী গিল আমেলিওকে সরিয়ে জবসকে কার্যত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেপ্টেম্বরে জবস অন্তবর্তীকালীন প্রধান নির্বাহীর পদ পেয়ে যান।

 

মাইক্রো সফটের সাথে গোপনীয় চুক্তি

বিল গেটসের মাইক্রো সফটের সাথে স্টিভ জবসের গোপনীয় চুক্তি

১৯৯৭ সালে শেষের দিকে বাজার মূল্য হিসেবে অ্যাপলের দাম ছিলো ৬ বিলিয়ন ডলার আর মাইক্রোসফটের দাম ছিলো ২৫০ বিলিয়ন ডলার। সে সময় ছয় আর আড়াইশ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় না গিয়ে স্টিভ নিজে বিল গেটসের সামনে দাড়িয়ে হিসেব তোলেন মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজে ব্যবহার করা ইউজার ইন্টারফেস বিষয়ে। অ্যাপলের দিক থেকে বিষয়টি ছিলো অনেকটা এমন- ‘তোমরা যা দিয়ে ব্যবসা করছো, সেটি আসলে আমাদের বানানো’। বিল গেটসের সঙ্গে স্টিভ জবসের এই ইউজার ইন্টারফেস নিয়ে ঠিক কত টাকার চুক্তি হয়েছিল তা সে সময় কোনো পক্ষই প্রকাশ করেননি। তবে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠান দুটি একটি চুক্তিতে আসে।

মাইক্রোসফটের সাথে চুক্তির সময় প্রথমবারের মতো স্টিভ জবস জানিয়েছিলেন মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তির কারিগরি বিষয়গুলো। স্টিভ বলেন, মাইক্রোসফট ওই সময়ের পর থেকে অফিস স্যুইট অর্থাৎ মাইক্রোসফট অফিস, এক্সেল, পাওয়াপয়েন্ট বা এক্সেস এর মতো সফটওয়্যারগুলো অ্যাপল এবং উইন্ডোজ পিসির জন্য একসঙ্গেই তৈরি করবে। উইন্ডোজ পিসির জন্য যতোগুলো অফিস ভার্সন তৈরি হবে, ঠিক ততোগুলো ভার্সনই তৈরি হবে ম্যাক অপরেটিং সিস্টেমের জন্য। এর ফলে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য ম্যাক অপরেটিং সিস্টেম বাজারে একটি ভালো ও জনপ্রিয় পণ্য নিশ্চিত করার সময় করে নেন স্টিভ জবস।

এই চুক্তির আরেকটি বিষয় ছিলো, মাইক্রোসফট ১৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার কিনবে অ্যাপলের। এই তথ্যটি যেন অ্যাপলের জন্য ছিলো অহংবোধে আঘাত করার মতো। তবে, স্টিভ আস্বস্ত করেন বাড়তি আরেকটি তথ্য দিয়ে। ওই দেড়শ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে মাইক্রোসফট আদতে অ্যাপলে কোনোরকম ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না এবং অন্তত তিন বছর মাইক্রোসফট ওই শেয়ার হাতবদলও করতে পারবে না। ব্যবসার ভাষায় একে স্টিভ বলেছিলেন ‘নন ভোটিং শেয়ার’। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানে টাকা আসবে ঠিকই কিন্তু কর্তৃত্বও পুরোপুরি থাকবে অ্যাপলের।
 

মাইক্রো সফটের সাথে চুক্তির ফলাফল

মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তির ফল কী হয়েছিল তা এক কথায় জানা সম্ভব পরের দিন নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি রিপোর্টে। সেখানে বলা হয়ছিল যে, স্টিভ জবসের ওই ঘোষণার ফলে অ্যাপলের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬.৫৬ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৬.৩১ ডলারে। অপরদিকে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম বাড়ে স্রেফ ১২ সেন্ট। ওই দিন মাইক্রোসফটের সঙ্গে স্টিভ জবস চুক্তি করেছিলেন অসবম্ভব গোপনীয়তা রক্ষা করে। কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দুই ঘণ্টা আগে অন্যান্য পরিচালকদের তিনি জানিয়েছিলেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ফলে বাইরের লোকজন তো দূরের কথা, যার সঙ্গে চুক্তি করেছেন, সেই বিল গেটসও বলেছিলেন, ‘স্টিভ কেন আবার অ্যাপলের সিইও হতে চাইছে? সে জানে তথ্যপ্রযুক্তি বাজারে সে প্রতিযোগিতায় পারবে না।’ কিন্তু সে সময় বিল গেটস জানতেন না, ওই চুক্তির ফলে জবস প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস ঠেকানোর পাশাপাশি তিন থেকে চার বছর সময় কেবল বের করে নিচ্ছেন। স্টিভ সম্ভবত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, ওই সময়টুকু পেলেই তিনি ফের বদলে দিতে পারবেন খেলার ছক।

 

পুনরায় লাভজনক কোম্পানি অ্যাপল

স্টিভ জবসের ফলে পুনরায় লাভজনক কোম্পানি অ্যাপল

১৯৯৮ সালের মার্চে অ্যাপলকে পুনরায় লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করা প্রচেষ্টা হিসেবে জবস নিউটন, সাইবারডগ এবং ওপেনডকের মত কিছু প্রকল্প বন্ধ করে দেন। জবস ম্যাকিন্টস ক্লোনের লাইসেন্সকরণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনেন। তিনি এটিকে প্রস্তুতকারকদের জন্য অনেক ব্যয়বহুল করে দেন। জবসের নির্দেশনার অধীনে ১৯৯৮ সালের মে মাসে আইম্যাক কম্পিউটার সহ অন্যান্য নতুন কিছু পণ্য প্রবর্তনের পর কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বাজারে জায়গা করে নিতে শুরু করে। নেক্সটকে কিনে নেওয়ার ফলে, এর অনেক পণ্য অ্যাপলের পণ্যে পরিণত হয়, যেমন নেক্সটস্টেপ হয়ে যায় ম্যাক ওএস এক্স। ২০০১ সালের ২৪শে মার্চ চিতা নামের প্রথম ম্যাক ওএস টেন চালু হয়। ২০০১ সালে অ্যাপল প্রবেশ করে কম্পিউটারের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়, বাজারে আনে জনপ্রিয়তম মিউজিক প্লেয়ার আইপড, আইটিউনস ডিজিটাল মিউজিক সফটওয়ার এবং আইটিউনস স্টোর চালু করার মাধ্যমে কোম্পানিটি ভোক্তা ইলেক্ট্রনিক্স এবং সঙ্গীত বিপণন বাজারে হানা দেয়।

২০০৭ সালের ২৭ জুন, আইফোন অবমুক্ত করার মাধ্যমে অ্যাপল সেলুলার ফোন ব্যবসা শুরু করে। আইফোন হল স্পর্শকাতর পর্দা সমৃদ্ধ একটি সেল ফোন, যার মধ্যে একটি আইপডের বৈশিষ্ট্যসমূহও রয়েছে এবং নিজস্ব মোবাইল ব্রাউজারের মাধ্যমে, এটি মোবাইল ব্রাউজিং এর দৃশ্যপটে বৈপ্লবিক পরিবর্তন বয়ে আনে। এইসব পরিকল্পনা বিল গেটসের জানার কথাও নয়। যেমন তিনি সেই সময়ে কল্পনাও করতে পারেননি ২০১১ পয়লা নভেম্বর এসে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইক্রোসফটের বাজার মূল্য দাঁড়াবে ২২৬ বিলিয়ন, আর সেই সময়ের ৬ বিলিয়ন ডলারের অ্যাপলের মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৮ বিলিয়ন ডলার।

 

ব্যক্তি জীবনে জবস

স্টিভ জবসের স্ত্রী লরেন পাওয়েল এবং তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জবস ১৯৯১ সালে লরেন পাওয়েলকে বিয়ে করেন। সে ঘরে তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ে। এক বান্ধবীর ঘরে আছে জবসের তরুণ বয়সের আরেকটি মেয়ে। ২০০৩ সালে তাঁর শরীরে টিউমার ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচার না করায় বিপজ্জনক দিকে মোড় নেয় সেটি। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হন। কিন্তু ২০০৮ থেকে আবার শরীর-স্বাস্থ্য ভাঙতে শুরু করে জবসের। ওজন কমে গিয়ে রোগা হয়ে পড়েন। এর পরের বছরও তাঁর স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। তবে ২০১০ সালে প্রচণ্ড কর্মোদ্যমী একজন মানুষ হিসেবে কাজে ফেরেন তিনি। তারপর আবারও অসুস্থতা ঘিরে ধরে তাঁকে। তাই সিইও থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পদত্যাগপত্রে জবস লিখেছিলেন, ‘’আমি সব সময়ই বলি, যেদিন দেখব আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারছি না, সেদিনই আপনাদের জানিয়ে দেব। সে দিনটা এসেছে।’’ জবস তাঁর কথা রেখেছেন। তবে তিনি কোম্পানির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল ছিলেন। ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শেয়ার বাজারে অ্যাপলের পাঁচ শতাংশ দরপতন ঘটে। এই ক্ষুত্র দরপতন অ্যাপলে জবসের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত বহন করে।

 

জবসের সম্পদ

জবস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে বছরে মাত্র ১ মার্কিন ডলার বেতন গ্রহন করতেন। অবশ্য তার কাছে অ্যাপলের ৫.৪২৬ মিলিয়ন শেয়ার ছিল, যার মূল্য ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও ছিল ডিজনির ১৩৮ মিলিয়ন শেয়ার, যার মূল্য ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জবস ঠাট্টস্বরূপ বলেন যে অ্যাপল থেকে তিনি বছরে যে ১ মার্কিন ডলার পান, তার ৫০ সেন্ট পান বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য এবং বাঁকি ৫০ সেন্ট পান নিজের কাজের জন্য। ২০১০ সালে ফোর্বসের হিসাব অনুসারে, তার সম্পত্তির পরিমাণ ৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

 

স্টিভ জবসের চির বিদায়

স্টিভ জবসের চির বিদায়

বিগত কয়েক বছর ধরে তার স্বাস্থ সমস্যা খবরের শিরোনাম হয়ে আসছিল এবং তিনি ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে চিকিত্‍সার জন্য ছুটিতে ছিলেন। ফোর্বস কর্তৃক প্রকাশিত হয় যে জবসের পদত্যাগ অ্যাপলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সেই সাথে দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটতে পারে, যেখানে তিনি পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ঘোষণার দিন ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির শেয়ারেও ১.৫ শতাংশ দরপতন ঘটে। কৈশোর থেকেই ক্ষ্যাপাটে, স্বপ্নদ্রষ্টা এবং লক্ষ্যের দিকে একাগ্র প্রযুক্তিবিদ স্টিভ জবস অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে ভুগে ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। অসম্ভব সৃষ্টিশীল স্টিভ জবসের ফলে পৃথিবীবাসী পেয়েছে এক বিস্ময়কর প্রযুক্তির জগৎ।

 

৪ বছরের পণ্য আগাম ঠিক করে গেছেন স্টিভ জবস

মৃত্যুর আগেই তার প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের ভবিষ্যৎ তিনি ঠিক করে গেছেন। আগামী ৪ বছর নতুন পণ্যের জন্য অ্যাপলকে যেন সংশয়ে ভুগতে না হয় সে ব্যবস্থা করে গেছেন তিনি। আইপড, আইপ্যাড, আইফোন এবং ম্যাকবুকসহ নতুন অনেক পণ্যেরই নকশা চূড়ান্ত করে গেছেন স্টিভ। ‘স্পেসশিপ’ আকারের অ্যাপলের নতুন হেডকোয়ার্টার তৈরির পরিকল্পনা ছিলো তার। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তিনি অনুমতি দিয়ে গেছেন। অ্যাপল সূত্রে বলা হয়েছে, জবস জানতেন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে তাই তিনি পুরো এক বছর প্রচুর পরিশ্রম করেন। সে সময়ে তিনি অ্যাপলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা পণ্যগুলোর জন্য কাজ করেছেন। অ্যাপলের পাইপ লাইনে চার বছরের পণ্য স্টিভ নিজেই নকশা করে গেছেন। শেষদিকে তিনি ধরেছিলেন আইক্লাউডের কাজও।

 

আরও দেখুন:

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি