পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

ইয়াহু: খেলার ছলে গড়ে ওঠা এক প্রতিষ্ঠানের অজানা গল্প

ইয়াহুর দুই প্রতিষ্ঠাতা জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো

"Jerry's Guide to the World Wide Web" এই নামের কোনো ওয়েবসাইট কেউ চিনেন? অনেকের কাছেই অচেনা মনে হবে। আর যদি বলি “Yahoo” নামের কোনো ওয়েবসাইট চিনেন? হ্যা, আজ আমরা “Yahoo” নামের যে ওয়েবসাইটটিকে চিনি তার প্রথম নাম ছিল "Jerry's Guide to the World Wide Web"।

 

ইয়াহুর পেছনের কথা:

কোনো কিছুর অভাববোধ থেকেই মানুষ তার প্রয়োজনের বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে। এমনটিই ঘটেছে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ও দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন “ইয়াহু (Yahoo)” প্রতিষ্ঠার পেছনে। চলুন পেছন থেকে একটু ঘুরে আসি।

 

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। সময়টা ছিল ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাস। জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো নামের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির দুজন শিক্ষার্থী অনেকটা নিজেদের অজান্তেই তৈরি করেন এই সার্চ ইঞ্জিনটি। অজান্তে বলছি এই কারণে যে, তারা যখন কাজ শুরু করেন তখন তাদের মাথায় “ইয়াহু (Yahoo)”- র কোনো পরিকল্পনা ছিল না। যে কারণে তারা “ইয়াহু (Yahoo)” প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা উঠে এসেছে অন্য একটি কাজের শেষের দিকে গিয়ে।

 

জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলোর এক প্রফেসর ১ বছরের ছুটিতে যান। এর ফলে জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো তাদের সেই প্রফেসরের কম্পিউটার ব্যবহার করার সুযোগ পান এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে করতে নিজের অজান্তেই জেরি আর ডেভিড এমন একটি আইডিয়া পেয়ে যান যা ছিলো সার্চ ব্যবস্থার প্রথম পদক্ষেপ।         

 

ছবি দুটি ১৯৯৪ সালের, যখন জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো  ইয়াহু তৈরির কাজ করছেন

কি ছিলো সেই কাজটি?

স্ট্যানফোর্ডে “ফ্যান্টাসি বাস্কেটবল লীগ” নামে একটি খেলা ছিলো। জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে এই “ফ্যান্টাসি বাস্কেটবল লীগ” জেতা যায় তা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তার আগে বলে রাখি “ফ্যান্টাসি বাস্কেটবল লীগ” বাস্তবের কোনো খেলা নয়। এটি মূলত এক ধরনের ভার্চুয়াল প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতাটি ছিল এরকম – প্রথমে বাস্তব খেলোয়াড়ের নামের সমন্বয়ে একটি বাস্কেটবল টিম গঠন করে সেই টিমটি নিবন্ধন করতে হবে। তারপর সেই টিমের রক্ত মাংসের খেলোয়াড়রা বাস্তব ম্যাচে যে পয়েন্ট অর্জন করতো তা দিয়ে ফ্যান্টাসি বাস্কেটবল লীগের প্রতিটি দলের পয়েন্ট নির্ধারিত হতো। আর এই লীগ জয় করতে হলে যে কাজটি করতে হতো তা হলো – ভালো মানের খেলোয়াড় নির্বাচনের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের দলে নিয়ে আসা এবং ফর্মহীন খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়া। এই কাজটি যারা সবার আগে করতে পারতো তারাই সাফল্য অর্জন করতো। সে সময় এই কাজটি করা হতো পরের দিনের পত্রিকার খেলার সংবাদগুলো থেকে। কিন্তু জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো চেয়েছিলেন তার আগের দিন রাতের মধ্যেই সেরে ফেলতে। এজন্য তারা ইন্টারনেটে অসংখ্য ওয়েবসাইট ঘুরে ঘুরে লেটেস্ট খেলার সংবাদগুলো খুঁজতেন এবং এভাবেই তারা একসময় “ফ্যান্টাসি বাস্কেটবল লীগ” জয় করেন।

 

এই কাজের সাথে ইয়াহু প্রতিষ্ঠার সম্পর্ক:

জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো যখন “ফ্যান্টাসি বাস্কেটবল লীগ” জেতার জন্য বিভিন্ন লক্ষ্যহীনভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়াতেন তখন তারা ইন্টারনেটে নির্দিষ্ট কোনো কিছু সহজে খুঁজে বের করার অভাব অনুভব করেন। আর তাই তারা এমন কোনো কিছুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যার মাধ্যমে সহজেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি খুঁজে পাওয়া যায়। আর এভাবেই ইয়াহুর যাত্রা শুরু হয়।         

 

ইয়াহুর প্রথম দিকের পথচলা:

প্রথমদিকে জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো নিজেরাই বিভিন্ন ক্যাটাগরী ও সাবক্যাটাগরীতে ওয়েবসাইটগুলোকে ভাগ করে তালিকাবদ্ধ করেছেন। এই অবস্থা চলেছে দিনের পর দিন। সময়টা তাদের জন্য যথেষ্ট কঠিন ও ক্লান্তিদায়ক ছিল। এভাবেই চলতে থাকে তাদের পথচলা এবং সময় যতো গড়াতে থাকে “ইয়াহু” ততটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। শুরুতেই বলেছি শুরুতে “ইয়াহুর” নাম ছিলো "Jerry's Guide to the World Wide Web". পরে সংক্ষিপ্ত ও চটকদার নাম রাখার জন্য নাম পাল্টে "ইয়াহু (Yahoo)" রাখা হয়। যার পূর্ণরূপ ছিল "Yet Another Hierarchical Officious Oracle."।

বাম পাশের ছবিটি ১৯৯৪ সালের হোম পেজের এবং ডান পাশের ছবিটি ১৯৯৫ সালের ইয়াহুর হোম পেজের

বাম পাশের ছবিটি ১৯৯৬ সালের হোম পেজের এবং ডান পাশের ছবিটি ১৯৯৮ সালের ইয়াহুর হোম পেজের

 

টাকা আসলো কোথা থেকে?

জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলোর মূলধন বলতে ছিল শুধু তাদের আইডিয়া। তবে শুধুমাত্র আইডিয়া দিয়ে তো আর কোনো কোম্পানী চলতে পারে না এটা আমরা সকলেই জানি। আর এটাও জানি যে, সিলিকন ভ্যালিতে টাকার কোনো অভাব নেই। সিলিকন ভ্যালিতে এমন অনেক ক্যাপিটালিস্ট রয়েছে যাদের দ্বারা নির্ধারিত হয় কোন কোম্পানীটি টিকে থাকবে আর কোনটি থাকবে না। সিলিকন ভ্যালির অনেক ক্যাপিটালিস্টই "ইয়াহু (Yahoo)" ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে একজন ক্যাপিটালিস্ট ছিলেন যিনি জানতেন "ইয়াহু (Yahoo)" ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি হলেন মাইকেল মরিজ (Michael Moritz)। মাইকেল মরিজ (Michael Moritz)প্রাথমিকভাবে ইয়াহুর পেছনে ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন।

ইনিই সেই মাইকেল মরিজ (Michael Moritz)

এবার টাকা আয় করতে হবে:

এখন বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে গেলেই প্রথমেই সামনে হাজির হয় বিজ্ঞাপন। আবার ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট একটা অংশ জুড়ে থাকে এসব বিজ্ঞাপন। অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের মূল উৎসই হচ্ছে এই বিজ্ঞাপন। তবে ইয়াহু যখন শুরু হয়েছিল সে সময় ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন বলতে তেমন কিছু ছিল না। তাই জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলোর মাথায় নতুন দুশ্চিন্তা ভর করে। কীভাবে তারা সামনে এগিয়ে যাবে। অবশেষে দুই আইডিয়াবাজের মাথায় আসে বিজ্ঞাপন বিষটির।

 

এখানেও রয়েছে বাঁধা:

বিজ্ঞাপন ইস্যুতে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ওয়েব ব্যবহারকারীরা। এর পক্ষে ছিল ক্যাপিটালিস্টরা ও বিপক্ষে ছিলেন ওয়েবের বিশুদ্ধবাদী বা মৌলবাদীরা। বিপক্ষের বক্তব্য ছিলো – ইন্টারনেটকে বিজ্ঞাপনের প্রচারণায় ব্যবহার করা হলে এর নিজস্বতা ও বিশুদ্ধতা হারিয়ে যাবে। স্বয়ং জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলোও এ বিষয়ে শঙ্কিত ছিলেন। যদি বিজ্ঞাপন দেওয়ার ফলে তাদের সাইটের ব্যবহারকারীরা রুষ্ট হয় এবং বিদ্রোহ করে। একদিকে মনে অজানা আশঙ্কা অপরদিকে কোম্পানী চালাতে হলে প্রয়োজন টাকার। এরকম এক পরিস্থিতির মধ্যে তারা ১৯৯৫ সারের শেষ দিকে তাদের সাইটে ব্যানার অ্যাড দেওয়া শুরু করে। জেরি ইয়াং ও ডেভিড ফিলো যা ধারণা করেছিল সে রকম কোনো কিছু ঘটেনি, ঘটেছে তার উল্টো। দিনে দিনে ইয়াহুর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।         

 

বাম পাশের ছবিটি ২০০০ সালের হোম পেজের এবং ডান পাশের ছবিটি ২০০২ সালের ইয়াহুর হোম পেজের

বাম পাশের ছবিটি ২০০৩ সালের হোম পেজের এবং ডান পাশের ছবিটি ২০০৩ সালের পরবর্তী এবং ২০০৬ সালের আগের সময়ের ইয়াহুর হোম পেজের

 

ইয়াহু অফিস:

ইয়াহুর প্রধান কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানিভেল শহরে অবস্থিত।

ইয়াহু ক্যাম্পাসের কিছু ছবি

 

ইয়াহুর নামকরণ:

“গালিভারের ভ্রমন” গল্পে Jonathan Swift সর্ব প্রথম ইয়াহু শব্দটি ব্যবহার করেন। isbarely এলাকায় প্রবেশের পর গালিভার এক ভিন্ন ধরনের মানুষের স্বাক্ষাত পান। সেখানকার একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ করতেই ইয়াহু শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইয়াহুর প্রতিষ্ঠাতা Jerry Yang এবং David Filo তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়ার ক্ষেত্রে এটি পছন্দ করেন কারন তারা তাদেরকে সেই সব মানুষের মতোই তুলনা করে মজা পেয়েছিলেন। তাছাড়া নামটিতে একটি আকর্ষনীয় ও উচ্ছলভাব আছে।

তবে ইয়াং এবং ফিলো বলেন , তারা ইয়াহু নামটা পছন্দ করে যার কারন এটার অপভ্র্রংশ (slang) হচ্ছে : "rude, unsophisticated, uncouth." ( ধৃষ্ট, অকৃত্রিম, অদ্ভুত)। শুরু তে ইয়াহু শব্দটির শেষের বিস্ময়সূচক চিহ্নটি ছিল না। পরবর্তী সময়ে বিস্ময়সূচক (!) চিহ্নটি দিতে হয়। কেননা আরও তিনটি কোম্পানির ট্রেডমার্ক ছিল ইয়াহু। একটি বারবিকিউ সস, একটি ছুরি তৈরীর কারখানা এবং একটি মনুষ্যবহন যোগ্য প্রোপেলার কোম্পানীর। তাদের থেকে আলাদা হওয়ার জন্য বিস্ময়সূচক (!) চিহ্নটি যোগ করা হয়।

বাম পাশের ছবিটি ২০০৬ সালের হোম পেজের এবং ডান পাশের ছবিটি ২০০৮ সালের ইয়াহুর হোম পেজের

বাম পাশের ছবিটি ২০০৯ সালের হোম পেজের এবং ডান পাশের ছবিটি ২০১০ সালের ইয়াহুর হোম পেজের

ইয়াহুর যে সকল সেবা রয়েছে:

ইয়াহু'র রয়েছে ওয়েবসাইট, সার্চইঞ্জিন, ইয়াহু ডিকশেনারী, ইয়াহু মেইল, ইয়াহু নিউজ, ইয়াহু গ্রুপ, ইয়াহু এন্সার, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, অনলাইন ম্যাপ, ইয়াহু ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া সেবা ইত্যাদি।

বাম পাশের ছবিটি ২০১১ সালের হোম পেজের এবং ডান পাশের ছবিটি ২০১২ সালের ইয়াহুর হোম পেজের

 

ইয়াহু অফিসের কিছু ছবি:

 

ইয়াহুর রাজ্যে গুগলের হানা:

অনেকের মতে, চাকচিক্য ও জাঁকজমকের জোয়ারে গা ভাসিয়ে ইয়াহু নিজেই তাদের সম্ভাবনার দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া ইয়াহুর সার্চ ফলাফল নিয়েও ছিল বিতর্ক। বেশিরভাগ লিংকেই ক্লিক করলে দেখা যেত সেটি কোনো এক বিজ্ঞাপনী সাইট। এভাবে ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে নতুন কিছুর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। আর সেই নতুন কিছুটিও নিয়ে আসে স্ট্যানফোর্ডেরই অন্য দুই শিক্ষার্থী ল্যারি পেইজ ও সের্গেই বিন।

 

 

গুগলে নতুন এমন কি ছিলো?

ইয়াহুর জনপ্রিয়তা হ্রাসের পেছনে গুগলের যে বিষয়টি কাজ করেছে সেটি হলো – ইয়াহুতে অনেক সময় দেখা যেতো ব্যবহারকারী যে তথ্যটি খুঁজছে সেটি ঠিকভাবে পেতো না। উল্টাপাল্টা লিংক শো করতো। গুগল এক্ষেত্রে নতুন এক পদ্ধতি অনুসরণ করে। গুগলে সার্চ করলে প্রতিটি পেজের দুটি করে লিংক শো করতো। এর মধ্যে ১টি ছিল সার্চ পেজের অন্যটি ছিল রিকোমেন্ডেশন। অর্থাৎ সার্চ পেজের লিংকে যতটি ক্লিক পড়তো রিকোমেন্ডেশন পেজে ঐ ওয়েবসাইটের পক্ষে ততটি ভোট যোগ হতো। এর ফলে যেই পেজটিতে ভোট বেশি হতো সেই পেজটি ততোটা দরকারী হিসেবে গণ্য হতো। ধরুন পাশাপাশি দুটো লিংক। এর মধ্যে একটি লিংক ১ মিলিয়ন ভোট পেয়েছে এবং অন্য লিংকটি ১০০ ভোট পেয়েছে। এর ফলে সার্চ পেজ থেকেই কোন লিংকটি বেশি উপকারী খুব সহজেই বোঝা যেত। যা ইয়াহুতে ছিল না।

 

এক সময় গুগলকে কেনার সুযোগ পেয়েছিলো ইয়াহু:

গুগল যখন ছোট পরিসরে ছিলো তখন ল্যারি পেইজ ও সের্গেই বিন গুগলকে ইয়াহুর কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিলো। সে সময় ইয়াহুর সিইও ছিলেন সেমেল (Semel)। একদিন ল্যারি পেইজ ও সের্গেই বিন ইয়াহুর সিইও এর সাথে ডিনারে একত্রিত হন। ল্যারি পেইজ ও সের্গেই বিন গুগলের মূল্য নির্ধারণ করেন ১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সেমেল সেসময় তাতে রাজি হননি। পরবর্তীতে সেমেল ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে গুগল কিনতে রাজি হন এবং এ উদ্দেশ্যে তারা আবার ডিনারে একত্রিত হন। সেসময় ল্যারি পেইজ ও সের্গেই বিন পুনরায় গুগলের দাম নির্ধারণ করে বলেন গুগল কিনতে হলে তাদেরকে ৩ বিলিয়ন ডলার প্রদান করতে হবে। অন্যথায় তারা গুগল বিক্রি করবেন না। সেসময় তাদের মধ্যে আর কোনো কথাবার্তা হয় নি। বর্তমানে গুগল ২০০ বিলিয়ন ইউ এস ডলারের কোম্পানী এবং ইয়াহু সেই তুলনায় মাত্র ২০ বিলিয়ন ইউ এস ডলারের কোম্পানী।

ইনিই হচ্ছেন টেরি সেমেল, যিনি গুগলকে কেনার সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন

২০১১ সালে ইয়াহুকে কিনতে চেয়েছিলো গুগল:

গুগল ২০১১ সালে সময়ের শীর্ষ কোম্পানী ইয়াহুকে কিনতে চেয়েছিলো।। অন্তত দুটি কোম্পানীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবিষয়ে মধ্যস্থতা করার জন্য। ওয়াল ষ্ট্রিট জার্নাল বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে এখবর প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় ইয়াহুর অবস্থা খুব বেশি ভালো ছিল না। সূত্রমতে গুগল ইয়াহুর সাইটের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বিক্রি করতে আগ্রহী।  কিন্তু বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়েই শেষ হয়ে যায়।

 

ইয়াহু থেকে জেরি ইয়াং এর পদত্যাগ:

২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইয়াহুর সহ প্রতিষ্ঠাতা জেরি ইয়াং ইয়াহুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পেপালের সাবেক কর্মকর্তা স্কট থম্পসনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তবে তার পদত্যাগের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইয়াহু থেকে জেরি ইয়াং পদত্যাগ করেন। তবে যতদূর জানা যায়, কয়েক বছর ধরে ইয়াহুর লোকসানের কারণে বিনিয়োগকারী, শেয়ারহোল্ডার এমনকি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেও বেশ চাপের মধ্যে ছিলেন জেরি ইয়াং। ইয়াহু-র প্রাক্তন কর্মীদের একাংশের মতেও, বাজার মূল্যে প্রায় ২০০০ কোটি ডলারের এই সংস্থার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তেমন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ইয়াং।    

জেরি ইয়াং

মারিসা মায়ার এর ইয়াহুতে যোগদান ও হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পাওয়ার যুদ্ধ:

২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি ক্যারল বার্টজকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয় ইয়াহু। ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বার্টজকে প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরিয়ে টিম মর্সকে অস্থায়ীভাবে প্রধান নির্বাহী করা হয়। ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি পেপালের সাবেক প্রেসিডেন্ট স্কট থমসনকে নতুন প্রধান নির্বাহী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১২ সালের মে মাসে স্কট টমসনের পদত্যাগের পর এত দিন ইয়াহুর অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী ছিলেন রস লেভিনসন। 

২০১২ সালের ১৭  জুলাই ইয়াহুর প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন মারিসা মায়ার। মারিসা মায়ার ১৯৯৯ সালে গুগলের ২০তম কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। গুগলে তিনিই প্রথম নারী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন গুগলের জ্যেষ্ঠ পরিচালনা পরিষদের সদস্যও ছিলেন।

 

মারিসা ইয়াহুতে এসে নতুন করে সাজিয়েছেন ইয়াহুর হোমপেজটি, ফ্লিকার সেবার নতুন নকশা করেছেন, বেশ কয়েকটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন আপগ্রেড করেছেন এবং ইয়াহুকে অনলাইন সেবা হিসেবে জনপ্রিয় করতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন। সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে, তাঁর অধীনে তিন বছর ক্রমাগত লোকসানের মুখ দেখতে থাকা ইয়াহু আবার লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হচ্ছে।

 

গুগলকে টপকালো ইয়াহু:

মারিসা মায়ার এর যোগদানের পর ব্যবহারকারীর দিক দিয়ে গুগলকে টপকিয়েছে ইয়াহু। সার্চ ইঞ্জিন শিল্পে আধিপত্য বাড়াতে সম্প্রতি নিজেদের সাইটে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মারিসা মায়ার। এর মধ্যে ইয়াহুর লোগো পরিবর্তনও ছিল। এরপর থেকে ইয়াহু বেশ কিছুটা উন্নতির মুখ দেখে। ২০১১ সালের পর ২০১৩ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশিবার ভিজিট হওয়া সাইট হিসেবে গুগলকে পেছনে ফেলে ইয়াহু। আগস্ট মাসেও এ ধারা বজায় রাখে সাইটটি।  

 

এক প্রতিবেদনে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কমস্কোর জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেছে প্রায় ১৯ কোটি ৭৮ লাখ ব্যক্তি। অন্যদিকে গুগল ব্যবহার করেছে প্রায় ১৯ কোটি ১৪ লাখ ব্যক্তি।

 

তবে আর্থিক দিক হতে এখনও ইয়াহু গুগলের অনেক পেছনে পড়ে আছে। রিসার্চার ফার্ম ই-মার্কেটারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল বিজ্ঞাপন থেকে গুগলের এ বছর আয়কৃত মোট বিক্রয়লব্ধ আয়ের পরিমাণ ৩৮.৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফেসবুকের আয় ৫.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ইয়াহুর আয় ৩.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 

অন্য প্রতিষ্ঠান কেনায় ইয়াহুর মনোনিবেশ:

মারিসা মায়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার পর থেকে গত ১৩ মাসে ইয়াহু ২০টির মতো প্রতিষ্ঠান কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নিউইয়র্ক ভিত্তিক ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম টাম্বলার ১১০ কোটি মার্কিন ডলারে কিনে নিয়েছে অনলাইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইয়াহু। ইয়াহুর অধীনে গেলেও টাম্বলার আলাদাভাবেই ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং ডেভিড কার্প-এর দায়িত্বে থাকবেন। এ সাইটটিতে বিজ্ঞাপনসহ অর্থ আয়ের উত্সগুলো নিয়ে কাজ করবে ইয়াহু।

এছাড়া রকমেল্ট নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকেও কিনেছে ইয়াহু। রকমেল্ট ফেসবুকভিত্তিক একটি ওয়েব ব্রাউজার তৈরি করেছিল, যা রকমেল্ট নামেই পরিচিত ছিল। ৪ কোটি ডলার এর বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে ইয়াহুকে।

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
রানী ভিক্টোরিয়া (দ্বিতীয় পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
রানী ভিক্টোরিয়া (প্রথম পর্ব)ব্রিটেনে রাজতন্ত্রের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন যিনি
মারগারেট থ্যাচারঃ ইতিহাসে লৌহমানবী খ্যাত ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীসমাজের নিম্নস্তরের সাধারন ঘরের মেয়ের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠার বর্ণাঢ্য এক গল্প
মোহাম্মদ আলী দ্যা গ্রেটেস্টবক্সিং জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তী মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
পন্ডিত জহরলাল নেহেরু ও এডুইনা মাউন্টব্যাটেনের এক অনবদ্য প্রেমকাহিনীদেশ বিভাগের ঐতিহাসিক সময়ের অদ্ভুত এক প্রেম কাহিনী
থমাস এডওয়ার্ড লরেন্সঃ লরেন্স অব অ্যারাবিয়ালরেন্স অব অ্যারাবিয়াঃ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের পেছনের নায়ক
কনকর্ড দি জেট হকবিস্তারিত পড়ুন কনকর্ড দি জেট হক একটি সুপারসনিক বিমানের গল্প
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সূত্রপাতের কারণযে বিষয়গুলোর কারণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
‘নূরজাহান’ মুঘল ইতিহাসের এক শক্তিশালী নারী চরিত্রবিস্তারিত পড়ুন মুঘল ইতিহাসের প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহান সম্পর্কে
উইলিয়াম শেকসপিয়ার:ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার ইংরেজি সাহিত্যের জনক
আরও ১৪২ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি