| নাম | থানা | এলাকা | |
|---|---|---|---|
| কোন তথ্য নেই | |||
|
ফিচার
![]() কিছু সম্পর্ক রঙিন হয়ে ওঠে বসনে। উৎসব উপলক্ষে বন্ধু কিংবা বোনেরা মিলে এক রকমের পোশাক পরার মাধ্যমে যেমন ফুটে ওঠে মনের মিল, আবার দৃঢ় হয় সম্পর্কের বন্ধনও। বিবিয়ানার কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, ‘বোনেরা মিলে একই রকম পোশাক পরা নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। ছোটবেলায় মা আমাদের চার বোনকে ঈদে এক রকমের... বিস্তারিত |
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী • জাফর ইকবাল • আনিসুল হক • মিজানুর রহমান খান আসিফ নজরুল • আলী যাকের • সোহরাব হাসান
১৯৪৬ সালের ২৩শে অক্টোবর সৈয়দ আবুল মকসুদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং গবেষক। তিনি তাঁর সাহসী ও গবেষণামূলক লেখার জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন্। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। তাঁর লেখা ভ্রমণ কাহিনী ‘জার্নাল অব জার্মানী’ অত্যন্ত প্রশংসিত হয়।
তাঁর বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান। দৈনিক প্রথম আলোয় তিনি ‘সহজিয়া কড়চা’ এবং ‘বাঘা তেঁতুল’ শিরোনামে সাহিত্য, সমাজ,-সংস্কৃতি এবং রাজনীতি নিয়ে কলাম লেখেন। তাঁর লেখা কলামগুলোর লিংক থাকছে এ পাতায়।
কলাম: বাঘা তেতুল আমাদের বাড়ি থেকে পদ্মা নদী দেখা যেত। বাংলাঘরের সামনে থেকে পদ্মার পানি পর্যন্ত ফাঁকা—ফসলের জমি। বাড়িতে বসেই দেখতাম নদীতে অগণিত নৌকা। যাত্রীবাহী প্রকাণ্ড গয়না ও ছান্দি নৌকা। ছোট ছোট জেলে ডিঙি। লঞ্চ। স্টিমার। ছোটবেলা মহাকবি মাইকেল, হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, কায়কোবাদদের কাব্যগ্রন্থ আমার আব্বা আমাকে পড়ে শোনাতেন। আমার ধু-ধু মনে পড়ে তিনি নবীন সেনের একটি কবিতা শুনিয়েছিলেন। তার শিরোনাম ‘কীর্তিনাশা’। পদ্মা নদীর কথা। আমি পরম ভাগ্যবান। বাড়িঘরও গেছে। পুরোনো দিনের বইপত্রও প্রায় সবই খোয়া গেছে। সেই কালের পদ্মাও আজ নেই। কিন্তু এতকাল পর গত শনিবার একটি ধূসর এক্সারসাইজ খাতা খুঁজে পাই। খাতার ওপরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা: ‘আত্মকথা’। ভেতরে কিছুটা পড়ে মনে হলো লেখিকা স্বয়ং পদ্মা নদী। জরুরি অ-কাজে কোথাও ছুটতে হবে। তাই স্তম্ভ ভরাট করতে সেখান থেকে খানিকটা তুলে দিচ্ছি: বিস্তারিত কলামটি দেখতে ক্লিক করুন
প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নপ্রস্তর যুগের পাথরের তৈরি অস্ত্রফলক পাওয়া গেছে। মাটি খুঁড়ে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা নবপ্রস্তর যুগের মৃৎপাত্রের সন্ধান পান। সুমেরীয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা এবং হরপ্পা সভ্যতার তৈজসপত্রের যে নিদর্শন পাওয়া যায়, তার মধ্যে পাথর ও ধাতুর বাটি ছিল। আদিম মানুষ তাদের প্রয়োজন মেটাতে যেসব পাত্র বানাতে শেখে, সেগুলোর মধ্যে বাটি অন্যতম। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
কোনো কোনো দেশের মানুষ টিভির খবর দেখে ও পত্রিকা পড়ে আনন্দের বন্যায় ভাসে। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা। কোনো কোনো দেশের টিভির দর্শক ও কাগজের পাঠক চোখের পানিতে ভাসে। যুগে যুগে আনন্দ ও সুখ শুধু শাসকদের জন্য বরাদ্দ। তাঁরা সুখ-শান্তিতে হাসেন হা হা করে। হাহাকার করে কাঁদে শাসিতরা। এই দুঃখময় ও শোক-সন্তাপদগ্ধ পৃথিবীতে কোনো কোনো জাতির মধ্যে এখনো কিছু প্রথা প্রচলিত রয়েছে, যা বড়ই চমৎকার। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ইতালির পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি, আইএমএফের চাকরিচ্যুত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডোমিনিক স্ট্রস-কান প্রমুখের পরামর্শে কিছু প্রথা জাতিসংঘের উদ্যোগে সদস্যদেশগুলোতে প্রবর্তনের ব্যবস্থা করা উচিত। এবং তা করা হলে পৃথিবীর পনেরো আনা পুরুষের সমর্থন পাবে। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
প্রতিটি জাতির জীবনেই কোনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ একবারই আসে। সেই উপলক্ষটিকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলা দেশবাসীর কর্তব্য। তারা যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তা হলে উপলক্ষটি মূল্য হারায়। হতভাগ্য জাতি উপলক্ষটি থেকে কিছু অর্জন করতে পারে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছরও তেমনি একটি উপলক্ষ। জাতির কোনো কোনো জিনিসের মালিকানা প্রত্যেক নাগরিকের। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
আদমশুমারি হয়ে গেল। সব এলাকা থেকে প্রাপ্ত সংখ্যাগুলোর যোগফলে জানা যাবে, বর্তমানে বাংলাদেশে লোকসংখ্যা কত। আরও জানা যাবে দেশে অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষের সংখ্যা কত। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মানুষ কত। চাকরিজীবী কত, ব্যবসায়ী কত, গৃহবধূ কত। আদমশুমারিতে দেশের মানুষের মোট সংখ্যাটা জানা যাবে—মানুষের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে কোনো সংবাদ নয়। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে অন্য দেশের যাঁরা নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন অথবা অন্যভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের ঋণ আমরা কোনো দিন পরিশোধ করতে পারব না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বের যাঁরা বাংলাদেশে পাকিস্তানি গণহত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদের ঋণও পরিশোধযোগ্য নয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁদের মধ্যে যাঁরা বিশিষ্ট ও খ্যাতিমান, তাঁদের সম্মাননা দেবে। কাজটি বহু আগেই আমাদের করা উচিত ছিল। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
বার্লিন দেয়াল চূর্ণ করার আগে বন ছিল পুঁজিবাদী পশ্চিম জার্মানির রাজধানী। সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানির রাজধানী ছিল খণ্ডিত বার্লিনের এক অংশে। বন প্রেসক্লাবে গিয়েছিলাম দুপুরে খেতে। ঢুকেই দেখি এক নামজাদা আধুনিক শিল্পীর আঁকা কার্টুনের প্রদর্শনী। প্রতিটি কার্টুনই কোনো না কোনো রাজনৈতিক নেতার—ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের। কার্টুনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলর আছেন, মন্ত্রী এবং নেতারাও আছেন। প্রত্যেক নেতার চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে কার্টুনগুলোতে। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
দোররা একটি ফারসি শব্দ। দোররা একই সঙ্গে বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদ। অর্থাৎ এটি একটি বস্তুও। বস্তুর কোনো ধর্ম নেই, কিন্তু শব্দটির মধ্যে আছে ইসলামি আমেজ। কারণ, এটি মধ্যপ্রাচ্যের শব্দ। ইরানি ভাষার শব্দ হলেও বস্তুটির কোনো জাতীয়তা নেই। একসময় এটি পারস্যে ব্যবহূত হতো, আরব দেশে হতো, ইরাক, ইয়েমেন, মিসরেও হতো। এখনো দুনিয়ার কোনো কোনো দেশে হয়, দেদার দোররা এস্তেমাল করা হয়, যেমন বাংলাদেশে। দোররা বস্তুটি কী? বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
ভারতের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই তাঁর মূত্র সেবনের কথা প্রকাশ করে দিয়ে বিশ্বব্যাপী হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। মূত্রথেরাপি নাকি সর্বরোগহর। দীর্ঘায়ু হতে সাংঘাতিক সহায়ক। তবে পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষই মরতে চাইবে, তবু মূত্র পান করে আরও কয়েক দিন বেশি বাঁচার চেষ্টা করবে না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নরমূত্র শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়, উদ্ভিদের পুষ্টি জোগানোর ক্ষমতা তার চমৎকার। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। সুসংহত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দলই একটি দেশকে শক্তিশালী সংসদীয় গণতন্ত্র দিতে পারে। আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের যে সংকট ও দুর্বলতা, তা রাজনৈতিক দলের সংকট ও দুর্বলতার ফল। সাবলীল আদর্শ ও বলিষ্ঠ কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দল থাকলে সংসদীয় গণতন্ত্রও সাবলীল ও সুন্দরভাবে চলত। রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আজ এই দুর্দশা। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা প্রায় ১৭ প্রজাতির হাঙরের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন, হাঙর মাছ সবকিছু রংহীন দেখে। রঙিন বস্তুকে তারা দেখে রংহীন বর্ণে। গবেষণাপ্রধান ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক নাথান হার্ট বলেছেন, ‘এই তথ্য আমাদের হাঙরের আক্রমণ থেকে বাঁচার পথ খুলে দিল। যদি কেউ এমন রঙিন পোশাক পরে পানিতে নামে, যার রং সমুদ্রের পানির রঙের চেয়ে খুব একটা গাঢ় নয়, তাহলে তাকে আর হাঙর আক্রমণ করতে পারবে না।’ বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি যথেষ্ট ভালো এবং আওয়ামী লীগ অপেক্ষাকৃত খারাপ করায় পরদিন সকালে এক স্বনামধন্য আমাকে বললেন, ‘লজ্জা, বড়ই লজ্জার কথা।’ বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক করুন
২৪ মার্চ, ১৯৮২-র সকাল। তখন বেলাবেলি উঠে গেছি। অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে বারান্দায় বেসিনের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাড়ি কামাচ্ছিলাম। আমার ফ্ল্যাটসংলগ্ন পাশের বাড়ির ভদ্রলোক, যাঁর সঙ্গে চোখাচোখি হলে সালাম বিনিময় ছাড়া কথাবার্তা হতো না; গলাখাঁকারি দিয়ে আমার মনোযোগ আকর্ষণ করলেন। তাঁর বারান্দা থেকে আমার বারান্দার দূরত্ব ছয়-সাত ফুটের বেশি হবে না। আমি তাঁর দিকে তাকাতেই তিনি বললেন, ‘খবর শোনেন নাই? ক্যু হইয়া গেছে।’ বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক
সিরাজ শিকদার কবিতা লিখতেন, আমিও কবিতা লিখতাম। তিনি যে ছাত্র সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন, আমি সেই সংগঠনের একজন নগণ্য কর্মী ছিলাম। তিনি শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে বিপ্লব ঘটাতে চাইতেন, আমি নিরাপদ দূরত্বে থেকে বিপ্লবকে স্বাগত জানাতাম। তাঁর সাহস ছিল, আমার ছিল সাহসের অভাব। তিনি তাঁর আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছেন, আমি আপস-টাপস করে দিব্যি বেঁচেবর্তে আছি। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি দেখতে ক্লিক
|
নির্বাচিত প্রতিবেদন
|
|||||||||||||



সৈয়দ আবুল মকসুদ
রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে পাবলিকের, অর্থাৎ ভোটারদের কোনোরকম কুটুম্বিতা নেই। ভোটারদের সবারই বাপ-মা আছেন। অনেকের আছেন শ্বশুর-শাশুড়ি। কারও সৎ শ্বশুর-শাশুড়ি, কারও চাচা-মামা, ফুফা-খালু। কারও বেয়াই, ভায়রা, জেটেস ও শালা-শালী। ভোটারদের সঙ্গে তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সে রকম কোনো আত্মীয়তা বা কুটুম্বিতার সম্পর্ক নেই। যখন যাকে উপযুক্ত ও যোগ্য মনে করেন, তখন ভোটাররা তাঁকে ভোট দেন। অনন্তকালের জন্য তাঁরা কাউকে নির্বাচিত করেন না। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেন তাঁরা। তবে আবার এবং বারবার পুনর্নির্বাচনের সুযোগও থাকে।
কোনো কোনো উপলক্ষ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং তা বিশেষভাবে বিচার্য। সব উপলক্ষ নয়। কোনো দেশে বিদেশি অতিথি সফর করলেই তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এমনকি অতিথিটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। সব কুটুম্ব বড় কুটুম্ব নয়। এই উপমহাদেশে অতিথিকে বলা হয় নারায়ণ। কিন্তু সব অতিথি নারায়ণ নন—কোনো কোনো অতিথি নির্ভেজাল নারায়ণ। নারায়ণ সন্তুষ্ট থাকলে তাঁর বদৌলতে ভাগ্য খুলে যাবে। নারায়ণ নাখোশ হলে কপাল পোড়ার সম্ভাবনা ষোলো আনা।
রাজনীতি একটি পেশা। তবে রাজনীতিকের পেশাটি একজন তাঁতির পেশার মতো নয়, কর্মকারের পেশার মতো নয়, সুতার-মিস্ত্রি বা ডাক্তার-কবিরাজের পেশার মতো নয়। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার পেশার মতোও নয় রাজনীতি। একজন তাঁতিকে উপার্জনের জন্য বসে বসে কাপড় বুনতে হয়। কর্মকারকে হাপরে লোহা গলিয়ে দা-বঁটি-খোন্তা-কুড়াল তৈরি করতে হয়। মিস্ত্রি দরজা-জানালা-আসবাবপত্র বানান। ডাক্তার-কবিরাজ রোগীর রোগ নির্ণয় করে ওষুধ দিয়ে তাকে আরোগ্য করেন। এসব কাজের জন্য তাঁরা মজুরি বা ফি পান।
টাকা। দুনিয়ার দুটি সবচেয়ে মধুর শব্দের একটি। বাংলাদেশি মুদ্রার নাম টাকা। আমি যেকোনো দেশের যেকোনো কালের মুদ্রাকেই টাকা বলছি। এই শব্দ কানে গেলে মৃতপ্রায় মানুষও প্রাণশক্তি ফিরে পায়। টাকার আরেক নাম অর্থ। কোনো এক বাঙালি মনীষী বলেছেন, অর্থই অনর্থের মূল। অর্থ অনর্থের মূল সব ক্ষেত্রে নয়। সবার ক্ষেত্রে তো নয়ই। দৈবাৎ কারও কারও ক্ষেত্রে। অধিকাংশ মানুষের জীবনে টাকা অতি অর্থবহ। হঠাৎ কারও জীবনে অর্থ অনর্থ হয়ে দেখা দিতে পারে দিনের যেকোনো প্রহরে। কখনো অর্থ কারও জীবনে অনর্থ হয়ে দেখা দেয় মধ্যরাতে। লোকনাথ পঞ্জিকামতে, যে রাতগুলোতে যাত্রানাস্তি। মানুষের জীবনে কখনো আসে অমৃতযোগ। কখনো মাহেন্দ্রযোগ। তখন শুধু আসে। জমি আসে, বিল-বাঁওড় আসে, টাকা আসে।
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে আমেরিকার একজন বড় লেখক। তাঁর গল্প ও উপন্যাস সহজ ভাষায় লেখা, কিন্তু অসাধারণ। ছিলেন রোমাঞ্চাভিলাষী। দুঃসাহসী ও বিপৎসংকুল কাজকর্ম করতে পছন্দ করতেন। যেমন সমুদ্রে ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরা, গহন অরণ্যে শিকার, ষাঁড়ের সঙ্গে লড়াইয়ে অংশ নেওয়া, যা তিনি রপ্ত করেছিলেন গৃহযুদ্ধের সময় স্পেনে অবস্থানকালে। তাঁর গল্প-উপন্যাসে তাঁর রোমাঞ্চকর জীবনের ছাপ রয়েছে। হেমিংওয়ে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের চেয়ে ৫৬ দিনের ছোট। প্রথম মহাযুদ্ধে ছিলেন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হয়েছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর শুরু করেন সাংবাদিকতা ও লেখালেখি। প্যারিসে টরন্টো স্টার-এর সংবাদদাতা ছিলেন অনেক দিন। স্পেনেও ছিলেন কয়েক বছর। তারপর নিজের দেশে না থেকে কিউবায় বসবাস করতে থাকেন। চার বিয়ে করে আলোচিত হয়েছিলেন। তাঁর একটি পোষা বিড়ালের নাম ছিল ‘আঙ্কেল উইলি’।
বাংলাদেশের জনগণের নেতারা গণতন্ত্রের প্রবল প্রেমিক। রাজনৈতিক নেতাদের মুখ ও দেশের মাইকগুলোর মুখ যখন সভা-সমাবেশে নিকটবর্তী হয়, তখন বোঝা যায় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাঁদের কী সীমাহীন আগ্রহ ও প্রচেষ্টা। মানুষ যেমন ঘরে বাস করে, গণতন্ত্রেরও একটা ঘর আছে। সেই ঘরের ইংরেজি নাম পার্লামেন্ট। আমরা বাংলা করেছি জাতীয় সংসদ। তাই নেতারা অব্যাহতভাবে বলেন: তাঁদের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হবে সংসদ। নেতারা রাশি রাশি কথা বলেন। তাঁদের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু যে সংসদকক্ষ হবে, এটা তাঁদের একমাত্র না হলেও সবচেয়ে সত্য কথা। কোন ভোটারের বাবার সাধ্য এ কথা অস্বীকার অথবা অবিশ্বাস করে?
হোসেন শাহি বাংলায় জনসভা হতো না, মহাসমাবেশ তো নয়ই। তবে ধর্মসভাগুলোতে বহু মানুষের সমাগম হতো বলে ধারণা করি। আলিবর্দীর শাসনামলে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় মহাসমাবেশের রেওয়াজ ছিল বলে কোনো বইয়ে পাইনি। হোসেন শাহি রাজত্বে ও নবাবি আমলের বাংলায় গণতন্ত্র ছিল না। গণতান্ত্রিক রাজনীতির যেদিন থেকে সূচনা, সেদিন থেকে জনসভা ওরফে মহাসমাবেশেরও জন্ম। কুড়ি শতক পর্যন্ত যা ছিল জনসভা ও সমাবেশ, একুশ শতকে এসে তা প্রমোশন পেয়ে হয় জনসমুদ্র ও মহাসমাবেশ। আঠারো শতকে মজনু শাহরা, ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়কেরা, হতদরিদ্র কৃষক-তাঁতিদের নিয়ে জনসমাবেশ করেছেন। তাঁদের যে ব্রিটিশ শাসক ও জমিদার মহাজনদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, সে কথা তাঁদের ডেকে বুঝিয়েছেন।
যার সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে গোটা জাতির ভাগ্য জড়িত, তা আকস্মিকভাবে রাতারাতি ঘটতে পারে না। তার প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য একটি প্রস্তুতিপর্ব থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। ২৬ মার্চ থেকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের দিনগুলো ছিল প্রস্তুতির। একটি হিংস্র শক্তিকে প্রতিহত করার প্রয়োজন হতে পারে, ওই সময় তার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলাদেশের জনগণ। ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জনের অধ্যায়টি শেষ হয়ে যায়। ’৭০-এর ডিসেম্বর ও ’৭১-এর জানুয়ারি থেকেই শুরু হয় স্বাধিকারের আপসহীন সংগ্রাম। তবে সাংবিধানিক উপায়েই তা অর্জনের চেষ্টা করা হয়। অবিলম্বে সে সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের কারণে।
প্রতিবাদের পদ্ধতি হিসেবে মানববন্ধন এক নম্বরে আজ বাংলার মাটিতে। এক যুগ আগেও এই জিনিস ছিল না। সাত-আট বছর ধরে এমন দিন নেই, যেদিন সারা দেশে ১০টি মানববন্ধন না হয়। তবে ঘোড়াবন্ধন ছিল না। সেটাও হয়ে গেল কক্সবাজারে। সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ঘোড়ায় চড়িয়ে ছবি তুলে অনেকে কিছু কামাই করত। সৈকত থেকে ঘোড়া সরানোর প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের অফিসের কাছে ঘোড়াবন্ধন হয়েছে বলে কাগজে পড়লাম।
পৃথিবীর যেকোনো প্রাণীর মতো মানুষের জীবন কখনোই বিপদমুক্ত ছিল না। সমাজ কখনো ছিল না সমস্যামুক্ত। রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার আগেও নয়, পরে তো নয়ই। কিছু কিছু সমস্যা রাষ্ট্র দূর করেছে। বহু সমস্যা রাষ্ট্রের সৃষ্টি। আবার নিজের সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধান রাষ্ট্রকেই করতে হয়েছে। ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র সব দেশেরই রাজনৈতিক সমস্যা থাকে। কম আর বেশি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কখনো রাজনৈতিক নেতারা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের নিয়ে বিতর্ক হতো না, যদি না তাঁরা অতো উঁচুতে উঠে যেতেন। গত কয়েক দিনের খবরাখবর যদি দেখি তা হলে দেখা যাবে সমস্যা সর্বত্র। ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাশিদ রাতারাতি ক্ষমতাচ্যুত হলেন পুলিশি বিদ্রোহে। মেয়াদ শেষ করতে পারলেন না। 


