পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

বাকরখানি রুটি

মুঘল আমলের খাবারগুলো মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত বাকরখানি রুটি। লোকমুখে প্রচিলত আছে আগা বাকেরের নাম অনুসারে এই রুটি তৈরী হয়েছে। এই রুটি আফগানিস্তান ও রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় পাওয়া যায়। প্রকৃত বাকরখানি খাঁটি ময়দা, ঘি, মাওয়ার খামির ও দুধ দিয়ে তৈরী করা হয়।

ঢাকা শহরে এখন বড় বড় রেষ্টুরেন্ট, চাইনীজ রেষ্টুরেন্ট এমনকি নামী-দামী ফাষ্ট ফুড দোকানে সয়লাব হয়ে গেছে, যেখানে বিত্তশালী লোকেরা সামান্য কিছু খাবারের পেছনে বিস্তর টাকা পয়সা খরচ করে। অথচ তারা কি কখনো এই সু-স্বাদু, মজাদার এবং মুখরোচক বাকরখানি রুটির কথা শুনেছেন, বাকরখানি রুটি কি, এর স্বাদই বা কেমন, দামই বা কত ইত্যাদি ইত্যাদি। কথার কোন ছল নয়, নয় লেখনীর কোন শব্দ আকর্ষন। একেবারে সহজ সাধা সিধে কথা। খেয়েই দেখুন না একবার?

 

ঢাকায় যেভাবে তৈরী করা হয়

ময়দা, সাথে সামান্য খাবার সোডা, ডালডা, একটি তন্দুর এবং এর মাঝে উত্তাপ ছড়ানো জ্বলন্ত কয়লা। ব্যস, হয়ে গেল যোগান। প্রথমে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় ময়দা, সামান্য পানি এবং ডালডার সমন্বয়ে খামীর তৈরী করা হয়। এবার তৈরীকৃত খামীর থেকে কেটে ছোট ছোট গোলাকার কোয়া তৈরী করা হয়। এবার কোয়াটি বেলুনের সাহায্যে পাটার উপরে সামন্তরাল ভাবে ছোট গোলাকার কাঁচা রুটি তৈরী করা হয়। কাঁচা রুটির মাঝখানে ছুড়ি দিয়ে লম্বা করে তিনটি দাগ কেটে দেওয়া হয়। এবার এর এক পাশে পানির সামান্য প্রলেপ দিয়ে তন্দুরের দেয়ালে আটকিয়ে দেয়া হয়। ৫ থেকে ৭ মিনিট অপেক্ষা করুন। তৈরী হয়ে গেল বাকরখানি রুটি। আবার ঘৃত দিয়েও বিশেষ যত্নের সাথে এই রুটি তৈরী করা হয়ে থাকে। তবে ক্রেতাকে ঘৃত আলাদাভাবে কিনে দিতে হয়। পনির দিয়েও এই রুটি বিশেষ কায়দায় তৈরী করা হয়ে থাকে। ঠিক একই রকমভাবে ক্রেতাকে পনির আলাদাভাবে কিনে দিতে হয়। এখন অবশ্য প্রায় দোকানে পনির রুটি তৈরী করা থাকে। ঈদুল আযহা এর উৎসবে কোরবানীকৃত গরু বা খাশীর মাংশের ঝুড়ি দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই রুটি তৈরী করা হয়ে থাকে।

 

যা দিয়ে খাওয়া হয়

বাকরখানি রুটি চায়ের সাথে খাওয়ার প্রচলন বেশী। এছাড়াও মাংসের সাথে,হোক সে গরু বা খাশীর অথবা মুরগীর, সংগে বাকরখানি রুটি এ যেন সোনায় সোহাগা। ক্ষীর এবং পায়েশের সাথেও এই রুটি পরিবেশন করা হয়ে থাকে।

 

যেসব এলাকায় পাওয়া যায়

ঢাকার সোয়ারীঘাট থেকে ট্রলারে করে জিঞ্জিরার পরে বরিশুর নামে একটি এলাকার বাকরখানি রুটির বেশ নাম ডাক সারা ঢাকা জুড়ে। পুরনো ঢাকার লালবাগ, নাজিমুদ্দিন রোড, সিক্সা বাজার এবং চাঁনখারপুল এলাকা বাকরখানি রুটি তৈরীর জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও জিন্দাবাহার, কসাইটুলী, নাজিরা বাজার, নবাব বাড়ী, আওলাদ হোসেন লেন, নবরায় লেন, সূত্রাপুরসহ ঢাকার নাম না জানা অলিতে গলিতে বাকরখানি রুটির দোকান রয়েছে।

মূল্য

বাকরখানি রুটি কেজি দরে বিক্রয় করা হয়। প্রতি কেজি রুটির মূল্য ১১০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৩৫ টি থেকে ৪০ টি পর্যন্ত রুটি ধরে প্রতি কেজিতে। একজন সর্বোচ্চ ২ টি থেকে ৩ টি রুটি খেতে পারে। এই হিসাব মতে ৩ থেকে ৪ সদস্যের একটি পরিবারের ৪ থেকে ৬ দিনের সকালের নাস্তা মাত্র ১৩০ টাকার মধ্যে সেড়ে যাবে। বাকরখানি রুটি খুচরা হিসেবেও বিক্রয় করা হয়ে থাকে। প্রতি পিস দাম পড়বে ৩ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত।

সত্যিকার অর্থে বাকরখানি রুটি পুরনো ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বাকরখানি রুটি ঢাকার বাইরেও অর্ডার মোতাবেক সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
কলাবাগানের ঐতিহ্যবাহী মামা হালিমমামা হালিমের বিস্তারিত তথ্য আছে
লাবাংপুরনো ঢাকায় একটি পরিচিত পানীয়
বাকরখানি রুটিবাকরখানি রুটি সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
কাবাবপুরনো ঢাকায় জনপ্রিয় বিভিন্ন ধরনের কাবাব
ঢাকার পানীয়পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কিছু পানীয়গুলো
মাঠাপুরনো ঢাকাবাসীর প্রিয় একধরনের দুগ্ধজাত পানীয়
নেহারিঐতিহ্যবাহী ঢাকাই নেহারী তৈরী প্রনালী
কাচ্চি বিরিয়ানিকাচ্চি বিরিয়ানী এবং খাসির তেহারী সম্পর্কে বলা হয়েছে
তেহারীপুরনো ঢাকার তেহারী সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
শাহী মোরগ পোলাওঐতিহ্যবাহী নান্না বিরিয়ানী সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
আরও ১৭ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি