পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

আমরা শোকাহত

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বুকে ধারণ করে রেখেছে সে। সেই এভারেস্টের দেশ নেপাল এখন মৃত্যুপুরী। যেন সে লাশের এভারেস্ট। শনিবার দুপুরের ঠিক মিনিট কয়েক আগে ‘শনি’র দশা হয়ে যে ভয়াল ভূমিকম্প আঘাত করে নেপালকে, সেই আঘাতে এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৯০০। আরও কত নিথর দেহ ধ্বংসস্তুপের মধ্যে পড়ে আছে। এই শোক বহন করা কতটা কষ্টকর একমাত্র ভুক্তভোগীরাই তা বুঝে। অনলাইন ঢাকা গাইডের পক্ষ থেকে রইল গভীর সমবেদনা। 

নিহতদের স্বজনদের স্বান্তনা দেওয়ার কোনো ভাষাই আমাদের নেই। কোনো ভাষার স্বান্তনাই তাদের প্রিয়জন হারানোর ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারবে না। মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করি – তিনি যেনো এসকল পরিবারগুলোকে এই শোক সইবার শক্তি দান করেন।

 

আসুন জেনে নিই ভূমিকম্পে করণীয় সম্পর্কে:

সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প প্রবণতার দিক থেকে বাংলাদেশকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ। যেহেতু ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর, তাই ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাটাও হবে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি শহরের মধ্যে আপেক্ষিকভাবে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। তবে আগে থেকেই সতর্কমূলক ব্যবস্থা ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বাড়ি তৈরির সময় নিতে হবে পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ দালানকোঠা সংস্কার করতে হবে এবং ভূমিকম্পের সময় কী করণীয় জানতে হবে ভালোভাবে।

 

ভূমিকম্প সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং তা বুঝতেই ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড চলে যায়। ভূমিকম্পের সময় তাই দৌড়ে ভবন থেকে বের হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভূমিকম্প-পরবর্তী করণীয় একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। তাই প্রথমবারের কম্পন থেমে যাওয়ার পর ঘর থেকে সিঁড়ি দিয়ে সারিবদ্ধভাবে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন।

 

প্রস্তুতি

  • আপনি যদি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকেন তবে খোঁজ নিন আপনার ভবনটিতে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা আছে কিনা, থাকলে তা কী মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারবে। যদি না থাকে তবে রেট্রোফিটিং-এর ব্যবস্থা নিন। কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুরনো ভবনেও রেট্রোফিটিং-এর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। জাপানে ভূমিকম্প একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু তাদের ভবনগুলিতে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা থাকায় তাদের ক্ষয়ক্ষতি হয় অতি সামান্য।
  • পরিবারের সবার সাথে বসে এ ধরনের জরুরী অবস্থায় কি করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে- মোট কথা আপনার পরিবারের ইমার্জেন্সি প্ল্যান ঠিক করে সব সদস্যদের জানিয়ে রাখুন। ভূমিকম্পের সময় হাতে খুব সামান্যই সময় পাওয়া যাবে। এ সময় কী করবেন তা সবাইকে নিয়ে আগেই ঠিক করে রাখুন।
  • বড় বড় এবং লম্বা ফার্নিচারগুলোকে যেমন- শেলফ ইত্যাদি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখুন যেন কম্পনের সময় গায়ের উপর পড়ে না যায়। আর টিভি, ক্যাসেট প্লেয়ার ইতাদি ভারী জিনিষগুলো মাটিতে নামিয়ে রাখুন।
  • বিছানার পাশে সবসময় টর্চলাইট, ব্যাটারী এবং জুতো রাখুন।
  • বছরে একবার করে হলেও ঘরের সবাই মিলে আসল ভূমিকম্পের সময় কী করবেন তার একটা ট্রায়াল দিন।

 

ভূমিকম্পের সময় করণীয়
নিচের পরামর্শগুলো বেশি কার্যকরী যদি ভবনে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা থাকেঃ
১। ভূমিকম্পের সময় বেশি নড়াচড়া, বাইরে বের হবার চেষ্টা করা, জানালা দিয়ে লাফ দেবার চেষ্টা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিত। একটা সাধারণ নিয়ম হল- এ সময় যত বেশি মুভমেন্ট করবেন, তত বেশি আহত হবার সম্ভাবনা থাকবে। আপনার ভবনে যদি ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা থাকে বা রেট্রোফিটিং করা থাকে তবে ভূমিকম্পের সময় বাসায় থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।
২। আমেরিকান রেডক্রসের পরামর্শ অনুযায়ী- ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে উত্তম পন্থা হল ‘ড্রপ-কাভার-হোল্ড অন’ বা ‘ডাক-কাভার’ পদ্ধতি। অর্থাৎ কম্পন শুরু হলে মেঝেতে বসে পড়ুন, তারপর কোন শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নীচে ঢুকে কাভার নিন, এমন ডেস্ক বেছে নিন বা এমনভাবে কাভার নিন যেন প্রয়োজনে আপনি কাভারসহ মুভ করতে পারেন।
কোনো ভবন ভূমিকম্পরোধক হলে তা খুব কমই ধসে পড়ে; যেটা হয় তা হল আশেপাশের বিভিন্ন জিনিস বা ফার্নিচার গায়ের উপর পড়ে আহত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এগুলো থেকে বাঁচার জন্য এ সময় কোন শক্ত ডেস্ক বা টেবিলের নিচে ঢুকে আশ্রয় নেয়া জরুরী।
৩। ভূমিকম্পের সময় এলিভেটর/লিফট ব্যবহার পরিহার করুন।
৪। ভূমিকম্পের সময় যদি গাড়িতে থাকেন তবে গাড়ি বন্ধ করে ভেতরে বসে থাকুন। গাড়ির বাইরে থাকলে আহত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৫। ‘মেইন শক’ বা মূল ভূমিকম্পের আগে এবং পরে মৃদু থেকে মাঝারি আরো কিছু ভূমিকম্প হতে পারে যেগুলো ‘ফোরশক’ এবং ‘আফটার শক’ নামে পরিচিত। সতর্ক না থাকলে এগুলো থেকেও বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত কোনো বড় ভূমিকম্পে ‘আফটার শক’ প্রথম ঘণ্টার মধ্য থেকে শুরু করে কয়েক দিনের মধ্যে হতে পারে।
৬। প্রথম ভূমিকম্পের পর ইউটিলিটি লাইনগুলো (গ্যাস, বিদ্যুত ইত্যাদি) একনজর দেখে নিন। কোথাও কোন লিক বা ড্যামেজ দেখলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন।

৭। ভূমিকম্পের সময় কখনই সিঁড়িতে আশ্রয় নেবেন না। সিঁড়ির ‘মোমেন্ট অফ ফ্রিকোয়েন্সী’ বিল্ডিং-এর চাইতে ভিন্ন হয় এবং অনেক সময় বিল্ডিং ভেঙ্গে না পড়লেও সিঁড়ি দ্রুত ভেঙ্গে পড়ে।

৮। চেষ্টা করুন বাসার একেবারে ভিতরের দিকের রুমে না থেকে বাইরের ওয়ালের কাছাকাছি আশ্রয় নিতে। বিল্ডিং-এর ভেতরের দিকে থাকলে সবকিছু ভেঙ্গে পড়ার পর আপনার ‘উদ্ধার পাবার রাস্তা’ ব্লক হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বাইরের ওয়ালের কাছাকাছি থাকলে ব্লক কম থাকবে, তাড়াতাড়ি উদ্ধার পাবার সম্ভাবনাও বেশি থাকবে।


ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়লে করণীয়
১। ধুলাবালি থেকে বাঁচার জন্য আগেই সাথে রুমাল বা তোয়ালে বা চাদরের ব্যবস্থা করে রাখুন।
২। ম্যাচ জ্বালাবেন না। দালান ধ্বসে পড়লে গ্যাস লিক হয়ে থাকতে পারে।
৩। চিৎকার করে ডাকাডাকি শেষ অপশন হিসেবে বিবেচনা করুন। কারণ, চিৎকারের সময় মুখে ক্ষতিকারক ধুলাবালি ঢুকে যেতে পারে। পাইপে বা ওয়ালে বাড়ি দিয়ে বা মুখে শিস বাজিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে পারেন। তবে ভাল হয় সাথে যদি একটা রেফারির বাঁশি বা হুইসেল থাকে, তার প্রিপারেশন নিয়ে রাখুন আগেই।

 

ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার কারণ:

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
বনসাইN\A, N\A
ডায়েট কাউন্সিলিং সেন্টাররমনা, ইস্কাটন
ব্লু প্লানেট অ্যাকুরিয়াম শপওয়ারী, ওয়ারী
ঘূর্ণিঝড়ে করণীয়ঘূর্ণিঝড়ের সময় করণীয় সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
আমরা শোকাহতN\A, N\A
মহররমের ইতিহাস১০ই মহররমের ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে
ঈদে বাড়তি সতর্কতাN\A, N\A
ডাক টিকেট সংগ্রহকিভাবে এলো ডকটিকেট? সৌখিন সংগ্রাহকগণ কোথায় যাবেন ডাকটিকেট কিনতে?
জাতীয় পতাকাN\A, N\A
টুথব্রাশ নিয়ে ৫ টি মজার তথ্য টুথব্রাশের ব্যবহার নিয়ে কিছু অপ্রচলিত ও বিস্ময়কর তথ্য নিয়ে সাজানো
আরও ২০ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি