পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

জাতীয় পতাকা

ত্রিশ লক্ষ শহীদের বুকের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা ছিনিয়ে এনেছি লাল-সবুজের এক ভূখন্ড। ভোরের আকাশের উদীয়মান লাল সূর্য ও দিগন্তজোড়া বিস্তৃত সবুজ এই দুই অকৃত্রিমতাকে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় এই দুইটি বিষয়কে স্থান করে দেওয়া হয়। এর চাইতে সুন্দর কোনো পতাকা পৃথিবীর আর কোনো দেশে আছে বলে মনে হয় না।   

 

জাতীয় পতাকার পটভূমি:

আগে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এরকমটি ছিল না। লাল-সবুজের অবয়বে লাল বৃত্তের মাঝখানে হলুদ রংয়ের বাংলাদেশের মানচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এ রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারী সরকারীভাবে গৃহীত হয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যবহৃত পতাকার উপর ভিত্তি করে এই পতাকা নির্ধারন করা হয়। উল্লেখ্য, আগে লাল বৃত্তের মাঝখানে দেশের মানচিত্র থাকায় অনেকের পক্ষেই জাতীয় পতাকা অঙ্কন বা তৈরি করা কষ্টসাধ্য ছিলো। দেশের জাতীয় পতাকাকে সহজসাধ্য করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

জাতীয় পতাকার মাপ:

  • জাতীয় পতাকা অবশ্যই আয়তাকার আকৃতির হতে হবে।
  • যার আয়তন হবে ১০:৬।
  • জাতীয় পতাকার মধ্যখানের লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হতে হবে সম্পূর্ণ পতাকার ৫ ভাগের ১ ভাগ।
  • অন্যভাবে বলা যায়, সম্পূর্ণ পতাকার দৈর্ঘ্যকে সমান ১০ ভাগে ভাগ করে প্রতি ২ ভাগকে ১ ইউনিট করে ধরে পতাকা তৈরি করতে হবে।
  • পতাকার দৈর্ঘ্যের ডান পাশে ৫.৫ ইউনিট এবং বাম পাশে ৪.৫ ইউনিট রেখে একটি লম্ব টানতে হবে। আর প্রস্থকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে একটি সমান্তরাল রেখা টানতে হবে। এই দুই রেখা যেই স্থানে মিলিত হবে সেখানটাই হবে পতাকার লাল বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু।

 

জাতীয় পতাকার ব্যবহার বিধি:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারী ভবনে ব্যবহারের জন্য ৩ ধরনের মাপ রয়েছে।

  • দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং প্রস্থ ৬ফুট, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ২ ফুট।
  • দৈর্ঘ্য ৫ ফুট এবং প্রস্থ ৩ ফুট, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ১ ফুট।
  • দৈর্ঘ্য ২.৫ ফুট এবং প্রস্থ ১.৫ ফুট, লাল বৃত্তের বসার্ধ হবে ১/২ ফুট।

 

এছাড়া সরকারি পরিবহনে ব্যবহারের জন্য দুই ধরনের মাপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।

  • দৈর্ঘ্য ১৫ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৯ ইঞ্চি, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ৩ ইঞ্চি।
  • দৈর্ঘ্য ১০ ইঞ্চি এবং প্রস্থে ৬ ইঞ্চি, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ ২ ইঞ্চি।

আর আন্তর্জাতিক এবং দ্বি-পাক্ষিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ ১০:৬ ইঞ্চি।

 

আইনত বিধি-নিষেধ:

  • জাতীয়ভাবে অনুমোদিত মাপ অনুযায়ী সঠিক রং ও মাপে জাতীয় পতাকা তৈরি করতে হবে।
  • কোনো অবস্থাতেই জাতীয় পতাকা পরিবহনের পিছনে উত্তোলন করা যাবে না।
  • মিছিলে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই মিছিলের প্রথম সারিতে ডান দিকে বা মাঝ বরাবর রাখতে হবে।
  • কোনো অবস্থাতেই জাতীয় পতকা মাটিতে, পানিতে বা অন্য কোনো জায়গায় অবজ্ঞা করে ফেলা যাবে না।
  • জাতীয় পতাকার উপর কোনো প্রকার নামাঙ্কন করা যাবে না।
  • সরকার কর্তৃক অনুমোদিত স্থাপনাগুলোতে সূর্য উদয় ও সূর্য অস্ত যাওয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় পতাকা উড্ডীন রাখা যাবে।
  • জাতীয় বিভিন্ন দিবসে সরকারী, বেসরকারী, বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও কনসুলেটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।
  • শোক দিবস সমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে জাতীয় পতাকা পুরোপুরি উত্তোলন করে তারপর অর্ধনমিত অবস্থায় নামিয়ে আনতে হবে। আর দিনের শেষে জাতীয় পতাকা নামানোর সময় প্রথমে অর্ধনমিত অবস্থা থেকে পুরোটা উত্তোলন করে তারপর নামিয়ে আনতে হবে।
  • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ব্যতীত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা যাবে না।
  • ব্যবসা-বাণিজ্য বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকাকে প্রতীক হিসাবে ব্যবহারের আগে সরকারের নিকট থেকে লিখিত অনুমতি সংগ্রহ করতে হবে।
  • যেকোনো স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় দাড়িয়ে সম্মান প্রদর্শণ করতে হবে।

 

যাদের বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়:

  • রাষ্ট্রপতি
  • প্রধানমন্ত্রী
  • জাতীয় সংসদের স্পিকার
  • জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার
  • প্রধান বিচারপতি
  • চীফ হুইপ
  • বিরোধী দলীয় নেতা
  • পূর্ণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি
  • বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন
  • পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

 

পরিবহনে যারা জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন:

  • রাষ্ট্রপতি
  • প্রধানমন্ত্রী
  • জাতীয় সংসদের স্পিকার
  • জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার
  • প্রধান বিচারপতি
  • চীফ হুইপ
  • বিরোধী দলীয় নেতা
  • পূর্ণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি
  • বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকগণ

 

জাতীয় পতাকা অবমাননার শাস্তি:

জাতীয় পতাকার অবমাননা কোনোভাবেই করা উচিত নয়। যদি কেউ জাতীয় পতাকার অবমাননা করে তাহলে তাকে জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০) মোতাবেক সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদন্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
বনসাইN\A, N\A
ডায়েট কাউন্সিলিং সেন্টাররমনা, ইস্কাটন
ব্লু প্লানেট অ্যাকুরিয়াম শপওয়ারী, ওয়ারী
ঘূর্ণিঝড়ে করণীয়ঘূর্ণিঝড়ের সময় করণীয় সম্পর্কে তথ্য রয়েছে
আমরা শোকাহতN\A, N\A
মহররমের ইতিহাস১০ই মহররমের ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে
ঈদে বাড়তি সতর্কতাN\A, N\A
ডাক টিকেট সংগ্রহকিভাবে এলো ডকটিকেট? সৌখিন সংগ্রাহকগণ কোথায় যাবেন ডাকটিকেট কিনতে?
জাতীয় পতাকাN\A, N\A
টুথব্রাশ নিয়ে ৫ টি মজার তথ্য টুথব্রাশের ব্যবহার নিয়ে কিছু অপ্রচলিত ও বিস্ময়কর তথ্য নিয়ে সাজানো
আরও ২০ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি