শাড়ির প্রতি এদেশের নারীদের অনুরাগ অনেক পুরানো। আর তাই বাঙ্গালী নারীরা বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে শাড়ীর দোকানগুলোতে ভিড় জমায়। আমাদের দেশের জামদানি, বেনারশি ও কাতান শাড়ী দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশী নারীদের কাছেও সাদরে গৃহীত হয়েছে। দিন দিন এসব শাড়ীর চাহিদা তাই বেড়ে চলেছে। বেইলী রোড, মিরপুর ছাড়াও ঢাকার নামীদামী সব শপিং মলে অনেক শাড়ীর দোকান রয়েছে। এসব দোকানের মধ্যে টাঙ্গাইল তাঁত ঘর, মনে রেখজ শাড়ীর দোকান, প্রাইড, হানিফ বেনারশি, জ্যোতি শাড়ী ইত্যাদির নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া মিরপুরে গড়ে উঠেছে বেনারশি পল্লী। বেশিরভাগ শাড়ী বিক্রির প্রতিষ্ঠানেরই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শোরুম রয়েছে। ঈদ, পূজা, রমজান, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, ২১ শে ফেব্রুয়ারী ও ২৬ শে মার্চ এর সময় শাড়ীর দোকানগুলোতে ক্রেতা সমাগম বেশি থাকে।
খোলা-বন্ধের সময়সূচী
সকাল ১০:০০ টা থেকে রাত পর্যন্ত এসব শাড়ীর দোকান খোলা থাকে। সপ্তাহে ১ দিন বন্ধ থাকে। দোকান বন্ধের দিন স্থানভেদে নির্ধারিত হয়।
যে সব আইটেম পাওয়া যায়
টাঙ্গাইল, বাটিক, এপিক এর কাজ করা শাড়ী, বালুচুড়ি, জামদানি, টাঙ্গাইল চোষার শাড়ী, হাউলা সুতার কাজ করা শাড়ী, বেনারশি, মসলিন সিল্ক, জর্জেট শাড়ী, শাটিন বেনারশি, কাতান, ঢাকাই মসলিন, সিল্ক ও হাফ সিল্কের শাড়ী হ্যান্ড প্রিন্ট করা শাড়ী, নেটের উপর কাজ করা শাড়ী প্রভৃতি পাওয়া যায়। এছাড়াও এসব দোকানে যাকাত, গায়ে হলুদ ও বিয়ের শাড়ী পাওয়া যায়।
দর-দাম
এইসব শোরুমে সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে অনেক উচ্চমূল্যের শাড়ী পাওয়া যায়। বিয়ের শাড়ীর মূল্য সাধারণত একটু বেশি হয়। সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ টাকা দামের বিয়ের শাড়ী কোন কোন শোরুমে দেখা যায়। টাঙ্গাইল তাঁত শাড়ী পাওয়া যায় ৩৫০-৫,০০০ টাকার মধ্যে, বেনারশি ৩,৮০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা, জামদানি ৪,০০০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা, যাকাতের শাড়ী ৩৩০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ৫৫০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকায় গায়ে হলুদের শাড়ী পাওয়া যায়।
মূল্য পরিশোধ
শাড়ীর শোরুমগুলোতে সব ধরনের শাড়ী একদামে বিক্রি হয়। দামাদামি করার সুযোগ নেই। শাড়ীর মূল্য নগদে পরিশোধ করতে হয়। ব্যান্ডের শাড়ীর দোকানগুলোতে নগদের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও মূল্য পরিশোধ করা যায়।
পরিবর্তনের উপায়
ক্রয়কৃত শাড়ী পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে ৭ দিনের মধ্যে শাড়ী নিয়ে নির্দিষ্ট দোকানে গেলে পরিবর্তনের সুযোগ আছে। মূল্য ফেরত পাবার ব্যবস্থা নেই।
নিজস্ব কারখানা
মিরপুর, হাসনাবাদ, যাত্রাবাড়ি, শনির আখড়া, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচর সহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় এসব শো-রুমের নিজস্ব কারখানা রয়েছে।
বিবিধ
শাড়ীর শো-রুমগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে। গাড়ি পার্কিং সুবিধা সব শো-রুমে নেই। পাইকারি বিক্রির ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষে ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা রয়েছে।