পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

পরীক্ষাভীতিতে করণীয়

পরীক্ষা শব্দটি শুনলেই অনেক ছাত্রছাত্রীর বুক ধড়ফড় করে, মুখ শুকিয়ে যায়, মাথায় ভর করে একরাশ দুশ্চিন্তা। পরীক্ষার সঙ্গে এই অস্বস্তিকর আবেগীয় অবস্থার উপস্থিতিকে পরীক্ষাভীতি বলে। এই ভীতি সবার হয় না, তবে বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীর হয়। একটা কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে এমন বোধ থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পরীক্ষাভীতি থেকে শারীরিক কিছু উপসর্গও প্রকাশ পায়, যা একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলে।

পরীক্ষা সম্পর্কীয় ভয়রোগ বা ভীতিরোগ

সাম্প্রতিককালে একটি উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত ভীতি সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমে যেটা বলতে হয় সেটি হচ্ছে পরীক্ষা সম্পর্কীয় ভয়রোগ বা ভীতিরোগ। পরীক্ষা সম্বন্ধে একটা সাধারণ ভয় বা চিন্তা মনে বিরাজ করতে পারে, যা পরীক্ষার জন্য দরকারি। কিন্তু যখন এ ভয় তার স্বাভাবিক স্তর অতিক্রম করে অনেক দূর এগিয়ে যায় এবং পরীক্ষা দেয়াই ছাত্রের জন্য ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে কিংবা পরীক্ষার কথা শুনলেই সে নানা রকম শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে থাকে তখনই তাকে আমরা ভীতিরোগ বা ভয়রোগ বা পরীক্ষাভীতি বলতে পারি।

পরীক্ষা নিয়ে টেনশনের বিষয়টি নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। যেমন-যার প্রস্তুতি ভালো থাকবে তার টেনশনও কম থাকবে। প্রস্তুতি ভালো থাকার পরও কিছুটা টেনশন থেকেই যায়। কিন্তু অনেকে আছেন যারা অযথাই টেনশনে ভোগেন। প্রস্তুতি শত ভালো হওয়ার পরও এদের টেনশনের অন্ত নেই। এ রকম টেনশন মাস্টারদের নিয়েই বেশি সমস্যায় পড়তে হয়।

রুটিন মাফিক পড়ালেখা
পরীক্ষা শুরুর পূর্বমুহূর্তে ছাত্র-ছাত্রীদের যে ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি ভীত করে তোলে সেটি হলো সিলেবাস শেষ করতে না পারা। পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র ক'দিন বাকি। অথচ এখনও সিলেবাস শেষ হলো না। এত অল্প সময়ে কিভাবে সিলেবাস শেষ করব- তা ভেবে ভেবে চোখে সর্ষেফুল দেখে অনেকেই। এ নিয়ে অযথা চিন্তা করে কোন লাভ নেই। যে ক'টা দিন পরীক্ষার্থীর হাতে আছে সেই ক'টা দিন রুটিনমাফিক চললেই সঙ্কট অনেকটা কেটে যেতে পারে।

তবে রুটিন তৈরি করার সময় কয়েকটি বিষয়ের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।

  • কোন্ সময় কী বিষয় পড়বে তার একটি তালিকা করা প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে তালিকা একদম কাগজ কলমে লিখেই করতে হবে_ এমন কোন কথা নেই। মনে মনেও করা যেতে পারে। প্রয়োজন মনে করলে চার্ট তৈরি করে ছাত্র-ছাত্রী তার সামনে রাখতে পারে।
  • যে বিষয়টির পড়া অনেকটা বাকি রয়ে গেছে সেই বিষয়টির জন্য অবশ্যই বেশি সময় দিতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে, সপ্তাহজুড়ে কেবল এক বিষয়ই পড়বে সে। প্রতিটি বিষয়ই তাকে পড়তে হবে এবং ঘুরেফিরে। যে বিষয়টি কম পড়া হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই তাতে একটু বেশি সময় ব্যয় করতে হবে।
  • শুধু পড়ে গেলেই চলবে না, সঙ্গে সঙ্গে লেখারও অভ্যাস তৈরি করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলে পুরো প্রশ্নের সব উত্তর লিখে শেষ করতে পারে না। পরীক্ষা উত্তর অসম্পন্ন রেখে চলে আসতে হয় সময়ের অভাবে। এ রকম পরিস্থিতিতে যেন পড়তে না হয় তার জন্য ছাত্র- ছাত্রীদের আগেভাগেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য বাসায় ঘড়ি ধরে লেখার অভ্যাস করতে হবে।
  • পরীক্ষার আগে অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, যা পড়েছি তার সবই ভুলে গেছি। সবকিছু যাতে ভুলে না যায় এর জন্য প্রাত্যহিক রুটিনে একটা সময় রাখতে হবে, যে সময়টাতে সে কেবল পুরনো পড়াগুলো ঝালিয়ে নেবে। এর পরেও যদি তার কাছে মনে হয় সব ভুলে যাচ্ছে তাহলেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পরীক্ষার হলে ঠান্ডা মাথায় উত্তর লিখতে বসলে দেখা যাবে এক এক করে সব মনে পড়তে শুরু করেছে।
  • যারা সায়েন্সের ছাত্রছাত্রী, যাদের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা মুখোমুখি হতে হয়, যাদের আঁকাঝোকার ব্যাপার আছে সে বিষয়গুলোকে কোনভাবেই অবহেলা করা চলবে না। প্রতিদিন কিছুটা সময় এগুলোর জন্যও দিতে হবে।
  • পরীক্ষার আগের রাতে যদিও সবকিছু রিভিশন দেয়া চাই, কিন্তু এ জন্য কোনভাবেই অতিরিক্ত রাত করা যাবে না। পরীক্ষার আগের রাতে অতিরিক্ত পড়ার চাপের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। অসুস্থ হয়ে পড়লে পুরো পরীক্ষা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। এ কারণে পরীক্ষার আগের রাতে অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ না রাখাই ভাল।

শরীরের প্রতিও যত্নশীল হতে হবে

এ সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শরীরে যাতে কোনো রোগ আক্রমণ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা। বিশেষ করে পানিবাহিত রোগ যেমন-ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস বা জন্ডিস সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এই সব রোগ থেকে দূরে থাকার জন্য কোনোক্রমেই বাসি খাবার, বাইরের খোলা খাবার খাওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে ফুটানো বিশুদ্ধ পানি।

  • পরীক্ষার সময় শরীরের জন্য বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। তবে যারা নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ করে থাকে তাদের জন্য খুব বেশি বাড়তি খাবারের দরকার নেই। কিন্তু মস্তিষককে সুস্থ ও কার্যকর রাখার জন্য শস্যদানা জাতীয় খাবার, দুধ, সবজি, ডিম গ্রহণ করা যেতে পারে।
  • পরীক্ষার সময় পড়াশোনার সময়টি নির্দিষ্ট করে অতিরিক্ত রাতজাগা থেকে বিরত থাকতে হবে। অতিরিক্ত রাত জেগে পড়াশোনা অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। মনে রাখতে হবে পড়াশোনায় মনোনিবেশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমেরও প্রয়োজন রয়েছে।
  • প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত আধাঘণ্টা আগে পড়াশোনার পর্ব শেষ করে কিছুক্ষণ রিলাক্স করতে হবে। কিছুটা সময় নিজের মতো উপভোগ করতে হবে। এতে রাতের ঘুমটা ভালো হবে।
  • টেনশন কমানোর জন্য ইয়োগা বা যোগব্যায়াম কিংবা মেডিটেশন করা যেতে পারে। এতে শরীর কিছুটা রিলাক্স হয়। মেডিটেশনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এ সম্পর্কে আগে থেকে খোঁজখবর থাকলে ভালো। মেডিটেশন সম্পর্কে জানা না থাকলে দৈনিক ১৫ মিনিট চিৎ হয়ে শুয়ে চোখ বুজে বুক ভরে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে।

পরীক্ষাভীতি দূর করতে যা করতে হবে

পরীক্ষা বিষয়টিকে সহজে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। নিজের আকাঙক্ষা কমাতে হবে। মূলত আকাঙক্ষার কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। আকাঙক্ষা কমলে চাপও কমবে, এতে পরীক্ষাভীতিও কমে যাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা মানসিক চাপমুক্ত পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের পরীক্ষার ফল ভালো হয়েছে।

পরীক্ষাভীতি কাটানোর ভালো উপায় হলো আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া। যদি বছরের শুরু থেকেই একটা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সঠিকভাবে পড়ালেখা করা যায়, তাহলে পরবর্তীকালে পরীক্ষাভীতি থাকে না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিংবা সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত পড়ালেখার প্রয়োজন নেই। পড়ালেখার জন্য দৈনিক ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট। এ সময়টুকু টানা পড়তে হবে এমন কথা নেই। সময়টাকে ভাগ করে নিতে হবে। সকালে এতটুকু এবং সন্ধ্যায় এতটুকু। এভাবে ভাগ করে পড়লে পড়া ভালো হবে, পরীক্ষার সময় তাড়াহুড়ার প্রয়োজন হবে না, ফলে পরীক্ষাভীতিও থাকবে না।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি