পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

বন্ধু যখন ফেসবুক

আধুনিক এই বিশ্বে সকলকে ছাড়িয়ে যে মাধ্যমটি এগিয়ে চলেছে তার নাম হচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুকের মাধ্যমে এখন বিশ্বের ১ শ কোটি মানুষ পরস্পর বন্ধু হয়ে গেছে। ২০০৪ সালে ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়েছে। আর এখন ২০১৩ সাল। মাত্র ৯ বছরে ফেসবুকের এখন কোটি কোটি গ্রাহক। সত্যিই বিস্ময়কর। এই মাধ্যমটি বিশ্বের ভবিষ্যৎ ভাবনার গতিপথকেই বদলে দিয়েছে বলতে হয়। এক কথায় অতুলনীয় চমক সৃষ্টি করেছে এই ফেসবুক। একে প্রতিরোধ করার যেন কেউই নেই।

প্রতিটি জিনিসের মতো ফেসবুকেরও ভালো-খারাপ দুটি দিকই আছে। যে যেভাবে ব্যবহার করে, যেভাবে নেয় সে ওই ফলটাই পায়। আগুনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেমন অসাধ্য সাধন করা যায়, আবার এই আগুন ব্যবহার করে সবকিছু পুড়িয়ে ছাইভস্মও করে দেয়া যায়। সব নির্ভর করে ব্যবহারের ওপর। কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন তার উপর।

ফেসবুক নিয়ে মতবিরোধ তো অবশ্যই আছে এবং বেশিরভাগ মানুষই হয়তো বলবে এর নেতিবাচক দিকগুলোর কথা। তাঁদের প্রতি পুরোপুরি সম্মান রেখেই বলছি সব খারাপেরও ভালো দিক আছে। একটা খারাপ মানুষের যেমন সবটাই খারাপ না তেমনি এই ফেসবুক নামক সামাজিক ওয়েবসাইটটিরও কিন্তু ভালো অনেক দিক রয়েছে।

ইতিবাচক দিকগুলি
ইতিবাচক দিকের কথা যদি চিন্তা করি, তাহলে সবচেয়ে আগে যে ভালো দিকটা চলে আসে তা হলো হারিয়ে যাওয়া বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে খুঁজে দিতে ফেসবুক অদ্বিতীয়। জীবনপথের নানা বাঁকের বিভিন্ন মানুষকে কাছে এনে দেয়ার এক যাদুকরী প্রতিভা ফেসবুক।

পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রাখতে, ভাবনাটুকু শেয়ার করতে, কে কী করছে না করছে জানতে সাহায্য করছে ফেসবুক। এখন দুনিয়া ঘুরে কাউকে খুঁজতে হয় না। বন্ধুর মুখ শুধু দেখাই যায় না, তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হওয়ার পাশাপাশি সেটার ছবিও ভাসে চোখের সামনে। এর জন্য শুধু মাউসের একটি ক্লিকই যথেষ্ট। কি অবিশ্বাস তাই না? কিন্তু ফেসবুকের কল্যানে এর মধ্যেই কিন্তু আমরা বুঝে গেছি কতো অবিশ্বাস্য ব্যাপারও বিশ্বাসযোগ্য এখন। এই অবিশ্বাস্য কথাটাই না শেষ পর্যন্ত উঠে যায়!

উন্নয়নমূলক কাজে বা সাহায্যার্থে ফেসবুক
ফেসবুকের আরও কিছু ভালো দিক হলো বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পেইজ খুলে নানা ভালো কাজে মানুষকে উৎসাহিত করা। শীতের দিনে শীতবস্ত্র বিতরণ হোক বা বন্যার্থদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য হোক এসব পেইজে বিভিন্ন ইভেন্ট সেট করা হয় এবং এর গ্রুপ মেম্বারদের ইভেন্টে অংশগ্রহনের জন্য আমন্ত্রন করা হয়। এবং সংবেদনশীল মানুষদের মধ্যে অনেককেই দেখা গেছে সাহায্যে এগিয়ে আসতে।

শুধু তাই নয়, ফেসবুকের ওয়ালটি এখন যেন জীবন্ত ক্যানভাস হয়ে গেছে অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালনে। দেশের যতো অসামাজিক, বেআইনি ও অসদাচরন চোখের সামনে এসে ধরা দেয় এই ফেসবুকের কল্যানেই। কারণ সাধারণ মানুষদের মতো দেশের বহু লেখক, কবি, সাহিত্যিকরাও তাঁদের বিচার বুদ্ধির সমন্বয় ঘটিয়ে তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে তা প্রকাশ করেন। আবার কোন সাধারণ মানুষও তার যৌক্তিক ভাব প্রকাশে হয়ে উঠেন অসাধারণ।

তরুণদের সৃজনশীলতা ও ভাবনা
কেউ যদি মনে করেন এখনকার তরুণরা শুধু হিপ হপ গানের লিরিক আর ফেসবুকে নিজের ইয়ো স্টাইল দেখানোর জন্য স্ট্যাটাস দিয়ে বেড়ায় আর ছবি আপলোডেই ব্যস্ত থাকে তাহলে তারা ভুল ভাবছেন। নিজের ভালো লাগা-মন্দ লাগা শেয়ার করার জন্যই ফেসবুক আর সেটা অবশ্যই খারাপ না। কিন্তু সারাদিন শুধু এসব নিয়েই যে তরুণরা মেতে থাকে এটাও কিন্তু ঠিক না। ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক তরুণ হয়তো কোন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্ক করে (অবশ্যই গঠনমূলক) এবং একজনের মন্তব্যে আরেকজনের থাকে পাল্টা মন্তব্য এবং একসময় এভাবেই এর সমাধান বের হয়ে আসে।

অনেকেই আছে যারা হাদিস-কোরআনের আয়াত তুলে দেয় স্ট্যাটাস হিসেবে যা নিঃসন্দেহে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করে এবং একবার হলেও ভাবায় ধর্মীয় ব্যাপারগুলো নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজনীয়তা। এছাড়াও অনেকে আছে যারা বিভিন্ন উৎসাহমূলক পোস্ট শেয়ার করে এতে করে তার কোনো বন্ধুর যদি তখন মন খারাপ থাকে তাহলে অবশ্যই সেই পোস্ট পরে কিছুক্ষনের জন্য হলেও তার মন নিশ্চিতভাবে ভালো হয়ে যায়।

ফেসবুক কাজ করে প্রয়োজনীয় কাগজ হিসেবেও। নতুন লেখকদের লেখা চাওয়া, লেখা দেয়া, তার পাবলিসিটি করা, এতে বন্ধুদের লাইক ও মন্তব্য পেয়ে কাজের উৎসাহ বেড়ে যাওয়া এবং এই সৃজনশীলতা কাজে লাগানোর জায়গাটি যার মাধ্যমে পরিচিতি পায় তা এই সামাজিক বন্ধু ফেসবুকের কারনেই। শুধু লেখক না, আজকাল বিভিন্ন গায়কদের গান, কার্টুনিস্টদের চিত্রকর্মসহ নানাবিধ সৃজনশীলতা পরিস্ফুটিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ফেসবুকের যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেই।

আনন্দের মাধ্যম ফেসবুক
আরেকটা ব্যাপার না বললেই নয়। বন্ধুর জন্মদিন আমরা কয়জন মনে রাখি, আর কয়টা জন্মদিনই বা মনে রাখা সম্ভব? কিন্তু সে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে ফেসবুক। এখন সকালে ঘুম ভাঙলেই আমরা দেখতে পাই, আজ কোন কোন বন্ধুর জন্মদিন। সে অনুযায়ী বন্ধুকে উইশ করি। বন্ধু খুশি হয় শুভেচ্ছা পেয়ে, আমরা খুশি হই শুভেচ্ছা দিতে পেরে, বন্ধুর আনন্দের অংশীদার হতে পেরে।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি