পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

হতাশার নেপথ্যে আধুনিক জীবনযাত্রা?

হতাশা হলো সমস্ত মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত এবং মারাত্বক। তাই এই সমস্যা এবং এর সমাধান সর্ম্পকে জানা প্রতিটি ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ। কারণ এটি আমাদের নিজের বা আমাদের প্রিয় ব্যক্তির জীবনেও আসতে পারে।

হতাশার কিছু উপর্সগ হল উদ্বিগ্নতা, শূন্যতায় ভোগা, অসহায়ত্ব, বিষাদ ইত্যাদি। হতাশা, খাওয়া ও ঘুমানোর অভ্যাসকেও অনিয়মিত ও বিশৃঙ্খল করে দেয়। ফলশ্রুতিতে, হতাশাগ্রস্থ মানুষের হয় ওজন বেড়ে যায় না হয় কমে যায় এবং হয় তারা অতিরিক্ত ঘুমায় না হয় মোটেই ঘুমায় না। কেউ যখন নিজেকে দোষী এবং মূল্যহীন মনে করে জীবনের কোনকিছুতেই স্বাদ পায় না ও আত্মহত্যার প্রবণতাও তার মধ্যে বেড়ে যায়। তখন তাকে ইউনিপোলার নামক হতাশার শিকার বলে গন্য করা হয়।

কেউ যখন চরম অসহায়ত্বে বিষাদগ্রস্থ হয় এবং বেশিরভাগ সময়ে প্রলাপ বকতে থাকে তখন তাকে বাইপোলার নামক হতাশার শিকার বলে গন্য করা হয়। এ ধরনের হতাশার প্রধান উপর্সগ হল যে, আক্রান্ত ব্যাক্তি অত্যন্ত দুঃখেও হাসতে থাকে এবং কৃত্রিমভাবে আনন্দ প্রকাশ করে, প্রলাপ বকে। এর সাথে আছে ক্রোধপ্রবনতা, অনিদ্রা, নেশাসক্তি, ভুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা, অত্যাধিক শক্তি ও অস্বাভাবিক আচরন ।

গত কয়েক দশক ধরে বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে, যা আরাম আয়েশের, সুখ-স্বাচ্ছন্দের সর্বোচ্চ বস্তু সরবরাহ করছে| কিন্তু মানুষের গুণের কোন পরিবর্তন খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্ট্যসাধ্য।

টেলিফোনে আগে ডায়াল করে যোগাযোগ করতে হতো, কিন্ত এখন তা ইন্টারনেট টাচস্ক্রিন মুঠোফোনে পরিনত হয়েছে । পঞ্চাশ এর দশকে টেলিভিশনের কন্ট্রোলের উদ্ভাবন ছিল এক মহান অর্জন । এই রিমোট কন্ট্রোলের মাত্র দুটো বাটন ছিল; একটা চ্যালেন পাল্টানোর জন্য ও অপরটা কাজ করার জন্য। হয়ত দেখা যেত অর্ধেকের বেশি সময় তা কাজ করত না । কিন্ত বর্তমানে ছোট একটা রিমোট কন্ট্রোল দিয়েই কমপক্ষে দুইশটার মত চ্যালেন অনায়াসে ঘুরে আসা যায় ।

এখন একটা প্রশ্ন থেকে যায়, “আদৌ কি আনুপাতিক হারে জীবন যাত্রার গুণগত মান বেড়েছে ?” এর উত্তর হল একটা মর্মান্তিক ‘না’ ।

মাদকতা, ধর্ষন, অপরাধ-প্রবনতাও সমান তালেই বেড়েই চলছে । আমেরিকার সর্ববৃহৎ ব্যয় খাত হল অপরাধ দমন কার্যক্রমগুলো । ওখানে ৫০ শতাংশেরও অধিক কয়েদী বড় বড় অপরাধ, সন্ত্রাসের সাথে জড়িত এবং সাজা প্রাপ্ত। কিন্তু এমন এক সময় ছিল যখন মানুষ তাদের দরজা খোলা রেখেই বাইরে যেত এবং নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তামুক্ত থাকত ।

তরুণ বয়সে সব ধরনের আবেগ-অনুভূতির তীব্রতা বেশি কাজ করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে তরুণদের জীবনে হতাশা, রাগ, ক্ষোভ, অসন্তোষ, অবিশ্বাস ও অস্থিরতা ইত্যাদি নেতিবাচক আবেগ-অনুভূতির সংযোগ ঘটানোর পরিবেশ, সুযোগ ও ব্যবস্থা অনেক বেশি সক্রিয়। শিক্ষাক্ষেত্রে যেমন, তেমনি শিক্ষা সমাপ্তির পর বেকার জীবনে কিংবা কর্মজীবনেও হতাশ হয়ে ওঠাটাই যেন বেশিরভাগ তরুণের নিয়তি। সামাজিকভাবে বেকারত্ব বা কর্মসংস্থানের অভাব তরুণ সমাজের হতাশার একটি প্রধান কারণ এত কোন সন্দেহ নেই।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে ২০০৬ সালে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ছিল ২১ লাখ। প্রতি বছর শুধু পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলি থেকে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে লক্ষাধিক যুবক। এছাড়াও আছে ৫১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাসকরা বহু যুবক। এদের জীবনে সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা কতটুকু, আর কতখানি হতাশার অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে সেই হিসাব আমরা কেউ খুঁজে দেখি না।

হতাশাগ্রস্তদের অনেকেই মাদকাসক্তির শিকার হচ্ছেন সহজেই। সংবাদপত্রে আজকাল সড়ক দুর্ঘটনার মতো মাদকাসক্তির খবর চোখে পড়ে। প্রায় নিয়মিত উদ্ধার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য। কিন্তু তাতে মাদকাসক্তির বিস্তার কমছে না। রাজধানীতে অনেক বস্তি মাদক কেনাবেচার আখড়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বিভিন্ন সময়। এর অন্যতম কারণ, রাজধানীতে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের সত্যিকার অর্থে কোনো সমাজ নেই। তাদের একটি বড় অংশই মানবেতর জীবন-যাপন করে। এ কারণে তাদের পারিবারিক বন্ধন ও সম্পর্কও আলগা হয়ে যায় অনেকখানি। অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাদের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তাদেরকে সময় বা সহযোগিতা দেয়ার নেই কেউ। এই অবস্থায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে বস্তিবাসী ও ছিন্নমূল মানুষের লিপ্ত হওয়াটা সহজ হয়ে উঠেছে। মাদক পরিবহনের কাজে নগরীর লক্ষাধিক বস্তিবাসী কিশোর ও পথশিশু নিয়োজিত রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদসূত্র দাবি করেছে। অন্যদিকে বিত্তবান শ্রেণীর তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মাদকাসক্তি বৃদ্ধির অনেক তথ্য-প্রমাণ ও খবর নিয়ে সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল কিছুকাল আগেও।

বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা কখনও শোনা যেত না এবং এরকমের ঘটনা ঘটলে তা গনমাধ্যমগুলোতে সংবাদ আকারে ছড়িয়ে পড়ত । কিন্ত এখন অনেক দেশে প্রায় ৭০ শতাংশের মত দম্পতি ৩ বছরেই বিচ্ছেদ ঘটায় ।
এরকম আরও অনেক কারণ হয়তো খুঁজতে গেলে বের হবে কিন্তু শুধু কারণ জানা থাকলেই হবে না এর প্রতিকারের উপায়ও বের করতে হবে। দেশের তরুণ সমাজকে সর্বগ্রাসী হতাশার অন্ধকার থেকে বের করে আনার সার্বিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে রাষ্ট্রকে। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সব ক্ষেত্রে শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি