পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

হারাবেন না নিজেকে

আমাদের জীবনটা খুব ছোট। কালকে কি হবে সেই চিন্তা করে আজকের দিনটা কেন খারাপ করবেন! আমরা অনেকেই আছি অন্যের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নিজেকে পরিচালনা করে থাকি,একান্ত নিজস্ব সত্তাটি বিকিয়ে দিয়েই। কিন্তু এতে কি আপনি ভালো থাকেন? মনের খুশি মিলে?
না আপনাকে স্বার্থপর হতে বলছি না, শুধু বলা হচ্ছে অন্যের জীবন যাপন করে নিজের জীবনটা বিসর্জন দিবেন না কোনও মতেই।

কেউ আপনাকে আরেকটু বেশি ভালোবাসুক, আপনার প্রতি আরেকটু মনোযোগ দিক, বা কারো দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য আপনি তার মতো হয়ে যান। আপনার মনে হয় আপনার জীবনে তার মতামতটাই সবকিছু, তার মতো করে আপনি নিজেকে বদলে ফেলেন। কিন্তু এ তো নিজের সাথে নিজের এবং যেই মানুষটার জন্য নিজেকে বদলে ফেলছেন তার সাথেও প্রতারণা। কারন, আপনি তো এরকম নন। আপনি আপনার খারাপ ভালো যাই থাক তা নিয়েই সবার থেকে আলাদা। কেন অন্যের জামা পরে নিজেকে দেখছেন, এটা কখনোই আপনার ঠিকভাবে ফিট হবে না।

ছোটবেলা থেকেই আমরা একটু একটু করে হারাই নিজেকে। বাবা চায় ছেলে বড় হয়ে বিজ্ঞানী বা ইঞ্জিনিয়ার হোক তাই সারাদিন পরে থাক সাইন্স ক্লাসে কিন্তু আপনার মন তখন ফুটবলের মাঠে। মা চান মেয়েটা গান শিখুক, বসে থাকুক হারমোনিয়াম নিয়ে রেওয়াজে কিন্তু আপনি এর রিড ধরতেই নারাজ, আপানার ইচ্ছে সাইকেল নিয়ে মাঠ চষার দুরন্তপনায়। আসলে অভিভাবকরা তাদের ইচ্ছার অপূর্নতাই আমাদের মাধ্যমে পূরণ করতে চান। অনেককেই বলতে শোনা যায়, নিজে তো সুযোগ পাইনি তাই ছেলে বা মেয়েটাকে ডাক্তার বানাবো। কিন্তু কেউ এটা ভাবেনা আপনার ছেলে বা মেয়েটির কি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার শখ আদৌ আছে কিনা। তার হয়তো ফটোগ্রাফার হওয়ার শখ অথবা সর্বোচ্চ শৃঙ্গে চড়ার!! এইভাবে কেটে যায় আমাদের ছেলেবেলা অভিভাবকদের ইচ্ছা বা স্বপ্নপূরনে। নিজেকে গুটিয়ে নেন আপনি।

এবার আসি জীবনের আরও একটা গুরুত্বপূর্ন অধ্যায় নিয়ে। প্রায় সবার মধ্যেই একটা ব্যাপার দেখা যায় যখন সে কোন সম্পর্কে জড়ায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা তাদের দিন, মাস, বছর এক করে ফেলছে একটা মেয়েকে খুশি করার জন্য। মেয়েটা কি পছন্দ করে, কি করেনা সেইমত চলার জন্য নিজেকে আগাগোড়া বদলে ফেলছে। অবশ্যই আপনি একটি মেয়ের ইচ্ছা অনিচ্ছার প্রতি সম্মান দেখাবেন কিন্তু তাই বলে তার কথামতো উঠবস করার কিন্তু দরকার নেই। আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করেন কিন্তু আপনার মেয়ে বন্ধুটি বলল এতো কিসের আড্ডাবাজি বন্ধুদের সাথে! ব্যস সাথে সাথে আপনি নিজেকে ঘরবন্দি করে ফেললেন, বন্ধুরা বারবার ফোন করে ডাকলেও নানান বাহানায় আপনি এড়িয়ে যান।

আপনি সবসময় মানুষকে সাহায্য করে, অন্যের খুশিতেই নিজের খুশি পান। তাই সবাই কোন কিছুর প্রয়োজনে সবার আগে আপনাকেই খুঁজে তাদের পাশে। বন্ধুর শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগে হোক বা আপনার ভাইয়ের পকেট খরচ যখন যা লাগে আপনিই এতদিন দিয়ে এসেছেন। কিন্তু আপনার মেয়ে বন্ধু আপনাকে এসে বলল, এখন থেকে যা করবে আমাকে বলে করবে। আর যখন তখন চাইলেই কাউকে টাকা দিবেনা, কেউ ডাকলেই চলে যেতে হবে নাকি! আপনিই ভেবে দেখুন, কথাগুলো কতোটা ঠিক। নতুন একটা সম্পর্কের জন্য কি পুরাতন সব সম্পর্কের হিসাব চুকিয়ে ফেলা উচিত?

এখন আসি মেয়েদের কথায়। অনেক মেয়ে সারাদিন বসে থাকে কখন তার ছেলে বন্ধুটি তাকে ফোন করবে সেই আশায়। তাদের জীবনে এর চেয়ে গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার যেন আর কিছু নেই। তারপর যখন ছেলে বন্ধুটি ফোন করলো তখন দুনিয়া ভুলে শুধু তার সাথেই কথা। মেয়েটির জীবনে ওই মুহুর্তে আর কোন কিছুর কোন মূল্য নেই। কাজ পরে থাক, বাবা ডাকছে ডাকুক, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ থাক। এইরকম করে মেয়েটি নিজেই নিজেকে একা করে ফেলছে। এক সময় যখন সত্যিই সে একা তখন তার চারপাশে তাকিয়ে সে কিন্তু আর কাউকে পাবেনা তাকে সঙ্গ দেয়ার।

আপনার ছেলে বন্ধু আপনাকে বলছে এখন থেকে আমার ফোন ছাড়া আর কারো ফোন ধরবে না, কারো সাথে কথা বলা লাগবে না। এতো বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি কিসের? বিয়ের দাওয়াতে যাওয়া লাগবেনা, এতো সাজবেনা, এই জামাটা পরবে না। আর আপনিও তাই করেন। বন্ধুদের সাথে কথা বলা কমিয়ে দেন, ঘুরতে যাওয়া বন্ধ করে দেন, বিয়ের দাওয়াতে যেখানে হই চই করে আগে আপনি মধ্যমণি হয়ে থাকেন এখন সেখানে আপনার উপস্থিতি থাকেনা বললেই চলে। লাল জামার বদলে কালো জামা পরা শুরু করেন আপনার ছেলে বন্ধু বলেছে বলে! আপনার জীবনটা কি এসবের জন্যই? আপনার ছেলে বন্ধুটির মতামতই কি আপনার আদর্শ? আর এভাবে কি সত্যিই ঠিক রাখা যায় সম্পর্ক? একদিন তো সেই ছেলেটিই আপনাকে বলবে – তুমি আর আগের মতো নেই, তোমাকে আর ভালো লাগেনা। কারন সত্যিই তো আপনি বদলে গেছেন তার মতো চলতে গিয়ে।

এসব বাদ দিয়ে আপনি নিজের উপর ফোকাস কেন করছেন না!
নতুন কিছু শিখুন, দেশ-বিদেশ ঘুরুন, আরও আশাবাদী হন, অন্যের উপকার করুন। দিনের শেষে দেখবেন, আপনি জীবনে কিছু একটা হতে পেরেছেন,নিজের মতো করে বাঁচার জন্যই আপনি আরও বেশি সম্মান পাচ্ছেন, সবার শ্রদ্ধার পাত্রপাত্রী হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন। আজকে থেকেই নিজের জন্য বাঁচুন, নিজের মতো করে বাঁচুন। কেউ যদি আপনাকে আপানার মতো করে মেনে না নিয়ে খারাপ ব্যবহার করে তাহলে তাকে বলুন, অনেক ধন্যবাদ আমাকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যে তোমার জীবন নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমার নিজের জীবনে আরও বেশি যত্নশীল হওয়া উচিত।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি