পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

পাদুকা কাহিনী

একেক মানুষের হাঁটার ধরন একেক রকম। কিছু মানুষের পদক্ষেপ থাক দৃঢ়, কেউবা হাঁটে দুলে দুলে , কেউ হাঁটে আশেপাশের মানুষের হাঁটা দেখতে দেখতে। যে যেভাবেই হাঁটুক না কেন , তার পায়ে থাকে একজোড়া জুতা বা স্যান্ডেল । বলা হয়ে থাকে , কারো জুতা দেখলেই নাকি বোঝা যায় লোকটা কেমন , তার ব্যক্তিত্ব কেমন। সত্যি বলতে, পোশাকের পাশাপাশি পাদুকাও মানুষের ব্যক্তিত্বকে বহন করে ।

জুতাকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেও ভাবা হয়। এ কারণেই মাঝে মাঝে কিছু দেশে দেখা যায় নবদম্পতিদের গাড়ির সামনে পুরনো জুতা বাঁধা। জুতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে পৌরাণিক কাহিনী এবং রূপকথায়। গ্রিক দেবতা জুপিটার ও মাইয়ার পুত্র হলেন দেবতা মার্কারি । তিনি ব্যবসা এবং মুনাফার দেবতা । তাঁর এমন একজোড়া জুতা ছিল , যা তাকে চোখের পলকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যেত। কামদেবতা কিউপিডের একজোড়া ডানাওয়ালা জুতা ছিল ।

সিনডারেলার গল্প তো সবারই জানা! তার কাচের জুতার একপাটি যদি না হারিয়ে যেত , তাহলে রাজকুমার তাকে কীভাবে খুঁজে পেত ? আর সেই বৃদ্ধা মহিলার কথা মনে আছে , যে কিনা একটি জুতার ভেতর বাস করত (আমার ধারণা তাকে যথেষ্ট পরিমাণ এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে হতো) ? কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জুতা আবিষ্কার' তো একটি অনবদ্য রচনা । সুতরাং দেখা যাচ্ছে , সাহিত্যজুড়ে জুতার আনাগোনা রয়েছে বেশ !
সত্যিকারের জুতা আবিষ্কারের খবর জানতে হলে আমাদের যেতে হবে অনেক অনেক পেছনে , সেই আদিম যুগে , যখন মানুষ বন্যপ্রাণী শিকার করত । বন্যপ্রাণীর পেছনে ছোটার জন্য পায়ের নিচের পাথুরে মাটিকে আগে মোকাবেলা করতে হবে - এটা তারা বুঝতে পেরেছিল । খুব সম্ভবত বরফযুগে তারা বুঝতে পেরেছিল , তাদের পা ঢাকার জন্য এমন কিছু দরকার যা ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচাবে এবং বরফের ওপর হাঁটতে সুবিধা হবে ।

উত্তর আমেরিকান ইন্ডিয়ান , এস্কিমো এবং সাইবেরিয়ানরা পশুর নরম চামড়া দিয়ে অনেকটা জুতার মতো করেই এমনভাবে পা ঢাকত , যাতে পা ঠান্ডা থেকে রক্ষা পায় । বর্তমান যুগের 'মক্যাসিন' (উত্তর আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের হরিণের চামড়ার জুতা ) এমনই এক সময়ের ফলাফল । উষ্ণ আবহাওয়ার মানুষরা স্যান্ডেলই পছন্দ করত । বিভিন্ন ধরনের পাদুকার সাক্ষ্য বহন করে চীন । তখন মূলত জুতা পরা হতো বিভিন্ন ধরনের অনাহূত সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য । জুতার ইতিহাস বলে , খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০-১২০০ দিকে মিশরীয়রা ঘাস এবং পাপ্যাইরাস দিয়ে খুবই সাধারণ অথচ আকর্ষণীয় পাদুকা তৈরি করেছিল । মিশরীয়রা পোশাকের মতোই পায়ের সাইজ অনুযায়ী জুতাগুলো তৈরি করত । এগুলো হতো গোলাকার ।তবে ফারাওরা অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে লম্বা জুতা পরতেন । কিন্তু এগুলো পরে হাঁটা খুব মুস্কিল ছিল । মজার ব্যাপার হলো , এই জুতা পরার পর ফারাওদের বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা ভৃত্য নিয়োগ দেয়া হতো ।

এই লম্বা জুতাগুলো শুধুমাত্র রাজা , রাজপুত্র এবং রাজপূজারীরাই পরতে পারত । অন্যদিকে রোমানরা 'ক্যালিগা' নামে স্যান্ডেল তৈরি করেছিল । গরুর রুক্ষ চামড়া তিন পরত করে নিয়ে এটি তৈরি করা হতো এবং সাথে দড়ি থাকত পায়ের সাথে বাঁধার জন্য । পরের দিকে সাম্রাজ্যের অভিজাত লোকরা রত্নখচিত জুতা পরতো ।

একাদশ শতাব্দীতে বুটের মতো কিছু জুতা তৈরি করা হতো , যাতে ২ ইঞ্চি পুরু সোলের চারপাশে চামড়া ঢাকা থাকত এবং পায়ের সঙ্গে বাঁধার জন্য ফিতা থাকত । সতেরোশ শতাব্দীতে এমন কিছু জুতা তৈরি হয় যা পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর লোকরা ব্যবহার করত । এতে গোড়ালির জন্য কাঠ এবং শোলা ব্যবহার করা হতো । ফলে এটা মোটেও আরামদায়ক ছিল না । আঠারোশ শতাব্দীর দিকে পায়ের বিভিন্ন মাপের সাথে যোগ হলো আরামদায়ক প্যাডের সোল । তারপর রাবার সোলের আবির্ভাব ঘটলো আমেরিকায় । 'প্লিম সোল' নামের জুতা ব্যাপকহারে তৈরি হতে লাগলো এবং গণহারে ব্যবহার হতে লাগলো । এই রাবারের জুতাগুলো আসলেই মজবুত ছিল এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অধীনে বিক্রি হতো । এদের মধ্যে একটি হচ্ছে 'কেডস্' ।

পঞ্চাশ থেকে ষাটের দশকে বাংলাদেশে জুতা তৈরির কারখানা চালু হয় । এসব কারখানার মালিকরা এসেছিলেন চীন , পাকিস্তান এবং ইন্ডিয়া থেকে । তাঁরা তাঁদের কারখানায় জুতা তৈরির কাজে স্থানীয়দের নিয়োগ দিলেও জুতা তৈরির উপাদানগুলো বাইরে থেকে নিয়ে আসতেন । বর্তমানে বাংলাদেশে জুতা-স্যান্ডেলের যে ফ্যাশন চলে তা ফিউশনধর্মী । দেশী এবং পশ্চিমা স্টাইলের মিশ্রণে এই ফিউশন । এক সময় হাই হিলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও এখন ফ্ল্যাট স্যান্ডেলই বেশি পছন্দ করে মেয়েরা । চামড়ার স্যান্ডেল তুলনামূলক ভাবে দামী হওয়ায় রেক্সিন ও ভেলভেট কাপড়ের স্যান্ডেল চলে বেশি । যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্যান্ডেলে যোগ হচ্ছে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন , যোগ হচ্ছে চুমকি , পুঁতি , পাথর , কাচ এমনকি জরি সুতার অ্যামব্রোডারিও ! স্যান্ডেলের মতোই মেয়েদের জুতাতেও দেখা যায় বিভিন্ন ডিজাইনের বাহার । স্যান্ডেল অনেক আরামদায়ক হলেও ছেলেরা এখন ঝুঁকেছে স্টাইলিশ জুতার প্রতি । চামড়া ও রেক্সিনের বদলে এখন ছেলেদের কাপড় , ক্যানভাস ও ডেনিমের (জিন্স) জুতা পরতে দেখা যায় বেশি ।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি