পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

যেভাবে এলো বাংলা বর্ষপঞ্জি

সারা বিশ্বে বর্ষ গণনা করা হয় বিভিন্ন বর্ষপঞ্জি অনুসারে। চাঁদ অথবা সূর্য আবার কখনো দুটোকেই সূচক হিসেবে ধরে নানান সময়ে তৈরি করা হয়েছে নানান বর্ষপঞ্জি। সময়ের করাল স্রোতে কিছু বর্ষপঞ্জি গেছে হারিয়ে, আবার কিছু বর্ষপঞ্জি হয়েছে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু জায়গায় সনাতন বাংলা বর্ষপঞ্জি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় স্বীকৃত গ্রেগোরিয় বর্ষপঞ্জি। ১৫৮২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগোরির আদেশ অনুসারে এই বর্ষপঞ্জির প্রচলন ঘটে।

পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগোরি বর্ষপঞ্জি সংস্কার করেছিলেন এই কারণে যে, পূর্বের জুলিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসারে একটি মহাবিষুব থেকে আরেকটি মহাবিষুব পর্যন্ত সময়ের পার্থক্যের ফলে প্রতি ৪০০ বছর অন্তর মূল ঋতু থেকে জুলিয়ান বর্ষপঞ্জির প্রায় তিনদিনের ব্যবধান ঘটত। এই ব্যবধান ক্রমশ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল দশদিনে! এর ফলে মহাবিষুব পড়েছিল ২১ মার্চের পরিবর্তে ১১ মার্চে। বর্ষপঞ্জির এই ব্যবধান রোমান ক্যাথলিকদের কাছে ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। ফলে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগোরি বর্ষপঞ্জিতে সংস্কারের আদেশ দেন এবংজুলিয়ান বর্ষপঞ্জি ও চান্দ্র পঞ্জিকার সংস্কার করা হয়। তাঁর নাম অনুসারেই এই বর্ষপঞ্জির নাম রাখা হয় গ্রেগোরিয় বর্ষপঞ্জি। খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যীশুখ্রিষ্টের জন্মের বছর থেকে গ্রেগোরিয় বর্ষপঞ্জির গণনা শুরু হয়।

মুসলিম বিশ্বের সমস্ত উত্‍সব ও রীতিনীতি পালিত হয় হিজরী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী। হিজরী বর্ষপঞ্জি একটি চন্দ্রনির্ভর বর্ষপঞ্জি। ইসলাম ধর্মের শেষ নবী মুহাম্মদ (স) মক্কা থেকে কুরায়েশদের দ্বারা বিতারিত হয়ে মদীনা চলে যান। ইসলামধর্মে এই ঘটনাকে বলা হয় হিজরত। হিজরতের এই ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যেই হিজরী সাল গণনা শুরু হয়। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা) ১৭ই হিজরী অর্থাত্‍ মহানবীর মৃত্যুর সাত বছর পর চান্দ্র মাসের হিসাবে এই বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন। এই পঞ্জিকা মতে, সূর্যাস্তের মাধ্যমে দিন গণনা শুরু হয়। তবে মাস গণনা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে এবং ২৯ অথবা ৩০ দিনে মাস হয়।

সারা বিশ্বে রয়েছে নানা ধরনের বর্ষপঞ্জি এবং এই বর্ষপঞ্জিগুলো অনুসারে পালিত হয় নানা উত্‍সব। তবে সনাতন বাংলা বর্ষপঞ্জিতে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের যে আবেগ লুকিয়ে রয়েছে, তা অতুলনীয়।

বাংলাদেশে বর্ষবরণ বেশ সমারোহের সাথে পালন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এ উত্‍সব স্থান করে নিয়েছে জাতীয় উত্‍সবের তালিকায়। বাংলাদেশ ও ভারতের একটি ঐতিহ্যবাহী সৌরভিত্তিক বর্ষপঞ্জি হলো সনাতন বাংলা বর্ষপঞ্জি। প্রাচীন ভারতে দিন, মাস বছর গণনার ক্ষেত্রে 'সূর্যসিদ্ধান্ত' বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে সৌরমাস নির্ধারিত হয় সূর্যের গতিপথের উপর ভিত্তি করে। সূর্যের বার্ষিক অবস্থানের ভিত্তিতে আকাশকে বারোটি রাশিতে বিভক্ত করা হয়। আর বারোটি রাশির সমন্বয়ে যে পূর্ণ আবর্তন, তাকে বলা হয় রাশিচক্র। সূর্য যখন একটি রাশি থেকে আরেকটি রাশিতে যায়, তখন তাকে বলা হয় সংক্রান্তি। এই নিয়মে এক বছরে বারোটি সংক্রান্তিকে একেকটি মাসের শেষ দিন ধরা হয়। যেমন, চৈত্রের শেষ দিন অর্থাত্‍ ৩১শে চৈত্র পালিত হয় চৈত্রসংক্রান্তি। সূর্যের একেকটি রাশি অতিক্রম করতে সময় লাগে ২৯, ৩০, ৩১ বা ৩২ দিন। এই সনাতন বর্ষপঞ্জ অনুসারে একেকটি মাস ক্রমশঃ মূল ঋতু থেকে পিছিয়ে যেতে থাকে।

সনাতন বাংলা বর্ষপঞ্জি মতে বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ গণনা করা হয়। বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে এই বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করা হয়। বাংলা সন সময় গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির চেয়ে ৫৯৩ বছর কম।

বাংলা সনের উত্‍পত্তি নিয়ে কৌতুহলের অন্ত নেই। কবে এর শুরু, কীভাবে এর বিস্তার তা আজও সঠিকভাবে জানা যায়নি। অনেকেই মনে করেন, সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা সনের উত্‍পত্তি, কেউ কেউ বলেন স্বাধীন বাংলার সুলতানরা এর সূচনা ঘটান। আবার কারো মতে, শশাঙ্ক বা আরো পুরোনো কোনো নৃপতির কীর্তি এই বাংলা সন।

সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করলে বোঝা যায় যে, কৃষি সভ্যতার বিকাশের ধারাবাহিকতা হিসেবেই বাংলা সনের উদ্ভব। মিশরসহ সর্বত্রই আদি সৌরবর্ষগুলো তৈরি হয়েছে হাজার যুগের কৃষিজ্ঞানের বিস্তারের সূত্রে গড়ে তোলা স্থায়ী আবাসের মানুষদের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের ফলে। আদি চান্দ্রবর্ষগুলো যেমন যাযাবর পশুপালক অথবা শিকারী গোষ্ঠীর স্মৃতি ধরে রেখেছে, তেমনি সৌরবর্ষ কৃষিজীবী মানুষের সভ্যতা নিমার্ণের ধারাবাহিকতা। রাজকীয় বা শাহী দরবারের জ্যোতির্বিদরা খুব বেশি হলে হাজার বছরের সেই পর্যবেক্ষণকেই উন্নত যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিখুঁত করেছেন। মূলত, সনাতন বাংলা বর্ষপঞ্জিকার আসল উদ্ভাবক সম্রাটরা নন, বরং কৃষিজীবী মানুষরা।

 

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি