পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

মঙ্গলযাত্রা: পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় যাত্রার খুঁটিনাটি

‘আপনি কি মঙ্গলের প্রথম স্থায়ী বাসিন্দা হতে চান?’ অর্থাৎ আপনি পৃথিবী ছেড়ে চিরদিনের মতে মঙ্গলগ্রহ চলে যেতে রাজি আছেন কিনা। এরকম একটি বিজ্ঞাপন ২০১২ সালে সারা বিশ্বে ঝড় তুলেছিল। অনেকের কাছে কল্পকাহিনী মনে হচ্ছে। কিন্তু ২০২৩ সালে এরকম কিছু ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

 

যারা পরিচালনা করছে:

নেদারল্যান্ডসের ‘মার্স ওয়ান’ নামে একটি অব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রমটি পরিচালনা করছে। এই প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন ব্যাস ল্যানসড্রপ।

 

মঙ্গলযাত্রা কি?

মঙ্গলগ্রহ নিয়ে পৃথিবীর মানুষের চিন্তার কোনো শেষ নেই। যুগ যুগ ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা কত শত গবেষণা করেছেন তার কোনো হিসাব নেই। তবে ২০২৩ সালে যা ঘটতে যাচ্ছে তা রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে পৃথিবী থেকে ৪ জন লোককে মঙ্গলগ্রহে পাঠানো হবে। তারা আর কোনোদিন পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবেন না। তাদেরকে স্থায়ীভাবে মঙ্গলগ্রহেই বসবাস করতে হবে। শত চেষ্টা করলেও আর ফেরার উপায় নেই। কেননা মঙ্গলগ্রহ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসার ব্যবস্হা রাখা হয় নি। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রথম ৪ জন  মঙ্গলের উদ্যেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। মঙ্গলে পৌছুতে তাদের সময় লাগবে ১০ মাস। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দ্বিতীয়বারের মতো মানুষ পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে তারা ২৪০ দিন যাত্রা করে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মঙ্গলে পৌঁছবে। এভাবে প্রতি দুই বছর পর পর ৪ জন করে লোক মঙ্গলগ্রহে পাঠানো হবে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মঙ্গলগ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলা।

 

কেমন হবে মঙ্গলের জীবন:

যারা এই যাত্রায় যাবেন তাদেরকে পরিবারের সকল মায়া-মমতা ত্যাগ করতে হবে। খাবার থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবা, সবকিছুর সংস্থান তাঁদের নিজেদের করে নিতে হবে। পৃথিবী থেকে কোনো কিছু পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কোন পরিস্থিতিতে কি করতে হবে সে ধরনের নির্দেশনা দেয়া থাকবে।  

 

যেভাবে পরিচালিত হবে মঙ্গলযাত্রা:

২০১২ সালের মে মাসে পুরো পরিকল্পনাটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন ‘মার্স ওয়ান’। প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে এই প্রকল্পে। প্রথম দিকে ‘মার্স ওয়ান’ কর্তৃপক্ষ আমেরিকার কাছে এই অর্থ চেয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা এই অর্থ প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে ‘মার্স ওয়ান’ কর্তৃপক্ষ এই মঙ্গলযাত্রা ও মঙ্গলগ্রহের বাসিন্দাদের উপর রিয়েলিটি শো তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এই শো এর স্পন্সরশীপ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে মঙ্গলযাত্রা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।  মঙ্গলযাত্রার শুরু থেকে মঙ্গলগ্রহে অবস্থানরত মানুষগুলোর উপরে তৈরি করা হবে এই রিয়েলিটি শো। তারা সেখানে কি করছেন, কি খাচ্ছেন, কিভাবে নিজেকে টিকিয়ে রাখছেন – এ সবই পৃথিবীতে বসে দেখা যাবে এই শো তে। কিন্তু পরবর্তীতে ‘মার্স ওয়ান’ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলযাত্রার অর্থ যোগাড় করার জন্য আলাদা একটি ফান্ড খুলেছেন। এই ফান্ডে যে কেউ অর্থ প্রদান করতে পারবেন।  

 

বিতর্কের ছড়াছড়ি:

মঙ্গলযাত্রার মাধ্যমে কিছু মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই নিয়ে ‘রিয়েলিটি শো’ নির্মাণকে অনেকেই ভালো চোখে দেখছেন না। এরই মধ্যে মার্স ওয়ান নিয়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। মার্স ওয়ান যদিও দাবি করছে, সব জেনেশুনেই অভিযাত্রীরা মঙ্গলে যেতে রাজি হয়েছেন। তবু, কিছু মানুষকে অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেওয়া কতখানি যৌক্তিক, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে।

 

মঙ্গলের বাসিন্দা হতে হলে:

আবেদনকারীকে অবশ্যই ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়স হতে হবে এবং শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হবে। যাত্রার জন্য তাদেরকে ৩৮ ডলার খরচ করতে হবে। মার্স ওয়ান এর ডাকে ১৪০ টি দেশের ২০২,৫৮৬ টি আবেদন পত্র জমা পড়েছে। আবেদনের ধারাবাহিকতায় শীর্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (২৪%), ভারত (১০%), চীন (৬%), ব্রাজিল (৫%), গ্রেট ব্রিটেন (৪%), কানাডা (৪%), রাশিয়া (৪%), মেক্সিকো (৪%), ফিলিপাইন (২%), স্পেন (২%), কলম্বিয়া (২%), আর্জেন্টিনা (২%), অস্ট্রেলিয়া (১%), ফ্রান্স (১%), তুর্কি (১%), চিলি (১%), ইউক্রেন (১%), পেরু (১%),জার্মানি (১%), ইতালি (১%), এবং পোল্যান্ড(১%)। বাংলাদেশ এই শীর্ষ তালিকায় না থাকলেও ১৭ জন বাংলাদেশী এই অন্তিম যাত্রার জন্য আবেদন করেছেন, যা তুলনামূলক অবস্থান বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। এই আবেদনগুলোর মধ্যে থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৯৭জন, কানাডা থেকে ৭৫, ভারত থেকে ৬২, রাশিয়া থেকে ৫২ ও অন্যান্য দেশ থেকে ৫৭২ জনকে রেখেছে মার্স ওয়ান। ২০১৩ সালের ৩১ আগস্ট ছিল রহস্যময় লালগ্রহে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের নাম নিবন্ধন করার শেষ দিন। আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে প্রথমে ৪০ জনকে নির্বাচন করা হবে এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্তভাবে চারজনকে বেছে নেওয়া হবে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে প্রাথমিক বাছাইয়ের মাধ্যমে চারজন করে মোট ছয়টি দল গঠন করা হবে। এরপর মঙ্গল অভিযানের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে আট বছর ধরে প্রশিক্ষণ চলবে তাঁদের। এবার যারা আবেদন করতে পারেন নি, তারা পরবর্তীতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

 

আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া:

১ম রাউন্ড

২২ এপ্রিল, ২০১৩ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গলে বাস করতে আগ্রহী ১৮ বছরের উর্ধ্বে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ পৃথিবীবাসীদের কাছে উন্মুক্তভাবে আবেদন আহ্বান করা হয়। প্রথম রাউন্ডে অনলাইনে আবেদন করতে হয়েছে। ১৮ বছর বা অধিক বয়সী যে কেউ এখানে আবেদন করার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। ইংরেজি, স্প্যানিশ, পর্তুগীজ, ফ্রেঞ্চ, জার্মানি, রাশিয়ান, আরবী, ইন্দোনেশিয়ান, চাইনিজ ম্যান্ডারিন, জাপানিজ এবং কোরিয়ান এই ১১টি ভাষায় আবেদন করা গেছে। আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সাধারণ তথ্য, একটি প্রণোদনামূলক লিখিত চিঠি, জীবন বৃত্তান্ত এবং কেন সে এই মিশনে অংশগ্রহণে আগ্রহী সেই সব তথ্য জানিয়ে এক মিনিটের একটি ভিডিওচিত্র প্রেরণ করতে হয়। রেজিষ্ট্রেশনের জন্য মাত্র ৬ ডলার ফি পরিশোধ করতে হয়। মার্স ওয়ান কমিটি প্রথম রাউন্ডের আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করবে। ২০১৩ এর ৩১ আগস্ট ১ম রাউন্ডের বাছাই শেষ হয়।

২য় রাউন্ড

দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রার্থীদের চিকিৎসকের কাছ থেকে সুস্বাস্থ্যের একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। একইসাথে প্রার্থীদের নির্বাচন কমিটির সাথে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং এর মধ্যে দিয়েই পরবর্তী রাউন্ডের যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা হবে।

৩য় রাউন্ড

তৃতীয় রাউন্ড হচ্ছে আঞ্চলিক বাছাই রাউন্ড, যা টিভি এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে দর্শকদের দেখানো হবে। এখানে অঞ্চলভিত্তিক ২০-৪০ জন আবেদনকারীকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করা হবে, যেখানে মঙ্গল মিশনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের উপযুক্ততা যাচাই করা হবে। দর্শকরা প্রতি অঞ্চল থেকে একজন করে প্রার্থী নির্বাচন করবে এবং মার্স ওয়ান কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত প্রার্থীদের বাছাই করবে।

৪র্থ রাউন্ড

চতুর্থ রাউন্ডে উত্তীর্ণ প্রত্যেককে ইংরেজিতে যোগাযোগে সক্ষম হতে হবে। এই বাছাই প্রক্রিয়াটি সারা বিশ্বে প্রদর্শন করা হবে। কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদা প্রার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক গল গঠন করবে, যাদেরকে রূঢ় অবস্থায় টিকে থাকার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে এবং কঠিন অবস্থায় দলবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। দলগুলোকে মঙ্গলের অনুরূপ পরিবেশে স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এভাবে চারজন সদস্য নিয়ে গঠিত ছয়টি পৃথক দল বাছাই করা হবে যারা চিরস্থায়ীভাবে মার্স ওয়ান নভোচারী হিসেবে কাজ করবে।

 

মার্স ওয়ানের পরিকল্পনা

২০১৫

২০১৫ সালের জুলাই মাস নাগাদ চারজনের ছয়টি দল, অর্থাৎ মোট ২৪ জনের বাছাই সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে মার্স ওয়ান। বাছাইপর্ব শেষে কৃত্রিমভাবে তৈরি মঙ্গল গ্রহের পরিবেশে শুরু হবে তাঁদের প্রশিক্ষণ। চলবে একটানা সাত বছর।

২০১৬

মঙ্গল গ্রহে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি, মঙ্গলে পৌঁছে যাবে অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

২০১৮

মঙ্গলে পাঠানো হবে কিছু রোভার। রোবটিক হাতবিশিষ্ট এই স্বয়ংক্রিয় গাড়ি মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসবাসযোগ্য জায়গা খুঁজে বের করবে।

২০২০

জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামসহ (লাইফ সাপোর্ট ইউনিট), মানুষের বাসস্থান তৈরির কাজ শুরু করবে রোভার।

২০২২

সেপ্টেম্বর মাসে যাত্রা শুরু হবে চার অভিযাত্রীর। পৃথিবী থেকে মঙ্গলে পৌঁছাতে তাঁদের সময় লাগবে প্রায় সাত মাস।


মঙ্গলগ্রহে কি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে?

পৃথিবীর অর্ধেক ব্যাসার্ধ্যের এবং এক দশমাংশ ভরের এই লাল প্রতিবেশী গ্রহকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের কৌতুহল বেশ পুরোনো।  মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে যুগ যুগ ধরে নাসা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছেন। সেই ১৯৬৪ সালে সর্বপ্রথম নাসা’র ‘মেরিনার-৪’ মহাকাশযান মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করতে সক্ষম হন। এরপর ১৯৭১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের মার্স প্রোব প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে মার্স-২ এবং মার্স-৩ প্রথমবারের মঙ্গলের পৃষ্ঠে অবতরণ করে। মাঝে আরও অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে আবার নাসা ফিনিক্স মার্স ল্যান্ডার প্রেরণ করে। মঙ্গলের আবহাওয়া ও পৃষ্ঠের গঠন পরীক্ষা, জলের সন্ধান এবং সর্বোপরি প্রাণের সন্ধান করা ছিল এইসব অভিযানের মূল লক্ষ্য। কিন্তু কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাই সফলতার মুখ দেখেনি। আজও কেউ মঙ্গলে জীবন ধারণের অনুকূল পরিবেশের সন্ধান পান নি। কারণ মঙ্গলে নেই কোনো চৌম্বকীয় ক্ষেত্র, যে সামান্য পরিমানে বায়ুমন্ডল রয়েছে তাতে জীবনধারণের অস্তিত্ব কোনোভাবেই থাকা সম্ভব নয়। তার উপর মঙ্গল গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর দশ ভাগের এক ভাগ মাত্র। তারপরও মার্স ওয়ান কর্তৃপক্ষ কোন যুক্তিতে মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে তা নিয়ে সংশয়ের কোনো শেষ নেই। তবে আপাতদৃষ্টিতে মার্স ওয়ান কর্তৃপক্ষ যে যুক্তিতে এগিয়ে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে তা হলো,  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন.এফ. কেনেডির হাস্টনের রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক বক্তব্যের সূত্র ধরে। সেই বক্তৃতায় কেনেডি বলেছিলেন, “চাঁদে যাওয়াটা সহজ একারণে নয় বরং এটি কঠিন বলেই আমরা চাঁদে যাওয়া বেছে নিয়েছি।”

 

এই প্রকল্প সফল হবে তো!

প্রায় অসম্ভব যাত্রা সম্ভব হতে পারে মার্স ওয়ানের পরিকল্পনার সফলতা নিয়ে অনেক গবেষক সংশয়ে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, মার্স ওয়ানের এই পরিকল্পনার মধ্যে অনেক ‘যদি’ ও ‘কিন্তু’ রয়েছে। তাঁদের যুক্তি হচ্ছে যুক্তি নভোচারীদের অতি তেজস্ক্রিয়তার হাত থেকে বাঁচাতে এখন পর্যন্ত টেকসই কোনো প্রযুক্তি উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়াও দূর মহাকাশে পাড়ি দিতে যে দ্রুতগতির মহাকাশযান প্রয়োজন এখনও সে পর্যায়ে পৌঁছাতে দেরি আছে। তবে প্রতিকূলতা স্বত্বেও তোড়জোড় থেমে নেই। মার্স ওয়ানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বেসরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সবার আগে মঙ্গল জয় করার প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।

 

রয়েছেন বাংলাদেশিরাও:

১৭ জন বাংলাদেশী এই অন্তিম যাত্রার জন্য আবেদন করেছেন। তারা হলেন, সাদমান (১৯), মাহমুদ-আল-নূর নির্ঝর (২৩), এহশাম (২৪), সাইপ্রাস প্রবাসী এনায়েত হোসেন (২৫), সালমা মেহের ঐশী (২৭), ইয়ামিন মাহমুদ দীপু (২৭), আবুধাবি প্রবাসী রাজিব (২৮), লাবণ্যা (২৯), মেহেদী মিজান (৩০), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রনি (৩১), কানাডা প্রবাসী শরীফ (৩২), হাবিব দুলাল (৩৫), মোঃ জাকারিয়া হাবিব (৩৫), মোহাম্মদ (৩৫), উত্তম বড়ুয়া (৪০), মোহাম্মদ রাশেদুন নবী হারুন (৪৭) এবং অস্ট্রেলিয়ার বসবাসরত এনামুল হক (৩১) ও তার স্ত্রী শারমিন জাহান (২৫)। তাদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান লাভ করেছেন। তারা হলেন সালমা মেহের ঐশী (২৭) ও ডা. শারমিন জাহান (২৫)।আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সালমা মেহের ঐশী। অপর প্রার্থী শারমিন জাহান বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। তিনি ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিবিএস কোর্স সম্পন্ন করে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক হওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল কাউন্সিল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সালমা মেহের ঐশী (বামে), শারমিন জাহান (ডানে)

 

প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মঙ্গলে যেতে পারেন ‘লুলু ফেরদৌস’:

বাংলাদেশ থেকে এই মঙ্গলযাত্রার জন্য ১৭ জন বাংলাদেশী আবেদন করেছেন। যার তালিকা উপরে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো এক কারণে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে যার মঙ্গলযাত্রায় যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে তার নামটিই বাদ পড়ে গেছে সকল জায়গায়। তিনি হচ্ছেন ‘লুলু ফেরদৌস’। লুলু ফেরদৌস জন্মেছেন ঢাকাতে। ৬ বছর বয়স থেকেই তার মহাকাশ নিয়ে আগ্রহ। একসময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে নারী বৈমানিক হিসেবে নাম লেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিমান বাহিনীতে এরকম কোনো পদ না থাকায় তার আর যোগ দেওয়া হয় নি। পরে বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এখানেও সে রকম কোনো সুযোগ ছিল না। পাইলট হতে না পেরে এবার তার মাথায় চেপে বসে মহকাশের চিন্তাধারা। শুরু করেন মহাকাশ নিয়ে গবেষণা। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে চলে যান যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে তিনি Air Transportation Administration বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নেন। পরে যোগ দেন নাসার বিশেষ গবেষক হিসেবে। ২০১৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি নাসার গবেষণার সাথেই যুক্ত ছিলেন। ‘মার্স ওয়ান’ কর্তৃপক্ষ প্রতি দুই বছর পর পর ৪ জন করে যাত্রী পাঠাবেন মঙ্গলগ্রহে। তাদের মধ্যে ২ জন পুরুষ এবং ২ জন মহিলা। এখনো সম্পূর্ণ বাছাই পর্ব শেষ হয় নি। কিন্তু সারা বিশ্বেই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে, মঙ্গলের প্রথম যাত্রায় বাংলাদেশী ‘লুলু ফেরদৌস’ এর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

 

লুলু ফেরদৌস এর একটি সাক্ষাৎকার:

মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের প্রকল্পটি (মার্স ওয়ান) কবে থেকে শুরু হয়? আপনি কীভাবে এতে অংশ নিলেন?
২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সারা বিশ্বে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ খোলা হয়। আমি আবেদন করেছিলাম। দুই লাখের ওপর আবেদনপত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে দ্বিতীয় ধাপে এক হাজার ৫৮ জনকে দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। তারপর তৃতীয় ও চতুর্থ রাউন্ডের শেষে সর্বমোট চারজন (দুজন নারী ও দুজন পুরুষ) মহাকাশচারীকে মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হবে।


মঙ্গল গ্রহের জীবন আপনার কল্পনায় কেমন দেখতে পান?

প্রথম কথা, পৃথিবীর জীবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, যেখানে সম্পূর্ণ নতুন করে মানবসভ্যতা শুরু হবে। সেখানে বৈশাখী ঝড় হবে না, কৃষ্ণচূড়ার লাল রং চেয়ে থাকবে না। আমের মুকুলের সুবাস পাওয়া যাবে না। চারদিকে থাকবে জনমানবহীন, রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রতিকূল পরিবেশ। মার্স ওয়ান প্রথম চারজন মহাকাশচারীর সঙ্গে দরকারি রসদ, ওষুধ, খাবার ও যোগাযোগ করার যন্ত্রপাতি পাঠাবে। প্রথমে বেশ কিছু বছর মহাকাশচারীরা স্পেস ক্যাপসুলে থাকবে এবং ‘লাইভ ভিডিও ফিড’-এর সাহায্যে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। সেটি হবে বেঁচে থাকার সম্পূর্ণ অন্য রকম অভিজ্ঞতা।


নাসায় কাজ করার সুযোগ পেলেন কীভাবে? নাসায় আপনার কাজগুলো মূলত কী ধরনের?

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার সময় আমি এখানকার একটা বিমানবন্দরে ‘অপারেশনস ইন্টার্ন’ হিসেবে কাজ করেছি। জিইসিএএসে (জেনারেল ইলেকট্রনিক ক্যাপিট্যাল এভিয়েশন সার্ভিস) ইন্টার্নশিপ করেছি। ডিগ্রি পাওয়ার পরে আমি নাসা নেব্রাস্কাতে কাজ শুরু করি। আমার কাজ ছিল ইপিএসসিওআর (এক্সপেরিমেন্টাল প্রোগ্রাম টু স্টিমুলেট কমপিটিটিভ রিসার্চ) বিভাগে। 

 

ওড়াউড়ির শখটা আপনার মনে হচ্ছে অনেক পুরোনো।

আমি চার বছর উইমেন ইন এভিয়েশন ইউএনও চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ছিলাম। তা ছাড়া ছাত্রী অবস্থাতেই আমি বেশ কিছু উড্ডয়ন সংস্থার সদস্য ছিলাম। এর মধ্যে আছে, কলেজিয়েট এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালস, আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভস, অর্গানাইজেশন অব উইম্যান পাইলটস, নেব্রাস্কা বিজনেস এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন ইত্যাদি।

 

আপনার বেড়ে ওঠা কি ঢাকাতেই?

আমার জন্ম ঢাকায়। আমার মা অধ্যাপক। বাবা অবসরপ্রাপ্ত ভূতত্ত্ববিদ। আমার ছোট ভাই পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছে। আমি এখানে আসার আগে ঢাকার কিছু বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেছি। একটি প্রাইভেট স্কুলের সহকারী ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবেও কাজ করেছি কিছুদিন।

 

আপনি পাইলট হতে চেয়েছিলেন। সেটা কেন সফল হলো না?

২০০০ সালে আমি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে জিডি পাইলট হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে সময়ে মেয়েদের যোগ দেওয়ার সুযোগ এই বিভাগে ছিল না। তার পরও আমি নানাভাবে চেষ্টা করেছি, কিন্তু ফল হয়নি।

 

এই প্রকল্পে ফেরত আসার কোনো সুযোগ নেই। আপনি এই ঝুঁকি নিতে কেন আগ্রহী হলেন?

নতুন গবেষণা ও আবিষ্কারের জন্য একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদের মানসিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা জরুরি। আমরা বাংলাদেশি নাগরিকেরা অনেক রকমের প্রতিকূলতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সুতরাং, এ যাত্রা সেদিক থেকে খুব নতুন কিছু নয়। পরিবেশ পাল্টাতে পারে, গ্রহ পাল্টাতে পারে, কিন্তু অসম্ভবকে জয় করার উদ্যোগ আর নতুন অভিযানের আনন্দ মানুষের মধ্যে আছে এবং থাকবে। মা-বাবা শুরুতে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু আমি জানি শেষ পর্যন্ত তাঁরা খুশিই হবেন।

 

আবার কবে দেশে আসবেন?

২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা ছেড়েছি। এর মধ্যে আর আসার সুযোগ হয়নি। পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি। এ জন্য দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা সফল হচ্ছে না। (সাক্ষাৎকার সৌজন্যে: প্রথম আলো)

 

(বি.দ্র: আরও বিস্তারিত তথ্য সহ খুব শীঘ্রই এই লেখাটির আপডেট আসছে)

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি