পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

জাটিঙ্গা: এ যেনো পাখিদের মৃত্যুপুরী

‘জাটিঙ্গা’ ভারতের একটি দর্শনীয় স্থানের নাম। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এই স্থানটিতে আসেন। সুন্দরের টানে পর্যটক এই স্থানে আসেন না। তাহলে কেনো আসেন? এই গ্রামে প্রতি বছর নির্দিষ্ট একটা সময়ে ঘটে অদ্ভুত এক ঘটনা। সেই ঘটনা স্বচক্ষে দেখার জন্য অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে আসেন। কি সেই ঘটনা? প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে আগুনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করে। বিস্ময়কর ও রহস্যময় এই ঘটনা নিজের চোখে একপলক দেখার জন্যই এখানে পর্যটকদের আগমন ঘটে।

 

 

যেখানে অবস্থিত এই গ্রামটি:

ভারতের আসামের উত্তর কাছাড় জেলার সদর শহর হাফলং থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে জাটিঙ্গা অবস্থিত। আসামে শিলং পাহাড়ের পর শুরু হয় হাফলং পাহাড়ের সারি। স্থানীয় দিমাশি ভাষায় হাফলং শব্দের অর্থ হলো 'উইপোকার তৈরি করা ছোট পাহাড়'। তবে জাটিঙ্গা শব্দটি দিমাশি ভাষার নয়, শব্দটি জেমে-নাগা উপজাতির।

 

ঘটনার শুরু:

একদা কিছু নাগা পরিবার জুম চাষের জন্য জাটিঙ্গা আসে। একদিন তারা বুনো প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আগুন জ্বালালে দেখতে পায় আগুন লক্ষ্য করে ঝাঁক বেঁধে নেমে আসছে একই জাতের পাখি। তখন ওরা ভেবেছিল এটা শয়তানের কাজ। পর পর কয়েক রাত এ ঘটনার পুনরাবৃতি হলে নাগারা সেখান থেকে চলে যায়।

 

যেখানে আগুন জ্বলে সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে:

বছরের অন্য কোনো সময় এই ধরনের ঘটনা ঘটে না। শুধুমাত্র প্রতি বছর আগস্ট থেকে অক্টেবর এর মাঝে অমাবস্যার রাত, টিপটিপে বৃষ্টি, গাঢ় কুয়াশা আর বাতাসের প্রবাহ এ কয়টির সমন্বয় ঘটলেই আলোর উৎসের দিকে ছুটে যাওয়া এদের অভ্যাস। যদি কেউ কোনো খোলা জায়গায় আগুন জ্বালায় তাহলেই ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এসে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আগুনের কোনো উৎস না দেখলে কিন্তু তারা এরকমটি করে না। বছরের অন্য কোনো সময় খোলা জায়গায় আগুন জ্বালালেও পাখিরা এসে ঝাঁপ দেয় না। তাহলে কি এই রহস্য???

 

কি এর কারণ?

এ রহস্যের জট আজ পর্যন্ত কেউ খুলতে পারেনি। এটাকে কেউ বলে আত্মহত্যা, কেউ বলে ভুতুড়ে ব্যাপার। কেননা জাটিঙ্গার পাশেই হাফলং। সেখানে এই পাখি কখনো যায় না অথচ জাটিংগা আর হাফলংয়ের আকাশের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। স্থানীয় ‘জাইনতিয়া’ জনগোষ্ঠীর ধারণা, এমন ঘটনার পেছনে অশুভ আত্মার ভূমিকা রয়েছে।
অনেক গবেষকরাই আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন জাটিঙ্গা পাখি রহস্যের কিনারা করতে। কিন্তু পারেন নি। তবে অধিকাংশের বিশ্বাস বৈরি আবহাওয়াই এর প্রধান কারণ। চাঁদহীন কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে টিপটিপে বৃষ্টির সাথে বাতাসের প্রবাহ প্রকৃতিতে একটি গোলমেলে অবস্থা তৈরি করে। যে কারণে পাখিরা আর স্বাভাবিক থাকতে পারে না, বাধ্য হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কিন্তু কি কারণে আলোর উৎস এদেরকে আকর্ষণ করে? এর কোন সদুত্তর না থাকলেও পাখিদের নিষ্ক্রিয় হওয়ার ব্যাপারে আরেকটি ধারণা রয়েছে, আলোর আকর্ষণে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে এরা ছুটতে থাকে উৎস লক্ষ্য করে। পথে গাছগাছালিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আর আহত অবস্থায় উৎসে এসেই নিঃশ্বেস হয়ে যায় শরীরের শক্তি। তবে এ ধারণার পেছনে কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ মেলেনি। তাছাড়া মাটিতে লুটিয়ে পড়া পাখিদের গায়ে কোন আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়নি।

 

পাখি বিশারদ ড. এস সেনগুপ্ত, এ. রউফ এবং সলিম আলির গবেষণায় ৪৪ প্রজাতির পাখির আলোক উৎসের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। কিন্তু দেখা গেছে, জাটিঙ্গা গ্রামের দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও দুইশ’ মিটার প্রস্তের নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্যান্য এলাকায় আলোর প্রতি তাদের আকর্ষণ নেই। আবার আরো একটি অ™ভ’ত ব্যাপার হলো এ আত্ম্যহত্যার প্রবণতা কেবল স্থানীয় জাটিঙ্গা পাখিদের মাঝেই দেখা যায়, কোন অতিথি পাখি এমন আচরণ করে না।

 

বর্তমান অবস্থা:

জেমে-নাগা উপজাতিরা জাটিঙ্গা এলাকায় এখন আর বাস করে না। কারণ তাদের ধারণা জায়গাটা অস্বাস্থ্যকর। জাটিঙ্গায় বর্তমানে বাস করে জৈন্তা উপজাতির লোকেরা। পাখিদের এই আত্মাহুতির বিষয়টিকে তারা ঈশ্বরের দান বলে মনে করে! আসাম পর্যটন দপ্তর জাটিঙ্গায় একটি ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করেছে, যেটাতে উঠে রাতের বেলা পাখিদের আত্মহত্যা দেখা যায়। সারা বিশ্বের বহু পাখি বিশারদ জাটিঙ্গায় গিয়ে এই রহস্যময় ঘটনা পর্যবেক্ষণও করে এসেছেন। অনেকে অনেক রকম ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। কিন্তু কোনোটিই সুস্পষ্ট নয় বলে রহস্য রহস্যই থেকে গেছে।

 

স্থানীয়দের খামখেয়ালিপনা:

একদিকে পাখিরা আলোর উৎসের প্রতি প্রবল আকর্ষিত হয়ে আত্মহুতি দিচ্ছে। অপরদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের বেলা দলবেঁধে বেরিয়ে পরে পাখি শিকারের জন্য। তাদের হাতে থাকে জ্বলন্ত মশাল, লণ্ঠন। বাঁশের লম্বা খুঁটি সাহায্যে মশাল বা লণ্ঠন উঁচিয়ে ধরে তারা আত্মহত্যাকারী পাখিদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এই আলো লক্ষ্য করে কোথা থেকে যেন ঝাঁকে ঝাঁকে নানা জাতের পাখি এসে পড়তে থাকে। মাটিতে পড়ার পর পাখিগুলো আর ওড়ার চেষ্টা করে না। মাটিতে পড়ে থাকা পাখিগুলোকে গ্রামবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং রান্না করে খায়।  

 

বাঁচানোর চেষ্টা করলেও বাঁচানো যায় না:

গ্রামবাসীদের মধ্যে অনেকে আত্মহুতি দানকারী পাখিদের বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো চেষ্টাই কাজে লাগে না। অনাহারে থেকে পাখিগুলো এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।  

 

 

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি