পূর্ববর্তী লেখা    পরবর্তী লেখা
পুরো লিস্ট দেখুন

লক নেস হ্রদ ও রহস্যময় জলদানব নেসি

লক নেস হ্রদ স্কটল্যান্ডের একটি হ্রদ। লক নেস হ্রদটি স্কটল্যান্ডের গ্রেট প্লেন-এ অবস্থিত। আয়তনের দিক থেকে এটি স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হ্রদ। গভীরতার দিক দিয়েও এটি স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হ্রদ। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক হ্রদটি দেখতে আসেন। অনেকে ভাবতে পারেন হ্রদটি বোধহয় খুব সুন্দর। বাস্তবে তেমনটি নয়। পর্যটকরা শুধুমাত্র ‘নেসি’ নামক জলদানব এর রহস্য উদঘাটন করার জন্যই এই হ্রদটি ভ্রমণে আসেন। কিন্তু আজও পর্যন্ত কেউ এই রহস্য উদঘাটন করতে পারেন নি। নেসি কি আসলেই সত্যিকারের কোন জলদানব? নাকি মানব মনের সৃষ্ট কল্পনা ? লক নেস কে ঘিরে কেনই তবে এই রহস্য ?

 

এই লক নেস হ্রদে প্রাগৈতিহাসিক অনেক প্রাণী দেখেছেন বলে অনেকে দাবি করেন। ২০১১ সালের আগ পর্যন্ত এই হ্রদ ও ‘নেসি’ নামের রহস্যময় সেই জলদানব নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য না থাকলেও ২০১১ সালে এই হ্রদের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছিল দুটি নৌকা। হঠাৎ বিশাল এক ঢেউ এসে নৌকা দুটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। তারপর থেকে নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে লক নেস হ্রদ ও রহস্যময় জলদানব কাহিনী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও এই রহস্যের কোনো কুলকিনারা গবেষকরা করতে পারেন নি। তারপরও তারা বলছেন প্রাগৈতিহাসিক জলদানবই এর মূল হোতা।

 

রহস্যের সূত্রপাত:

সেই ৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয় রহস্যময় ‘নেসি’ ঘটনা। সেইন্ট কলম্বো হ্রদে সাঁতার কাঁটা অবস্থায় এক লোক ভয়ংকর এই প্রাণীটির কবলে পড়ে। কোনোরকমে সে বেঁচে ফিরে আসে। প্রথম প্রথম এটিকে পরিচিত প্রাণী হিসেবে ভাবলেও ধীরে ধীরে এই রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে।

 

বিংশ শতাব্দীর ১৯৩৩ সালের এপ্রিল মাসের কোনো এক সময় ঘটে আরও একটি ঘটনা। এসময় দুজন লোক হ্রদটির পাশের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই হ্রদের পানিতে অদ্ভুত এক আলোড়ন তুলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে অদ্ভুত এই জলদানবটি। তাদের বর্ণনা অনুসারে, প্রাণীটি ছিল ৩০ ফুট এর মতো লম্বা , মাথার শুরু এবং দেহের শেষটাও অনেকটা সাপের মতো এবং দেহের ঠিক মাঝামাঝি পেটের কাছে দুটো ফ্লিপার অর্থাৎ পাখনা । মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণীটা চলে যায় আবারো জলের তলায় ।   

 

শুধুমাত্র উপরের দুজন ব্যক্তিই নন। আরও অনেকেই দেখেছেন এই জলদানবটিকে। একদিন এক প্রাদী হ্রদের পাড় দিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎই তার দৃষ্টি চলে যায় হৃদের মাঝখানে। সেখানে বিশাল এক প্রাণী পানির নিচ থেকে জেগে উঠতে চাইছে। নিমিষেই আবার সেই প্রাণীটি উধাও হয়ে গেল। এছাড়া একদিন এক মোটর সাইকেল চালক হ্রদের পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি সরীসৃপ গোছের বিশালাকৃতির এক প্রাণীর সাথে ধাক্কা খায়। তার বর্ণনা অনুযায়ী প্রাণীটির মাথা অনেকটা সাপের মতো।  

 

এরপরই শুরু হয়ে যায় ‘নেসিকে’ নিয়ে হইচই। হ্রদের চারপাশে বসানো হয় অসংখ্য ক্যামেরা। কিন্তু এতসব ক্যামেরার পক্ষে পরিষ্কার কিছু তোলা সম্ভব হয় নি। ক্যামেরায় যেই ছবিগুলো তোলা হয়েছিল সেগুলোতে দেখা যায় শুধুমাত্র পানির আলোড়ন ও কিছু ভি আকৃতির ফেনার ছবি। তবে লন্ডনের এক ডাক্তারের তোলা ছবিতে নেসিকে মাথা তোলা অবস্থায় দেখা যায়। ১৯৩৪ সালে এই ছবিটি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এর কয়েক বছর পরই প্রমাণিত হয় যে এই ছবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এরকম আরও অনেকে রহস্যময় এই জলদানবটিকে দেখেছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু নেসি চিরকালই পুরোপুরি ধরা না পরে মানুষকে ফাঁকি দিয়ে গেছে ।     

রহস্য উদঘাটন:

নেসিকে খুঁজতে ১৯৭০ সালে প্রথম বৈজ্ঞানিক অভিযান শুরু হয়। তারা নেসিকে খুঁজতে আণ্ডারওয়াটার ক্যামেরা থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক সব যন্ত্র নিয়ে নিমে পড়েন হ্রদটিতে। অভিযানের একপর্যায়ে একটি ছবি তোলা হয় পানির নিচ থেকে, যাকে দেখলে ২০ ফুটের মতো লম্বা একটা প্রাণী বলেই মনে হয়। পরে নিশ্চিত হওয়া গেল যে, এটা একটা গাছ ছাড়া কিছুই না।

 

ড. রবার্ট রাইসন। তিনি দীর্ঘদিন এই জলদানব রহস্য নিয়ে কাজ করছেন। ১৯৭২ সালে তিনি সূক্ষ্ম কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে হ্রদে অভিযান চালালেন। আগস্টের আট তারিখে তার দলের সদস্যরা নৌকায় অপেক্ষা করছিল। রাত একটার দিকে পর্যবেক্ষণে এক বিচিত্র প্রাণীর অস্তিত্ব ধরা পড়ে, যার রয়েছে বিরাট আকারের ডানা। লম্বায় সেই ডানা ছয় ফুটের মতো। ড. রাইনসের মতে, আজ থেকে সাত কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এরকম প্রাণী ছিল।

 

পাশাপাশি জাপানের একদল টেলিভিশন কর্মীও এই রহস্য উদঘাটনে ডুবোজাহাজ নিয়ে লক নেস হ্রদের ৯৫০ ফুট নিচে গি একটি গুহা আবিষ্কার করেন। তাদের মতে সেই গুহাতেই থাকেন রহস্যময় ‘নেসি’। প্রথমবার শুধুমাত্র গুহা আবিষ্কার করেই ফিরে আসে দলটি। ঠিক তার পরের বছর তারা পানির নিচের সেই গুহায় আবিষ্কার করে ’১২ ফুট লম্বা খয়েরী রংয়ের বিচিত্র একটি প্রাণীর’। তবে তারা প্রাণীটির মাথা দেখতে পান নি। গলা ছিলো ধনুকের মতো লম্বা। যার আয়তন ৮ ফুট।  

 

নেসি আসলে দেখতে কেমন:

কানাডার ভেনকুভারের সমুদ্রবিজ্ঞানী পল লি ব্লন্ড মতে, লম্বা গলা, অনেক কুঁজ, মাছের মতো ডানা, হলুদ পেট, বাইন বা সাপ জাতীয় মাছের মতো, ভোঁদড় জাতীয়, সামুদ্রিক ঘোড়ার মতো, সামুদ্রিক চতুষ্পদ সরীসৃপ যেমন কুমিরের মতো এবং কচ্ছপের পূর্বসূরীয় জাতের।

 

ওয়াশিংটনের জেনেরোস স্পিটে একটি রহস্যময় প্রাণী দেখা যায়। অদ্ভুত প্রাণীটির দেহে খয়েরি রংয়ে উজ্জ্বল কমলার মিশ্রণ রয়েছে। ছয় ফুট লম্বা গলা, পিঠে তিনটি কুঁজ এবং দীর্ঘ কেশর ছিল তার।

 

১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকৌশলী জিন থমসন মাছ ধরতে বেরিয়েছিলেন। ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ মাইল দূরে। হঠাৎ জিন দেখলেন, তার ২০০ ফুট দূরে হঠাৎ একটি প্রাণী ভেসে উঠেছে। জিন সেই প্রাণীটির বর্ণনা দিচ্ছেন, ২০ ফুট লম্বা ও দুই ফুট চওড়া হবে প্রাণীটি। সাদা তামাটে রংয়ের গলা এবং তার লম্বা লম্বা কানগুলো দোল খাচ্ছিল। লাজুক ও কৌতূহলী এই প্রাণীটি আমাকে দেখে অবাক হয়েছে বলে মনে হল। তারপর সে চলে যেতে চাইল। কয়েকবার মাথা ঝাঁকিয়ে সাঁতার কেটে চলে গেল ওটা। সাঁতার কাটার সময় তার দেহ মোচড় খাচ্ছিল। 

 

১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে নরওয়ের এক ধর্মপ্রচারক পালতোলা জাহাজে করে গ্রিনল্যান্ডে যাচ্ছিলেন। তার নাম হাসন এগেড। তিনি সে সময় সমুদ্রে একটি অদ্ভুত এবং ভয়ানক জীব দেখেছিলেন। পানি থেকে উঠে প্রাণীটির গলা জাহাজে পড়েছিল। তিমি মাছের মতো ফোয়ারা তুলেছিল। দু’পাশে ছিল বড় ডানা।

 

১৯৫১ সালে বন বিভাগের কর্মী মি. এল স্টুয়ার্ড নেসিকে পানি ছিটাতে ছিটাতে বহুক্ষণ ভেসে থাকতে দেখেছেন। তার বর্ণনায়, লম্বা গলার উপর মাথাটা অবিকল ভেড়ার মতো। পিঠে কয়েকটি কুঁজ এবং সব মিলিয়ে লম্বা প্রায় ১৫ মিটার।

কি এই প্রাণী:

প্রাণীবিজ্ঞানীদের মতে, রহস্যময় এই প্রাণীটি হল প্রাগৈতিহাসিক আমলের মৎস্যভোজী সরীসৃপ। এই জাতীয় প্রাণীর অস্তিত্ব সাত কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল বলে সবার ধারণা ছিল। অনেকের মতে, ১০-১৫ হাজার বছর আগে বরফ যুগ শেষ হওয়ার সময় বরফ গলা পানির স্রোতে এই জাতীয় কিছু প্রাণী অন্য স্থান থেকে এই হ্রদে ভেসে চলে আসে।

 

প্রাচীন ইতিহাসে এ ধরনের কিছু জলদানবের বিবরণ পাওয়া যায়। আইসল্যান্ডের বিভিন্ন কাহিনীতে রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণীর কথা আছে। আগোপোগো নামের এক সামুদ্রিক প্রাণীর কথা শোনা যায়। পাথরের গায়ে রেড ইন্ডিয়ানরা এই লম্বা গলার প্রাণীটির ছবি এঁকেছে।

 

আধুনিক এই বিজ্ঞানের যুগেও অপার এক রহস্য হয়ে নিজেকে অনন্য করে রেখেছেন রহস্যময় এই জলদানবটি। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ধারণা এবং কল্পনার মধ্যেই সে সীমাবদ্ধ।

 
আরো পড়ুন
 

নামসংক্ষিপ্ত বিবরণ
মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায় জেনে নিন মুখ ও গলার কালো দাগ দূর করার ২টি কার্যকরী উপায়
এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণজেনে নিন যেভাবে এক নিমিষে লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করবেন।
বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেনজেনে নিন বুদ্ধিমান ও মেধাবী সন্তান পেতে যা করবেন
বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারীবিস্তারিত পড়ুন বিশেষ সময়ে যদি হঠাৎ এমন হয় তাহলে মনোবিদরা জানাচ্ছেন এক বিরল গুণের অধিকারী
লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায় জেনে নিনবিস্তারিত পড়ুন লিফট ছিঁড়ে গেলে বাঁচার উপায়
মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষকজেনে নিন কিভাবে মরণ খেলা ব্লু হোয়েল’র ফাঁদ থেকে ছাত্রকে প্রাণে বাঁচালেন স্কুল শিক্ষক
যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )জেনে নিন যেই ভিডিও গেম খেললেই নিশ্চিত মৃত্য (ব্লু হোয়েল )
ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?জেনে নিন ব্লু হোয়েল গেমটি কে কীভাবে তৈরি করেন?
লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণবিস্তারিত পড়ুন লেবু দিয়ে শরীরের যেকোন কালো দাগ দূর করুণ
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায়বিস্তারিত পড়ুন ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার দারুণ কার্যকরী কিছু উপায় জেনে রাখুন
আরও ১৪৪৩ টি লেখা দেখতে ক্লিক করুন
২৫ বছরে ১৮ সন্তানের জননী!
সর্বপ্রথম পোর্টেবল দ্বীপ
বিদেশিনীর বাংলা প্রেম
জুতার গাছ!
exam
নির্বাচিত প্রতিবেদন
exam
সুমাইয়া শিমু
পিয়া বিপাশা
প্রিয়াংকা অগ্নিলা ইকবাল
রোবেনা রেজা জুঁই
বাংলা ফন্ট না দেখা গেলে মোবাইলে দেখতে চাইলে
how-to-lose-your-belly-fat
guide-to-lose-weight
hair-loss-and-treatment
how-to-flatten-stomach
fat-burning-foods-and-workouts
fat-burning-foods-and-workouts
 
সেলিব্রেটি